বিশেষ

জর্জ হ্যারিসন: যার গানে বাংলাদেশকে চিনেছিল গোটা বিশ্ব!

জর্জ হ্যারিসন: ৭১ এ যার গানে বাংলাদেশকে চিনেছিল গোটা বিশ্ব

এক সময়ের দুনিয়া কাঁপানো ব্যান্ড দল দ্যা বিটলসের একটি জনপ্রিয় গান ছিল ‘হোয়েন আই এম সিক্সটি ফোর’। কিন্তু মরনব্যাধী ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ৬৪ পেরুনোর আগেই মারা যান বিটলসেরই এক সদস্য ৫৮ বছরের জর্জ হ্যারিসন। আজ থেকে প্রায় ১৬বছর আগে ২০০১ সালের ২৯শে নভেম্বর মারা যান বিংশ শতাব্দীর অত্যন্ত প্রতিভাবান ও জনপ্রিয় গায়ক এবং গিটারিস্ট জর্জ হ্যারিসন। আজ এই মহান শিল্পীর ১৬তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। আজকের এই দিনে এই মহান শিল্পীকে বিনম্র শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করছি।

জর্জ হ্যারিসন

জর্জ হ্যারিসন ১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৫  ফেব্রুয়ারি, ইংল্যান্ডের ল্যাংশায়েরর লিভারপুলে জন্মগ্রহণ করেন। এঁর পিতার নাম হ্যারোল্ড হার্গ্রিভিস হ্যারিসন এবং মায়ের নাম লুইসে। ইনি ছিলেন পিতামাতার চার সন্তানের ভিতর চতুর্থ। পিতা ছিলেন হোয়াইট স্টার লাইনের বাস কন্ডাক্টর। মা ছিলেন আইরিশ বংশোদ্ভুত এবং লিভারপুলের একটি দোকানের সহাকারিণী।

পিতা মাতার সাথে জর্জ হ্যারিসন

জর্জ হ্যারিসন গায়ক এবং গিটারিস্ট হলেও তার বিচরণেরক্ষেত্রের ব্যাপ্তি ছিল সঙ্গীত পরিচালনা, রেকর্ড প্রযোজনা এবং চলচ্চিত্র প্রযোজনা পর্যন্ত। বিখ্যাত ব্যান্ড সঙ্গীত দল ‘দ্য বিটল্‌স’ এর চার সদস্যের একজন হিসেবেই তিনি বিখ্যাত হয়ে ওঠেন।

হ্যারিসনের প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয় পেনি লেনের নিকবর্তী ডাভডেল প্রাইমারি স্কুলে। এখান থেকে তিনি ১১-প্লাস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে Liverpool Institute for Boys-এ ভর্তি হন। উল্লেখ্য এই ইনস্টিটিউটি বর্তমানে Liverpool Institute for Performing Arts নামে পরিচিত। এই প্রতিষ্ঠানে তিনি ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। এই বিদ্যালয়ে গিটার শিখতেন। কিন্তু তাঁর পিতামাতার আর্থিক অবস্থা খারাপ থাকার কারণে, হ্যারিসনের জন্য প্রথম দিকে গিটার কিনে দিতে পারেন নি। পরে তাঁর মা তাঁকে একটি গিটার কিনে দেন। সে সময়ে এর দাম ছিল ৩.১০ পাউন্ড। এই প্রতিষ্ঠানে থাকাকালীন সময়ে স্কিফ নামক একটি গানের দল তৈরি করেন। এই দলের সাথে ছিলেন তাঁর বড় ভাই পিটার এবং তাঁর বন্ধু আর্থার কেলি। স্কুল বাসে তাঁর সাথে পরিচয় ঘটে তাঁর আট মাসের বড় পল ম্যাককার্টনি এর সাথে। এই পল ম্যাককার্টনি এবং জন লেনন মিলে তৈরি করেছিলেন “দ্যা কোয়ারিমেন্” নামক একটি ব্যান্ড তৈরি করেছিল। পরে সেটাই হয় দিগ্বিজয়ী দ্য বিটলস। ম্যাককার্টনি হ্যারিসনকে দলে নেওয়ার জন্য লেননকে অনুরোধ করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৫৮ সালে হ্যারিসন সেই ব্যান্ডে যোগদান করেন। বিটলসে সবার ছোট ছিলেন হ্যারিসন। প্রথমদিকে কম বয়সের অজুহাতে লেনন এবং ব্যান্ডের অন্যান্য সদস্যরা তাঁকে নিতে গড়িমসি করলেও পরবর্তীতে হ্যারিসনের পারফরম্যান্সে সন্তষ্ট হয়ে তাঁকে দলে নেন। ১৫বছর বয়সে হ্যারিসন সেই ব্যান্ডের পুরোদস্তুর সদস্য হয়ে যান।

