টুকিটাকি

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে বাংলাদেশ

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে বাংলাদেশ

১৯৯৮ সালের অক্টোবর মাসে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিতে Woman And Population শিরোনামে একটি আর্টিকেল প্রকাশিত হয়। সেখানে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নারীদের কন্ট্রাসেপ্টিভ ব্যবহার সহ নানা কথা উঠে এসেছে। উঠে এসেছে বাংলাদেশের কথাও, কিভাবে বাংলাদেশ তার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার এত তাড়তাড়ি কমিয়ে ফেললো, কোন দুটো প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে সব উঠে এসেছে । নিচে সেই আর্টিকেলটিরই বাংলা অনুবাদ করা হয়েছে।

নভেম্বরের কোন এক দিন লোয়াতে (মিসিসিপি নদীর অববাহিকায় একটি গ্রাম) এক মহিলা তার সপ্তম বাচ্চার জন্ম দিলে আমরা খুশি হই, বিস্ময়প্রকাশ করি। কিন্তু নাইজেরিয়ার কোন মহিলা যদি টানা তার সপ্তম বাচ্চার জন্ম দেয় আমরা হতভম্ব হই, আশঙ্কিত হই।

কিছুদিন আগে আগে ব্রাজিলের এক শহর মানুষ দিয়ে কানায় কানায় ভরে উঠেছিলো। কিন্তু মেয়র কোন পদক্ষেপ তো নিলেনই না উল্টো কন্ট্রাসেপ্টিভ ব্যান করে দিলেন। কিন্তু বাংলাদেশে আমরা ভিন্ন চিত্র দেখতে পাই। সেখানে সরকার জনসংখ্যা বৃদ্ধিরোধে বদ্ধপরিকর। বিনামূল্যে নারীদের স্টেরিলাইজ করা হয় এবং উপহারস্বরূপ একটি নতুন শাড়ী দেওয়া হয়। কেনিয়াতে একজন নারী অনবরত গর্ভধারণ করেন, একটি ছেলে সন্তানের জন্য। কারণ, ছেলে সন্তান নাহলে বংশের হাল ধরার জন্য কেউ থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্রের একজন অবিবাহিত কিশোরী তার সদ্যোজাত শিশুর দিকে তাকায় আর আফসোস করে। মনে মনে ভেবেছিল ইট উইল বি ফান কিন্তু পরে বিষয়টা অন্যরকম হয়ে গেছে। কিছু বুঝতে না বুঝতেই এক সন্তানের মা হয়ে গিয়েছে সে।

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা একটি বড় সমস্যা। আদতে এটি ব্যক্তি পর্যায় ছাপিয়ে জাতি পর্যন্ত বিস্তৃত। পুরো বিশ্বেই এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধি সমস্যা যদি নেহায়েত একটি সংখ্যার ব্যাপার হতো, তাহলে আমরা এত চিন্তিত হতাম না। দুর্ভিক্ষপীড়িত দেশে খাবার নিয়ে ছুটতাম না। কোন সদ্যোজাত শিশুকে ডাস্টবিনে পড়ে থাকতে দেখতাম না। গর্ভবতী মায়ের ক্যান্সার ধরা পড়ার পরেও ট্রিটমেন্ট নিতে রাজী হচ্ছে না শুধুমাত্র তার গর্ভের সন্তানের কথা ভেবে, এমন কোন দৃশ্য দেখতে হতো না।

দুইশো বছর আগে THOMAS MALTHUS ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা নিয়ে বড় ধরণের বিপর্যয়ের অনুমান করেছিলেন। এখনও পর্যন্ত তার অনুমান বাস্তবতার মুখ দেখেনি। কিন্তু এরকম চলতে থাকলে তার অনুমান নির্মম বাস্তবতায় রূপ নেবে। একজন গবেষক তো স্পষ্টভাবে বলেই দিয়েছেন,

“পৃথিবী নরকে রূপান্তর হবে, যদি না তারা ( মানুষ )বাচ্চা উৎপাদন বন্ধ করে”।

বর্তমান পৃথিবীতে ছয় বিলিয়ন মানুষের বাসস্থান। পনেরো বছর পর আরও ৮০ মিলিয়ন মানুষ যুক্ত হবে। (এমনও হতে হতে পারে প্রতি ১২ থেকে ১৩ বছরে এক বিলিয়ন মানুষ বাড়বে )। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ২০৫০ সালের মধ্যে পৃথিবীর জনসংখ্যা হবে ৭.৭ বিলিয়ন থেকে ১১.২ বিলিয়ন।

