ফ্লাডলাইট

বিপিএলের পঞ্চম আসরের শুরুতেই স্বাগতিক সিলেটের উড়ন্ত সূচনা!

বিপিএলের পঞ্চম আসরের শুরুতেই স্বাগতিক সিলেটের উড়ন্ত সূচনা!

বিপিএলের প্রথম পর্ব সিলেটে হবে এই ঘোষনা আসার পর থেকেই সিলেটের ক্রিকেটপ্রেমীদের উপর আগ্রহ উদ্দীপনার কোন অভাব ছিলোনা, সিলেট শহর যেন ক্রিকেট জ্বরে আক্রান্ত। টিকেটের জন্য দীর্ঘ লাইন, পুলিশের লাঠি পেটা, টিকেটের জন্য হাহাকার এই তো ছিলো সিলেটের গত কয়েকদিনের নিয়মিত দৃশ্য! টিকেট নামের সোনার হরিণের দেখা পেয়ে যে আঠারো হাজার দর্শক স্টেডিয়ামে এসেছিলেন তাদের পয়সা উসুল করে দিয়েছে ঘরের দল সিলেট সিক্সার। বিপিএলের অন্যতম শক্তিশালী দল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ঢাকা ডায়নামাইটসকে নয় উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছে সিলেট।

এই ম্যাচ শুরুর আগে সিলেট সিক্সার্সের পক্ষে বাজি ধরার মানুষ খুব বেশি ছিলোনা। টি টুয়েন্টি ক্রিকেটের বড় বড় নাম দিয়ে সাজানো ঢাকাই ছিলো পরিষ্কার ফেভারিট। কিন্তু এটাই টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট এখানে কিছুই ধারনা করা যায়না। নাহয় কে ভেবেছিলো বিপিএলের পঞ্চম আসর শুরুই হবে এরকম একপেশে ম্যাচ দিয়ে?

আজ দিনটাই যেন সিলেটের ছিলো। টসে জিতে সিলেটের অধিনায়ক নাসির হোসেন বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, ঢাকার অধিনায়ক সাকিব আল হাসান অবশ্য প্রথমে ব্যাট করায় অখুশি ছিলেন না। যদিও সাকিবের এই খুশি টস পর্যন্তই! ঢাকাকে চমকে দিতেই কিনা বল হাতে ইনিংসের সূচনা করেন নাসির নিজেই, সাফল্য পেতে দেরি হয়নি একদমই, ওভারের শেষ বলেই গতবছর বিপিএল মাতানো মেহেদি মারুফ ডিপ স্কয়ার লেগে রস হোয়াইটলির তালুবন্দি হন। ইভেন লুইস আর কুমার সাঙ্গাকারা জুটি যখন প্রাথমিক ধাক্কা সামলে হুমকি হবার পথে ঠিক তখনই আবারো সিলেটকে পথ দেখান অধিনায়ক নাসির। টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে বোলারদের ত্রাস ইভেন লুইসকে লং অফে আবুল হাসানের ক্যাচে বন্দী করে ৫৪ রানের জুটি ভাঙেন নাসির, ২৪ বলে ২৬ রান করে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন লুইস। ঢাকার ইনিংসে এরপর কেবল যাওয়া আসার গল্প। পাওয়ার প্লের ছয় ওভারে দুই প্রান্ত থেকে স্পিন করানোর দারুন বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্তে শুরুতেই ঢাকার রানের চাকায় লাগাম টানতে সক্ষম হয় সিলেট যা পুরা ইনিংসেই আর গতি পায়নি। চল্লিশ বছর বয়সে ফর্মের তুঙ্গে থাকা “বুড়ো” সাঙ্গাকারা ২৮ বলে ৩২ রান করে লিয়াম প্লাঙ্কেটের শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরলে ঢাকার ইনিংস পথ হারায় পুরোপুরি। মাঝে সাকিব আল হাসানের ২৩ এবং কেমেরুন ডেলপোর্টের ২০ রান কেবল সম্মানজনক একটা স্কোর সংগ্রহের সংগ্রাম বলা যায়। প্লাঙ্কেটটে ইনফিল্ডের উপর দিয়ে মারতে যেয়ে ত্রিশ গজের ভেতর মিড অফের হাতে ক্যাচ হন ঢাকার অধিনায়ক। ডেলপোর্টের অপরাজিত ২০ রানে শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেট হারিয়ে ১৩৬ রান তুলে ঢাকা ডায়নামাইটস। সিলেট সিক্সার্সের হয়ে অধিনায়ক নাসির ৪ ওভারে ২১ রানের খরচায় ২ উইকেট তুলে নেন। ইংলিশ ক্রিকেটার লিয়াম প্লাঙ্কেট ৪ ওভারে ২ উইকেট নিতে খরচ করেন ২০ রান।

১৩৭ রানের মামুলি টার্গেট আরো মামুলি হয়ে যায় উপল থারাঙ্গা আর আন্দ্রে ফ্লেচারের ১২৫ রানের উদ্ভোধনী জুটিতে। ৪৮ বলে অপরাজিত ৬৯ রান করেন থারাঙ্গা, পাঁচটা চারের মারের সাথে দুটি বিশাল ছক্কা। একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হবার আগে ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যান আন্দ্রে ফ্লেচার করেন ৬৩ রান। ৫১ বলের ইনিংসে বাউন্ডারি মেরেছেন পাঁচটা, ছয়ের মার তিনটি যার ভেতর সাকলাইন সজীবকে মাথার উপর দিয়ে মারা ৯০ মিটারের বিরাট এক ছক্কা রয়েছে। ঢাকার একমাত্র সফল বোলার আদিল রশিদ, ৪ ওভারে ৩১ রান খরচায় একমাত্র উইকেটটি তুলে নেন তিনি। ম্যাচ সেরা হন সিলেটের উপল থারাঙ্গা।

ব্র্যান্ড ভ্যালু, বিদেশি খেলোয়াড়, স্টার খেলোয়াড় যেকোন বিবেচনায় এগিয়ে থেকেও সিলেটের কাছে হারটা ঢাকার জন্য একটি সতর্কবার্তা, টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে ফেভারিট বলে কিছুই নেই, ঢাকা ডায়নামাইটস নিশ্চয় প্রতিটা ম্যাচের আগে এখন থেকে বিষয়টা মাথায় রেখেই নামবে।

ঢাকাকে প্রাথমিক ধাক্কা অবশ্যই সিলেটের দর্শকরাই দিয়েছে। ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামে উল্লেখযোগ্য সমর্থন পেলেও সিলেটে আজ তার বিন্দুমাত্র পাবার সম্ভাবনা ছিলোনা ঢাকার, পায়ওনি! ঢাকার জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা! আর ঘরের মাঠ, দর্শক সমর্থন নিয়ে “আপসেট” ঘটিয়ে দূর্দান্ত শুরু করা সিলেট এখন চাইবে এই জয়ের ধারা ধরে রাখতে।

অনেকটা অপ্রত্যাশিত শুরু হলেও জমজমাট এক আসরের হাতছানি দিচ্ছে যেন বিপিএলের পঞ্চম আসর!

Most Popular

To Top