লাইফস্টাইল

এ কেমন পথচলা?

এ কেমন পথচলা?- Neon Aloy

মানুষ রক্তশূণ্যতায় ভোগে, প্রাণ শূণ্যতায় ভোগে না? ভোগে। ভোগে; অজানা হতাশার রোগে। অনুভূতির জ্বরে তাপ থাকে না… থাকে পরিতাপ। এখনকার মানুষ চিন্তা করতে ভালবাসে না। চিন্তা করাতে ভালবাসে। নিজের ভাবনা চাপিয়ে দিতে অন্যরকম এক আনন্দ পায়। এখনকার মানে কখনকার? এই যে আজ ভোরর সূর্যটা আপনার ঘুমের মধ্যে আপনাকে না জানিয়ে উদয় হলো… তখনকার কথাই বলছি।

কর্মদক্ষতা নিয়ে আপনি যখন মশগুল, দক্ষ কর্ম হয়তো নাশ করছে আপনার নিজের মধ্যে থাকা মানুষকে। আমরা চোখ মেলে দেখি না। ক্যামেরার মেগাপিক্সেল আর লেন্স আমাদের দেখায়। দু’ দন্ড ফেসবুক, টুইটারে না ঢুকলেই মনে হয় কি যেন হারালাম। কখনও কি প্রশ্ন করেছি…কি পেলাম? পাচ্ছি। হারিয়ে যাওয়া দূরের সম্পর্কগুলো কাছের হচ্ছে, মুঠোফোনের স্পর্শকাতর পর্দায় এসে কড়া নাড়ছে। তবে অভাব এখন স্পর্শের…মায়ের, প্রিয়তমার, কিংবা কোনো শিশুর। মনটা বড় বিক্ষিপ্ত সবার। থার্মোমিটার ভেঙ্গে গেলে ভেতরে থাকা পারদের মেঝেতে ছড়িয়ে পড়ার মতো। কি বলছি, কোন পথে হাঁটছি সবই যেন এলোমেলো।

ছোটবেলা থেকে কে শোনেন নি “সেন্সর বোর্ড,সেন্সর বোর্ড”? কখনও দেখেছেন সেন্সর বোর্ড। ভয় নেই। টিকেট লাগবে না। আয়নায় নিজেকে দেখে নিন। দিনরাত প্রেজেন্টেবল করার প্রতিযোগিতায় সেন্সর করছি নিজেদের “আসল” কে। কখনও ক্যামেরার কারসাজি, কখনও এডিটের হাত আবার কখনও অনুভূতির মিথ্যে প্রকাশ। এ সেন্সর বোর্ড ছাড়া আর কি?

স্কুলের শিক্ষকদের কাছে বেদম মার খেয়ে বড় হয়েছি আমরা। কই তখন তো শিশুদের এভাবে কুৎসিতভাবে হত্যা করা হতো না রাজনদের মতো! এখন তো শিশুদের প্রহার করা নিষেধ। তবু কেন প্রহারের চেয়ে কোটি গুনে গা গোলানো সব ঘটনা হচ্ছে! উত্তর একটাই, কিছুই ভালো লাগে না….

আগে একটা তথ্য খুঁজতে শিক্ষক, বাবা-মা, ভাই-বোন, বন্ধু…লাইব্রেরি। পাগল হতে হতো। এখন বুড়ো আঙ্গুলের ডগায় সব তথ্য। লাভ কি হবে? ওসবে রুচি নেই কারো। তথ্য তথ্যের মতো আছে। সিনেমা হলে চলা ফ্লপ ছবির মতো। আর আমরা আছি অন্য দুনিয়ায়।

নিজের কথা এড়াই কিভাবে। সকালে প্রাণভরে মুক্তবাতাসের স্বাদ আস্বাদন করে,শরীরচর্চা করার কথা। করছি কি? ব্যায়াম করাচ্ছি বুড়ো আঙ্গুলকে। লাফিয়ে বেড়াচ্ছে ওই স্পর্শকাতর পর্দার ওপরে। যে পরিমান এক্সারসাইজ বুড়ো আঙ্গুল করে, তাতে এতদিনে সবার আঙ্গুলের সিক্সপ্যাক হয়ে যাওয়ার কথা! এই আঙ্গুলটাকে স্মার্টফোনের কাছে বেচে দিয়ে হয়েছে আরেক বিপদ! অশুভকে বুড়ো আঙ্গুল দেখানোর শক্তিটা কমছে দিন দিন।

কাছের এক ভাই সেদিন অভিযোগ জানালেন, আপনার লেখা ভর্তি দুঃখ কেন? জবাবটা সোজা। চারপাশে ওটাই যে সহজলভ্য! সৃষ্টির সেরা জীব মানুষ এতদিন নিয়ন্ত্রণ করেছে সব প্রাণিকে। আর এখন? প্রাণিও লাগে না। প্রাণির নামের জুজু গিলে খাচ্ছে মানুষকে। যেমনঃ ব্লু হোয়েল। কাল একটা অ্যাপ ডাউনলোড করেছি। অ্যাপ ব্লকার। উদ্দেশ্য নির্দিষ্ট সময় বিশ্বজালের দুনিয়া থেকে নিজেকে দূরে রাখা। কতটা নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছি ভাবাই যায় না।

আর লেখবো না। অফিসে যেতে হবে। আশার কথা বলে শেষ করি….

প্রযুক্তি হলো বুফে ডিনারের মতো। যা যা চাই মন মতো আপনার মনের প্লেটে তুলে খেতে পারেন। পছন্দটা একান্তই ব্যক্তিগত। তাই প্রযুক্তির সুস্বাদু আর সহজপাচ্য খাবারেই হোক আপনার রোজকার ডিনার,লাঞ্চ,ব্রেকফাস্ট। ভাবছেন খাবারের কথাও উল্টোক্রমে লেখলাম কেন? নিজেই ভাবুন… বেলা ১২টায় সকালের খাবার, লাঞ্চ বিকেলে আর গভীর রাতে স্ন্যাকস…শৃঙ্খলা তো বহু আগেই ভাঙ্গা হয়ে গেছে।
মন মেশাই। মানুষ হই। কাদামাটির মানুষ…..

Most Popular

To Top