ফ্লাডলাইট

“যত বড় ক্রিকেটারই হোক, মনে রাখতে হবে ব্যক্তির চেয়ে দেশ বড়”

"যত বড় ক্রিকেটারই হোক, মনে রাখতে হবে ব্যক্তির চেয়ে দেশ বড়"- Neon Aloy

“যত বড় ক্রিকেটারই হোক, মনে রাখতে হবে ব্যক্তির চেয়ে দেশ বড়” -এটাই শেষ বক্তব্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিলেন বাংলাদেশের সাবেক কোচ চান্দিকা হাথুরুসিংহে।

আগামী ২০ তারিখ শ্রীলংকা জাতীয় দলের দ্বায়িত্ব নিবেন হাথুরুসিংহে। স্ক্রিনশট নিয়ে রাখেন, আমিও লেখাটা সেভ করে রাখছি। ভবিষ্যৎ কেউ দেখেনি তবে আমার বিশ্বাস ২০১৯ বিশ্বকাপে এই শ্রীলংকা এই হাথুরুসিংহের হাত ধরেই অনেক ভালো করবে।

হাথুরুসিংহে একজন পেশাদার কোচ, তার সময়ে নেয়া বেশিরভাগ সিদ্ধান্ত দলের ভালো করেছে। কিছু সিদ্ধান্ত অনেক বেশি ভবিষ্যৎ নিয়ে করেছিলো। জনতা খুশি। ফ্যানবেজ খুশি কিছু প্লেয়ারের।

মিডিয়ার কাজ মানুষের আবেগ বিক্রি করে টাকা কামানো। কারনে, অকারনে কোচকে ভিলেন বানিয়ে, প্লেয়ারদের ইমোশনাল উপায়ে উপস্থাপন করে দেশের সবচেয়ে ক্ষতি করেছে দেব চৌধুরীরাই। বানোয়াট, কাল্পনিক, ধারনার উপর নির্ভর করে কত খবর যে এরা বানায়।

যাক চান্দিকা গেছে, দেশে আপাতত শান্তি এসেছে। তবে বেশি খুশি হয়েন না আপনারা। বিসিবি ঠিকই বুঝছে আবেগী, অলসতা প্রিয় আমাদের ক্রিকেটারদের জন্য একজন কড়া হেডমাস্টারই দরকার। রিচার্ড পাইবাস সম্ভবত নতুন কোচ হবেন, রিচার্ড আরো অনেক বেশি কঠোর মানুষ।

হাথুরুসিংহে না থাক, যেন ২০১৪ সাল ফিরে না আসে। তামিমের ভূঁড়িটা যেন আবার জার্সির নীচে উঁকি না দেয়, রিয়াদের ওজন আবার না বাড়লেই হয়। ডিসিপ্লিন নিয়ে ২০১৪ সালে যে নোংরা অবস্থা হয়েছিলো সেগুলা ফিরে না আসুক। সিনিয়র প্লেয়ারদের জন্য দুই রাউন্ড আর জুনিয়র প্লেয়ার পাঁচ রাউন্ড ঘুল্লি দিবে মাঠ এসব নিয়ম ফিরে না আসলেই হবে। তামিম, সাকিব, রিয়াদ, মুশফিক, ম্যাশ যেন মনে না করেন অনুশীলন তাদের জন্য ঐচ্ছিক আর মোসাদ্দেক, সাব্বির, সাইফদের জন্য বাধ্যতামূলক!

কোচ যেই হোক, হাথুরুসিংহে যেসব বুঝিয়ে দিয়েছিলেন সেসব কি বিসিবি মানবে?

নেট সেশন দেখে প্লেয়ার নির্বাচন আর ২০ জনের বহর নিয়ে কেন ঘুরতেন হাথুরুসিংহে? এই দেশের ডোমিস্টিক ক্রিকেটের অনেক ম্যাচই নাকি পূর্ব নির্ধারিত হয়! মান দিয়ে তো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য কাউকে বিচার করা যাবেই না। আচ্ছা অল্পতে বলি, এই নিম্ন পিচের বিপিএল দিয়ে আপনি কিভাবে কাউকে বিচার করবেন? যেখানে পাওয়ার হিটিং না, কোনমতে ১৪০ করাই লক্ষ্য?

