ফ্লাডলাইট

হাথুরুসিংহের পদত্যাগঃ একটি সম্ভাবণাময় ভবিষ্যতের অপমৃত্যু না তো!

হাথুরুসিংহের পদত্যাগঃ একটি সম্ভাবণাময় ভবিষ্যতের অপমৃত্যু না তো!- নিয়ন আলোয়

এই বছরের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া এক মজার কান্ড ঘটিয়েছিলো, ফেব্রুয়ারী মাসে শ্রীলংকার সাথে ৩ ম্যাচের টি-টুয়েন্টি হোম সিরিজ ছিলো, যার শেষ ম্যাচ ছিলো ২২ ফেব্রুয়ারী, আর একদিনের কম ব্যবধানে ২৩ ফেব্রুয়ারী ভারতের সাথে প্রথম টেস্ট ছিলো। মানে বুঝতেই পারছেন সম্পুর্ন আলাদা দুটি স্কোয়াড ছিলো তাদের।

টেস্ট দল বহু আগেই ভারতে চলে এসেছিলো। কেন অস্ট্রেলিয়া এই রকম একটা হোম সিরিজ আয়োজন করেছিলো? বোর্ড বলেছিলো, ২০২০ সালে পরবর্তী টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ, তাদের ওই একটা ট্রফিই জেতা হয়নি, সেটাকে মাথায় রেখে তারা “ফিউচার টিম” গঠন করছে। আর সেটা করতে যেয়ে মাঝের সময়ে টি-টুয়েন্টি সিরিজ হারলেও তারা মাইন্ড করবেনা এবং তারা হেরেছিলো, ১-২ ব্যবধানে। তারা বলেই দিয়েছিলো এই ফরম্যাটে তাদের এক্সপেরিমেন্ট চলবেই।

এই ঘটনার ঠিক এক মাস আগের কথা, ওই শ্রীলংকার বিপক্ষেই সাউথ আফ্রিকা ১৪ সদস্যের টি-টুয়েন্টি স্কোয়াড ঘোষনা করে যার ভেতর ৮ জন ছিলো সম্পুর্ন নতুন। কারন হিসেবে সাউথ আফ্রিকাও বলেছিলো পরবর্তী বিশ্বকাপের আগে এই ফরম্যাট নিয়ে তাদের কোন মাথাব্যাথা নেই। সাউথ আফ্রিকা হেরেছিলো সিরিজ।

সাউথ আফ্রিকা থেমে থাকেনি, চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পরে ইংল্যান্ডের সাথে টি-টুয়েন্টি সিরিজেও প্রথম সারির সিনিয়র প্লেয়ারদের বসিয়ে কিছু এক্সপেরিমেন্ট চালায়, সেখানেও সাউথ আফ্রিকা সিরিজ হারে। তবুও তাদের এক্সপেরিমেন্ট থেমে নেই, বাংলাদেশের সাথেও তাদের স্ট্যান্ডার্ড বিবেচনায় “বি” দল খেলিয়েছে।

সাউথ আফ্রিকার সাথে ওই টি-টুয়েন্টি সিরিজে ইংল্যান্ডও সিনিয়র একাধিক প্লেয়ার বসিয়ে নতুনদের নামায়। এমনকি সিরিজ নির্ধারনী তৃতীয় ম্যাচে নিজেকে একাদশেই রাখেননি অধিনায়ক ওয়েন মরগান। কমেন্ট্রি বক্সে কমেন্ট্রি করেছিলেন আর নিজেই জানিয়েছিলেন নতুন একজনকে এইরকম প্রেসার ম্যাচের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতেই নিজে না খেলে তাকে সুযোগ দিচ্ছেন।

সদ্য সমাপ্ত ভারত-নিউজিল্যান্ড সিরিজেও নিউজিল্যান্ড “এ” দলের স্কোয়াড থেকে মেইন দলে একাধিক প্লেয়ার নেয়া হয়। দুই একজন মনেহয় একাদশেও ছিলো। এমনকি ভারতও এখন এক্সপেরিমেন্ট যা করার টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে করে।

আসি বাংলাদেশের কথায়, জাতীয় দলের সিনিয়র এবং অবিচ্ছেদ্য অংশ যারা তাদের নিয়ে এতোদিন খেলে বাংলাদেশের টি-টুয়েন্টি সাফল্য কি? বলার মতো কিছু?

গতবছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চার ম্যাচের সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পর শেষ দুই ম্যাচে এক্সপেরিমেন্ট চালানো হয়, এবং সিরিজ ২-২ ড্র হয়। এরপর কোচ এবং ম্যানেজমেন্টের উপর দিয়ে ঝড় বয়ে যায়। কাদের খেলানো হয়? সোহান, মোসাদ্দেক, আবু হায়দার রনি এদের। আচ্ছা সাউথ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া যেখানে সিরিজ হেরেও বলছে “মাইন্ড করিনি, এক্সপেরিমেন্ট চলবে” সেখানে আমরা সিরিজ ড্র করে কোচের গুষ্টি উদ্ধার করি কেন?

