ফ্লাডলাইট

১৩-তম ওয়ানডে দলের অপেক্ষায় ক্রিকেট বিশ্ব!

১৩-তম ওয়ানডে দলের অপেক্ষায় ক্রিকেট বিশ্ব!- নিয়ন আলোয়

আইসিসির ১৩ দলের ওয়ানডে সিরিজ লীগের ১৩-তম দল কারা হবে সেটা জানা যাবে ৮ ডিসেম্বর। যদিও আইসিসির কাট-অফ ডেট ৩০ ডিসেম্বর অর্থাৎ ৩০ ডিসেম্বর যারা WCL (ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট লীগ) চ্যাম্পিয়নশীপ টেবিলের এক নাম্বারে থাকবে তারাই হবে ১৩-তম দল। তবে শেষ লেগের খেলা ৮ তারিখেই শেষ হয়ে যাবে বলে ৩০ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না।

WCL চ্যাম্পিয়নশীপে মোট ৮ দল অংশ নেয়। সবাই সবার বিপক্ষে দুটি করে ম্যাচ খেলে তবে ম্যাচ দুটি অনেকটা দুই ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের মতোই অর্থাৎ পর পর দুটি ম্যাচ হয়।

বর্তমানে সব দলের ১২ টি করে ম্যাচ শেষ হয়েছে।

টেবিলের শীর্ষ স্থানে রয়েছে নেদারল্যান্ড, যাদের পয়েন্ট ১৮। তাদের শেষ দুটি ম্যাচ দূর্বল নামিবিয়ার সাথে দুবাইতে ৬ এবং ৮ ডিসেম্বর। নামিবিয়া ১২ ম্যাচে মাত্র ৩ জয় পেয়েছে। নেদারল্যান্ডের সবচেয়ে বড় সুবিধা শেষ দুই ম্যাচে তারা দূর্বল দল পাচ্ছে। এই দুই ম্যাচের যেকোন একটি ম্যাচে জয় লাভ করলেই ২০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষ স্থান নিশ্চিত করে ১৩-তম ওয়ানডে দল হিসেবে ওয়ানডে সিরিজে লীগে ঢুকে যাবে।

১৩-তম ওয়ানডে দলের অপেক্ষায় ক্রিকেট বিশ্ব!- Neon Aloy

আইসিসি পয়েন্ট টেবিল

নেদারল্যান্ডের ঠিক পরেই আছে পাপুয়া নিউগিনি। ১২ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ১৬, জয় পেয়েছিলো ৮ ম্যাচে। পাপুয়া নিউগিনির শেষ দুই ম্যাচের প্রতিপক্ষ তুলনামূলক কঠিন দল হংকং। যদি নেদারল্যান্ড শেষ দুই ম্যাচে হেরে যায় এবং পাপুয়া নিউগিনি হংকং-এর সাথে দুই ম্যাচেই জয় পায় তাহলে ২০ পয়েন্ট নিয়ে তারাই হবে ১৩-তম দল। আবার এক ম্যাচ জিতলে নেদারল্যান্ডের সমান ১৮ পয়েন্ট হবে। তখন আসবে রান রেটের হিসাব।

বর্তমানে তৃতীয় অবস্থানে আছে স্কটল্যান্ড, ১২ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ১৫ পয়েন্ট (একটি পরিত্যক্ত ম্যাচে ১ পয়েন্ট হারায় দলটি)। তাদের শেষ দুই ম্যাচ কেনিয়ার সাথে। তারা যদি দুই ম্যাচই জিতে তাহলে পয়েন্ট হবে ১৯। নেদারল্যান্ড যদি শেষ দুই ম্যাচই হারে (১৮ পয়েন্টই থাকবে তাহলে) এবং পাপুয়া নিউগিনি অন্তত একটি ম্যাচ হারে (তাহলে পয়েন্ট হবে ১৮) সেক্ষেত্রে ১৯ পয়েন্ট নিয়ে স্কটিশরাই হবে ১৩-তম দল।