জর্জ হ্যারিসন, জন লেনন, পল ম্যাককার্টি এবং রিঙ্গো স্টার

১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দে জার্মানির হামবুর্গে সঙ্গীত পরিবেশনের জন্য আমন্ত্রণ পায় দ্য বিটলস। ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ অক্টোবরে বিটলস হামবুর্গের কাইসেরকেল্লার নৈশক্লাবের উদ্বোধনের দিনে সঙ্গীত পরিবেশন করেন। ১৯৬১ সালের নভেম্বরে বিটলসের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়ে ব্রায়ান এপ্সটেইন ব্যান্ডটির ম্যানেজারের দায়িত্ব নেন। ১৯৬৩ সালে এমির ব্যানারে তাদের প্রথম অ্যালবাম রিলিজ পায়; ততদিনে বিটলস উন্মাদনা ছড়িয়ে গেছে পূরো বিশ্বে। তার আগে ১৯৬২ সালে অ্যালবামের প্রথম সিঙ্গেল গান ইউকে চার্টে ১৭ নাম্বারে জায়গা করে নেয়। মূলত জর্জ হ্যারিসন লীড গিটারিস্ট হলেও বিটলসের প্রতিটি এলবামেই জর্জ হ্যারিসনের নিজের লিখা ও সুর দেয়া দু’একটি একক গান থাকতো যা তাঁর প্রতিভার পরিচায়ক ছিল। এরপরের অংশটুকু শুধুই বিটলস এবং হ্যারিসনের সাফল্যগাঁথা।

১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দে ৫ অক্টোবর বিটলের প্রথম Love Me Do এবং P.S. I Love You গান নিয়ে একটি রেকর্ড প্রকাশিত হয়। এই গানের সাথে হ্যারিসন Gibson J-160E বাজিয়েছেন। ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দে Please Please Me এ্যালবাম প্রকাশিত হয়। এরপর বিটলসের নাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দে বিটলস নিউইয়র্কে সঙ্গীত পরিবেশন করে এবং বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এই বৎসরে বিটলসের উপর সাদা-কালো রঙ্গ ছবি A Hard Day’s Night তৈরি হয়। ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটেনের রানীর জন্মদিনের সম্মানে এই চার বিটল -এর Order of the British Empire সদস্যপদ লাভ করেন। ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দের দিকে রাবার সোল নামক এ্যালবাম প্রকাশিত হয়। এই এ্যালবামের ভিতর দিয়ে হ্যারিসন সঙ্গীত পরিচালক হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেন। এক্ষেত্রে তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন প্রখ্যাত সঙ্গীত-শিল্পী বব ডিলান।

১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে বিটলসের ‘হোয়াইট এ্যালবাম’ প্রকাশিত হয়। এই সময় তাঁদের ড্রামার Ringo Starr কিছুদিনের জন্য বিটলসের সঙ্গ ত্যাগ করেন। ফলে বিটলসের জন্য সাময়িক অসুবিধার সৃষ্টি হয়। ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি রেকর্ড করেন Here Comes the Sun” এবং “Something” রেকর্ড করেন।

১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে লণ্ডনে ভারতীয় সেতারবাদক হ্যারিসনের সাথে পণ্ডিত রবি শঙ্করের  পরিচয় ঘটে। এর কিছুদিন পর, হ্যারিসন ভারতে আসেন এবং শ্রীনগরে রবি শঙ্করের কাছে ছয় সপ্তাহ সেতারের তালিম নেন। ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের ৪ জানুয়ারি বিটলসের সাথে তাঁর বিচ্ছেদ ঘটে। অবশ্য এই সময়ের ভিতর হ্যারিসনের ‘Wonderwall Music’ এবং  ‘Electronic Sound’ নামক দুটি একক এ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছিল। এর ভিতরে ‘Wonderwall Music’ এ্যালবামে, পণ্ডিত রবি শঙ্কর-এর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পাশ্চাত্য সঙ্গীতের সাথে ভারতীয় রাগ সঙ্গীতের মিশ্রণ ঘটান। বিটলসের বাইরে এসে তাঁর তিনটি এ্যালবাম প্রকাশিত হয়। এই এ্যালবামের গানগুলোকে তাঁর শ্রেষ্ঠ কাজের নিদর্শন হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এই এ্যালবামগুলোর ভিতরে “My Sweet Lord”, “What Is Life”, “Wall of Sound” অসম্ভব জনপ্রিয়তা লাভ করে।

