টুকিটাকি

শুভ জন্মদিন লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও

শুভ জন্মদিন লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও

১৯৯৮ সালে হলিউডের বিখ্যাত নির্মাতা জেমস ক্যামেরন একটি ছবি নির্মাণ করে ইতিহাস গড়েন। ‘টাইটানিক’ শিরোনামের সেই ছবির জন্য সেবার অস্কারে নামে পুরস্কারের ঢল। কিন্তু বাদ পড়েন অভিনেতা। বিভিন্ন সিনেমায় অভিনয় করে পাঁচ পাঁচবার অস্কারে মনোনয়ন পেলেও প্রত্যেকবারই তার হাত থেকে ফসকে গেছে এই পুরস্কারটি। তবে তিনি হাল ছাড়েন নি। চালিয়ে গেছেন বিভিন্ন সিনেমায় দুর্দান্ত অভিনয়। সেই সুফল পেলেন ১৯বছর পর ২০১৬এর অস্কারের আসরে। আলেহান্দ্রো গঞ্জালেস ইনারিতুর ‘দ্য রেভেন্যান্ট’ ছবিতে বিখ্যাত অভিযাত্রী হিউ গ্লাসের চরিত্রে অভিনয় করে অবশেষে পেলেন কাঙ্ক্ষিত অস্কার। তিনি হচ্ছেন জনপ্রিয় অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও।

আজ তার ৪৩তম জন্মদিন। আমেরিকার  ক্যালিফোর্নিয়ায় ১৯৭৪ সালের ১১ নভেম্বর  জন্ম নেয় হলিউডের মহারথী নায়ক লিওনার্দো। পুরো নাম লিওনার্দো উইলহিল্ম ডিক্যাপ্রিও। তার বাবা জর্জ ডিক্যাপ্রিও ছিলেন একজন কমিক শিল্পী ও কমিক বই পরিবেশক এবং তার মা ইরমেলিন ছিলেন একজন আইন সচিব। তিনি তার বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান। জার্মান ও ইতালি’র নাগরিক মা-বাবার ঘরে জন্ম লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও’র এবং পূর্ব পুরুষ রাশিয়ান। শৈশবের কিছু সময় জার্মানিতে কাটে। জার্মান ও ইতালিয়ান ভাষায় ক্যাপ্রিও কথা বলতে পারে। “লিওনার্দো” নাম হওয়ার পিছনেও চলচ্চিত্রের গল্পের মতন এক গল্প আছে ক্যাপ্রিও’র। ক্যাপ্রিও যখন মায়ের পেটে, তখন তার মা ইতালিতে মিউজিয়ামে “লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি”র আঁকা ছবি দেখছিলেন এবং ক্যাপ্রিও তখন লাথি মারে প্রথম মায়ের পেটে। সিডস এলিমেন্টারি স্কুল, জন মার্শাল হাইস্কুল, লসএঞ্জেলসে তার শিক্ষাজীবন কাটে। মা এমিলিন এবং বাবা জর্জ ডি ক্যাপ্রিও আন্ডারগ্রাউন্ড কমিকস আর্টিস্ট ও কমিক বুকস ডিস্ট্রিবিউটর। শৈশবেই বাবা-মা দুজন পৃথক হয়ে যান এবং অনেকটা সময় জীবনে মা’র সাথে কাটিয়ে দেয় ডিক্যাপ্রিও, কিন্তু বাবার সাহচর্য থেকে কখনোই দূরে থাকা হয়নি। বাবা-মা দুজনেই সৃষ্টিশীল মানুষ, তার ইচ্ছের প্রতি তাকে দারুণভাবে উৎসাহ দিয়ে যায়।

১৯৯০ সালের প্রথম দিকে ডিক্যাপ্রিও টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমেই অভিনয় জগতে পা রাখেন তিনি। পরে তিনি কয়েকটি ‘সোপ অপেরা’, ‘সান্তা বারবারা’ এবং ‘দি সিকটম গ্রোয়িং পেন’ নামক সিরিয়ালগুলোতে ধারাবাহিকভাবে অভিনয় শুরু করেন। ১৯৯১ সালে ক্রিটারস-৩’ মুভিতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে হলিউডে অভিষেক তার। সহকারী অভিনেতা হিসেবে এরপর কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেন। দর্শক জনপ্রিয়তার কারণে ১৯৯৫ সালে ‘বাস্কেটবল ডাইরিই’ সিনেমায় এবং ১৯৯৬ সালে ‘রোমিও+জুলিয়ে’ নামক রোমান্টিক নাটকে মূল নায়কের চরিত্রের অভিনয়ের সুযোগ পান।

