ইতিহাস

জন এফ. কেনেডিঃ মৃত্যুর ৫৪বছর পরেও কেনেডি বেঁচে আছে মার্কিনিদের মনে…

জন এফ. কেনেডিঃ মৃত্যুর ৫৪বছর পরেও কেনেডি বেঁচে আছে মার্কিনিদের মনে...

জন ফ্রিটজেরাল্ড কেনেডি (মে ২৯, ১৯২৭-নভেম্বর ২২, ১৯৬৩) ডাকনাম জ্যাক। আজ তার ৫৪তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৬৩ সালের ২২ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে এক মোটরশোভাযাত্রায় আততায়ীর গুলিতে নিহত হন ৪৬ বছর বয়সী এই প্রেসিডেন্ট। তিনি ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫তম রাষ্ট্রপতি। তিনি ১৯৬১ সাল থেকে ১৯৬৩ সালে নিহত হওয়ার আগে পর্যন্ত তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। কম বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় অবস্থান অর্জন করেন। জন এফ কেনেডি তো আর দশজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতো নয়, তিনি অনেকের কাছেই অনুকরণীয় আদর্শ। মৃত্যুর এতগুলো বছর পরেও ৫৪তম বার্ষিকীতে লাখ লাখ মার্কিনি তাদের জ্যাককে যেভাবে স্মরণ করে তা যেন ভাগ্য, বিধাতার অশেষ কৃপা।

জন ফ্রিটজেরাল্ড কেনেডি

জন ফিট্‌জেরাল্ড কেনেডি বা জন এফ. কেনেডি (John Fitzgerald Kennedy) ১৯১৭ সালের ২৯ মে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস রাজ্যের ব্রুকলিনে ৮৩ বিলস স্ট্রিটে জন্মগ্রহণ করেন। কেনেডির পূর্বপুরুষরা এসেছিলেন আয়ারল্যান্ড থেকে। তাঁর পিতা জোসেফ প্যাট্রিক কেনেডি এবং মা রোজ ফিটজেরাল্ড।

পরিবারের সাথে কেনেডি

কেনেডির বাবা ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। পরবর্তী সময়ে অর্থাৎ ১৯৩৭ সাল থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত তিনি ইংল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কেনেডি তাঁর জীবনের প্রথম ১০ বছর অতিবাহিত করেন ব্রুকলিনে। সেখানেই শৈশবের পড়াশোনা শেষ করেন। এরপর ১৯৩৬ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি হার্ভার্ড কলেজে ভর্তি হন। এখান থেকে ১৯৪০ সালে কেনেডি ‘আপিসমেন্ট ইন মিউনিখ’ শীর্ষক থিসিস এবং গ্রজুয়েশন সম্পন্ন করেন। পিতা জোসেফ পি. কেনেডি সিনিয়র, এর উৎসাহ আর সহযোগিতায় তিনি রাজনীতিতে আসেন এবং ১৯৪৭ থেকে ১৯৫৩ পর্যন্ত ডেমক্রেটদের প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৫২ সালে কেনেডি সিনেটের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির মাঠে তাঁর গুরুত্ব বাড়তে শুরু করে।

স্ত্রী জ্যাকুলিন লি বেভিয়ার সাথে কেনেডি

জ্যাকুলিন লি বেভিয়ার নামের এক মহিলা সাংবাদিককে ১৯৫৩ সালের ১২ সেপ্টেম্বর বিয়ে করেন কেনেডি। জন এফ কেনেডির স্ত্রী জ্যাকুলিন লি বেভিয়ার ছিলেন সত্যিকার অর্থেই সুন্দরী ও মোহনীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী। বিয়ের পরবর্তী সময়ে অভিনেত্রী মেরিলিন মনরো ও প্রেসিডেন্ট কেনেডিকে জড়িয়ে অনেক কিছু শোনা গেলেও জন ও জ্যাকুলিন ছিলেন স্পষ্টতই সুখী দম্পতি।

অভিনেত্রী মেরিলিন মনরো ও প্রেসিডেন্ট কেনেডি

কেনেডির গুণমুগ্ধদের কাছে তিনি ছিলেন অনেক গুণের অধিকারী। তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের বিভীষিকা থেকে বাঁচিয়েছেন। তিনি ভিয়েতনাম যুদ্ধে আমেরিকার সংশ্লিষ্টতাকে দীর্ঘায়িত করেছেন। নাগরিক অধিকারকে তিনি রাজনৈতিক সমস্যা নয় বরং নৈতিক সংকটের দৃষ্টি থেকে দেখে সমস্যার প্রকৃত কারণ অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছিলেন। বর্ণবাদে বিভক্ত যুক্তরাষ্ট্রকে একত্র করতে তিনি কাজ করেছেন। ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির হোতা রিচার্ড নিক্সনকে তিনি ১৯৬০ সালের নির্বাচনে পরাজিত করে মার্কিনিদের দুঃস্বপ্নের ইতি টেনেছিলেন।

