শিল্প ও সংস্কৃতি

‘গ্যাটসবি’-এর প্রেমোপাখ্যান!

গ্যাটসবি মুভি নিয়ে ছোট করে যদি দুই লাইনে বলি। তাহলে বলব, “অসম্ভব ভালোবাসার স্বপ্নকে বাস্তবে পরিণত করার অকল্পনীয় চেষ্টা ট্র‍্যাজেডিতে রূপান্তর হওয়ার নামই The Great Gatsby”।

ইটস অল এবাউট দ্যা গ্যাটসবি। তার নাম গ্যাটসবি আবার গ্রেট কেন যোগ করা হল?

ভালোবাসাকে ফিরে পাওয়ার জন্য তার এই মহাযজ্ঞকে গ্রেট না বলা ছাড়া উপায় নেই। কথা বলতেছি ‘দ্য গ্রেট গ্যাটসবি’ মুভি নিয়ে।আমার জীবনে দেখা অসম্ভব ভালো লাগা কয়েকটি মুভির একটি ‘দ্য গ্রেট গ্যাটসবি’। কিছু বলার আগে চলুন মুভিটি সম্পর্কে কিছু জেনে নেওয়া যাক।

Directed by: Baz Luhrmann

Produced by: Lucy Fisher, Catherine Knapman, Baz Luhrmann

Screenplay by: Baz Luhrmann,Craig Pearce

Based on: The Great Gatsby by F. Scott Fitzgerald

Starring: Leonardo DiCaprio, Tobey Maguire, Carey Mulligan, Joel Edgerton, Isla Fisher, Jason Clarke, Amitabh Bachchan

Music by: Craig Armstrong

Cinematography: Simon Duggan

কতজন প্রেমিক তার ভালোবাসাকে ফিরে পাওয়ার জন্য চেষ্টা করেছেন জানা নেই। তবে ‘গ্যাটসবি’ যা করেছেন তা যুগে যুগে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার মত। এ যেন আরেক ‘দেবদাস’।

১৯২৯ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভেটেরান নিক (Tobey Maguire) যখন তিনি পুরোদমে এলকোহলিক হয়ে এক সাইকিয়েট্রিক হসপিটালে আসেন চিকিৎসার জন্য। তখন তিনি জে গ্যাটসবি নিয়ে লেখেন। যার মতে গ্যাটসবি হলেন তার দেখা পৃথিবীতে আশা নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষগুলোর মধ্যে অন্যতম একজন। যার মত তিনি আর কাউকে দেখেননি আজ পর্যন্ত।

জে গ্যাটসবি (Leonardo DiCaprio) একজন মিলিওনিয়ার। টাকা-পয়সা, সম্পত্তি, মান-সম্মান কোন কিছুর কমতি নেই তার। কিন্তু একটা জিনিসের অভাব। তার ভালোবাসার মানুষ তার কাছে নেই, তিনি একা। প্রতি সপ্তাহে তিনি তার বিশাল অট্টালিকায় পার্টির আয়োজন করেন। যেখানে উপস্থিত থাকেন নিউইয়র্কের খ্যাতনামা মানুষজন।

জে গ্যাটসবি চরিত্রে Leonardo DiCaprio

তার পাশের বাড়িতেই থাকেন নিক যে কিনা ওয়াল স্ট্রিটে শেয়ারের ব্যবসা করেন আর অবসরে বই পড়েন। নিক সবসময় এগুলা দেখে যেতেন। অনেক নামও শুনছেন এই ‘গ্যাটসবি’-কে নিয়ে কিন্তু কখনো দেখেননি তাকে। একদিন নিক পার্টিতে উপস্থিত হওয়ার আমন্ত্রণ পান। ওই পার্টিতেই নিক আর গ্যাটসবির পরিচয় হয়। কিছুদিনের মধ্যে তাদের মাঝে বন্ধুত্ব হয়ে যায়।