তার জীবনের সবচাইতে বড় সাফল আসে ১৯৯৭ সালে। ঐতিহাসিক সিনেমা ‘টাইটানিক’-এ অভিনয় করে সারাবিশ্ব ব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেন ডি-ক্যাপ্রিও। হলিউডে নিজের শক্ত আসন তৈরি করে নেন। কাজের বিস্তৃতি আর সমালোচকদের প্রশংসায় ভাসতে থাকেন লিওনার্দো ডি-ক্যাপ্রিও। এরপর দর্শকদের উপহার দিয়েছেন একের পর এক হিট সিনেমা। অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র প্রযোজনাও করেছেন ডি-ক্যাপ্রিও।

‘টাইটানিক’ ছাড়াও ডিক্যাপ্রিও অভিনীত অনেক সিনেমা রয়েছে- যেসব সিনেমায় তিনি দুর্দান্ত অভিনয় করে দর্শকের মনে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। ডিক্যাপ্রিও অভিনীত সেরা দশ সিনেমাগুলোর নাম(আমার মতে) নিচে দিয়ে দিলাম যদি না দেখে থাকেন তাহলে দেখে নেন জলদি।

দ্য উলফ অ্যান্ড ওয়াল স্ট্রিট
মার্টিন স্করসাসি পরিচালিত ‘দ্য উলফ অ্যান্ড ওয়াল স্ট্রিট’ সিনেমাটি মুক্তি পায় ২০১৩ সালের ক্রিসমাস ডে-তে। এতে ‘জর্ডান বেলফোরট’ চরিত্রে দেখা যায় ডিক্যাপ্রিওকে।

আলাদা আঙ্গিকের গল্পে নির্মিত এই সিনেমায় দেখানো হয়- মানবজীবনের একাধিক বিষয়। সব চেয়ে বেশি উঠে আসে আমাদের মানবজীবনে সেক্স, ড্রাগ, ক্রাইম ইত্যাদি। নব্বইয়ের দশকের পটভূমিতে তৈরিকৃত ছবিটির কেন্দ্রভুমি হচ্ছে জর্ডান বেলফোর্ট এবং তৎকালীন আমেরিকার শেয়ারবাজার। আপনার-আমার মতই সাধারণ মানুষ ছিলেন জর্ডান বেলফোর্ট, নিতান্তই এক নিম্নবিত্ত পরিবারে জন্ম। জীবিকার জন্যে এদিক-ওদিক ধাক্কা খেয়ে শেষে তিনি যোগ দেন শেয়ারবাজারে সামান্য এক স্টকব্রোকার হিসেবে মিঃ রথসচাইল্ডের কোম্পানিতে। সেখানে এসে সে বুঝতে পারে যে একজন স্টকব্রোকারের একমাত্র উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নিজের অর্থনৈতিক লাভ। জর্ডানের বড় গুণ ছিল মানুষকে নিজের কথার জালে ফেলে মোটিভেট করতে পারা, এটাকে পুঁজি করেই সে কোম্পানির কাজ বাড়াতে থাকে। এভাবেই কাহিনী আগাতে থাকে। মুক্তির পরই পৃথিবীব্যাপী যথেষ্ট সাড়া ফেলেছিল সিনেমাটি। ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করে নির্মিত সিনেমাটি বক্স অফিসে আয় করে প্রায় ৪ শত মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

দ্য গ্রেট গাটসবি
১৯২৫ সালে প্রকাশিত আমেরিকান লেখক স্কট ফিটজেরাল্ডের উপন্যাস ‘দ্য গ্রেট গাটসবি’র উপর ভিত্তি করে ঠিক একই বছর অর্থাৎ ২০১৩ সালে বিখ্যাত পরিচালক বাজ লাহরমান নির্মাণ করেন সিনেমাটি। এতে জে গাটসবি চরিত্রে অভিনয় করেন ডিক্যাপ্রিও। আলোচিত এই উপন্যাসের গল্পে জে গাটসবির চরিত্রটি সুচারুরূপে ফুটিয়ে তোলার জন্য চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে বেশ সুনাম অর্জন করেন তিনি।