সর্বপ্রথম টেলিভিশনে সম্প্রচারিত প্রেসিডেন্টশিয়াল ডিবেট

১৯৬০সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিতর্কে মারাত্মক মজা পেয়েছিল জনগন। সে বছরই প্রথম টিভিতে সরাসরি দেখানো হবে প্রেসিডেনশিয়াল ডিবেট। আমেরিকার ১০ লক্ষ ঘরে তত দিনে টেলিভিশন পৌঁছে গেছে। কিন্তু আরও বহু ঘরে পৌঁছয়নি। তাঁরা রেডিয়োতেই শুনলেন রিপাবলিকান প্রার্থী, ভাইস প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন আর ডেমোক্র্যাট প্রার্থী, ম্যাসাচুসেটস-এর নবীন সেনেটর জন ফিটজেরাল্ড কেনেডির সেই বিতর্ক। যাঁরা রেডিয়োতে শুনলেন, তাঁরা সবাই নিক্সনের সতর্ক, সযত্নে চর্চিত রাজনৈতিক ভাষণ শুনে ধরেই নিলেন, নিক্সনই তর্কে জিতেছেন। আর যাঁরা টিভিতে দেখলেন সেই বিতর্ক তাঁরা ঘাগু রাজনীতিক, কিছুটা নার্ভাস এবং সতর্ক ভাইস প্রেসিডেন্টের বিপরীতে দেখলেন প্রাণবন্ত এবং সুদর্শন এক মানুষকে, যিনি সরাসরি যেন তাঁদের সঙ্গেই কথা বললেন। তাঁরা নিশ্চিত হলেন, নিক্সন নয়, কেনেডিই বিতর্কটা জিতেছেন।
অবশ্যই কেনেডি জিতেছিলেন। সেই বিতর্ক এবং সে বারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনও। কিন্তু গণমাধ্যমের পণ্ডিতরা অবাক হয়েছিলেন, টেলিভিশনের মতো একটা আনকোরা নতুন জনসংযোগ-মাধ্যমকে কেনেডি কী স্বাভাবিক দক্ষতায় ব্যবহার করেছিলেন। কেনেডি জানতেন কী ভাবে প্রচারের সব আলো নিজের মুখে ফেলতে হয়। টিভি ক্যামেরা যে সচল, সজীব একটা ব্যাপার, তার সামনে আড়ষ্ট, ভাবগম্ভীর হয়ে বসে থাকতে নেই, সেটা কেনেডি সময়ের অনেক আগেই বুঝে ফেলেছিলেন। আর শোম্যান তো তিনি বরাবরই। প্লেন থেকে নেমে প্রেসিডেন্টের লিমুজিনে না উঠে একছুটে চলে যেতেন অপেক্ষারত জনতার সামনে। তাঁদের সঙ্গে হাত মেলাতেন হাসিমুখে, অটোগ্রাফ দিতেন।

শোম্যান তো তিনি বরাবরই

ক্ষুদ্র পরিসরের জীবনে তার অর্জন নিয়ে তিনি বেঁচে আছেন এবং থাকবেন সময়ের ধারায়। জনসম্পৃক্ততা, নাগরিক অধিকার, শান্তি ও কূটনীতি, শিল্প-সংস্কৃতি এবং বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনে তার অবদান আছে।
১৯৬১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্যান্য দেশের নানা রকম সাহায্য-সহযোগিতা ও সাংস্কৃতিক বন্ধন দৃঢ় করতে কেনেডি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন স্বেচ্ছাসেবী কর্মসূচি ‘পিস কোর’। যার গুরুত্ব এখনও ফুরিয়ে যায়নি। আফ্রিকান আমেরিকানদের আইনগত অধিকারের পক্ষে কেনেডি ছিলেন সোচ্চার। তাদের পূর্ণ নাগরিক অধিকার দিয়ে কেনেডির তৈরি করা একটি বিলই পরে নাগরিক অধিকার আইন হিসাবে অনুমোদন পায়।
মৃত্যুর অল্প ক’দিন আগেই কেনেডি সীমিতাকারে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা বন্ধে একটি চুক্তি করেন যুক্তরাজ্য ও রাশিয়ার সঙ্গে। এরই ভিত্তিতে পরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ পারমাণবিক পরীক্ষা বন্ধের উদ্যোগ নেয়। একজন নেতা হিসেবে মার্কিন শিল্প সংস্কৃতিতে কেনেডির ভূমিকা ও অবদান আজও অতুলনীয়। যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যের ধারক হিসাবে পরিচিত কেনেডি সেন্টার শিল্পকর্মে তার অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র মহাকাশ যুদ্ধে লিপ্ত থাকার সময় ১৯৬১ সালে কেনেডি এক দশকের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর উচ্চাভিলাষী স্বপ্ন রাখেন জাতির সামনে। পরে ৫ মে, ১৯৬১ সালে এলেন শেপার্ড প্রথম মার্কিনী হিসেবে মহাশূন্যে ভ্রমণ করেন।
কেনেডি সমর্থন জানিয়েছেন সমান নাগরিক অধিকারের আন্দোলনকে। পাশে দাঁড়িয়েছেন কৃষ্ণাঙ্গদের। সমালোচিত হয়েছেন, তবু বরাবর ওঁদের হয়েই কথা বলেছেন। বিখ্যাত হয়ে আছে তাঁর সেই মন্তব্য—