হাথুরুসিংহে বলেছিলো, এ দেশে প্লেয়ার জাতীয় দলে এনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত করা লাগে। বিসিবি কি এমন সিস্টেম ডেভেলপ করবে যাতে ঘরোয়া থেকেই ক্রিকেটার প্রস্তুত হয়ে আসতে পারবে?

এক সময় হাথুরুসিংহে বলেছিলো তাইজুল, মমিনুলের মতো প্লেয়ারদের জন্য সারা বছর “এ” দলের সফর রাখা উচিৎ যাতে হঠাৎ করে টেস্ট দলে ঢুকে স্ট্রাগল না করা লাগে। বিষয়টা কি বিসিবি মানবে এবার?

ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো মানের বিভিন্ন ক্যাটেগরির উইকেট কি পাবো আমরা?

এগুলা না হলে ওই পাইবাসও (বা অন্য যেই হোক) এসে ২/৩ সিরিজে জয় পেয়ে জনপ্রিয় হতে চাইবেন। দীর্ঘমেয়াদে কিছুই হবেনা।

জাতীয় দল পুরাটাই আবেগে চলে। সিনিয়র প্লেয়ারদের আবেগের কাছে হার মানে অনেক দীর্ঘমেয়াদের প্ল্যানিং। কিন্তু বুকে হাত দিয়ে আমি বলতে পারবো আমাদের সিনিয়র প্লেয়ার কেউই সেই মানের পেশাদার হতে পারেননি যেটা ১০ বছর ক্রিকেট খেলার পর হওয়া উচিৎ ছিলো, অন্য দেশের প্লেয়ারদের সাথে তুলনা করেন তাহলে বুঝবেন। মাঝে মাঝে জিম্বাবুয়ে, নেদারল্যান্ডসের প্লেয়ারদের পেশাদারিত্ব দেখে অবাক হই!

প্লেয়ারদের জবাবদিহিতার জায়গাটা যেন থাকে। নাহয় স্বেচ্ছাচারিতা চলে আসবে।

ভালো ভাবে চলুক জাতীয় দল এটাই চাই তবে ভয়ও হচ্ছে কিছুটা। সব কিছু কলাপস না করে আবারো ……

আর চান্দিকা হাথুরুসিংহের জন্য শুভকামনা। আমি জানি কিছুদিন পরেই নতুন কোচ ভিলেন হয়ে যাবে আর সবাই বলবে “হাথুরুসিংহেই ভালো ছিলো”।

এখন থেকে শ্রীলংকার ফ্যান হয়ে গেলাম। নজরে থাকবে তাদের উন্নতি।

ঐতিহ্য বজায় থাকলো, দেশ থেকে কোন বিদেশি ভালো করে বিদায় নিতে পারলো না। আর এজন্যই টম মুডি, মাহেলা, গাঙ্গুলী, দ্রাবিড়, কুম্বলে, জিওফ মার্শ, ফ্লেমিং এবং আরো যাদের বিসিবি এপ্রোচ করে তারা কেউই আসতে রাজি হয়না।

আচ্ছা, পাইবাস কয়দিন টিকবে বলে মনেহয়? আমার ধারনা এক বছর। বিশ্বকাপের আগে বাংলাদেশকে আরো একবার কোচ খুঁজতে হবে বলে দিলাম।।

বিদায়ের দিনে হাথুরুসিংহের একটা জিনিস বলি যেটা সবসময় মনে থাকবে, টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে তাসকিনের বোলিং একশান প্রশ্নবিদ্ধ করার পর সংবাদ সম্মেলনে হাথুরুসিংহে সরাসরি বলেছিলেন “তাদের (আম্পায়ার) প্রশ্ন আছে আমার বোলারকে নিয়ে, আমার প্রশ্ন আছে তাদের ভূমিকা নিয়ে”। বাংলাদেশের কোন কোচ কোড অব কনডাক্টের কেয়ার না করে এমন সরাসরি কথা বলবে সেটা এর আগে শুধু কল্পনাই করতাম!

Most Popular

To Top