নিক কারওয়ে ওয়াল স্ট্রিটে নতুন টেডার ও লেখক । যার প্রতিবেশী বিরাট ধনী মি: গেটসবে প্রতি শুক্রবার বিশাল পার্টি দেয়। যেখানে নিউ ইয়ার্ক শহরের মেয়র সহ সব ধনীরা আসে। নিকও সেখানে যায় এবং মি: গেটসবির সাথে পরিচিত হন। এক সময় নিক জানতে পারে,  গেটসবি গরীব ছিল এবং তার সব আয়োজন,  আলোকসজ্জা তার ভালবাসার জন্য সে গেটসবির বাড়ীর ঠিক বিপরীতে নদীর ওপারে স্বামীর সাথে অট্টালিকায় বাস করে। যে কিনা আবার নিকের চাচাতো বোন। গেটসবি তার সাথে দেখা করতে নিকের সাহায্য কামনা করে। নিক তাদের দেখাকরার ব্যবস্হা করে এবং তারা নতুন করে একে অপরকে ভালবাসে। মি: গেটসবি তার ভালবাসার জন্য সব কিছুই করে। শেষে ভালবাসার নিদর্শন সরূপ করুন পরিনতির মধ্য দিয়ে মুভি শেষ হয়। নির্মাণে খরচ হয় প্রায় ১০৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে মুক্তির অল্পদিনে-ই ৩৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের রেকর্ড গড়ে এই চলচ্চিত্রটি।

ইনসেপশন
২০১০ সালের ১৬ জুলাই মুক্তি পায় ক্রিস্টোফার নোলান পরিচালিত থ্রিলার সায়েন্স-ফিকশন ফিল্ম ‘ইনসেপশন’। সিনেমাটিতে ‘ডোম কব’ চরিত্রে অভিনয় করেন ডিক্যাপ্রিও।

ডম কভ একজন স্বপ্নের সওদাগর, যিনি বিভিন্ন মানুষের স্বপ্নের মধ্যে ঢুকে গিয়ে বিভিন্নরকম মারপ্যাঁচের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য নিয়ে আসতে পারেন। স্বপ্ন এবং বাস্তবের পার্থক্যের জন্য তিনি ব্যবহার করেন একটি লাটিম, যার নাম “টোটেম”। সাইতো নামের এক ব্যবসায়ী তাকে প্রতিশ্রুতি দেন যে যদি তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বী মরিশ ফিশালের পুত্র রবার্ট ফিশালের স্বপ্নে ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরি করে আনতে পারেন, তবে তাকে পাসপোর্ট ক্লিয়ার করে আমেরিকাতে তার সন্তানদের নিকট ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করবেন তিনি। কবের দায়িত্বটা ছিল তথ্য চুরি ছাড়াও নতুন তথ্য প্রতিস্থাপন করা। কারণ সাইতো চান ফিশাল যাতে নিজের বাবার কোম্পানি বন্ধ করে নিজ থেকে কিছু করেন। কেমনে এই অসম্ভব সম্ভব হল তা জানতে দেখেই নিন চলচ্চিত্রটি।

বলা হয়, এটি ডিক্যাপ্রিওর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা সিনেমা। কারণ মাত্র ১২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে নির্মিত হলেও খুব অল্পদিনেই প্রায় ৯০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে সিনেমাটি। এবং বক্স অফিসে গড়ে নতুন সাফল্যের রেকর্ড।

শাটার আইল্যান্ড
২০০৩ সালে প্রকাশিত বিখ্যাত উপন্যাসিক ড্যানিস লেহেনের উপন্যাস ‘শাটার আইল্যান্ডে’র উপর ভিত্তি করে একই নামে নির্মিত সিনেমাটি মুক্তি পায় ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, ইউ.এস মার্শাল টেডি ডেনিয়ালস(লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও) ইনভেস্টিগেশনের জন্য শাটার আইল্যান্ড নামে এক দ্বীপে আসেন, এখানে অ্যাশক্লিফ নামক একটি মানসিক হাসপাতাল থেকে একজন রোগী পালিয়ে গেছে। সেই নিখোজ রোগীকে খুজে বের করতে টেডি এখানে আসেন, টেডির এই দ্বীপে আসার আরেকটি কারণ হচ্ছে তার স্ত্রীর খুনীকে খুজে বের করা। এরপর ধীরে ধীরে তদন্ত চলতে থাকে। কিন্তু টেডির ধারণা সে যতো এই কেসের গভীরে যাচ্ছে তত-ই কেমন জানি পূর্ব-পরিকল্পিত কোনো ষড়যন্ত্রে আটকে পড়ছে। সবকিছু তার কাছে কেমন জানি রহস্যময় লাগছে। সবাই তাকে কোনো গভীর ফাদে ফেলার চেষ্টা করছে, এক সময় হ্যালুসিনেশনের চরম মাত্রায় পৌছে যান টেডি। শাটার আইল্যান্ড থেকে বের হওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেন। কিন্তু এখান থেকে বের হওয়া প্রায় অসম্ভব। এখন টেডি কিভাবে এই ষড়যন্ত্রে শিকল ভেঙ্গে শাটার আইল্যান্ড থেকে বের হবে।