‘‌একটা কালো বাচ্চা জন্মানোর পর, তার স্কুলে পড়ার সুযোগ একটা সাদা বাচ্চার অর্ধেক। কলেজে যাওয়ার সুযোগ তিন ভাগের এক ভাগ। কালোদের চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনাও সাদাদের এক তৃতীয়াংশ। নিজের একটা বাড়ি হওয়ার স্বপ্ন পূরণের সম্ভাবনাও অর্ধেক। কালোরা সাদাদের থেকে শুধু চার গুণ এগিয়ে আজীবন বেকার থাকার সম্ভাবনায়!‌’‌

তিনি কমিউনিস্ট আদর্শের কট্টর বিরোধী ছিলেন। সম্ভবত এই কমিউনিস্ট–বিরোধিতার জায়গা থেকেই কিউবায় কাস্ত্রোকে ক্ষমতা থেকে হটানোর সিআইএ’র ছকে গোড়ায় সায় দিয়ে ফেলেছিলেন কেনেডি। তিনি যে বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হচ্ছেন, সেই ১৯৬০-এই কিউবায় মার্কিন মালিকানাধীন সমস্ত তেল আর চিনি কোম্পানি সরকারি দখলে নিচ্ছেন ফিদেল কাস্ত্রো। সিআইএ–র বন্দোবস্তে দেশ ছেড়ে আমেরিকায় আশ্রয় নেওয়া এক দল কিউবানকে তালিম দিয়ে, জোড়াতালি দেওয়া এক আধাসেনা বাহিনী বানিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হল কিউবায়। আমেরিকার কুখ্যাত বি–ফিফটি টু বম্বার গিয়ে এক প্রস্থ বোমাও ফেলে এল কিউবার সামরিক বিমানঘাঁটিতে। কিন্তু তার পরই মত বদলালেন কেনেডি। আর বিমান হামলার অনুমতি দিলেন না। ব্যর্থ হল ১৯৬১-র এপ্রিলে সিআইএ–র সেই ‘‌বে অব পিগ্‌স’‌ অভিযান। কাস্ত্রোর রেভোলিউশনারি আর্মি মাত্র তিন দিনের লড়াইয়ে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য করল দেশোদ্ধার করতে আসা সেই ভাড়াটে সেনাদের। আহত, ক্ষিপ্ত সিআইএ আরও ভয়ংকর এক ষড়যন্ত্র করল। ঠিক হল, আমেরিকার মাটিতে মার্কিন নাগরিকদের ওপর কিউবার সাজানো হামলা ঘটিয়ে, সেই অজুহাতে কিউবার বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যাবে মার্কিন বাহিনী। কেনেডি এ বার রাজি হলেন না। আমেরিকার দ্বিতীয় কোনও প্রেসিডেন্ট এ ভাবে সিআইএ-র বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছেন বলে জানা নেই।

গাড়িবহরে হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাস শহরে ১৯৬৩ সালের ২২ নভেম্বরে এক রাজনৈতিক সফরে যান প্রেসিডেন্ট কেনেডি। তিনি যখন মোটরগাড়িতে করে যাচ্ছিলেন, সে সময় এক আততায়ী গুলি চালায়। গলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে কেনেডি আধা ঘণ্টা পরে হাসপাতালে মারা যান। ধারণা করা হয়, টেক্সাস স্কুল বুক ডিপোজিটরি নামের এক বহুতল গুদামখানা থেকে প্রেসিডেন্টের ওপরে হামলা চালানো হয়েছিল। ঘটনার দিনই ওই গুদামখানার কর্মচারী লি হার্ভে অসওয়াল্ডকে সন্দেহভাজন আততায়ী হিসেবে আটক করা হয়। অসওয়াল্ড হত্যার দায় স্বীকার করেনি, করতেও পারেননি। দুই দিন বাদে অর্থাৎ ২৪ নভেম্বরে জ্যাক রুবি নামের এক ব্যক্তি তাঁকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর থেকে কেনেডিকে হত্যায় লি হার্ভে অসওয়াল্ডের জড়িত থাকার বিষয়টি নিয়ে চলছে তর্ক-বিতর্ক। কেনেডিকে গুলি করে হত্যা করেছিলেন লি হার্ভি অসওয়াল্ড। আর তাকেই পুলিশ হেফাজতে গুলি করে হত্যা করা হয়। ফলে প্রশ্ন ওঠে, মার্কিন সরকারের কোনো সংস্থাই তাকে দিয়ে কেনেডিকে হত্যা করিয়েছে কি না। বিশেষ করে সিআইএর দিকে অনেকেই আঙুল তোলেন।