খুব বেশী কি হবে? এটা অনুমান করা খুব একটা কঠিন বিষয় নয়। অনুমান করার আগে আমাদের কিছু হিসাবনিকাশ করতে হবে। যেমন আমরা কি অত মানুষকে খাদ্য সরবরাহ করতে পারবো? দিতে পারবো বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তা? তাদের সবার জন্য কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবো? ভবিষ্যতের কথা ভবিষ্যতের জন্য তোলা থাক, এখন আপাতত বর্তমানের দিকে নজর দেওয়া যাক। ঠিক এখন কত মানুষ অভুক্ত থাকে তার সঠিক হিসেব আমাদের কাছে নেই তবে বিশ্বের ৭০ ভাগ মানুষ বিশুদ্ধ পানির সংকটে আছে। কর্মসংস্থানের অভাব এখন পুরো বিশ্বে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এত বেশী সংখ্যক মানুষ কর্মহীন থাকা মানে তার সমাজ ও রাজনীতির জন্য টাইম বোমা স্বরূপ।

এত কিছুর মধ্যেও আমরা আশার আলো দেখতে পাই, কারণ গত ত্রিশ বছরে আশাতীত উন্নতি হয়েছে। অনেক উন্নয়নশীল দেশে জনহার কমেছে, বিশেষ করে ভারত এবং চায়নাতে। সাথে সাথে একটি নারীর গর্ভে জন্ম নেওয়া সন্তানের সংখ্যাও কমে এসেছে। এই পরিবর্তনের মূলে রয়েছে- কন্ট্রাসেপ্টিভ, হেলথ কেয়ার এবং সংস্কৃতির আধুনিকায়ন।

সবচেয়ে কার্যকরী মেথড হল কন্ট্রাসেপ্টিভ। উন্নয়নশীল দেশের মহিলাদের মধ্যে কন্ট্রাসেপ্টিভ গ্রহণের মাত্রা আগের চেয়ে পঞ্চাশ ভাগেরও বেশী বেড়েছে। কিন্তু তারপরেও প্রতি বছর পুরো বিশ্বে দুশো মিলিয়নের অধিক মহিলা গর্ভবতী হয়। এই গর্ভধারণের অধিকাংশই হয় অপরিকল্পিত এবং অনাকাংখিত। অনাকাংখিত শিশুরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বঞ্চিত হয়। তারা পর্যাপ্ত খাদ্য পায় না বলে অপুষ্টিতে ভোগে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবাও তারা পায় না ফলে অনাকাংখিত গর্ভের মাধ্যমে যেসব শিশু আসে তাঁদের মধ্যে মৃত্যুহার বেশী, স্বাভাবিক গর্ভের মাধ্যমে আসা শিশুদের তুলনায়।

প্রতি বছর প্রায় অর্ধ মিলিয়ন মহিলা মারা যান গর্ভধারণ সম্পর্কিত জটিলতার কারণে। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই ভগ্নপ্রায় শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসা সেবার অপ্রতুলতা এবং বার বার গর্ভধারণ দায়ী। প্রতি বছর সাত মিলিয়ন শিশু মৃত্যুবরণ করে কারণ তাঁদের মা গর্ভধারণের জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুত ছিলেন না কিংবা গর্ভাবস্থায় করণীয় কি তা জানতেন না। অনেকেই এসব তথ্য উপাত্ত মানতে রাজী নন কিন্তু তাদেরকে( দম্পতি ) বুঝতে হবে তারা যখন পরিবার পরিকল্পনা করেন তারা ভবিষ্যতের পৃথিবী বদলে দেবার সামর্থ্য রাখে। তাই পরিবার পরিকল্পনায় তাঁদের আরো মনযোগি হতে হবে।

বাংলাদেশে ভোরের সূর্য তালগাছের মাথা ভেদ করে উঁকি দেয়। ভোর হয়। দিগন্তবিস্তৃত সবুজ ধানের মাঠ দৃশ্যমান হয়। সূর্যের সোনালী আভায় পুকুরপাড়ে রঙ্গিন শাড়ী পড়া নারীদের কর্মব্যস্ততা প্রকাশ পায়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং এবং প্রাচুর্যে ভরপুর এই দেশটি বিশ্বের নবম জনবহুল দেশ। যার আয়তন মাত্র ৫২ হাজার বর্গকিলোমিটার স্কয়ার মাইলস। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতন ঘনবসতিপূর্ণ দেশ এবং গরীব দেশ।

বর্তমানে বাংলাদেশ জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার আশাতীতভাবে হ্রাস করার জন্য বিশ্বের দরবারে সুপরিচিত। ১৯৯০ সালের দিকেও দেশটির জন্মহার ছিল চার দশমিক নয়। অর্থাৎ গড়ে প্রতিটি নারী চারটির অধিক সন্তান জন্ম দেয়। কিন্তু জন্মহার বর্তমানে তিন দশমিক তিনে নেমে এসেছে। এত কম সময়ের মধ্যে এত অধিক জন্মহার হ্রাস করা শুধু আশাব্যঞ্জকই না, এটা তাদের জন্য দারিদ্রতা এবং নিরক্ষরতা দূর করার জন্য বড় একটা সুযোগ।

