ফ্লাডলাইট

ফিলিপ হিউজঃ ফিরতে নেমে না ফেরার দেশে অপরাজিত ৬৩

ফিলিপ হিউজঃ ফিরতে নেমে না ফেরার দেশে অপরাজিত ৬৩

৯ ডিসেম্বর ২০১৪, বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফির প্রথম টেস্টে মাঠে নামবে অস্ট্রেলিয়া, প্রথা মেনে আগের দিনই একাদশ ঘোষনা করে দিয়েছে অজিরা, প্লেয়িং একদাশের সাথে দ্বাদশ খেলোয়াড় থাকেই কিন্তু অস্ট্রেলিয়া দলে ১৩-তম খেলোয়াড় হিসেবে অফিশিয়ালি ঘোষনা করা হয়েছে তার নাম। সব অস্ট্রেলিয়ার খেলোয়াড়ের জার্সিতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ব্যাজের নীচে একটাই নাম্বার, “৪০৮”। ম্যাচ শুরুর আগে ৬৩ সেকেন্ড একটানা কড়তালি দিয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন উপস্থিত সবাই। অজি প্লেয়ারদের চোখে জল, দর্শকের চোখে জল। চির পরিচিত “উগ্র” অজি দর্শকদের চোখে জল।

সেদিনই ডেভিড ওয়ার্নার আর স্টিভ স্মিথ যখন ব্যক্তিগত ৬৩* রানে পৌছালেন, ব্যাট উঁচিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে কি বললেন? “যেখানেই থাকো ভালো থাকো বন্ধু”। স্মিথ সেঞ্চুরী ছুঁয়েই চলে গেলেন মাঠের ভেতর বড় করে লেখা “৪০৮” নাম্বারের কাছে, হয়তো কান্না ধরে রাখতে পারছিলেন না, আম্পায়ার এসে বললেন “সময় নাও কিছুটা, সমস্যা নেই”।
অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৪০৮ রান হতেই মাঠে উপস্থিত দর্শকের উঠে দাড়িয়ে দেয়া কড়তালিতে সাময়িক বন্ধ হয়ে যায় খেলা। হিউজ কি দেখেছেন এসব উপর থেকে?

 ফিলিপ জোয়েল হিউজ, ব্যাগি গ্রীন নাম্বার ৪০৮, অপরাজিত ৬৩ এই দুটি বাক্য বিশ্বজুড়ে ক্রিকেট প্রেমীদের যুগ যুগ কাঁদিয়ে যাবে। বিরল এক ইনজুরিতে বিদায় নিয়েছিলেন পৃথিবী থেকে। মাঠ থেকে বিদায় নেবার ইচ্ছাটা সব ক্রিকেটারের মনের গহীনে লুকানো থাকে, কিন্তু এমন বিদায় কারো কাম্য নয়। ফেরার লড়াইয়ে মাঠে নেমে মাঠ থেকেই না ফেরার দেশে।


হতে চেয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার “দ্বিতীয় গিলক্রিস্ট”, গিলির মতো নিয়মিত না হলেও কিপিং করতেন দলের প্রয়োজনে। অপার সম্ভাবনা নিয়ে এসেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট অঙ্গনে, ভাবা হচ্ছিলো আরেকজন গ্রেট প্লেয়ারের দেখা পেতে যাচ্ছে অজি ক্রিকেট। সম্ভাবনার রঙিন মলাটে জড়ানো ক্যারিয়ারের শুরুটা ম্যাকসভিল নামক নিউ সাউথ ওয়েলসের ছোট্ট গ্রামে। কলা চাষী বাবা আর ইতালিয়ান মায়ের ছোট্ট হিউজ ১২ বছর বয়সেই করেছিলেন এ-গ্রেড সেঞ্চুরী। দূর্দান্ত রাগবি খেলতেন তবে বেছে নিয়েছিলেন ক্রিকেট। বিখ্যাত সিডনি গ্রেড ক্রিকেট খেলতে ১৭ বছরে পাড়ি জমান সিডনিতে। গ্রেড ক্রিকেটে অভিষেক ম্যাচেই ১৪১* রানের ইনিংস খেলে বুঝিয়ে দেন অনেক বড় লক্ষ্য নিয়েই বড় মঞ্চে পা রেখেছেন। মৌসুমে ৭৫২ রান করে জায়গা করে নেন ২০০৮ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে।