লি হার্ভে অসওয়াল্ড

কেনেডির হত্যাকাণ্ড নিয়ে রহস্যের শেষ নেই। সংবেদনশীল বিবেচনায় বহু বছর ধরে কেনেডি হত্যার নথিপত্র গোপন রাখা হয়েছিল। তবে এবার সে নথিপত্র প্রকাশিত হচ্ছে এবং জানা যাচ্ছে, কেনেডি হত্যাকাণ্ডের বহু তথ্য। সম্প্রতি সেই তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ১৯৭৫ সাল প্রকাশিত তদন্তের প্রতিবেদনে জানা যায়, কেনেডির হত্যাকারীর সঙ্গে সিআইএর দেশে বা বিদেশের শাখায় কোনো যোগাযোগ ঘটেনি। কোনোভাবে তিনি সিআইএর সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। এ তথ্যগুলো জানা গেছে, মার্কিন সরকার প্রকাশিত কেনেডির হত্যাবিষয়ক নথি থেকে। সর্বশেষ ৬৭৫টি সরকারি নথি প্রকাশ করেছে মার্কিন সরকার। কিছুদিন আগেই কেনেডি হত্যার ঘটনার ব্যাপারে আরও ২৮ শ গোপন নথি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব গোপন নথি প্রকাশের যুক্তি তুলে ধরে বলেন, “জনগণের অধিকার আছে ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানার”। কিন্তু সব গোপন নথি প্রকাশের কথা থাকলেও জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে একেবারে শেষ মুহূর্তে কিছু নথির প্রকাশ স্থগিত রাখা হয়েছে। কেনেডির খুনি লী হার্ভি অসওয়াল্ড ছিলেন একজন সাবেক মার্কিন মেরিন সেনা। তিনি নিজেকে ‘মার্কসবাদী’ বলে দাবি করতেন।

তদন্ত চলছে

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের সাবেক গভর্নর জেসি ভেনচারা তাঁর সাম্প্রতিক বই ‘দে কিল্ড আওয়ার প্রেসিডেন্ট’-এ কেনেডি হত্যার পেছনে ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন,

“কেনেডিকে হয়তো এ কারণে হত্যা করা হয়েছিল যে, তিনি সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সমঝোতায় যেতে চেয়েছিলেন এবং কিউবার সঙ্গে বে অব পিগসের যুদ্ধে পরাজিত হওয়ার পর সেনা কর্মকর্তা-ব্যবসায়ী-আইনপ্রণেতাদের ভয়ংকর লেনদেনের চক্রকে ভাঙতে চেয়েছিলেন”।

ভেনচারা তাঁর বইয়ে আরো বলেন,

“আমি মনে করি, রাশিয়া ও অন্যান্য দেশজুড়ে কেনেডির যত শত্রু ছিল, তার চেয়ে নিজ সরকারের ভেতরে শত্রুর সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। জন কেনেডি ছিলেন আধুনিক মার্কিন ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ প্রেসিডেন্ট। কল্পনা করে দেখুন, কেনেডি বেঁচে থাকলে দুনিয়াটা কত ভিন্ন রকম হতো। ভিয়েতনাম যুদ্ধ ও স্নায়ু যুদ্ধ হতো না”।

এমন একজন রাষ্ট্রনায়কের মৃত্যুর ক্ষত মার্কিনিরা এখনও শুকাতে পারে নি। জন এফ কেনেডির সঙ্গে ছবি তুলেছিলেন বিল ক্লিনটন। ১৯৯২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় ক্লিনটন ছবিটি ব্যবহার করেন। কেনেডির জীবনী নিয়ে পরিচালিত এক জরিপে নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদক জিল আব্রামসন বলেন,
“কেনেডিকে নিয়ে যত বই আছে, কোনোটাই তার সেরা জীবনী নয়। এখনও তার জীবনের অনেক কিছুই অজানা রয়ে গেছে”।

 

Most Popular

To Top