লাইফস্টাইল

বলিউডে নারীদের কি ঠিকভাবে উপস্থাপন করা হয়?

পৃথিবীর অন্যতম সুপরিচিত এবং ব্যবসা সফল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি হলো ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি তথা বলিউড। কিন্তু এখানে নারীদের যৌক্তিকভাবে উপস্থাপন করা হয় কিনা বা তাদের শুধুমাত্র যৌন আবেদনের জন্য ব্যবহার করা হয় কিনা এ নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক আছে।

Geena Davis Institute ২০১০ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত একটি ভারতীয় সিনেমার নারীদের ব্যবহার নিয়ে গবেষণা করে। সেই গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে এক তৃতীয়াংশ নারী চরিত্রকে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে স্বল্প বসনে উপস্থাপন করা হয় সিনেমার কাটতি বাড়ানোর জন্য। এই গবেষণা শুধু ভারতে নয় বিশ্বের দশটি দেশের জনপ্রিয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে চালানো হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে নায়কের পাশে সাপোর্টিভ চরিত্র হিসাবে , যৌনতার প্রতীক হিসেবে নারীদের ব্যবহার করা হয়েছে। নায়কের তুলনায় নায়িকা অতি নগণ্য সময় স্ক্রিনটাইম পান।

নারীদের উপজীব্য করে কাহিনী কিংবা নারীরা প্রধান চরিত্রে অভিনয় করছে এমন সিনেমা ভারতে খুব কম দেখা যায়। গবেষণা চালানো দশটি দেশের মধ্যে নবম স্থানে আছে বলিউড এবং সবার শীর্ষে আছে ব্রাজিলের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। অন্য দেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির চাইতে ভারতের ফিল্মের নায়িকাদের অনেক বেশী আকর্ষণীয় হতে হয়। শরীর প্রদর্শনও বেশী করতে হয়। শারীরিক সৌষ্ঠবের অধিকারী হতে হয়। মদ্দাকথায় শরীর স্বর্বস নায়িকাদের বলিউডের প্রাধান্য দেওয়া হয় বেশী।

নায়িকাদের আকর্ষণীয়তাকে প্রাধান্য দেওয়া হয় এমন ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে বলিউডের অবস্থান নবম এবং প্রথম অবস্থায় আছে জার্মানী। বলিউডের সিনেমায় নায়কই সর্বেসর্বা। অধিকাংশ সিনেমা নায়ক নির্ভর। ইন্টেলেকচুয়াল চরিত্রের ক্ষেত্রেও নায়কদের প্রাধান্যই বেশী থাকে। ইন্টেলেকচুয়াল চরিত্রে নারীদের উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে আছে জার্মানী। তারা শতকরা পঞ্চাশ শতাংশ সিনেমাতে নারীদের বিজ্ঞান ,টেকনোলজি , এঞ্জিনিয়ারিং ভিত্তিক চরিত্র দেয় এবং এ সমীক্ষাতেও বলিউড শতকরা আট শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে তলানীতে আছে।

বলিউডে যারা শক্তিশালী নারী চরিত্র আছেন তাদের মধ্যে অন্যতম কঙ্গনা রানাউত । তিনি সর্বোচ্চ পারশ্রমিক পাওয়া অভিনেত্রীদের মধ্যে একজন। ভারতীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নারীদের অধিকার নিয়ে বরাবরই সোচ্চার। এক আলাপচারিতায় তিনি বলেন , “বলিউডে লোকজন নায়কদের সঙ্গে একরকম আচরণ করে, আর নায়িকাদের সঙ্গে আরেকরকম। এখন মহিলাদের প্রতি এ মনোভাব পরিবর্তনের সময় এসেছে। সকল নারী যদি এগিয়ে আসে তাহলেই আর কেউ অভিনেত্রীদের অসম্মান করার সাহস পাবে না।” কঙ্গনা রানাউতের মতে বলিউডে নারীদের মেধার যথাযথ স্বীকৃতি পাওয়া যায় না।

এছাড়াও আরেক বিখ্যাত অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর ও মনে করেন বলিউডের অধিকাংশ পান্ডুলিপি পুরুষ অভিনেতাদের কথা মাথায় রেখেই লেখা হয় । যেখানে নারীদের অভিনয়ের যুযোগ থাকে অত্যন্ত সীমিত। ‘ভারতীয় সিনেমায় নারী উপস্থাপন’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তৃতাকালে তিনি বলেন বলিউড এখনো নারীদের যৌনতার প্রতীক হিসেবেই বিবেচনা করে।

বলিউডের আইটেম গান নিয়েও অনেক সময় বিতর্ক উঠেছে। সিংহভাগ আইটেম গানেই নারীদের স্বল্প বসনা এবং নারীদের প্রতি বিদ্বেষ মুলক কথাবার্তা ছাড়ানোর অভিযোগ পাওয়া যায়। সম্প্রতি নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করে এমন একটি সংগঘটন হলো আকশারা সেন্টার । তারা বেশকিছু আইটেম গানকে নারীর প্রতি বিদ্বেষ্মুলক এবং সস্তা যৌন আবেদন্মূলক হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং কর্তৃপক্ষকে সেসব গানের লাইন পাল্টানোর জন্য অনুরোধ করেছে। ইন্ডিয়ান ফিল্মে এমন অনেক আইটেম গান যাছে যা বিয়বাড়ীতে কিংবা অন্য কোন অনুষ্ঠানে গ্বয়া কিংবা নাচার জন্য একদম পার্ফেক্ট কিন্তু একটু তলিয়ে দেখলেই বোঝা যাবে সেসব গানে নারীকে কটাক্ষ এবং যৌনতার প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছে। এসব গানই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।

বলিউডের লিঙ্গ বৈষম্য কমাতে হলে আইটেম গানে নারীদের ব্যবহারটা ঠিকঠাক ভাবে করতে হবে বলেই মনে করেন আকশারা সেন্টারের কো অর্ডিনেটর স্নেহাল ভেলকার।

Most Popular

To Top