নিকের কাজিন ডেইজির (Carey Mulligan) সাথে গ্যাটসবির অনেকদিনের সম্পর্ক ও ছিল। যে সম্পর্ক গ্যাটসবি অর্থবান না হওয়ায় চূড়ান্ত রূপ পায় না। এরই মধ্যে ডেইজির বিয়ে হয়ে যায় আরেক ধনাঢ্য লোক টমের সাথে (Joel Edgerton)। ডেইজির বান্ধবী জর্ডান (Elizabeth Debicki) বলার আগ পর্যন্ত এইসবের কিছুই নিক জানতো না।

মুভির কাহিনী মোড় নেয়, যখন গ্যাটসবির সাথে ডেইজির পাঁচ বছর পর দেখা হয় নিকের মাধ্যমে। ডেইজি ‘গ্যাটসবি’-এর তখনকার অবস্থা দেখে আশ্চর্য হয়ে যায়। গ্যাটসবি তাকে প্রস্তাব দেয় টমকে ছেড়ে তার কাছে চলে আসতে কিন্তু সে তো বিবাহিত। কি করবে সে?

এদিকে আবার টম পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হয়ে যান মার্টেল নামের অন্য এক মেয়ের সাথে। আর এভাবেই কাহিনী এগোতে থাকে. তারপর কাহিনী নিজেরাই দেখে নিন…

আসলেই কি গ্যাটসবি-ডেইজি আবার এক হতে পারবে? টম কি তার স্ত্রীকে হারিয়ে ফেলবে? টম কি অবৈধ প্রেম থেকে মুক্তি পাবে?

গ্যাটসবি কি তার পুরানো প্রেমিকাকে ফিরে পাবে? আর নিক কি এইসব প্যাঁচের ঝট খুলতে পারবে? নিক কি জানবে কেনো এতকিছু করত গ্যাটসবি?

যার কৌতুহল ছিল সবসময় ‘গ্যাটসবি’-কে নিয়ে…

এইসব উত্তর পেতে হলে আপনাকে দেখতে হবে ‘দ্য গ্রেট গ্যাটসবি’ মুভিটি।

এখন ডেইজির সেই উক্তিটা মনে পড়ে গেলো, “All the bright, precious thing fade so fast and they don’t come back”

মুভির শেষার্ধে মর্মান্তিক সময়ে নিক একটা ডায়ালগ দেয়। যেটা আমার কাছে অসাধারণ মনে হয়েছিল।

They were careless people (tom,daisy). They smashed up things and people and then retreated back into their money and their vast carelessness.

দ্যা গ্রেট গ্যাটসবি অস্ট্রেলিয়ান-আমেরিকান পিরিওড ড্রামা ফিল্ম যেটা F.scott Fitzgerald’s (1925) এর একই নামের নোভেল থেকে নির্মিত।

এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ‘Meyer Wolfsheim’ এ অভিনয় করেছেন ‘Amitabh Bachchan’

ছবিতে এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ‘Meyer Wolfsheim’ এ অভিনয় করেছেন ‘Amitabh Bachchan’। মুভিটির পরিচালক Baz Luhrmann। যার ১০৫ মিলিয়ন ডলার বাজেটের মুভিটি ২০১৬ পর্যন্ত আয় করছে প্রায় ৩৫১ মিলিয়ন ডলার যেটা বাংলা টাকায় প্রায় দুই হাজার আটশত কোটি টাকা।

গেটসবির সাউন্ডট্রেকগুলোও অসাধারন। ফার্জির গাওয়া ‘A Little Party Never Killed Nobody’ এবং লানা ডেল রায়ের ‘Young and Beautiful’ গানটি অসম্ভব ভালো লেগেছে।

আপনি মুভিটা দেখবেন শুধু ভিজুয়াল ইফেক্ট, স্টাইল, গ্রাফিক্স, সিনেমাটোগ্রাফির জন্য। তার সাথে ডিরেকশন তো আছেই।

প্রাসাদ,রাস্তাঘাট, বাগান,লেক মুভির প্রতিটা উপাধান অত্যন্ত নিখুঁতভাবে উপস্থাপনা করা হয়েছে। যেটা না দেখলে বুঝা যাবে না। না দেখলে অনেক কিছু মিস ও করবেন বলা যায়।