সময়টা তখন ১৯৭১। যুদ্ধের বিভিষিকায় রক্তাক্ত বাংলাদেশ। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্বিচার গণহত্যার ফলে প্রায় এক কোটি লোক ভারতে আশ্রয় নেয়। এতো বিপুলসংখ্যক শরণার্থীদের ভরণ-পোষণ করতে গিয়ে ত্রাণ-সামগ্রীর অপ্রতুলতা দেখা দেয়। শরণার্থী জীবন এমনিতে দুর্বিষহ। চুপ করে বসে থাকতে পারেননি বিশ্বখ্যাত সেতার বাদক পণ্ডিত রবি শঙ্কর। তিনি কথা বললেন জর্জ হ্যারিসনের সাথে। রবি শঙ্কর তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু হ্যারিসনকে যুক্তরাষ্ট্রে দাতব্য সঙ্গীতানুষ্ঠানের আয়োজনের কথা বললেন। হ্যারিসন অকুণ্ঠ চিত্তে বন্ধুর প্রস্তাব গ্রহণ করেন এবং তাঁর বন্ধুদের ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনে যোগদানের আমন্ত্রণ জানান।

মাত্র পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে কনসার্টের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। হ্যারিসন সবার আগে তাঁর পূর্বেকার দল বিটলসের সদস্যদের কনসার্টে যোগ দিতে বলেন। পল ম্যাকার্টনি সরাসরি অস্বীকৃতি জানান, কেননা তখন দলের সাথে তাঁর কোনো সম্পর্ক ছিল না। জন লেলন অনুষ্ঠানে আসতে রাজি ছিলেন, কিন্তু সে সময় আদালতে তাঁর সন্তানের ব্যাপারে স্ত্রী ইয়োকো ওনোর সাথে আইনী লড়াই চলছিল। আর মিক দ্যাগার ছিলেন ফ্রান্সে, ভিসা জটিলতার কারণে তাঁর পক্ষেও কনসার্টে অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি। শেষতক বিটলসের একমাত্র রিঙ্গোস্টার যোগ দিতে সক্ষম হন। সাথে আরো যোগ দেন-বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটন, বিলি ব্রিস্টন, হ্যারিসনের নতুন দল ব্যাড সিঙ্গারাসহ আরো অনেকে।

বিটলস ভেঙে যাওয়ার পর জর্জ হ্যারিসন প্রথম বারের মতো পারফর্ম করেন কনসার্ট ফর বাংলাদেশে। এরিক ক্ল্যাপটনের অবস্থা ছিল খুব খারাপ, তিনি হেরোইন আসক্ত ছিলেন, ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে তিনি সর্বশেষ মঞ্চে পারফর্ম করেন। মাদকাসক্তির জন্য তিনি কনসার্টের কোনো অনুশীলনে অংশ নিতে পারেননি। যখন মনে করা হচ্ছিল তাঁকে বাদ দিয়ে কনসার্ট করতে হবে ঠিক সেই মুহূর্তে শব্দ পরীক্ষার সময় উদয় হন। আরেক বিশ্বখ্যাত শিল্পী বব ডিলানও প্রায় দু’বছর পর পারফর্ম করতে আসেন। ১৯৭১ সালের আগস্টের প্রথম দিবসে ম্যাডিসন স্কোয়ার গার্ডেনের ৪০ হাজার আসনের মধ্যে একটিও খালি ছিল না। দর্শকদের এই অভূতপূর্ব সাড়ায় শিল্পীরাও উজ্জীবিত।

কনসার্ট ফর বাংলাদেশে দর্শক

বিকেল থেকে অনেক রাত অব্দি কনসার্টটি দুভাগে বিভক্ত ছিল। প্রথম পর্বে পণ্ডিত রবি শঙ্কর ও তাঁর দলের পরিবেশনা এবং শেষ পর্বে হ্যারিসন ও অন্যদের প্রথমে মঞ্চে আসেন রবি শঙ্কর ও আলী আকবর খান। তারা মাত্র ৯০ সেকেন্ডের ধুন বাজান। দর্শকশ্রোতারা মনে করেছিল তারা ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের একটি ধুন শুনে ফেলেছেন। কিন্তু দর্শকদের ভুল ভেঙে দেন স্বয়ং রবি শঙ্কর। তিনি বললেন, আপনাদের বাদ্য যন্ত্র টিউন করাটা যদি এতো ভালো লাগে, তাহলে আসল ধুনটি আরো ভালো লাগবে। সেতারে রবি শঙ্কর, সরোদে ওস্তাদ আলী আকবর খান যন্ত্রসঙ্গীতের মাধ্যমে কনসার্ট ফর বাংলাদেশের সূচনা ঘটে। তাঁদের তবলায় সঙ্গত করেন ওস্তাদ আল্লা রাখা খান, তানপুরায় ছিলেন কমলা চক্রবর্তী। তাঁরা বাংলা ধুন নামে একটি ধুন পরিবেশন করেন।

