ফ্লাডলাইট

২০১৮ সালের বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সূচী

২০১৮ সালের বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সূচী

শেষ হয়ে যাচ্ছে ২০১৭ সাল, মোটামুটি ব্যস্ত সময় পার করেছে বাংলাদেশ এই বছরে। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ দলের যেসব সূচী আছে সেগুলা নিয়েই এই পোস্ট।

জানুয়ারি, ২০১৮: বাংলাদেশের বছর শুরু হবে ট্রাই নেশন সিরিজ দিয়ে। বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে-শ্রীলংকা অংশ নিবে এই সিরিজে। শুরু হবে জানুয়ারি মাসের ১৫ তারিখ। সিরিজটা সহজ হবেনা বাংলাদেশের জন্য। শ্রীলংকা এশিয়ার দল, কন্ডিশনের সাথে মানাতে কোন সমস্যা হবেনা তাদের আর জিম্বাবুয়ে কিছুদিন আগে শ্রীলংকার সাথে সিরিজ জিতেছে। আর মিরপুর স্টেডিয়াম তাদের হাতের তালুর মতো চেনা। জিম্বাবুয়ের সক্ষমতা আছে টুর্নামেন্টের অন্য দুই দলকেই চমকে দেয়ার।

জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারী, ২০১৮: শ্রীলংকার সাথে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ। ট্রাই নেশনের পরপরই ২ টেস্ট এবং ২ টি-টুয়েন্টির সিরিজ হবে বাংলাদেশ এবং শ্রীলংকার। টেস্ট সিরিজটা খুব কঠিন হতে পারে। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার মতো স্পিনে কুপোকাত করা যাবেনা শ্রীলংকাকে। আবার ফ্ল্যাট উইকেট বানালে শ্রীলংকার বেশ কয়েকজন প্লেয়ার আছে যারা বড় ইনিংস খেলে চাপে ফেলে দিতে পারে বাংলাদেশকেই। টি-টুয়েন্টি সিরিজটা জমবে বেশ।

মার্চ, ২০১৮: শ্রীলংকার ৭০-তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত “নিদাহাস কাপ” হবে মার্চ ১৫-৩১ তারিখ পর্যন্ত। টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটের এই ট্রাই নেশন সিরিজে অংশ নিবে বাংলাদেশ-ভারত-শ্রীলংকা। গ্রুপ পর্বে সবাই সবার সাথে দুইবার করে খেলবে। পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুই দলের ফাইনাল হবে কলম্বোতে।

এপ্রিল-জুন পর্যন্ত বাংলাদেশের কোন পূর্ব নির্ধারিত সিরিজ নেই।

জুলাই, ২০১৮: উইন্ডিজ সফরে যাবে বাংলাদেশ।

২ টেস্ট, ৩ ওয়ানডে এবং ১ টি-টুয়েন্টি ম্যাচের পূর্নাঙ্গ সফর। এফটিপি দেখে ভেবেছিলাম দূর্বল ক্যারিবিয়ান দলের সাথে খেলা হবে কিন্তু তাদের ক্রিকেট বোর্ড “সাধারন ক্ষমা” ঘোষনা করার পর ক্যারিবিয়ান দলে আস্তে আস্তে তাদের সিনিয়র ক্রিকেটাররা ফিরতে শুরু করেছে। আর টেস্টে তারা তরুণ দল নিয়েও পাকিস্তান আর ইংল্যান্ডের সাথে জয় পেয়েছে। আর টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে তারাই সেরা। কঠিন সিরিজ হবে তবে বাংলাদেশের জন্য ভালো একটা সুযোগ থাকবে সব ফরম্যাটেই ভালো করার কারন ক্যারিবিয়ান কন্ডিশন এবং উইকেট অনেকটা এশিয়ার মতোই। তাছাড়া ক্যারিবিয়ান দলটাও ধারাবাহিক নয়।

আগস্ট, ২০১৮: সবচেয়ে কঠিন সফরটা হবে অস্ট্রেলিয়াতে। ২ টেস্ট আর ৩ ওয়ানডের সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়া যাবে বাংলাদেশ দল। অস্ট্রেলিয়া না বলে ডারউইন বলাই ভালো। আগস্ট মাসে অস্ট্রেলিয়াতে শীতকাল থাকে। এই “অফ সিজনে” একমাত্র ডারউইনের আবহাওয়া এবং তাপমাত্রা ক্রিকেট খেলার জন্য আদর্শ থাকে। সুতরাং মেইন ভেন্যু যেসব মানে অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত সব ভেন্যুতে তখন দেখা যায় শুন্যের কাছাকাছি তাপমাত্রা থাকে। ক্রিকেটের মেইন সিজনে বাংলাদেশের কবে যাওয়া হবে অস্ট্রেলিয়াতে? সাধারনত নভেম্বর মাস থেকে যেটা শুরু হয়।

