ফ্লাডলাইট

সিলেটের বিদায়, শেষ চারের পথে দূরন্ত ম্যাশের উড়ন্ত রাইডার্স!

সিলেটের বিদায়, শেষ চারের পথে দূরন্ত ম্যাশের উড়ন্ত রাইডার্স!- Neon Aloy

শেষ ওভারে যেয়ে ম্যাচ জেতাটা যেন অভ্যাস হয়ে যাচ্ছে রংপুরের। পেন্ডুলামের মতো দোদুল্যমান ম্যাচ মাশরাফির হাত ধরে জিতে গেলো রংপুর।

রংপুরের ক্রেডিট যতখানি সিলেটের দোষ ঠিক ততটুকুই। মাশরাফির ভাগ্য ভালো টস জিতে একদমই নতুন উইকেটে বোলিং করার সুযোগ নিতে পেরেছে। সোহাগ গাজির জায়গায় দলে আসা নাজমুল ইসলাম অপু সুযোগ দু’হাত ভরে তুলে নিলেন। একদম নতুন উইকেটে সোহানের ওপেন করাটা পছন্দ হয়নি আমার। প্রথম বল থেকেই নার্ভাস ছিলো। নাসির সময় নিতে পারতেন, ডাউন দ্যা উইকেটে গেলেন নূন্যতম ব্যালান্স ছাড়াই, লাইনে যেতে পারেনি বলের। মর্মান্তিক ব্যাটিং ডিসপ্লে ডু অর ডাই ম্যাচে। বাবর আজম-সাব্বির রহমানের ৭৪ রানের জুটির বদৌলতে রানটা ১৭৭ হলেও সেটা কখনোই নিরাপদ মনে হয় নাই আমার। বাবর আজম এই ফরম্যাটের আদর্শ ব্যাটসম্যান কখনোই না যার কারনে তার কথা বললাম না কিন্তু ৩৭ বলে ৪৪ এটা সাব্বিরের সাথে বেমানান। এখানেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রন হারায় সিলেট। কারন উইকেট ১৮৫ রানের ছিলো। শেষ দিকে আর কয়েকটা রান আসতে পারতো তবে ম্যাশের নিঁখুত ইয়র্কার সাব্বিরের লেগ স্ট্যাম্প এলোমেলো করে দিলো। এখানে ১০ রান পিছিয়ে যায় সিলেট।

মালিঙ্গার শেষ ম্যাচ ভালো হলো না, ৪৫ রান দিয়ে উইকেটের দেখা মেলেনি।

গত ম্যাচের পর লিখেছিলাম ম্যাককালামকে তিন বা চারে নামানো উচিৎ আর গেইলের সাথে দেশি কাউকে ওপেন করাতে হবে। রংপুর কথা রেখেছে। কাগজে কলমে ম্যাক তিনে নেমে বেশ গুরুত্বপুর্ন ৪৩ রান করেন, সময় নিয়েছেন, মূলত দুইটা কারনে যেহেতু পেরেরা ছিলোনা তাই ইনিংস যত বড় করা যায় সেটাই ভালো হতো। যাক রান পেয়েছে এটাই ভালো কথা। শেষ পর্যন্ত থাকতে পারলে ম্যাচটা এতো ক্লোজ হয়না, আরো আগেই জিতে যেত রংপুর।

ব্যাট বলের সংযোগ করাটাই হচ্ছিলো না জিয়ার। ড্রপ গেলো, ফিরে এসে স্বভাবসুলভ ব্যাট করে ১৮ বলে ৩৬। খুব মজা পেয়েছি জিয়ার ব্যাটিং দেখে। মিথুন ১৮ করতে ১৭ বল লাগিয়ে আউট হলে চাপ পড়ে যায় ম্যাক আর বোপারার উপরেই।

পেরেরা নাই তাই যেকোন একজনকে ফিনিশিং দিতে হতো। ম্যাক আউট হবার পর সেটা বোপারার উপর দ্বায়িত্ব ছিলো। ২৪ বলে ৩৩ করে আউট হবার আগে মনে হচ্ছিলো সেটাই করবেন। বোপারার দুটি ক্যাচ ছেড়েছে সিলেট, সহজ ক্যাচ! এর আগে নাসির প্রথম দিকে একটা ক্যাচ ফেলে দেয়। সিলেট এসব কারনেই হেরেছে। ক্যাচ ফেলে ম্যাচ জেতা যায়না।

বোপারা রান আউট হবার পর ৩ ওভারে ৩০ লাগে। যেকোন দিকেই যেতে পারে ম্যাচ। তারপর আবার পেরেরা নাই।

পেরেরা নাই তো কি? ম্যাশ তো আছে নাকি? ১৯-তম ওভারের প্রথম বলে সোহেল তানভীরের স্লোয়ার বলটা দ্রুত পিক করে ফেলেন, সপাটে ব্যাট চালিয়ে কাউ কর্নার দিয়ে বিরাট ছক্কা! তখনই নিশ্চিত ছিলাম ছক্কাটা সিলেটকেই টুর্নামেন্ট থেকে বের করে দিলো।

শেষ ওভারে সিলেট সাম্ভাব্য সেরা বোলার ব্রেসনানকেই দ্বায়িত্ব দেন ৯ রান ডিফেন্ড করার জন্য। এতো এতো ম্যাচে খেলার ব্রেসনানও “পাগলা” মাশরাফির সামনে লাইন হারিয়ে ফেলেন! মাশরাফি আরো একটা ছয় মেরে দিলেন! শেষ ওভারে একটা ওয়াইড আর তিনটা ফুলটস দিলে কি আর হয়! দুই বল বাকি থাকতেই ম্যাচ হারতে হয়।

১৭* (১০) রানের মহাগুরুত্বপুর্ন এক ইনিংস ম্যাশের।

জার্সিতে নিয়েছেন শূন্য (০) নাম্বার, নতুন করে সব শুরু করতে চান, শুরু থেকে সব ঠিক থাকলে ম্যাশের হবার কথা ছিলো একজন জেনুইন অল রাউন্ডার। ইনজুরি সেটা হতে দেয়নি। কিন্তু নতুন শুরুর ঘোষনা দেয়ার পর ব্যাট হাতে যেন আরো দূরন্ত ম্যাশের দেখা পাচ্ছি!

তাহলে কি আক্ষেপ ঘুচানোর মিশন নিয়ে নেমেছেন? ক্যারিয়ারের শেষ দিকে কি আরো কিছু ব্যাটিং ঝলক দেখিয়ে আমাদের আক্ষেপটা আরো বাড়িয়ে দিয়ে যাবেন ম্যাশ?

Most Popular

To Top