লাইফস্টাইল

মোটা হচ্ছে শরীর, ছোট হচ্ছে মস্তিষ্ক!

মোটা হচ্ছে শরীর, ছোট হচ্ছে মস্তিষ্ক!

আজকের দিনে মানুষ শুধু তার ক্যারিয়ার নিয়েই চিন্তিত। আর ক্যারিয়ারে ভালো করতে হলে শুধু গদিওয়ালা চেয়ারে বসে সারাদিন কম্পিউটারের দিকে তাকিয়ে কাজ করতেই হয় প্রায় সবাইকে। এত ব্যস্ততায় খাওয়ার সময় কই? তখন দরকার খাবারের হোম ডেলিভারি। এতে যদি কেউ মোটাও হয় তাহলে শুধু শুধু মোটা হওয়া নিয়ে চিন্তা করে কি লাভ? কারণ মোটা হওয়ার শুধু শারীরিক প্রভাবই আছে। মস্তিষ্কে এর কোন প্রভাব নেই। মেদবহুলতার জিনিসটা আসলেই ভয়ংকর কিন্তু তার মানে এই নয় যে এটি আমাদের মস্তিষ্কের নিউরনকে আঘাত করবে। তাদের ধ্বংস করে দিবে? এতটা ভয়ংকর তো না! বর্তমানে মানুষ এই নীতি বিশ্বাস করেই দিন দিন মোটা হচ্ছে।

কিন্তু ঘটনা তো আসলে শুধু এইটাই না। গবেষণায় দেখা গেছে মোটা হওয়ার সাথে সাথে মানুষের মস্তিষ্কের আকারও দিন দিন ছোট হয়ে যাচ্ছে। তার মানে হল মোটা হওয়ার সাথে আমাদের মস্তিষ্কের কার্যকলাপগুলো খুব গুরুত্ত্বপূর্ণ। মেদবহুলতা আমাদের মস্তিষ্কের সাদা অংশের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। যা আস্তে আস্তে উন্মাদনা, হতাশাগ্রস্থতা, স্মৃতিভ্রম ইত্যাদি সমস্যার সূচনা করে। বর্তমান পৃথিবীতে মোটা মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তাই এখনি সঠিক সময় মেদবহুলতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার।

ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন বিজ্ঞানী বয়সের সাথে সাথে মস্তিষ্ক সংকোচন প্রক্রিয়ার উপর মেদবৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেন। গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয় Neurobiology of Aging নামক জার্নালে ‘Obesity Associated With Increased Brain-Age From Mid-Life’ শিরোনামে। গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ওজনভেদে ২০ থেকে ৮৭ বছর বয়সী ৪৭৩ জন পূর্ণবয়স্ক মানুষের উপর পরীক্ষা চালান। গবেষণায় তারা এতদিনের বিশ্বাসের সাথে ফলাফলের অস্বাভাবিক পার্থক্য লক্ষ্য করেন। তারা দেখেন চর্বিহীন মধ্যবয়স্ক মানুষের মস্তিষ্কের সাদা অংশের পরিমাণ একই বয়সের মোটা মানুষের মস্তিষ্কের চেয়ে বেশি। অর্থাৎ একজন ৫০ বছর বয়সী মোটা মানুষের মস্তিষ্কের আকার একজন ৬০ বছর বয়সী মানুষের সমান। এক কথায় মেদবৃদ্ধি মানুষের মস্তিষ্কের আকার ছোট করে ফেলতে কার্যকর প্রভাব বিস্তার করছে।

যদিও এই গবেষণায় কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। যেমন কিছু মানুষের মোটা হওয়ার কোন প্রভাব তাদের বুদ্ধিমত্তায় পড়েনি। সকলের আইকিউ টেস্ট করে দেখা গেছে তাদের মস্তিষ্কের আকার ছোট হলেও তাতে তাদের বুদ্ধিমত্তার কোন ক্ষতি হয় নি। বিজ্ঞানীদের মতে ওজন এবং মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতার মধ্যকার সম্পর্ক নির্ণয় করতে আরো গবেষণার দরকার। গবেষণা টিমে একজন সদস্য ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের প্রফেসর পল ফ্ল্যাচার বলেন, “আমাদের জনসংখ্যার বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে বাড়ছে মোটা হওয়ার প্রবৃত্তি। তাই আমাদের সুস্বাস্থ্যের খাতিরে মেদবৃদ্ধি এবং মস্তিষ্কের আকার ছোট হওয়ার মধ্যকার সম্পর্কটা আমাদের খুঁজে বের করা উচিত”।

মেদবৃদ্ধি এবং মস্তিষ্কের আকার ছোট হওয়ার মধ্যকার সম্পর্কটা আমাদের খুঁজে বের করা খুবই জরুরী কারণ মস্তিষ্কের সাদা অংশ যা মস্তিষ্কের প্রতিটা অংশের মধ্যে যোগাযোগ সুনিশ্চিত করে এবং এর নিউরনগুলোকে সচল রাখে, তা মস্তিষ্কের সংকোচনের কারণে কমে যেতে পারে। যা পরবর্তীতে আরো সমস্যার সৃষ্টি করবে।

আপনি লিখাটি পড়ছেন তার মানে হয়তো আপনি ওজনদার এবং দুশ্চিতাগ্রস্থ অথবা আপনি ওজনদার নন তাও আপনি ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত। দুশ্চিন্তার কিছুই নেই ডায়াবিটিসের মত মেদবৃদ্ধি জিনিসটাও আপনি চাইলে কন্ট্রোল করতে পারেন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিচের ২টি স্টেপ মেনে চললে আপনি আপনার মেদবৃদ্ধিজনিত সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

১. সোফা ছেড়ে উঠে একটু শারীরিক কসরত করুন। জিম এ যান অথবা ঘরেই ব্যায়াম করুন। লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন। ইয়োগা করুন। নিজেকে সারাদিন সচল রাখুন।

২. স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাবেন। প্রতিদিনে কি পরিমান ক্যালরি আপনি নিচ্ছেন খাবারের মাধ্যমে তার হিসাব রাখুন। প্রচুর পানি পান করুন। ফল খাওয়ার চেষ্টা করুন।

সব কথার মূল কথা হল শরীরকে অন্য সবকিছুর আগে রাখুন। শরীরের যত্ন নিন। সুস্থ থাকুন।

Most Popular

To Top