নিউ সাউথ ওয়েলস দ্বিতীয় একাদশের হয়ে এক ম্যাচে ৫১ এবং ১৩৭ রানের নজরকাড়া দুটি ইনিংস খেলে সরাসরি রাজ্য দল নিউ সাউথ ওয়েলস মূল একাদশে ঢুকে যান। তাসমানিয়ার বিপক্ষে প্রথম শ্রেনীর অভিষেক হয় মাত্র ১৮ বছর ৩৫৫ দিনে, মাইকেল ক্লার্কের অভিষেকের (১৯৯৯ সালে) পর সর্ব কনিষ্ঠ নিউ সাউথ ওয়েলস ক্রিকেটার। অভিষেক ম্যাচে ৫১ রান আর দুটি ক্যাচ নিয়েছিলেন দলের সহজ জয়ে।

দূর্দান্ত সেই অভিষেক মৌসুমে করেছিলেন ৬২.১১ গড়ে ৫৫৯ রান যার সবচেয়ে সুন্দর মুহুর্ত ছিলো শেফিল্ড শিল্ড ফাইনালে ১১৬ রানের চমৎকার ইনিংস, শিল্ড ফাইনালের সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ানের রেকর্ড এখনো হিউজের দখলেই।

ইতালিয়ান মায়ের সন্তান হিসেবে মিডিলসেক্সের হয়ে কলপ্যাক চুক্তিতে খেলার সুযোগ আসে ইউরোপিয়ান পাসপোর্ট থাকায়। কিন্তু হিউজ সাফ বলে দেন কলপ্যাক নয়, বিদেশি হিসেবে খেলতে পারেন বড়জোর। সেটাই হয়েছিলো, মিডিলসেক্সের হয়ে তিন কাউন্টি ম্যাচে তিন সেঞ্চুরিতে করেন ৫৭৪ রান। গড় অবিশ্বাস্য ১৪৩.৫০।
লিস্ট “এ” অভিষেক ম্যাচে ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে করেন ৬৮ রান। প্রথম লিস্ট “এ” সেঞ্চুরী কাউন্টি ক্রিকেটে, মিডিলসেক্সের হয়ে ফ্লুয়েন্ট স্ট্রোকময় ১১৯ ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে।

আর ফিরে তাকাতে হয়নি, ২০০৯ সালে আরেক লিজেন্ড ম্যাথু হেইডেনের রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে জায়গা হয় সাউথ আফ্রিকা সফরে। প্রস্তুতি ম্যাচে ৫৩ রান করে অবসর নেন। সব অভিষেক ইনিংস এতো মধুর হয়না এটা প্রমাণ করতেই যেন টেস্ট অভিষেকের প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে আউট হন ডেইল স্টেইনের বলে। সেটা ম্যাচের মাত্র চতুর্থ বল। হার মানার মানুষ হিউজ নন, দ্বিতীয় ইনিংসে করে ফেললেন দলীয় সর্বোচ্চ ৭৫ রান (১১ চার আর ১ ছক্কা)।

ক্যারিয়ারের সেরা ম্যাচের দেখা পেয়ে যান দ্বিতীয় টেস্টে। রেকর্ড গড়া সেই ম্যাচের প্রথম ইনিংসে করেন ১১৫ রান, তখনই ছুঁয়ে ফেলেন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সবচেয়ে কম বয়সে টেস্ট সেঞ্চুরীর রেকর্ড। ২০ বছর ৯৬ দিনে ভেঙে দেন স্বদেশী ডগ ওয়াল্টারের রেকর্ড। থেমে থাকেননি সেখানেই, দ্বিতীয় ইনিংসে আরো উজ্জ্বল তিনি, ১৬০ রানের আরেকটা মাস্টার পিস খেলে সবচেয়ে কম বয়সে টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরী করার রেকর্ড করে ফেলেন ফিলিপ হিউজ (ইতিহাসে দ্বিতীয়)। সাউথ আফ্রিকা সফরের পরই ম্যাকসভিল গ্রামে চালু হয় “ফিলিপ হিউজ এওয়ার্ড”, দেয়া হয় তরুণ উদীয়মান ক্রিকেটারদের।

