নাগরিক কথা

যানজট না জানজট?

“যানজট”? এ টপিক তো পুরোনো! ছোটবেলা থেকেই ট্রাফিক জ্যাম নিয়ে প্যারাগ্রাফ লেখে লেখে তা মনে গেঁথে গেছে। তবে “Out of sight out of mind” বলে তো একটা কথা আছে। দীর্ঘদিন ঢাকার বাইরে থাকার ফলে পুরোনো বন্ধু “যানজট” এর কথাটা মনের এক কোণে ধুলো মেখে ছিলো।
ঢাকায় আসতেই চাঙ্গা হলো সম্পর্ক।

অনেক সময় জ্যামে পড়লেই ভাবি, কারণটা কি? অনেক সময় যানজট না ছাড়লেও প্রশ্নের জট ছেড়ে যায়… ভিআইপি যাচ্ছেন, অফিস টাইম, স্কুল ছুটি, নিয়োগ পরীক্ষা, বৃষ্টি…. ইদানিং কোনো হিসাবই মেলাতে পারি না। শুক্র-শনি, ছুটি-অছুটি নাই, জ্যাম পাবেন প্রায় সবসময়।

মাঝে একদিন ভোররাত পৌনে চারটার সময় জ্যামে পড়লাম। ড্রাইভার হেসে বললো, “এইডা সবজির (আনলোডের) জ্যাম”

ওটা না হয় সবজির জ্যাম। বাকিগুলো? আপনারা বলবেন, সহজ তো… যানবাহনের জট! আসলেই কি তাই? ড্রাইভারবিহীন গাড়ী হলে না হয় যানবাহনকে দোষ দেয়া যেত… আসলে দোষ তো এই আমাদেরই।অর্থাৎ মানুষের, জান প্রাণওয়ালা মানুষের। তাহলে যানজট হতে যাবে কেন? হবে তো জানজট!

আমরা ছোট গাড়ীর এসি’র মাঝে বসে বড় গাড়ীর ড্রাইভারকে ছোটলোক বলি। আবার এই আমরাই বাসে বসে ধুয়ে দেই প্রাইভেট কারওয়ালাদের, যাদের হেল্পাররা আদর করে ডাকে “প্লাস্টিক”। দুই পক্ষই জ্যাম নিয়ে দুষতে থাকে অপরকে।

আর সিগন্যাল লাইট হলো পাড়ার ফুটবলের রেফারির মতো- মাঠে থাকে ঠিকই, তবে তার কথা শোনার রুচি নেই কারও।

জ্যামের শুধু কি অপকারিতাই আছে? তাহলে রচনায় মার্কস কম পাবো না! জ্যামের উপকারিতাগুলো নিম্নরূপঃ
– জ্যামের কারণে নবাবের মতো রাস্তা পার হওয়া যায়,
– মোশাররফ করিমের পুরো একটা নাটক দেখে ফেলা যায়,
– আর..আর.. কাজ না থাকলে আমার মতো আস্ত একটা লেখাও লিখে ফেলা যায়!

বেশ আগে রেডিওতে একটা প্রোগ্রাম শুনতাম- “ঢাকার চাকা”। সমবেদনা বোধ করতাম উপস্থাপকের জন্য। বেচারা কতই না দুঃসংবাদ শুনিয়েছে সবাইকে।
এবারের সংযোজনটা অভিনব। গুগল ম্যাপস এখন ঢাকার ট্র্যাফিক আপডেট দিচ্ছে। রোজ সকালে উঠেই মোবাইলে নোটিফিকেশন “Heavy traffic in your area today”। দেখি আর ভাবি, যন্ত্র হলে কি হবে, মোবাইল বেচারাও মনে হয় লজ্জা পায়… দুঃসংবাদের ডিপো হতে কার ভালো লাগে!

এবার উপসংহারে আসি। সমাধান তাহলে কোনটা? ইদানিং কালের ছেলেপেলে জিজ্ঞেস করবে, “উবার” না “পাঠাও”? আমি বলবো, ওগুলোতে সমাধান না খুঁজে নিজেকে একটু “হাঁটাও”!

পায়ে চলি, জান ফেরাই। তাহলেই কাটতে পারে যানজট এবং জানজট। এতদূর হাঁটবো? জেনে রাখুন, গাবতলী থেকে নিউ মার্কেটের দূরত্ব ৫ মাইল; যে দূরত্ব আমাদের বাবা-ঠাকুরদা’রা স্কুলে যাওয়ার সময়ও হেঁটে পেরোতেন। তবে, লিখছি ঠিকই, আমার নিজেরই মনে থাকলে হয়! বাইরে বেরোলেই হাত চলে যায় অ্যাপস-এ। এখন তো সিএনজি’তেও অ্যাপস আসবে। এরপর হয়তো রিক্সা… অপেক্ষায় থাকলাম “হাঁটাও” অ্যাপস-এর। কেউ না বানালে দায়িত্বটা না হয় আমিই নেবো!

(কোন এক জ্যামে বসে গত সপ্তাহে লেখা)

Most Popular

To Top