মুক্তির আগে থেকেই আলোচনায় ছিল সিনেমাটি। মাত্র ৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই সিনেমাটি প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে।

বডি অব লাইস
রিডলি স্কট পরিচালিত একশানধর্মী সিনেমা ‘বডি অব লাইস’ মুক্তি পায় ২০০৮ সালের অক্টোবর মাসে। সিনেমাটিতে সহ শিল্পী হিসেবে ডিক্যাপ্রিও রাসেল ক্রো এবং মার্ক স্ট্রোঙ্গের মতো অভিনেতাদের পেয়েছিলেন।

মুভির প্লট এক সিআইএ  এজেন্টকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে। এজেন্ট ক্যারেক্টারে লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও এবং তার বসের ক্যারেক্টারে রাসেল ক্রো অভিনয় করেছেন। লিওনার্দের মেইন মিশন হলো এক টেরোরিস্টকে ট্র্যাক করা যার নাম আল সেলিম। জর্ডানিয়ান ইন্টেলিজেন্স হেড মার্ক স্ট্রং এর সহযোগিতায় সিআইএ  এবং জর্ডানিয়ান ইন্টেলিজেন্স এর যৌথ মিশন হয়ে দাঁড়ায় আল সেলিমকে ট্র্যাক করা এবং সম্ভব হলে ক্যাপচার করা।  কিন্তু প্লট যতটা সহজ মনে হচ্ছে ঠিক ততটাই জটিল। জানতে হলে ছবির পুরোটা দেখতে হবে।

মুক্তির পরপরই বেশ আলোচনায় আসে সিনেমাটি। মাত্র ৭০ মিলিয়ন ডলারে নির্মিত এই সিনেমাটি আয় করে প্রায় ১২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সিনেমাটিতে ‘রজার ফেরিশ’ চরিত্রে দেখা যায় ডিক্যাপ্রিওকে।

ব্লাড ডায়মন্ড
যুদ্ধের কাহিনি নিয়ে নির্মিত সিনেমা ব্লাড ডায়মন্ড মুক্তি পেয়েছিল ২০০৬ সালের শেষের দিকে । সিনেমাটি পরিচালনা করেছিলেন এডওয়ার্ড জুইক। এতে ডেনি আর্চারের চরিত্রে অভিনয় করে দক্ষতার পরিচয় দেন ডিক্যাপ্রিও।

ডায়মন্ডকে কেন্দ্র করে এগিয়ে গিয়েছে চলচ্চিত্র। ছবির মূল বিষয়ের মধ্যে ছিল একটি যুদ্ধকে টিকিয়ে রাখছে পুঁজিবাদি সমাজ ব্যবস্থা। যেখানে ব্যবসায়ীক স্বার্থের আড়ালে একটি দেশের লাখ লাখ জনগোষ্ঠীকে ঠেলে দেয়া হয়েছে যুদ্ধের দিকে। সঙ্গে উঠে এসেছে অনেকগুলো চরিত্র। একটি ডায়মন্ড নিয়ে সলোমোন ভ্যান্ডি, ড্যানি আর্চার এবং ম্যাডি বোয়েনের গল্পই উঠে এসেছে চলচ্চিত্রে। তাদের জীবন সংগ্রামকে পত্রিকার পাতায় তুলে আনতে চেয়েছেন ম্যাডি বোয়েনের মাধ্যমে। একজন সাংবাদিকের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বন্ধ করে দিতে পারে একটি জাতির অভ্যন্তরীণ যুদ্ধ। এমন ইঙ্গিত উড়িয়ে দেয়া যাবে না ব্লাড ডায়মন্ড সিনেমাটি দেখার পর।

সিনেমাটিতে একটু আলাদা ঘরানার অভিনয় করতে হয় ডিক্যাপ্রিওকে। ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে নির্মিত সিনেমাটি পরের বছরের প্রথম দিকেই আয় করে প্রায় ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

দ্য ডিপারটেড
ক্রাইম-ড্রামা ফিল্ম দ্য ডিপারটেড মুক্তি পায় ২০০৬ সালে । সিনেমাটিতে উইলিয়াম বেলি চরিত্রে অভিনয় করেন দ্য ডিপারটেড।

জীবন ধারনের গল্পকে অন্যভাবে উপস্থাপন করার গল্পে নির্মিত এই সিনেমায় দেখানো হয় বেলি এবং তার কিছু বন্ধুরা চেষ্টা করছে সাধারণ একটি জীবন খুঁজে বের করার। মুক্তির পরপরই তরুণদের মধ্যে খুব সাড়া ফেলে দ্য ডিপারটেড। ফলাফল সরূপ মাত্র ৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে নির্মিত সিনেমাটি আয় করে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

