বিশেষ

হালদাঃ সাধারণ গল্পের অসাধারণ চিত্রায়ন!

হালদাঃ সাধারণ গল্পের অসাধারণ চিত্রায়ন!- নিয়ন আলোয়

গল্পঃ
নির্জলা গল্প। খুব কমপ্লেক্স ন্যারেটিভ না, একেবারেই সাদামাটা। তবে গল্পটা খুবই সুন্দর। নদী আর মানুষের গল্প। বেশি কিছু বললে স্পয়লার হয়ে যাবে। এত চমৎকার একটা গল্প হলে গিয়ে না দেখলে আফসোস করবেন। তবে গল্পের চেয়েও অসাধারণ তার উপস্থাপন। স্টোরিটেলিং প্রশংসার দাবি রাখে।

ডিরেকশনঃ
এটা নিয়ে কিছু বলবো না। এটা নিয়ে বলার কিছু নেইও। তৌকির আহমেদকে এক বুক ভালোবাসা এমন মাটির-নদীর-মানুষের গল্প পর্দায় তুলে আনার জন্য। তিনি তার কাজের প্রতি কতটা অমায়িক আর ডেডিকেটেড তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমন গুণী পরিচালকের সঠিক কদর করা হোক এটাই প্রত্যাশা।

সিনেমাটোগ্রাফিঃ 
সাধু! সাধু! চোখ জুড়িয়ে যাবার মত। কিছু দৃশ্য এতই সুন্দর ছিল যে হতভম্ব হয়ে গেছি। পপকর্ন খেতেও ভুলে গেছিলাম। হালদা নদী কাছ কখনও থেকে দেখিনি। কিন্তু ছবিতে হালদাকে এত শৈল্পিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যে মনে হয়েছে নদীটা খুব পরিচিত আমার। এটা আমার নদী। কিছু শটে নিছক পাখি উড়ে যাওয়াও যথেষ্ট অর্থপূর্ণ ভাবে দেখানো হয়েছে। বৃষ্টি, বজ্রপাতের দৃশ্য গুলোতে হা করে তাকিয়ে ছিলাম। বৃষ্টির শট প্রতিটাই হলে বসে অনুভব করার মত। কাদায় হাঁটু ডুবিয়ে মাছ শিকারের দৃশ্যগুলো থেকেও যেন মাটির গন্ধ আসছিল।

অভিনয়ঃ 
জাহিদ হাসান আর ফজলুর রহমান বাবু। এরা সময়ের সবচেয়ে শক্তিশালী অভিনেতা। তাদের সঠিকভাবেই ব্যবহার করেছেন পরিচালক। তবে ফজলুর রহমান বাবুর স্ক্রিনটাইম খুব কম ছিল মনে হয়েছে। কিন্তু যতবার পর্দায় এসেছেন, বুকটা ফাটিয়ে দিয়েছেন। এছাড়াও ছোট-খাটো প্রতিটা চরিত্রই টিপটপ আর যে যার জায়গায় পার্ফেক্ট!

মোশাররফ করিমকে নিয়ে ট্রল করেন, আর যাই করেন। তার ক্ষমতার ধারে কাছেও কেউ নাই। এত অসাধারণ অভিনয় কিভাবে করে মানুষ? তার মত অভিনেতা খুব কম জন্মায়। তার চরিত্রের সারল্য,অসহায়ত্ব আর ভালোবাসা সব মিলে এক অদ্ভুত শান্ত ভাবটা একেবারে মনে গিয়ে ধাক্কা দিচ্ছিলো।

তবে তিশা! তার কথা আলাদা করে না বললে রিভিউ অর্ধেক হয়ে যাবে। আউটস্ট্যান্ডিং পার্ফরম্যান্স! শি ডেফিনেটলি স্টোল দা শো!কি সুন্দর অভিনয়! নতুন করেই যেন ফ্যান হয়ে গেলাম।
আমার মনে হয় সেটাই সবচেয়ে ভালো অভিনয় যখন মনেই হবে না সে অভিনয় করছে। আর এটাতেই এই ফিল্ম জ্যাকপট! প্রত্যেকটা ক্যারেক্টারের এক্সপ্রেশন এত নিখুঁত হয়েছে যে পুরোপুরি ডুবে গেছিলাম হালদায়।

নেগেটিভ দিকঃ
ভাষা। আমি আঞ্চলিক ভাষা মোটামুটি বুঝি। তাও বেশ কিছু কথা বুঝতে পারিনি। তাই যারা ওই অঞ্চলের না, তাদের ভাষাটা ধরতে একটু সময় লাগবে। কিন্তু যেই মাত্র ভাষাটা বাগে আনবেন, দেখবেন এটাই অত্যন্ত মধুর বিষয় মনে হবে। যাদের একান্তই সমস্যা, তাদের জন্যও ইংরেজি সাবটাইটেলের ব্যবস্থা আছে।
আরেকটা জিনিস যেটা একটু দৃষ্টিকটু লেগেছে তা হল, একটা নির্দিষ্ট শট (বলছিনা কোনটা! এটা দেখেই বুঝবেন) বেশ কয়েকবার ব্যবহার করা হয়েছে। এটার প্রয়োজন মেবি ছিল না। কিন্তু কাহিনীতে ডুবে গেলে এগুলো তেমন ম্যাটার করে না।

একবাক্যে, হালদা একটি অসাধারণ বাংলা সিনেমা। এটা প্রত্যেক দর্শকের অবশ্যই দেখা উচিত।

ব্যাক্তিগতভাবে, শেষ কোন মুভি দেখে এতটা তৃপ্তি পেয়েছিলাম মনে পড়ে না। পয়সা উসুল তো বটেই, আমার এখনই আরেকবার দেখতেইচ্ছা করছে। আর বাংলা সিনেমা যে এগিয়ে যাবেই তার আভাস পেয়ে খুব আনন্দ হচ্ছে। এই জয়যাত্রা অক্ষুণ্ণ থাকুক, এমন ছবি আরো তৈরি হোক।

বাংলা সিনেমার জয় হোক!

লিখেছেনঃ আলী ওয়াহাব সৌহার্দ্য

“হালদা” চলচ্চিত্র নিয়ে আরো পড়তে পারেনঃ হালদা এবং তৌকির আহমেদকে নিয়ে দর্শকদের যত আশা

Most Popular

To Top