নাগরিক কথা

এই মর্মান্তিক মৃত্যুর কারণ কি শুধুই দারিদ্র্য?

তাদের মৃত্যুর কারণ কি? দারিদ্র্য না ফ্রী খাওয়ার তাড়না?

চট্টগ্রামের সিংহপুরুষ মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানিতে খেতে গিয়ে পদদলিত হয়ে মারা গিয়েছে ১০/১২ জন। জীবনের কি নিদারুণ অপচয়! এইরুপ ঘটনা নতুন নয় আমাদের কাছে। কয়েক বছর আগে ময়মনসিংহে যাকাতের কাপড় নিতে গিয়ে এরকম বড় একটা এক্সিডেন্ট হয়েছিল। যাকাতদাতা কাপড় বিতরণ করতে গিয়ে পরে হয়েছেন হত্যা মামলার আসামি। কিছুদিন আগে খামারবাড়িতে অল্পদামে ডিম কেনা নিয়ে হয়ে গেল এক কুরুক্ষেত্র। ঢাকার সব বয়সী মানুষ সেই ডিম দখলের লড়াইয়ে শামিল হয়েছিলেন। পরে আয়োজকদের হয়েছিল ছেড়ে দে মা কেঁদে বাচি অবস্থা!

এই যে মাগনা বা ফ্রি কোনকিছুর প্রতি আমাদের সীমাহীন আকর্ষণ বা লোভ এটার কারন কিন্তু দারিদ্র্য বা অভাব নয়। এটি পুরোপুরি মানসিক দৈন্যতার জন্য হয়। আমি একদম হিসেব করে বলে দিতে পারি যে এটি ফ্রি খাওয়ার প্রবল তাড়না থেকেই হয়। কথায় বলে ফ্রি পেলে বাঙালি আলকাতরা খেতে প্রস্তুত আছে!

সারাদিন লাইনে বসে থেকে ২০০ টাকা দামের একটা শাড়ি বা ১৫০ টাকার একটা লুঙ্গি পেলে সেটা অর্থনৈতিকভাবে কতটুক লাভের? যেখানে সারাদিন কামলা দিলেও ৭০০/৮০০ টাকা পাওয়া যায়, যেখানে রিকশা চালালেও দিনে ১২০০/১৫০০ টাকা ইনকাম হয় সেখানে একবেলা খাওয়ার জন্য এই পঙ্গপালের মত ঝাঁপিয়ে পড়বার সাইকোলজিটা কি?

বিশেষত ডিমকান্ডে যারা জড়িত ছিলেন টিভিতে, পত্রিকায় তাদের ছবি, ভিডিও দেখে মনে হয়েছিল তারা ভদ্রলোক, সচ্ছল মানুষ। তো শুধু কমদামে ডিম কেনার জন্য এই ঢাকা শহরের ব্যস্ত মানুষেরা কিভাবে সময় পান? যে সময় ডিমের পিছনে, কুলখানির পিছনে, যাকাতের কাপড়ের পিছনে মানুষ দেয়, মার খায়, ঠ্যালা ধাক্কা খায়, পায়ের নিচে পিষ্ট হয়ে মারা যায় সেই সময়ে কাজ করলে হয় না?

সারাদিনে কাজ করে ১০০০ টাকা ইনকাম করে সবচেয়ে ভাল রেস্টুরেন্ট এ বুফে খেতেও তো হাইয়েস্ট খরচ হবে ৯০০ টাকা। তাও পকেটে ১০০ টাকা থেকে যাবে। চট্টগ্রাম এর এই ট্রাজেডি মানা কঠিন। ছবিতে দেখা গেছে তাগড়া, সবল আমার দেশের মানুষ শুধু একবেলা খেতে গিয়ে পায়ের নিচে লাশ হয়ে শুয়ে আছে!!

মানুষের জীবন কেন এত সস্তা? কেন অকারণ এই আত্মাহুতি? কেন তুচ্ছ কারণে লাশের মিছিল?

Most Popular

To Top