গাংস অব নিউইর্য়াক
আইরিশ একটি শহুরে গল্পের উপর ভিত্তি করে নির্মিত গাংস অব নিউইর্য়াক সিনেমায় উনিশ শতকের একটি ঘটনা প্রবাহ এবং আবহাওয়া পাওয়া যায়। আমেরিকান হিস্টোরিক্যাল ফিকশন ফিল্ম হিসেবে খ্যাতি লাভ করে।

এতে ভ্যালন চরিত্রে অভিনয় করেন ডিক্যাপ্রিও। সিনেমাটি মুক্তি পায় ২০০২ সালের ডিসেম্বর মাসে। সিনেমাটি খুব অল্প সময়েই প্রায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করতে সক্ষম হয়। ভিন্ন ঘরানার স্ক্রিপ্টের উপর নির্মিত এই সিনেমায় বেশ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন ডিক্যাপ্রিও।

ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান
স্টিভেন স্পিলবারগ পরিচালিত ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান সিনেমাটি মুক্তি পায় ২০০২ সালে-ই। ক্রাইমের ঘটনাকে উপজীব্য করে নির্মিত এই সিনেমায় ফ্রাঙ্ক এবাগনেল চরিত্রে অভিনয় করেন ডিক্যাপ্রিও।

এই মুভিটি মূলত একটি আত্মজীবনী। আত্মজীবনীটি হলো ফ্রাঙ্ক এবাগনেল এর, যে কিনা ৬০ এর দশকের আমেরিকার সবচেয়ে বড় “ধাপ্পাবাজ” এর শিরোপা অর্জন করেছিল, সে Pan American World Airways এর একজন কো পাইলটের বেশে এই কোম্পানির চেক জালিয়াতি করে প্রায় তিরিশটি দেশের শাখা হতে শুধুমাত্র ব্লাফ দিয়ে পাঁচ বছরের মাথায়ে অলমোস্ট সাড়ে তিন মিলিয়ন ডলার হাত করে নেয়। এবং তার বয়স তখনও উনিশ পার হয় নি।

সিনেমাটির পোস্টারের কারনেই মুক্তির আগে থেকেই আলোচনায় ছিল সিনেমাটি। যার কারনে মাত্র ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে নির্মিত সিনেমাটি প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে খুব অল্পদিনের মধ্যে।

টাইটানিক
সর্বকালের অন্যতম সেরা পরিচালক জেমস ক্যামেরুনের সুক্ষ্ম চিন্তার দুর্দান্ত প্রতিফলন হল সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ রোমান্টিক সিনেমা টাইটানিক। ডিক্যাপ্রিওর জীবনের সেরা চলচ্চিত্রও বলা যায় এটি। সিনেমাটিতে জ্যাক চরিত্রে অভিনয় করেন ডিক্যাপ্রিও। উচ্চবিত্ত সমাজের মেয়ে রোজের সাথে টাইটানিক জাহাজে নিম্নবিত্ত সমাজের প্রতিভূ জ্যাকের প্রেম হয়। ১৯১২ সালে টাইটানিকের পরিণতির পটভূমিতে তাদের এই ট্র্যাজেডিই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ছবিটিতে। প্রেমের গল্প আর প্রধান চরিত্রগুলো কাল্পনিক হলেও অনেকগুলো পার্শ্ব চরিত্র ঐতিহাসিক সত্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। গ্লোরিয়া স্টুয়ার্ট বৃদ্ধা রোজের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। বৃদ্ধা রোজ তার টাইটানিক জীবনের কাহিনী বর্ণনা করেছে।

১৯৯৭ সালের ১ নভেম্বর সিনেমাটির পরীক্ষামূলক মুক্তি দেওয়া হয় টোকিওতে। আর বিশ্বব্যাপী মুক্তি দেওয়া হয় একই বছরের ১৯ ডিসেম্বরে। মাত্র ২০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত সিনেমাটি পূর্বে নির্মিত সব সিনেমার সকল ধরনের রেকর্ড ভেঙে আয় করে ২.১৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

এরকম আরো অনেক ব্যবসাসফল, সুন্দর সিনেমা তিনি উপহার দিয়ে গেছেন আমাদের। নিপুন অভিনয় কৌশোল নিয়ে মাতিয়ে রেখেছেন দর্শকদের। সামনেও মাতিয়ে রাখবেন সেটাই আমাদের কামনা।

শুভ জন্মদিন জ্যাক, জর্ডান, টেডি, গ্যাটসবি তথা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও।

Most Popular

To Top