সব ক্রিকেটারের জীবনে খারাপ সময় আসে, হিউজ কেন ব্যাতিক্রম হবেন? ২০০৯ এশেজ সিরিজ ভালো যায়নি তার। পরের এক বছর ছিলেন যাওয়া আসার ভেতর, মূলত ইনজুরিতে পড়া কারো রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে। ২০১০ সালে দলে সুযোগ পেয়ে করেন ম্যাচ জেতানো ৮৬ (৭৫ বল, প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড)।

যাওয়া আসার ভেতরই কলম্বোতে শ্রীলংকার বিপক্ষে ১২৬ রানের নজর কাড়া এক ইনিংস খেলেন। স্পিন বলে অন্য অনেকের চেয়ে যে তিনি ভালো ব্যাটসম্যান সেটাই যেন দেখাতে চেয়েছিলেন ফিলিপ। সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে জোহানেসবার্গে ৮৮ করেও বাদ পড়েন নিউজিল্যান্ডের সাথে চার ইনিংসে ৪১ রান করে।

মূলত এরপর থেকেই শুরু হয় ফেরার লড়াই, যার শেষ হয় না ফেরার দেশে যেয়ে। হিউজ ছিলেন আন-অর্থোডক্স টেকনিকের ব্যাটসম্যান, সময়ের সাথে সাথে যেটা প্রতিপক্ষ বোলারদের কাছে সহজ শিকারে পরিনত হচ্ছিলো। ওস্টারশায়ারের সাথে চুক্তি করেন, কাউন্টি ক্রিকেটেই নতুন টেকনিক আর শট খেলার রেঞ্জ বাড়াতে থাকেন। অস্ট্রেলিয়া ফিরে নিজ রাজ্য নিউ সাউথ ওয়েলস ছেড়ে পাড়ি জমান সাউথ অস্ট্রেলিয়াতে। আর তাতেই যেন ফিরে পেলেন নিজেকে। রানের বন্যা বইয়ে দিলেন শিল্ডে আর এক দিনের ক্রিকেটে। দ্রুতই ডাক পেলেন আবার টেস্ট দলে। হোবার্টে শ্রীলংকার বিপক্ষে ইমপ্রেসিভ ৮৬ রান করেন তিন নাম্বারে নেমে। কামব্যাক সিরিজে নতুন ভূমিকায় নাম্বার থ্রি পজিশনে ৪৬.৩৩ গড়ে ২৩৩ রান করেন। মাইক হাসির অবসর ফিলিপ হিউজের জন্য ওয়ানডে দলে জায়গা করে দেয়। চোখ তখন ২০১৫ বিশ্বকাপে। বরাবরের মতোই অভিষেক হয়েছিলো সাড়া জাগানিয়া। শ্রীলংকার বিপক্ষে মেলবোর্নে ১১২ রানের ইনিংসে করেন ওয়ানডে অভিষেকে প্রথম অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে সেঞ্চুরী করার রেকর্ড। ওই সিরিজের পঞ্চম ম্যাচে করেন ক্যারিয়ার সেরা ১৩৮*।

২০১৩ এশেজে এস্টন এগারের সাথে দশম উইকেটের রেকর্ড ১৬৩ রান করেন হিউজ। তবে ২০১৩ সালের ভারত সফর, এশেজ ইত্যাদি ভালো না হওয়ায় বাদ পড়েন টেস্ট দল থেকে। ওয়ানডে দলে নিয়মিত ছিলেন অবশ্য।