এরপর মঞ্চে আসেন জর্জ হ্যারিসন ও অন্যান্যরা। তারা একে একে পরিবেশন করেন- সামথিং, ইট ডোন্ট কাম ইজি, বিওয়ার অব দ্য ডার্কনেস, হোয়াইল মাই গিটার জেন্টলি উইপস, জাম্পিন জেক ফ্লাশ, ইয়ংব্লাড, হেয়ার কামস দ্য সান, অ্যা হার্ড রেইন’স অ্যা গোন্না ফল, প্লেইন ইন দ্য উইন্ড, ইট টেকস অ্যা লট টু লাভ-ইট টেকস অ্যা ট্রেন টু ক্লাই, জাস্ট লাইক অ্যা উইমেন, মাই সুইট লর্ড, অ্যাওয়েটিং অন ইউ, অল, লাভ মাইনাস জিরো, হেয়ার মি লর্ড, মি. টাম্বোর্নি ম্যান, কনসার্টের ইতি টানা হয় জর্জ হ্যারিসনের গাওয়া সেই বিখ্যাত গান ‘বাংলাদেশ’ দিয়ে। কনসার্টের জন্য গানটি বিশেষভাবে রচিত হয়। কনসার্টে পারফর্মকারীদের মধ্যে রয়েছেন-রবিশঙ্কর, আলী আকবর খান, আল্লারাখা খান, কমলা চক্রবর্তী, জর্জ হ্যারিসন, রিঙ্গোস্টার, লিয়ন রাসেল, বিলি প্রিস্টন, এরিক ক্ল্যাপটন, বব ডিলার, ক্লস বোরম্যান, জিম কেল্টনার, ব্যাড ফিঙ্গার, পিটি হাম, টম ইভান্স, জোরি মোলাও, মাইক গিবসন, জেসি অ্যাড ডেভিস, ডন প্রিস্টন, ডন নিক্স, জো গ্রিন, মার্লিন গ্রিন, ডলরেস হল, ক্লডিয়া লিনিয়ার প্রমুখ। ১৯৭১ সালের শেষের দিকে কনসার্টটি অডিও আকারে প্রকাশিত হয়। চলচ্চিত্র আকারে মুক্তি পায় ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ।

এই কনসার্ট হতে সংগৃহীত ২,৫০,০০০ ডলার বাংলাদেশের উদ্বাস্তুদের জন্য দেয়া হয়েছিল। মেডিসন স্কয়ার গার্ডেনে কনসার্ট ফর বাংলাদেশের মাধ্যমে বিশ্ববাসী আরও ভালোভাবে জেনেছিল, সভ্যতার ভয়াবহ গণহত্যা ও ধ্বংসের মাঝে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতার জন্য লড়ছে দণি এশিয়ার একটি দেশ। সেই থেকে বাংলাদেশের জনগণের কাছের মানুষ জর্জ হ্যারিসন। আমাদের কনসার্টের ফলে বাংলাদেশ অনেক প্রচার পেয়েছিল, পরবর্তীতে ঘটনাপ্রবাহ ভিন্নখাতে প্রবাহিত হতে শুরু করে। কনসার্টের ফলে পাকিস্তানি হিটলারদের কর্মকাণ্ড বিশ্ববাসীর কাছে উন্মোচিত হয়ে পড়ছিল।’ কনসার্ট ফর বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধে ভিন্ন দ্যোতনা যুক্ত করে। বাংলাদেশের বিজয় অর্জন ত্বরান্বিত করতে এই কনসার্ট অনন্য ভূমিকা রাখে।

হ্যারিসন প্রথম বিবাহ করেন ১৯৬৬ সালের ২১ জানুয়ারি জনপ্রিয় মডেল প্যাটি বয়েডকে। ১৯ বছরের প্যাটি বয়েড তখন একজন স্কুল গার্ল। তবে এই সম্পর্ক তাদের বেশিদিন টেকেনি। ১৯৭৪ সালে তাদের ডিভোর্স হয়ে যায়।