বাংলাদেশের নাটকীয়ভাবে জন্মহার হ্রাস করার কৃতিত্ব মোটা দাগে দুটো বেসরকারি সংস্থার উপরে যারা প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌছে সাহায্য করছে। দুটির মধ্যে একটি হলো গ্রামীণ ব্যাংক। গ্রামীণ ব্যাংক তার ক্ষুদ্রঋণ তত্ত্বের জন্য বেশ সুপরিচিত। আরেকটি BANGLADESH RURAL ADVANCEMENT COMMITTEE ( BRAC )। গ্রামীণ ব্যাংক ও ব্র্যাকের কারণে বাংলাদেশের প্রান্তিক পর্যায়ের অনেক নারী এবং শিশু শুধু কোনমতে বেঁচে থাকার বদলে স্বপ্ন দেখছে। ভালমতো বাঁচতে পারছে। মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করতে পারছে।

চামুরখাম গ্রাম গ্রামের আনোয়ারা বেগম তাদেরই একজন। চামুরখাম গ্রাম বাংলাদেশের অন্যসব ৬৮ হাজার গ্রামের মতোই। এক বা দুই রুমের বাড়ীতে সবাই গাদাগাদী করে থাকে। উপরে ঢেউ খেলানো টিনের ছাদ। ঘরের চারপাশ দিয়ে শোলার বেড়া। ভোর হবার সাথে সাথেই মোরগ ডাকতে শুরু করে, জেদী বাচ্চার কান্নার আওয়াজ পাওয়া যায়। বিচ্ছিন্নভাবে দু একটা কুকুরের ডাক শোনা যায়। ঠিক তারপরেই একটি ফোন বেজে ওঠে। পুরো চামুরখাম গ্রামে একটি মাত্র ফোন, সেটির মালিক আনোয়ারা বেগম। সে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে ফোন কিনে ব্যবসা শুরু করেছে। গ্রামের অন্য মহিলারা যখন ডিম, দুধ বেচে টাকা ইনকাম করে সেখানে আনোয়ার বেগম ফোনের মাধ্যমে টাকা উপার্জন করে। প্রতিটি ফোন কলের জন্য আনোয়ারা বেগম ৪.৬ টাকা চার্জ করে। তিনি প্রতি সপ্তাহে তিনশো টাকা উপার্জন করেন। সেখান থেকে সাপ্তাহিক লোন পরিশোধ করেন ১৬০ টাকা আর বাকীটা নিজের জন্য রেখে দেন। এইভাবে তিনবছর চলতে থাকলে আগামী তিন বছরের মধ্যেই পুরো লোন পরিশোধ করা হয়ে যাবে।

বাংলাদেশের অধিকাংশ গ্রামে বিধবা মহিলাদের তাঁদের ও তাঁদের সন্তানের ভরণপোষণের জন্য ভিক্ষা করতে হয় কিংবা পতিতাবৃত্তি করতে হয়। এখানেই গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণের সফলতা। আনোয়ারা বেগম প্রতি দিনে গড়ে ২ ডলার উপার্জন করে অর্থাৎ বছরে ৭০০ ডলার প্রায়।আনোয়ার বেগম সেই দেশের একজন মহিলা হয়ে ৭০০ ডলার উপার্জন করছে যে দেশের মাথাপিছু আয় ২৫০ ডলার। গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণ যেমন অসহায় মহিলাদের সম্বল হচ্ছে তেমন দেশের সার্বিক উন্নতিতে বড় ভূমিকা পালন করছে।

১৯৭৬ সালে গ্রামীণ ব্যাংক তার যাত্রা শুরু করার পর এ পর্যন্ত দুই বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছে। গড়ে ১৮০ ডলার করে তারা ২.১ বিলিয়ন নারীকে ঋণ সহায়তা দিয়েছে। “আমরা দেখেছি যে নারীদের আগে বোঝা ভাবা হতো, তারা এখন পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনছে” বলছিলেন গ্রামীণ ব্যাংকের সিনিয়ারর অফিসার মোহাম্মদ আবুল হোসাইন। তিনি আরো বলেন, ”পূর্বের থেকে বর্তমানে নারীরা তাঁদের সন্তানের প্রতি বেশী যত্নশীল হচ্ছে, সংসারে স্বচ্ছলতা আসার কারণে”।

আনোয়ার বেগমের ২০ বছর বয়সী মেয়া শরীফা আক্তার শিখা ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামের ইতিহাস বিষয়ে পড়ছে।