২০১৪ সালের ২৫ নভেম্বর, টেস্ট দলে ফেরার লড়াইয়ে শেফিল্ড শিল্ডের ম্যাচে লড়ছেন ফিলিপ হিউজ। ভালোই খেলেছেন, ব্যাট করছেন ৬৩* রানে, বিখ্যাত সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে যেখানে সর্বকনিষ্ঠ শিল্ড ফাইনাল ম্যাচ সেঞ্চুরীয়ান হবার গৌরব রয়েছে তার। খেলছিলেন নিজের জন্মরাজ্য নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে। নিজ ঘরের বিপক্ষে খেলছেন বলেই কিনা শ্লেজিং একটু বেশিই হচ্ছিলো। এক বোলার বলেই বসলেন “I will Kill You”। সেদিন মোট ২০ টা বাউন্সার দেয়া হয় হিউজকে যার ১৯ টাতেই রান করেন হিউজ সাবলীল ভাবে। কিন্তু ২০-তম বাউন্সারটাই যে ক্যারিয়ারের শেষ বাউন্সার সেটা মাঠে উপস্থিত কেউই হয়তো কল্পনাতেও আনেননি।

শেন এবোটের বাউন্সারে পুল করতে চেয়েছিলেন, শেষ মুহুর্তে বলের উপর থেকে চোখ সরিয়ে নিয়েই এক করুণ সমাপ্তির চির বেদনার গল্প হয়ে গেলেন। বলটা সরাসরি যেয়ে আঘাত করলো বাম কানের নীচের অরক্ষিত জায়গায়। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে জ্ঞান হারালেন, যেই জ্ঞান আর কখনোই ফিরে নাই।


দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হয়, সেন্ট ভিনসেন্ট হাসপাতালে অস্ত্রপচার করেও আর ফেরানো যায়নি। তিনদিন “ইনডিউসড কোমা”-তে থাকা হিউজ পুরা ক্রিকেট বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের প্রার্থণাকে পাশ কাটিয়ে চলে যান না ফেরার দেশে, ২৭ নভেম্বর ২০১৪, নিজের ২৬-তম জন্মদিনের তিনদিন আগে।


বিরল, অত্যন্ত বিরল এক ইনজুরি ছিলো। মেডিকেলের ভাষার বল মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ করা ধমনীতে আঘাত করলে সেই ধমনী ছিন্ন হয়ে যায় (vertebral artery dissection), ফলে রক্ত জমাট বেঁধে গিয়ে মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে ব্রেইন হ্যামারেজে মৃত্যু। যদি মাথা ফেঁটে সেদিন রক্ত বের হয়ে যেত তাহলেও ফিলিপ হিউজ বেঁচে যেতেন। ভাগ্য এমন কেন হয়। প্রিয় খেলাটার সামান্য এক বলের আঘাতে অপার সম্ভাবনা এভাবে কেন নীভে যেতে হবে? বিশ্বে এরকম ঘটনা আছে সব মিলিয়ে ১০০, তার ভেতর ক্রিকেট বলে ঘটেছে এই একটিই।  শেফিল্ড শিল্ডের সেই ম্যাচটা বাতিল করা হয়। “রিটায়ার্ড হার্ট” মুছে ফেলে অফিশিয়াল সব স্কোরকার্ডে লেখা হয় ৬৩ নট আউট। হিউজের জার্সি নাম্বার ৬৪, চূড়ান্ত অবসরে পাঠিয়ে দেয় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া, এই নাম্বার আর কাউকে দেয়া হবেনা। হিউজের এই চলে যাওয়া আর মাঝের তিন দিন সমগ্র দুনিয়ায় ক্রিকেট ফ্যানদের এক সূঁতোয় গেথে দিয়েছিলো, এমন হৃদয় ভাঙা ঘটনা ক্রিকেটে আর ঘটেনি, সোশ্যাল মিডিয়া আর আধুনিক প্রযুক্তি সবাইকে এক বিন্দুতে মিলিয়েছিলো।

