লাইফস্টাইল

শেয়ারিং মানেই কেয়ারিং নয়!

শেয়ারিং মানেই কেয়ারিং নয়!- Neon Aloy

ছোটকাল থেকেই আমাদের শিখানো হয় মিলেমিশে চলার কথা, বিপদে আপদে অন্যকে সাহায্য করার কথা, নিজের যা আছে তা অন্যের সাথে শেয়ার করা। কিন্তু আজকের দিনের বিজ্ঞানীরা বলছেন অন্য কথা। নিজের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিস আমাদের শেয়ার করা উচিত না। বিজ্ঞানীদের তথ্যানুসারে নিচে ৮টি জিনিসের নাম দেওয়া হল যা আমাদের অতি নিকট বন্ধু বা আত্মীয় কারো সাথেই শেয়ার করা উচিত না।

১. টুপি, চিরুনী, বালিশ


এমন সব জিনিস যা আপনার মাথার স্পর্শে থাকে কিংবা মাথা ঢেকে রাখে তা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। অন্যেরটা নিজেও ব্যবহার করবেন না এবং নিজেরটা অন্যকে ব্যবহারের জন্য দিবেন না। কারন টুপি, চিরুনী কিংবা মাথার বালিশ এইসব কিছু দিয়ে খুব সহজেই উকুন ছড়াতে পারে। নিজেকে সূর্য হতে বাঁচাতে কিংবা পরিপাটি করে রাখতে গিয়ে উলটা উকুনের পাল্লায় পড়লে তো হবে না। তো টুপি, চিরুনী, বালিশ এইসব শেয়ার করা থেকে বিরত থাকবেন এবং বাকিদেরও এই ব্যাপারে সতর্ক করবেন।

২. ক্রিম


ফেসক্রিম, মাস্ক এইসব মুখে ব্যবহার্য জিনিস মানুষের একান্ত ব্যাক্তিগত ব্যবহারের জন্য হওয়া উচিত। আমরা যখন আঙ্গুল ডুবিয়ে এইসব ক্রিম নিচ্ছি তখন আমাদের হাত থেকে কতই না ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়সে ঐ ক্রিমে! অন্য কেউ যদি এই ক্রিম ব্যবহার করে তাহলে তার মুখে ফাঙ্গাসের ইনফেকশান হতে পারে, লাল লাল ফুসকুড়ি উঠতে পারে, চুলকানি সহ আরো অনেক চর্মরোগ হতে পারে। আশা করি এখন থেকে আর মুখের ক্রিমগুলো শেয়ার করবেন না কারো সাথে।

৩. অন্তর্বাস ও মোজা


অনেকেই ভাবে যে কত কিছুই তো বন্ধুর সাথে শেয়ার করি। এইগুলো করতে দোষ কি? কিন্তু না এসব শেয়ার করলে চলবে না। কারন প্রতিটা মানুষের শারীরিক গঠন ভিন্ন। অন্যের অন্তর্বাস ব্যবহার করলে হতে পারে মূত্রনালীর সংক্রামণ, জিনগত জীবাণুর আক্রমণ, চুলকানি সহ অনেক রকমের চর্মরোগ। আবার মোজা ব্যবহার করলে হতে পায়ে হতে পারে ফাঙ্গাসের ইনফেকশন, আমবার ইত্যাদি। তো যতই পুরনো বন্ধুত্ত্ব কিংবা সম্পর্ক হোক না কেন এইসব জিনিস শেয়ার করা থেকে নিজেকে বিরত রাখুন।

৪. টুথপিক, টুথব্রাশ


স্বাস্থ্য-সচেতন মানুষের কাছে এরচেয়ে ব্যাক্তিগত কিছু আর হতে পারে না। ডেন্টিস্টদের কড়া নিষেধ থাকে অন্যের ব্যবহৃত টুথব্রাশ কিংবা টুথপিক ব্যবহার না করার। একটি ৩মাস ব্যবহৃত টুথব্রাশে অনেক রকমের জীবাণু থাকে। ব্যাকটেরিয়া যেমন ই. কলি, স্টেফিলোকক্কাস এওরিয়াস ইত্যাদির সাথে জমাট বাধা খাবারের টুকরো তো আছেই। কখনোই ভুল করে হলেও অন্যের টুথব্রাশ ব্যবহার করবেন না।

৫. শেভিং রেজর


শেভিং রেজরও প্রতিটা মানুষের একান্ত ব্যাক্তিগত ব্যবহার্য জিনিস হিসেবে গন্য করা হয়। ড. ফেইনবার্গ বলেছেন, “শেভিং রেজর কখনো শেয়ার করা উচিত না কারণ এর মাধ্যমে হেপাটাইটিস, এইচ আই ভি- এর মত ভাইসার ছড়াতে পারে। অনেক রকমের ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস থাকে আপনার রেজরে। যা সহজেই আপনার ত্বককে ইনফেকটেড করতে পারে”। আর এক রেজর বহুদিন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।

৬. ঝামা পাথর


আমরা অনেকেই পায়ের গোড়ালির মরা চামড়াগুলো পরিষ্কার করার জন্য ঝামা পাথর ব্যবহার করি। এই পাথরও অন্য কারো সাথে শেয়ার করা উচিত নয়। কারণ এতে থাকে ফাঙ্গাসের মত জীবাণু যা পায়ে অনেক রকমের ইনফেকশনের পাশাপাশি আঁচিল এর জন্ম দিতে পারে। এগুলো প্রচন্ড সংক্রামক এবং এর থেকে প্রতিকার পাওয়াও অনেক দুষ্কর।

৭. ইয়ারফোন


প্রতিটি সংগীত প্রেমিকের কাছে ইয়ারফোন খুবই গুরুত্ত্বপূর্ণ জিনিস। কিন্তু এই জিনিস অনেকেই খেয়াল করে না যে ইয়ারফোন কানের যে অংশের সংস্পর্শে থাকে সেটা যেন জীবানুদের আড্ডাখানা। এখানকার ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কোনভাবেই ইগনোর করার নয়। প্রতিটা মানুষের ব্যাকটেরিয়াই ভিন্ন এবং এটা শেয়ার করার মধ্যে ভালো কোন ফল নেই। তাই কাউকে ইয়ারফোন ব্যবহার করতে দেওয়ার আগে হয় তুলো দিয়ে না হয় ডিসইনফেক্টিং স্প্রে দিয়ে ইয়ারফোনটা পরিষ্কার করে নিতে হবে। আর এতে গড়িমসি করে লাভ নেই। বাজিতে এখন আপনার স্বাস্থ্য।

৮. স্যান্ডেল


দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য সকলের প্রথম পছন্দ। রাস্তায় চলার পথে যেন সবচেয়ে আরামদায়ক সঙ্গী। অনেকেই মনে করেন স্যান্ডেল শেয়ার করে পড়লে কোন সমস্যা নাই। কিন্তু এই স্যান্ডেলই পায়ের সকল রকমের ময়লা বহন করে যাতে থাকতে পারে হাজারো-লক্ষ জীবাণু, ব্যাকটেরিয়া। এইসব জিনিস বয়ে আনে ফাঙ্গাস, আঁচিল, পুঁজ এর মত রোগ।

 

Most Popular

To Top