বিশেষ

আজকে এই তাতা বাবুর জন্মদিন

আজকে এই তাতা বাবুর জন্মদিন

বিলাত থেকে পড়ালেখা শেষ করে ফিরে এসেছে জমিদার নন্দন। সবাই মিলে তাকে ধরেছে বিয়ে করার জন্য। নন্দন রাজি। এদিক ওদিক নানাদিকে নানা মেয়ে দেখা হয়।

একদিন দল বেঁধে সবাই মিলে গিয়েছে কন্যা দেখতে। কন্যার নাম সুপ্রভা। কন্যাপক্ষ কন্যার নানা গুণ বলতে গিয়ে বলেছে যে কন্যা রবীন্দ্র সংগীতে তালিম নিয়েছে। বেশ ভালো গায়। বরপক্ষ সাথে সাথেই ধরে বসেছে কন্যাকে একটা গান গেয়ে শোনাতে হবে। এই অনুরোধ ফেলা যায় না। কন্যা হারমোনিয়াম খুলে নিয়ে গান শুরু করেছে। মম চিত্তে নিতি নৃত্যে কে যে নাচে, তাতা থৈ থৈ, তাতা থৈ থৈ, তাতা থৈ থৈ।

এই গান শুনে ছেলের ছোটবোনরা সব হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ছে এর ওর গায়ে। মুরুব্বিরা কঠিন কসরত করে মুখে গাম্ভীর্য বজায় রেখেছে। স্মার্ট জমিদারনন্দন বিব্রত। কী করবে বুঝতে পারছে না। দুর্দান্ত সব রসের কথা লিখে, অন্যকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে লোক হাসান তিনি। আর আজ কিনা তিনিই হাসির পাত্র হয়ে উঠেছেন রবীন্দ্রনাথের গান এই মেয়ের গাওয়ার কারণে। কী কারণে ছোটরা সবাই হাসছে, বড়রা জোর করে গাম্ভীর্য বজায় রেখেছে এবং আমাদের হবু বর বিব্রত হচ্ছে, তার কারণটা বলে দেই আপনাদের। বরের একটা পোশাকি নাম আছে, যেটা দিয়ে তিনি একদিন বিখ্যাত হয়ে যাবেন। তবে, তাঁর একটা ডাক নামও আছে, সেটা হচ্ছে তাতা। আর সেজন্যই সুপ্রভা যখন বলছে তাতা থৈ থৈ, তাতা থৈ থৈ, সবাই অমন হেসে গড়িয়ে যাচ্ছে।

আজকে এই তাতা বাবুর জন্মদিন। বাংলা সাহিত্যের রসের ভাণ্ডার একাই প্রায় পুর্ণ করে দিয়ে গিয়েছিলেন তিনি তাঁর স্বল্পস্থায়ী জীবনে। শুভ জন্মদিন তাতা বাবু, শুভ জন্মদিন ছন্দের জাদুকর সুকুমার রায়। আপনি না থাকলে বাঙালির শৈশব-কৈশোর এতোখানি মধুর হতো না।

রাশি রাশি ছন্দ যেনো হাতের মুঠোয় নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন তিনি। ইচ্ছে হলেই অকাতরে বিলোতেন। শব্দকে ভেঙে, বেঁকেচুরে, শাসন করে, জোড়াতালি দিয়ে, নানাভাবে সাজিয়ে অদ্ভুত এক পরিবেশ গড়ে তুলতে সিদ্ধহস্ত ছিলেন তিনি। তাঁর গড়ে তোলা জিনিস আপনার খুব আদরের হবে, ভালবাসার হবে। কিন্তু, নিজে সেই রকম জিনিস সৃষ্টি করতে পারবেন না আপনি কখনোই। তাঁর সৃষ্ট ছড়া পড়ার পরে শুধু অবাক বিস্ময়ে ভাববেন, কীভাবে পারলো? কীভাবে এমনটা পারে কেউ?

“ঠাস্‌ ঠাস্‌ দ্রুম দ্রাম,শুনে লাগে খটকা–
ফুল ফোটে? তাই বল! আমি ভাবি পট্‌কা!
শাঁই শাঁই পন্‌ পন্‌, ভয়ে কান বন্ধ–
ওই বুঝি ছুটে যায় সে-ফুলের গন্ধ?
হুড়মুড় ধুপধাপ–ওকি শুনি ভাইরে!
দেখ্‌ছনা হিম পড়ে– যেও নাকো বাইরে।
চুপ চুপ ঐ শোন্‌! ঝুপ ঝাপ্‌ ঝপা-স!
চাঁদ বুঝি ডুবে গেল? গব্‌ গব্‌ গবা-স!
খ্যাঁশ্‌ খ্যাঁশ্‌ ঘ্যাঁচ্‌ ঘ্যাঁচ্‌ , রাত কাটে ঐরে!
দুড়দাড় চুরমার–ঘুম ভাঙে কই রে!
ঘর্ঘর ভন্‌ ভন্‌ ঘোরে কত চিন্তা!
কত মন নাচ শোন্‌–ধেই ধেই ধিন্‌তা!
ঠুংঠাং ঢংঢং, কত ব্যথা বাজেরে–
ফট্‌ ফট্‌ বুক ফাটে তাই মাঝে মাঝে রে!
হৈ হৈ মার্ মার্ “বাপ্‌ বাপ্‌” চিৎকার–
মালকোঁচা মারে বুঝি? সরে পড়্ এইবার।”

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top