এই জন্যই তো ২০১৪ সালের অস্কারে ‘দ্যা গ্রেট গ্যাটসবি’ বেস্ট প্রোডাকশন ডিজাইন এবং বেস্ট কস্টিউম ডিজাইন দুই ক্যাটাগরিতে অস্কার লাভ করে।

যখন আমি মুভিটি দেখি মনে হয় আমার আবেগ মিশে গেছে মুভির চরিত্রগুলোর সাথে।

‘গ্যাটসবি’-এর দুঃখের সময়গুলো সহজভাবে নেওয়ার মত না। ঐ মুহূর্তগুলো চোখে পানি আনার জন্য যথেষ্ট। এছাড়া নিকের গল্প বলার ধরন। কত অসহায়ভাবে সে গল্পটিকে বলে যাচ্ছে ডাক্তারের কাছে। আর যখন লিখছিল তখন অনুভূত হল তার কষ্টগুলো।

‘লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও’ এই মানুষটি অভাগা মানুষদের মধ্যে অন্যতম। অভাগা মানুষদের ‘লিডার’ বলা যায়। এত এত সুন্দর চলচ্চিত্রে অভিনয় করার পর ও অস্কার নিজের করে নিতে পারেননি। ব্লাড ডায়ামন্ড, ওল্ফ অফ ওয়াল স্ট্রিট, ইনসেফশন, টাইটানিক, গ্রেট গ্যাটসবি এই মুভিগুলোর প্রত্যেকটি মুভিতে অস্কার পাওয়া উচিত ছিল। অন্তত আমি তাই মনে করি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস অস্কার তো পাননি বরং কোনটিতে নমিনেশন পর্যন্ত জোটেনি তার।

আমার মত এমন অনেক অনেক মানুষ আছে যাদের ‘টপ ফেবারিট’ মুভির একটি গ্রেট গ্যাটসবি। কিন্ত, এর পরিচালনা,ভিজুয়াল ইফেক্ট, সিনেমাটোগ্রাফি, চিত্রনাট্য, অভিনয় নিয়ে কটাক্ষ করেছেন অনেক সমালোচক। শুধু যে সমালোচনা পেয়েছে তা নয় অনেক প্রশংসাও কুড়িয়েছে ‘দ্য গ্রেট গ্যাটসবি’।

যেমন গ্যাটসবির অরিজিনাল লেখক ‘ফিটজেরাল্ড’-এর নাতনী মুভিটিকে প্রশংসায় ভাসিয়ে বলেন, “ফিটজেরাল্ড মুভিটিকে দেখলে গর্ববোধ করতেন”।

মুভিটা দেখলে অন্তত বুঝা যায় মেয়েরা যে সবসময় সংশয়ে থাকে। সিদ্ধান্তহীনতা! ও কি আমাকে ভালোবাসে? আমি কি তাকে ভালোবাসি? তাকে কি ছাড়ব? নাকি ছাড়ব না ইত্যাদি! আর ইতিমধ্যে তাদের এই কনফিউশনের প্যাঁচে পড়ে অনেকে ইতিহাস হয়ে যায়। আসলে এটা নারীদের স্বভাবজাত অভ্যাস। মহান সৃষ্টিকর্তাই তাদের এমনভাবে সৃষ্টি করেছেন।

পরিশেষে বলবো, মুভিটা দেখে মনে হয়েছে টাকা যাদের আপনার কাছে আনে, তারা কখনো আপনার আপন না এবং কখনো হবেও না।

[ পরিশিষ্টঃ গত ১১ই নভেম্বর লিওর জন্মদিন ছিল। এই লেখাটি আমি তাকে উৎসর্গ করলাম।ওই তারিখে আমি তাকে নিয়ে একটা লেখা লিখেছিলাম। কিন্তু সেটা কিভাবে জানি মুছে যায়।তবে আজ থেকে আমি তার বেস্ট আটটি মুভির রিভিউ দিব।আপনাদের পছন্দের মুভির নাম বলে দিবেন।এক একটা করে আমি রিভিউ লেখার চেষ্টা করব।]

Most Popular

To Top