শিল্প ও সংস্কৃতি

কিংবদন্তি কমল হাসান!

ছবির এই মানুষটি এতো এতো এতো গুণে গুণান্বিত একজন মানুষ যে, তাঁর গুণ সম্পর্কে পুরোপুরি ভাবে বর্ণনা করা আমার মতোন গুণহীন মানুষের পক্ষে কখনো সম্ভব নয় । তবে প্রিয় একজন অভিনেতার জন্মদিনে তাঁর সম্পর্কে কিছু কথা না বললে মনে আবার হাপিত্যেশ শুরু হবে । তাই লিখতে বসা।

অভিনেতা, চিত্রনাট্যকার, পরিচালক, প্রযোজক, প্লেব্যাক কন্ঠশিল্পী, কোরিওগ্রাফার, গীতিকার, এবং একজন ভাল নাচিয়ে- সিনেমার এই আটটি গুরুত্বপূর্ণ পদে মানুষটি সমানভাবে দক্ষতা সম্পন্ন এবং তামিল, ইংরেজি, তেলেগু, হিন্দি, মালায়লাম, বাংলা, কান্নাডা ও ফ্রেঞ্চ- এই আটটি ভাষাও মানুষটির খুব ভালোভাবে দখলে!

নায়ক, খলনায়ক, পার্শ্বচরিত্র, প্রতিবন্ধী, অন্ধ, মদ্যপ, নর্তক, এক সিনেমাতে দশটি রোল (Dasavathaaram), কবি, সিরিয়াল কিলার, ভেন্ট্রিলোকুইজম – এমন কোনো চরিত্র আর সম্ভবত বাকি নাই যেটা তিনি করেন নাই।

১৯৮৩ সালের ছবি “সাদমা” অন্য দশটা সাধারণ ছবি থেকে সম্পূর্ণই ভিন্ন। এই মুভিতে সমু চরিত্রে মানুষটি অসাধারণ অভিনয় করেছেন। মুভির প্রথম দিকে সাদামাটা নিঃসঙ্গ যুবক, পরে শিশুসুলভ রেশমীর (শ্রীদেবী) দেখভাল করা দায়িত্বশীল মানুষটি, আর সব শেষে ভালোবাসার মানুষকে হারানোর ভয়ে ভীত, অসহায় প্রেমিক; প্রত্যেকটা জায়গায় তিনি চরিত্রের সাথে মিশে গিয়েছেন। আর ছবির শেষ দৃশ্য মানুষটির অভিনয় মুভিটিকে শুধু ভিন্নই করেনি বরং এতোটাই বিশেষ করেছে যে শুধুমাত্র এই শেষ দৃশ্যটির জন্য মুভিটি আপনার মন ছুঁয়ে যাবে।

১৯৮৭ সালে মুক্তি পায় Silent Black Comedy Movie মুভি “Pushpaka Vimana”। পুরো দুই ঘণ্টার এই মুভিতে একটি সংলাপও নেই, অথচ পুরো দুইটি ঘণ্টার মুভিটি একবার হাসাবে আরেকবার কাঁদাবে। এরকম নির্বাক অসাধারণ সিনেমা হিন্দি সিনেমার ইতিহাসে সত্যিই বিরল।

একই বছরই Nayakan নামের আরেকটি অসাধারণ মুভি মুক্তি পায় তার। ভেলু নায়াকান চরিত্রে অভিনয়ের জন্যে মানুষটি ১৯৮৭ সালে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে ভারতীয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ২০০৫ সালে TIME ম্যাগাজিনে প্রকাশিত সর্বকালের সেরা ১০০ চলচ্চিত্র তালিকায় জায়গা করে নেয় ‘নায়াকান’ মুভিটি।

২০০০ সালে মানুষটি “Hey Ram” নামের একটি মুভি পরিচালনা এবং অভিনয় করেন। এই মুভির একজন মুসলিম পাঠান রোলে (অতিথি চরিত্রে) অভিনয় করেন শাহরুখ খান। শুধুমাত্র তাঁর সাথে কাজ করার জন্য এই সিনেমায় শাহরুখ খান কোন পারিশ্রমিক নেন নি। মুভিতে কলকাতায় হিন্দু-মুসলিমের দাঙ্গার রেশ ধরে রামের বউ (রাণী মুখার্জী) কে তার চোখের সামনে প্রথমে ধর্ষণ ও পরে হত্যা করা হয়। আর এই দৃশ্যে মানুষটির আকাশ বাতাস কাঁপানো আর্তনাদ খুব সহজেই চোখ ভিজিয়ে দেয় ।

৪ বার ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড আর ১৯ বার ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড পাওয়ার তার যে রেকর্ড আছে সেটা আজ পর্যন্ত আর কেও ছুঁতে পারেনি। মানুষটিকে শুধু একজন শক্তিশালী অভিনেতা বললে ভুল হবে কারণ তিনি অভিনয়ের একজন চলমান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান!

“ফিল্মইন্ডাস্ট্রিতে তার যা অবদান, সেরকম অবদান আর কারো নেই”- এই কথা শ্রীদেবী, অমিতাভ, মোহনলাল থেকে শুরু করে শাহরুখ, আমির সবার!

শুভ জন্মদিন সুপার সুপার সুপার মাল্টি ট্যালেন্টেড কমল হাসান!

Most Popular

To Top