শিখা বলেন,

“আমার মা যদি ঋণ না নিতো, তাহলে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া হতো না। কিন্তু মা আমাকে তার তাগিদেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করেছেন।“

আনোয়ার বেগমকে এর কারণ জিজ্ঞেস করতেই উত্তর দিলেন

“ভবিষ্যতের জন্য।“

আরো বলেন,  “লেখাপড়া শিখলে তার মেয়ে ভালভাবে জীবন যাপন করতে পারবে, বেশী টাকা উপার্জন করতে পারবে।”

আমরা ভেবে অবাক হই যে মহিলা তার সারাটা জীবন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত ছিলেন, তিনি কিভাবে এতটা দূরদর্শী হলেন। শুধুই ঋণ দিয়ে নয় গ্রামের প্রান্তিক পর্যায়ের নিঃস্ব মহিলাদের মধ্যে আশার আলো জ্বেলে দিয়েছে গ্রামীণ ব্যাংক।

বাংলাদেশে এখনো শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার অত্যাধিক বেশী। এখানে পুরুষের অনেক আগে মহিলা মৃত্যুবরণ করেন। কারণ হিসেবে অপুষ্টি, ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভধারণ এবং অতি দ্রুত সন্তান নেওয়াকে দায়ী করেছেন গবেষকরা। এইসব প্রান্তিক মানুষদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ব্র্যাক দেশব্যাপী তাঁদের ক্লিনিক স্থাপন করছে। নারীদের কন্ট্রাসেপ্টিভ ব্যবহারে উৎসাহ দিচ্ছে। ময়মনসিংহ জেলার স্বাস্থ্যকর্মী মর্জিনা খাতুনের মতে নারীরা এখন আগের থেকে অনেক বেশী মাত্রায় কন্ট্রাসেপ্টিভ ব্যবহার করছেন। “একজনের যদি পাঁচটা বাচ্চা থাকে তবে সবার প্রতি সমান খেয়াল রাখা সম্ভব নয়, কিন্তু দুটো বাচ্চা থাকলে দুজনের প্রতিই সমান যত্ন নেওয়া যায়। সাথে সাথে মায়ের স্বাস্থ্যও ভাল থাকবে।“ আমরা তাঁদের এটাই বোঝানোর চেষ্টা করছি বলছিলেন মর্জিনা বেগম।

“যদি কোন রক্ষণশীল মুসলিম নেতা যদি বলে গর্ভনিরোধক ব্যবস্থা আল্লাহ এর বিধানের বিপরীত?” মর্জিনাকে জিজ্ঞেস করতে ঝটপট উত্তর, ”তখন আমিও বলবো আল্লাহ আমাদের পরিবারের দায়িত্বও ঠিকঠাকভাবে পালন করতে বলেছেন। যতবেশী সদস্য বাড়বে পরিবারে দায়িত্ব পালন তত কঠিন হয়ে যাবে।“

ময়মনসিংহে ব্র্যাকের হেলথ কেয়ার সেন্টারে প্রতি মাসে আটশো নারী আসে কাউন্সেলিং ও টুকটাক চিকিৎসার জন্য। সেখানে আমাদের সাথে দেখা হয় পাতলা ছিপছিপে বিশ বছর বয়সী এক তরুণীর সাথে। বলাই বাহুল্য সে গর্ভবতী। এটা তার তৃতীয়বারের মত গর্ভধারণ। এর আগে মিসক্যারেজ হয়েছে একবার। সে তার পেইন এবং জ্বরের কথা নার্সকে বলছিলো। নার্স তাকে পুরোপুরি বেডরেস্ট, অতিরিক্ত পুষ্টিকর খাবার খেতে এবং ভারী কাজ করতে সম্পূর্ণ নিষেধ করেন। কিন্ত এগুলো একটাও তার পক্ষে সম্ভব হবে না। ঘরের কাজ ফেলে বেডরেস্ট করার মত বিলাসিতা করার সুযোগ বাংলাদেশের গ্রামীণ বউদের দেওয়া হয় না। সেখানে সমাজ অনেক রক্ষণশীল। পরে নার্স তাকে পেইন এবং জ্বরের জন্য কিছু ওষুধ প্রেসক্রাইব করে দিলো।

গর্ভনিরোধক ব্যবস্থার সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং ক্ষুদ্রঋণ বাংলাদেশের প্রান্তিক পর্যায়ের নারী শিশুদের জীবনমানের উন্নতিতে বড় ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু শিশু ও মাতৃমৃত্যু হার কমানো না গেলে এ সাফল্য ঢাকা পড়বে ব্যর্থতার কালো চাদরে।

মূল লেখাঃ ERLA ZWINGLE.
অনুবাদঃ নাফিজ মেহরাব।

Most Popular

To Top