চতুর্থ অবস্থানে থাকা হংকং এর পয়েন্ট ১৪। শেষ দুই ম্যাচ পাপুয়া নিউগিনির সাথে। যদি তারা শেষ দুই ম্যাচ জিতে ১৮ পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পারে এবং নেদারল্যান্ড শেষ দুই ম্যাচে নামিবিয়ার কাছে হারে (যেটা একরকম অসম্ভব), আবার স্কটল্যান্ড শেষ দুই ম্যাচেই কেনিয়ার কাছে হারে (এটাও অসম্ভব প্রায়) তাহলে নেদারল্যান্ড আর হংকং-এর সমান ১৮ পয়েন্ট হবে। সেক্ষেত্রে হংকং ১৩-তম দল হতে পারে কারন এখন পর্যন্ত তাদের রান রেট নেদারল্যান্ডের চেয়ে শ্রেয়তর।

এরপর যেসব দল আছে তারা হচ্ছে কেনিয়া, নেপাল, নামিবিয়া এবং আরব আমিরাত। তাদের কোন সম্ভাবনা নেই।

কাগজে কলমে প্রথম চার দলেরই সুযোগ থাকলেও বাস্তবে প্রায় নিশ্চিত আইসিসি ওয়ানডে সিরিজ লীগের ১৩-তম দল হতে যাচ্ছে নেদারল্যান্ড। কারন শেষ দুই ম্যাচের প্রতিপক্ষ নামিবিয়া নেদারল্যান্ডকে নূন্যতম চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবে কিনা সেটাও সন্দেহ আছে। আর নেদারল্যান্ডের দরকার অন্তত একটা জয়।

তবে নেদারল্যান্ড কোন ছাড় দিতে রাজি নয় যেন! আফ্রিকার দেশ নামিবিয়ার সাথে খেলা তাই ক্যাম্প করেছে সাউথ আফ্রিকায়! সবচেয়ে বড় খবর অবসর ভেঙে মাঠে ফিরছেন ছোট দলের বড় তারকাখ্যাত এসেক্সকে এবার কাউন্টি জেতানো অধিনায়ক রায়ান টেন ডেশকাটে তথা “টেনডো”। এরই ভেতর অরেঞ্জ শিবিরে যোগ দিয়েছেন তিনি। প্রায় ৭ বছর পর নেদারল্যান্ডের হয়ে মাঠে নামবেন ৬ ডিসেম্বর এবং ৮ ডিসেম্বরের ম্যাচ দুটিতে। দলে আছেন সাবেক সাউথ আফ্রিকান অল রাউন্ডার ভ্যান ডার মারউই যিনি দুদিন আগেই ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপের খেলায় নামিবিয়ার সাথেই ১৭৫ রানের ইনিংস খেলে দলকে ২৩১ রানের ব্যবধানে জিতিয়েছেন।

নেদারল্যান্ডের জন্য এটা হতে যাচ্ছে বিরাট এক মুহুর্ত। লীগের সূচীতে তারা ২০২০ থেকে ২০২২ সালের ভেতর আটটা তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ পাবে। চারটা ঘরের মাঠে, চারটা বিদেশের মাটিতে। দলগুলার নাম দেখুন একবারঃ

হোম সিরিজঃ পাকিস্তান, উইন্ডিজ, ইংল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড।

বিদেশ সফরঃ সাউথ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে, আফগানিস্তান, নিউজিল্যান্ড।

তিন বছরে ৮ সিরিজে ২৪ ওয়ানডে টপ লেভেলে! একটা সহযোগী দেশের জন্য এটাতো স্বপ্ন! যেখানে টেস্ট খেলুড়ে দেশের সাথে গ্লোবাল টুর্নামেন্টে ছাড়া হয়তো খেলাই হতনা তাদের।

নেদারল্যান্ডের কিছু লম্বা পরিকল্পনা আছে। এই ২৪ ম্যাচের ভেতর কয়েকটা অঘটন ঘটাতে পারলে হয়তো আয়ারল্যান্ড, আফগানিস্তানের মতো তাদের জন্যেও টেস্ট ক্রিকেটের পথ উন্মুক্ত হয়ে যেতে পারে!!

তারা পরিশ্রম করছে, পরিকল্পনা করেছে, এখন মাত্র এক হাত দূরত্বে আছে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ১৩-তম দল হবার।

আমি জানি তারাই হবে, তাই অরেঞ্জ ক্যাম্পের জন্য শুভকামনা অগ্রীম।

Most Popular

To Top