নাগরিক কথা

এবারের বিজয় দিবসে কি একজন দেশপ্রেমিকের সংখ্যাও বাড়বে?

এবারের বিজয় দিবসে কি একজন দেশপ্রেমিকের সংখ্যাও বাড়বে?

জাতীয় পতাকার অ্যানিমেশনে ইনবক্স ভরে যাচ্ছে। প্রোফাইল পিকচার পরিবর্তন করার বার্তাও নেহায়েত কম নয়। সেই সাথে অপ্রস্তুত হওয়ার মতো ভিডিও। জাতীয় সঙ্গীতের বিভিন্ন ভার্সন, কিন্তু একটাতেও শিরোনামে জাতীয় সঙ্গীতের কথা লেখা নেই। প্লে করে ব্যতিব্যস্ত হয়ে দাঁড়িয়ে সম্মান দেখিয়েছি কয়েকবার। সবাই কি দেখাচ্ছি? যিনি ভিডিও পাঠাচ্ছেন, তিনি কি দেখিয়েছিলেন? প্রশ্নটা নিজেকে করে দেখবেন। বিজয় দিবসকে সামনে রেখে আবার প্র্যাঙ্ক ভিডিও ও বানানো হচ্ছে। কে স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে কত বোকা বোকা উত্তর দিতে পারে তার সমাহার। এ প্লাস পাওয়া ছাত্রদের সেই “অপারেশন সার্চলাইট” দিয়ে বোধ হয় শুরু!

কোথায় যাচ্ছি আমরা? বলবেন তো দেশপ্রেমের চর্চার মধ্যে খারাপ কি দেখলাম? দেশপ্রেমের এই চর্চাই কি একাত্তর? দেশপ্রেমের এই চর্চাই কি ১৬ই ডিসেম্বর?

পতাকা বিধিমালা পড়ে দেখেছেন কখনো? কষ্টে অর্জিত জাতীয় পতাকাকে কতটা সম্মান দেখানো হয়েছে তা জানলে হয়তো মাপ ছাড়া জাতীয় পতাকার অ্যানিমেশন পাঠাতে হাত কাঁপতো। জাতীয় সঙ্গীতের কথা উল্লেখ না করে কিংবা নিজে সম্মান না দেখিয়ে পাঠাতে পারতেন না। প্র্যাঙ্ক ভিডিওর কথা আর উল্লেখ নাই করলাম। রুচি হচ্ছে না।
তরুন প্রজন্মকে দোষ দিচ্ছেন তো! শেখে না কেন? দেশপ্রেম বা চেতনা শেখার জিনিষ নয়। অন্তরে ধারণ করতে হয়। কে করাবে? সামাজিক শিক্ষা যদি পরিবার দিয়ে থাকে তাহলে দেশপ্রেমের শিক্ষা নয় কেন? ওসব প্র্যাঙ্ক ভিডিওর আসল নির্মাতা তো আমি-আপনি,যারা শিশুদের, তরুণদের শেখাতে ব্যর্থ হয়েছি। নিজেদের ব্যর্থতায় নিজেরাই হাসি। এই তো আমরা!

দেশপ্রেমের সংজ্ঞা কি? এ প্রশ্নে থমকে যেতে হয়। অতি ক্ষুদ্র আমি এ পর্বতসম প্রশ্নের সামনে। তবুও নিজের মনের মাঝে যা ধারণ করি, তা বলে ফেলি। আমার কাছে, নিজের ওপর অর্পিত কাজ ঠিকভাবে করাই দেশপ্রেম। ছাত্রের কাছে পড়ালেখা, শিক্ষকের পাঠদান, আমার মতো চাকুরীজীবীর জনসেবা, তেমনি ক্ষুদ্র গোয়ালার পানি না মিশিয়ে দুধ বিক্রি করা কিংবা ফল বিক্রেতার কার্বাইড মুক্ত ফল বিক্রি করা। সবই দেশপ্রেম ছাড়া কি? নিজের কাজটা ঠিকভাবে করলেই তো প্রতিদিনের স্বাধীন বাংলাদেশ সকালের সূর্য দেখতে পারে ষোলো কোটি ভালো কাজ সাথে নিয়ে। তবেই তো সত্যিকারের এগিয়ে চলা হবে আমাদের মা-মাটি আর দেশের।

এখনই তো মনে মনে বলবেন এত কথা যে বলছো, তুমি কি করেছ? চেষ্টা করেছি। তরুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানাতে ভূমি অফিসের মতো কাটখোট্টা যায়গায় গোটা একটা স্বাধীনতা অঙ্গন গড়েছি। অভয়নগরের বাচ্চাদের দিয়ে চাইলেও যাতে কেউ প্র্যাঙ্ক ভিডিও বানানোর দুঃসাহসও না দেখাতে পারে। আর কতটুকু পারছি জানি না। নিজের কাজটা ঠিকঠাক মতো করার বোধ হয়তো সৃষ্টিকর্তা জাগিয়ে তুলেছেন।আমার কথার ইতি এখানেই।

১৬ই ডিসেম্বর এলেই লাল-সবুজ পোষাকের ব্র্যান্ডের দোকানে ঢুঁ না মেরে মনে আঁকুন লাল-সবুজের বাংলা। কিনুন পোশাক। তাতেও সমস্যা কি? সেই সাথে লাল-সবুজ এঁকে দিন বর্ণহীন কোনো দরিদ্র শিশুর গায়ে। এ বছর ১৬ই ডিসেম্বরে ১ জনও কি এমন থাকবে না যে কিনা বসনে বাঙালী না হয়ে মননে বাঙালী হবে? নতুন সূর্যের সাথে মনে আলো ছড়াবে দেশপ্রেমের নতুন রোদ?

বিঃদ্রঃ কাউকে ব্যক্তিগত আঘাত করার উদ্দেশ্য নেই। বরং ভাবনা গুলো একান্তই ব্যক্তিগত।

Most Popular

To Top