টুকিটাকি

তেজষ্ক্রিয়তার ঝুঁকিতে দেশের দক্ষিণাঞ্চল- দায়ী কে?

তেজষ্ক্রিয়তার ঝুঁকিতে দেশের দক্ষিণাঞ্চল- দায়ী কে?- Neon Aloy

প্রায় ত্রিশ বছরের পুরানো বিশ্বের সবচেয়ে বিষাক্ত বর্জ্যবাহী এক জাহাজ গেলো এক বছর ধরে তেজস্ক্রিয়তা ছড়াচ্ছে চট্টগ্রামে। সারা বিশ্ব যে জাহাজটিকে নিষিদ্ধ করে স্থান দেয় নি, সেটি কাটা হচ্ছে বাংলাদেশে তাও আবার আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে। বর্জ্যবাহী জাহাজ নর্থ সি প্রডিউসার (এমটি প্রডিউসার)গত ১৪ মাস ধরে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের উপকূল পরিবেশ দূষণ করে আসছে। এ নিয়ে যুক্তরাজ্যের পরিবেশবাদীরা সতর্ক করলেও নির্বিকার বাংলাদেশ।

নর্থ সি  প্রডিউসার নামের এই জাহাজটি আগে তেল ও গ্যাস পরিবহণে ব্যবহৃত হতো। প্রায় ৩০ বছর পুরানো এ জাহাজে বিপুল পরিমাণ ন্যাচারাল অকারিং রেডিও এক্টিভ ম্যাটেরিয়াল, সালফারসহ উচ্চ তেজস্ক্রিয় পদার্থ রয়েছে বলে এটিকে আন্তর্জাতিকভাবে নিষেধাজ্ঞা করা হয়েছে। পরিত্যক্ত এ বিশাল জাহাজটিতে ১৬ টি ট্যাংকর রয়েছে। যার ২ টি ট্যাংকর পরীক্ষা করে পাওয়া গেছে ভয়ংকর তেজস্ক্রিয়র নমুনা। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর অভিযোগ, দীর্ঘদিন তেল ও গ্যাস পরিবহণ করায় এতে বিষাক্ত তলানি হিসেবে জমা পড়েছে।

তেজষ্ক্রিয়তার ঝুঁকিতে দেশের দক্ষিণাঞ্চল- দায়ী কে?- নিয়ন আলোয়

লন্ডন ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান নর্থ সি প্রোডাকশন কোম্পানি এই জাহাজটির মালিক। তারা দীর্ঘদিন ধরে জাহাজটি বিক্রি করার পরিকল্পনা করে আসছে। কিন্তু জাহাজে অতিমাত্রায় তেজস্ক্রিয় থাকায় এ জাহাজটি নিতে কেউ আগ্রহ পোষণ করেনি। উচ্চ অংকের লোভ দেখিয়ে অবশেষে তারা বাংলাদেশের শিল্পপতি ইয়াসিন আলীর কাছে বিক্রি করতে সক্ষম হন। জাহাজটির প্রবেশ সম্পর্কে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ভুল কাগজ বানিয়ে ১৪ আগস্ট ঠিকই বাংলাদেশে প্রবেশ করাতে সক্ষম হয়।

মেগাপোর্ট ইনিশিয়েটিভ ২ টি ট্যাংকর পরীক্ষা করে মাত্রাতীত ৩৩০ গামা রেডিয়েশন ডোজ এর নমুনা পায়। এ ছাড়া তেজস্ক্রিয় পদার্থগুলোর মধ্যে ইউরেনিয়াম ২৩৫,১১৬-রেডিয়াম, থেরিয়াম- ২২৮, কপার-৬৪, সোডিয়াম -২২, ইরিডিয়াম -১৯৪, কোবাল্ট -৬০, রোবিডিয়াম-৮২। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মাধ্যমে উন্নত প্রযুক্তিতে তদন্তের সুপারিশ করে মেগা পোর্ট। জানুয়ারিতে এ প্রতিবেদন জমার পর ১০ মাসেও সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি।

তেজষ্ক্রিয়তার ঝুঁকিতে দেশের দক্ষিণাঞ্চল- দায়ী কে?- নিয়ন আলোয়

চট্রগ্রামের সীতাকুন্ডুতে কাটার জন্য নিয়ে আসা তেজস্ক্রিয় পদার্থ ভর্তি জাহাজ

বর্তমানে বঙ্গোপসাগরের সীতাকুন্ডের জাহাজভাঙা অঞ্চলে এটি ঝুঁকিপূর্ণভাবে ভাঙা হচ্ছে। সুকৌশলে কাস্টমকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সাগরের বহির্নোঙর থেকে সীতাকুন্ডে নিয়ে যায় জাহাজটি কাটার জন্য। আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে এর তেজস্ক্রিয়া পাইপ কেটে সাগরে ফেলা হচ্ছে। এর আগে ২০১৬ সালের ৫ নভেম্বরে  পরিবেশ অধিদপ্তর নির্দেশ দেয় জাহাজ কাটা বন্ধ করার জন্য। আইন অমান্য করে কাজ করার অভিযোগ রয়েছে জনতা স্টিল করপোরেশনের। এ অভিযোগে ২৯ আগস্ট আবারো আদালতে যায় পরিবেশ আইনবিদ সমিতি। ৯ অক্টোবর আদালত নির্দেশ দেন, রিট না হওয়া পর্যন্ত জাহাজ ভাঙার কাজ স্থগিত থাকবে।

পরিবেশবিদরা মনে করছেন এ তেজস্ক্রিয় পদার্থ সাগরের পানির সাথে মিশে পরিবেশের ভয়ংকর বিপর্যয় ডেকে আনবে। এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের পরিচালক মো.মাসুদ করিম বলেন, “পরিবেশ অধিদপ্তর জাহাজটি পরিদর্শন করে সার্টিফিকেট দিয়েছে। এ জাহাজে যা আছে তা উল্লেখ করে সার্টিফিকেট দেয়া হয়। কিন্তু পরিবেশগত ছাড়পত্র ইস্যু করা হয় নি। এ ছাড়পত্র না থাকলে আমাদের নিয়ম অনুযায়ী জাহাজ ভাঙতে পারবে না আমদানিকারকরা।”

Most Popular

To Top