প্রথম স্ত্রীর সাথে জর্জ হ্যারিসন

একই বছর ডার্ক হর্স রেকর্ড কোম্পানির সেক্রেটারি অলিভিয়ার সাথে পরিচয় হয় এবং ২সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ সালে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হোন।১৯৭৮ সালের ১ আগস্ট তাদের একমাত্র পুত্র ধ্যানি হ্যারিসনের জন্ম হয়।

দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে জর্জ হ্যারিসন

বিটলস ত্যাগ করার পর আর কোন ব্যান্ডের সাথে তিনি অফিশিয়ালি যুক্ত ছিলেন না। একক এলবাম প্রকাশ করেন, অর্থ সংগ্রহের জন্য কনসার্ট করেন। ৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দে Birmingham Children’s Hospital -এর অর্থ সংগ্রহের জন্য আরো একটি কনসার্ট করেন। ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দে ক্লাউড নাইন এ্যালবাম প্রকাশ করেন। ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ক্ল্যাপ্টনের সাথে জাপান সফর করেন। ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দের ৬ এপ্রিল, তিনি Natural Law Party -এর জন্য লণ্ডনের Royal Albert Hall-এ কনসার্ট করেন। এই বৎসরের অক্টোবর মাসে নিউইয়র্কে বব ডিলনের সাথে কনসার্ট করেন। ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দের আগষ্ট মাসে তাঁর The 30th Anniversary Concert Celebration এ্যালবাম প্রকাশিত হয়। ২০০১ খ্রিষ্টাব্দে অতিথি শিল্পী হিসাবে the Electric Light Orchestra album Zoom-এ কাজ করেন।

৩০ ডিসেম্বর ১৯৯৯ খৃস্টাব্দে ৩৬ বছর বয়সের মাইকেল আব্রাম ব্রোক নামের এক দুর্বৃত্ত হ্যারিসনের ফ্রায়ার পার্কের বাড়ীতে ঢুকে তাকে কিচেনের চাকু দিয়ে বুকে এবং মাথায় আঘাত করেন। এ সময় তার স্ত্রী অলিভিয়া তাকে রক্ষা করেন।এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হোন এবং মাইকেল ব্রোক পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার হোন। তখনকার সময় বিভিন্ন পত্রপত্রিকা থেকে জানা যায়, মাইকেল তার জবানবন্দীতে বলেন, ঈশ্বর আমাকে হ্যারিসনকে হত্যা করার নির্দেশ দিয়েছেন। আমি কেবল ঈশ্বরের নির্দেশ পালন করেছি।

২৯ নভেম্বর ২০০১ আমেরিকার লস এঞ্জেলসে দীর্ঘ দিনের বন্ধু এবং একসময়ের সহকর্মী পল ম্যাককার্টনির বাড়ি তিনি কিছুদিনের জন্য থাকতে যান। সেখানেই স্থানীয় সময় ১টা ৩০মিনিটে চলে গেলেন পৃথিবী ছেড়ে এক সময়ে সাড়া জাগানো ব্যান্ড বিটলসের সাবেক সদস্য, বিংশ শতাব্দীর অত্যন্ত প্রতিভাবান একজন জনপ্রিয় গায়ক এবং গিটারিস্ট, বিশ্ব মানবতার প্রতীক, বাঙ্গালীর দুঃসময়ের বন্ধু জর্জ হ্যারিসন। জর্জ হ্যারিসন ১৯৬৬ সালে ভারতে এসে ভারতীয় কৃস্টি এবং হিন্দু ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে হিন্দু ধর্ম গ্রহন করেন। তাই তার মৃত্যুর পর তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী হলিউডের হিন্দু সমাধিক্ষেত্রে দেহ দাহ করা হয় এবং তার ভস্ম ভারতের বেনারসে গঙ্গা এবং যমুনা নদীবাহিকায় ভাসিয়ে দেয়া হয়।

তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে ‘কনসার্ট ফর জর্জ’ শিরোনামে ট্রিবিউট কনসার্টের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় পণ্ডিত রবি শঙ্করের ক্লাসিকাল সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে। এরপর বিটলসের পুরোনো সদস্যরা রিঙ্গো স্টার, পল ম্যাককার্টনি। তারপর একে একে এরিক ক্ল্যাপটন, জোয়ী ব্রাউন, রেয় কুপার, টম প্রেটি, বিলি প্রিসটন, জুলস হল্যান্ড, এলবার্ট লি, সাম ব্রাউন, গ্রে ব্রোকার, জেফ লিন সহ প্রমুখ স্বনামধন্য সঙ্গীত শিল্পী। জর্জ হ্যারিসনের পুত্র ধ্যানি হ্যারিসনও এই অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেন।

কনসার্ট ফর জর্জ

 

Most Popular

To Top