ফিলিপ হিউজের অকাল প্রয়াণ হেলমেট নিয়ে অনেক গবেষনার সুযোগ করে দেয়। অতিরিক্ত সেফটি গার্ড যোগ করা হয়। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের একাধিক রিসার্চ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে এখন পর্যন্ত যেসব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তার কোনটাই হিউজ যে ইনজুরিতে পড়েছিলেন সেটার থেকে রক্ষা করবে ব্যাটসম্যানকে তার নিশ্চয়তা দেয়া যায়না। হিউজের ইনজুরি এমন এক দূর্ঘটনা যেটা খুবই বিরল এবং আর কখনো হবেনা শুধু এটাই প্রত্যাশা করা উচিৎ। প্রোটেকশন সম্ভবত সম্ভব না।

হিউজের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিলো অতিরিক্ত শ্লেজিং এবং বাউন্সার তার মৃত্যুতে ভূমিকা রেখেছিলো। কিন্তু বিচারক তার বিচারের রায়ে যা বলেছিলেনঃ

“Nobody was to blame for the death of Australian opener Phillip Hughes in 2014, there had been no “malicious intent” from New South Wales’ Sean Abbott, who bowled the fatal delivery at the Sydney Cricket Ground, and “no failure” to enforce the laws of the game in respect to the short-pitched deliveries.
“Of the 23 bouncers bowled that day, 20 were bowled to him,” he said. “Phillip was comfortably dealing with short-pitch balls. I conclude they did not contribute to his death.
“Hughes was dealt a fatal ball with a high bounce. He could have ducked but such was his competitiveness he wanted to make runs from it.”
“A minuscule misjudgment or a slight error of execution caused him to miss the ball which crashed into his neck with fatal consequences. Hughes’ death was “inevitable” from the moment he was struck by a cricket ball”

যদিও ফিলিপ হিউজের পরিবার এখনো মনে করে আহত করার উদ্দেশ্যেই অতিরিক্ত বাউন্সার দেয়া হচ্ছিলো তাকে। যেই বয়সে একজন ব্যাটসম্যানের পরিপূর্নতা আসে সেই সময়েই সবাইকে কাঁদিয়ে ওপারে চলে গিয়েছেন হিউজ। সম্ভাবনার রঙিন মলাট যেন এক সাদাকালো ফ্রেমে বাঁধানো ছবি।

ব্যক্তিগত জীবনেও ছিলেন সাদামাটা একজন, ফার্মার বাবার সন্তান হিউজ মারা যাবার এক বছর আগে কিনেছিলেন ৯০ হেক্টর জমি, ক্যাটেল ফার্ম গড়ে তুলেছিলেন। থাকতে চেয়েছিলেন ক্যাটেল আর ক্রিকেট নিয়েই। থাকতে চেয়েছিলেন একজন বন্ধু, একজন বড়ভাই, একজন সন্তান, একজন সতীর্থ হয়ে। কিন্তু সৃষ্টিকর্তা চাইলেন অন্যরকম। অনেক সময় একজনের না থাকাটাই তার থেকে যাবার সবচেয়ে বড় কারন হয়ে যায়, ফিলিপ জোয়েল “হিউজি” হিউজ তাই না থেকেও রয়ে গেছেন ইতিহাসের পাতায়…

ফিলিপ হিউজ থাকবেন, যতবার কোন বোলারের বাউন্সার ব্যাটসম্যানের হেলমেটে আঘাত করবে ততবারই বিচলিত ফ্যানদের মনে ফিরে আসবেন হিউজ, হিউজ থাকবেন সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডের স্মৃতিফলকে, হিউজ থাকবেন ভক্তদের হৃদয়ে এক গভীর ক্ষত হয়ে, হিউজ ফিরে ফিরে আসবেন নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে। হিউজ থাকবেন যেকোন ক্রিকেট ম্যাচের স্কোরবোর্ডে…

হিউজ থাকবেন 63 not out হয়ে।

(পুনশ্চঃ সুযোগ পেলেই কথাটা বলি, আমাদের মানজারুল ইসলাম রানার জার্সি নাম্বারটা কি বিসিবি তার সম্মানে অবসর দিতে পারতো না? এখনো চাইলে করা যায়….)

Most Popular

To Top