হাথুরুসিংহে সাউথ আফ্রিকা বা অস্ট্রেলিয়ার মতো একটা পরিকল্পনা করলেন, অবশ্যই সর্বজন শ্রদ্ধেয় মাশরাফি ভাই ২০২০ সালে খেলবেন কিনা সেটা বোঝাই যায়, সুতরাং দুই বছর হাতে রেখে এই ফরম্যাটে সবচেয়ে অভিজ্ঞ সাকিবকে অধিনায়ক করাটা কেন দোষ বা ভুল হবে? বলতে পারেন প্রক্রিয়া তালগোল পাকিয়ে গিয়েছিলো। যেহেতু পাকিস্তান সিরিজ বাতিল করে (যেটা বিসিবি আগেই জানতো আমার বিশ্বাস) সুতরাং ঘরের মাটিতে এই বছর আর টি টুয়েন্টি ছিলোনা, মাঝে শ্রীলংকার সাথে একটা হোম টি-টুয়েন্টি বাদ দিলে পরের এসাইনমেন্ট আবার শ্রীলংকার মাটিতেই! সুতরাং সাকিবকে ওই সময় দ্বায়িত্ব না দিলে পুরা এক বছর অপেক্ষায় রাখা আরো। এই যে বিপিএল হচ্ছে সাকিবের জন্য নিশ্চয় সুবিধা হচ্ছে কিছু প্লেয়ারের উপর নজর দেয়া?

হাথুরুসিংহে চাইলেন সম্পুর্ন নতুন একটা টি-টুয়েন্টি দল। তিনি বললেন মুশফিক কেন টি-টুয়েন্টি খেলবে? ভুল কি বলেছেন? মুশফিকের পরিসংখ্যান কি বলে? বাংলাদেশের উচিৎ ছিলো বহু আগেই মিথুনের পেছনে লং টার্ম ইনভেস্ট করা। বাংলাদেশ যেটা করে সেটা পরিকল্পনাবিহীন কাজ, ওই মুশফিক ব্যাথা ট্যাথা পেলে দুই এক ম্যাচের জন্য গ্যাপ ফিলিং! মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে এশিয়া কাপের আগে কংক্রিটের পিচে বিগ শট নেয়া অনুশীলন করানো হয়েছে, বিশেষভাবে। মিথুনকে নিয়ে কখনো কি এভাবে ভেবেছে? অথচ মিথুন বিরাট বিরাট ছক্কা মারতে পারে কিন্তু!

তামিমের ব্যাপারে বলেছেন, তামিমের উচিৎ টেস্ট আর ওয়ানডেতে মনযোগ দেয়া, কারন তার এখন বড় মাপের ক্রিকেটার হবার সময়। সৌম্য আর মেহেদি কি ওপেন করতে পারেনা?

এইসব কিন্তু প্রস্তাবনা ছিলো, এমন না যে বাস্তবায়ন হয়েছিলো। কিন্তু তাতেই আবেগি বাঙালি আর সিনিয়র প্লেয়ারদের ভেতর অভিমান জমে গেলো।

এখন একটা কথা বলবেন, সাউথ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়ার হাতে প্রচুর রিজার্ভ প্লেয়ার থাকে, আমাদের নাই। হুম সত্যি, ওদের প্লেয়াররা ঘরোয়া ক্রিকেটে শিখে জাতীয় দলে আসে আর আমাদের জাতীয় দলে এসে শেখে। এজন্যই আমাদের দুই তিন বছর আগেই জাতীয় দলে আনতে হয়, রাতারাতি কাউকে এনে লাভ হয়না। আমরা খেলে খেলেই খেলতে শিখি।

এখন ভালোই হবে, বিজয়, নাসির, ইমরুল, মুশফিক এরাও টি-টুয়েন্টি দলে আসবে হয়তো। সবাই বলে হাথুরুসিংহে নাকি একনায়ক, ইচ্ছামতো দল সাজায়। কিন্তু তার ইচ্ছার সম্পুর্ন নতুন টি-টুয়েন্টি দল দেখলাম না!

২০২০ সালে, অস্ট্রেলিয়া, সাউথ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড ঠিকই নতুন পুরাতনের মিশেলে দূর্দান্ত দল বানিয়ে ফেলবে, এখন যাদের নামও শুনেন নাই এইরকম অনেক প্লেয়ার ওই টুর্নামেন্টে পাবেন এসব দেশের।

আর বাংলাদেশও দল পাঠাবে, আর সেই দল নাস্তানাবুদ হয়ে ফিরে আসবে। মিলিয়ে নিয়েন। তার কারন আমাদের ফিউচার প্ল্যান নাই, এভাবেই চলবে এবং একটা দুইটা ম্যাচ জিতলেই সব ঠান্ডা! ভক্তকুল, মিডিয়া সব।

আর অধিনায়কত্ব বদল নিয়ে কত কথা, মজার তথ্য দেই, জর্জ বেইলির কথা মনে আছে নিশ্চয়? টি-টুয়েন্টি ফরম্যাটে তার অভিষেক হয় অধিনায়ক হিসেবে। এমন না যে অস্ট্রেলিয়ার স্কোয়াডে অধিনায়ক হবার মতো কেউ ছিলোনা যে একজনকে ধরে এনে অধিনায়ক হিসেবেই অভিষেক করাতে হবে! কিন্তু তারা করেছে, কারন বেইলির ছিলো প্রচুর অভিজ্ঞতা। এইরকম বিরল ঘটনায় কিন্তু অজি মিডিয়া বা দর্শকরা কোচের পদত্যাগ চেয়েছিলা না!

Most Popular

To Top