আবহাওয়া, কন্ডিশন এশিয়ার কাছাকাছি থাকবে। ডারউইনে খুব বেশি বাউন্সি উইকেট হয়না আবহাওয়ার কারনেই তবুও সিরিজটা কঠিন হবে। এই বছরের সাউথ আফ্রিকার মতোই হতে পারে। হতে পারে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের পর বিশ্বকাপের আগে শেষ কিছু পরিবর্তন আসবে বাংলাদেশ দলে।

অতীতে ডারউইন এবং কেয়ার্ন্সের টেস্ট অভিষেক হয়েছিলো বাংলাদেশ সফরের সময়। এবারো “টনি আইরিশ স্টেডিয়াম” নামের একটা স্টেডিয়ামের অভিষেক হতে পারে বাংলাদেশ সফরে। বাংলাদেশ গেলে তবু এই অঞ্চলের মানুষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দেখার সুযোগ পায়!

সেপ্টেম্বর, ২০১৮: এশিয়া কাপ। সেপ্টেম্বর মাসের ১৫-৩০ তারিখ পর্যন্ত ভারতে বসবে এশিয়া কাপের ১৪-তম আসর। ছয় দলের এই টুর্নামেন্টে প্রথমবার সরাসরি অংশ নিবে আইসিসির নতুন পূর্নাঙ্গ সদস্য আফগানিস্তান। অন্য দলকে কুয়ালিফায়ার খেলে আসতে হবে। পাকিস্তানের অংশ নেয়া নিয়ে কিছুটা সন্দেহ আছে। অতীতে পাকিস্তানের এশিয়া কাপ বর্জনের ইতিহাস আছে। এশিয়া কাপ বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে, ভারতের দর্শকরা নিশ্চয় সুখের অভিজ্ঞতা দিবেনা বাংলাদেশকে।

অক্টোবর-নভেম্বর, ২০১৮: ফিরতি সফরে বাংলাদেশ আসবে উইন্ডিজ ক্রিকেট দল।

২ টেস্ট, ৩ ওয়ানডে আর ১ টি-টুয়েন্টির সিরিজ। যেহেতু ঘরের মাটিতে খেলা সুতরাং সব ফরম্যাটে বাংলাদেশের সিরিজ জেতাটাই প্রত্যাশিত। এই সিরিজ দিয়েই বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সমাপ্তি ঘটবে ২০১৮ সালের।

নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে বিপিএলের ৬ষ্ঠ আসর বসবে।

এফটিপির সূচী ছাড়াও বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলে প্রায় সব বছরই। যেমন ২০১৬ সালে আফগানিস্তানের সাথে হোম সিরিজ, ২০১৭ সালে শ্রীলংকা সফর এবং আয়ারল্যান্ডের ট্রাই নেশন ওয়ানডে সিরিজ ইত্যাদি। ২০১৮ সালের নিদাহাস কাপ-ও এফটিপির বাইরের তিন বোর্ডের সমঝোতায় হবে।

এপ্রিল-জুন এই তিন মাস বাংলাদেশের কোন আন্তর্জাতিক খেলা নেই, এই সময়ে বিসিবি অন্য কোন বোর্ডের সাথে আলোচনা করে সিরিজ আয়োজন করতে পারে। সেক্ষেত্রে আমি চাইবো জিম্বাবুয়ের সাথে দুই বছর ধরে ঝুলিয়ে রাখা টেস্ট সিরিজটা খেলে ফেলা উচিৎ। অথবা নতুন দুই দেশ আয়ারল্যান্ড অথবা আফগানিস্তানকে সুযোগ দেয়া যায়, তাদের ক্রিকেটের উন্নয়নে বিসিবি ভালো ভূমিকা রাখুক সেটাই দেখতে চাই। আবার পাকিস্তানকে চাপ দিয়ে এই বছর স্থগিত হয়ে যাওয়া সিরিজটা আদায় করে নিতে পারলেও মন্দ হয়না।

Most Popular

To Top