টুকিটাকি

তিমিদের বাঁচানোই যাদের কাজ

তিমিদের বাঁচানোই যাদের কাজ।

ব্লু হোয়েল নিয়ে তো এতোদিন অনেক কেঁপেছে, কাঁপিয়েছেন। এখানে প্রতীকি অর্থে তিমি ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু এমন একটা সংগঠন আছে যারা এই তিমি বাঁচাতে সমুদ্রে লড়াই করে। তারা হলো ‘সী শেফার্ড’ (SEA SHEPHERD)। এটি একটি নন প্রফিট অর্গানাইজেশন বা সংক্ষেপে এ.ন.জিও.। তারা মূলত সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করে, তবে তাদের অধিক পরিচিতি ‘হোয়েল ওয়ার্স’ নামের একটি টিভি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। যে টিভি শোতে দেখা যায়, তারা রীতিমতো এন্টার্কটিকায় জাহাজ দিয়ে ধাওয়া করে, অবৈধ তিমিশিকারিদের বিরুদ্ধে লড়াই করে। আরো বিস্তারিত বলতে গেলে, জাপানি তিমি শিকারিদের বিরুদ্ধে তাদের এই লড়াই। জাপানি তিমি শিকারিদের দাবী অনুযায়ী বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য তারা তিমি শিকার করে যা আদতে মিথ্যা। বাণিজ্যিক ভাবে তিমির মাংস বাজারজাত করাই তাদের লক্ষ্য।

‘সী শেফার্ড’ এর লোগো

সী শেফার্ড ওয়াশিংটন ভিত্তিক একটি সংস্থা। পল ওয়াটসন হলেন প্রতিষ্ঠাতা। যেমনটা আগেই বলা হয়েছে, তারা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কাজ করে। তাদের প্রধান কাজগুলোর মধ্যে – তিমি শিকার ও চোরাচালান বন্ধ করা, সীল শিকার রোধ করা। তারা প্রথম খবরের কাগজে আসেন ১৯৭৯ সালে কানাডিয়ান সীল শিকারীদের প্রতিহত করে। সেই বছরেই আন্টলান্টিকে তিমি শিকারীদের জাহাজ অচল করে দেওয়ার দাবী করে তারা। সী শেফার্ড স্প্যানিশ, নরওয়েজিয়ান বিশেষ করে জাপানীদের বাণিজ্যিক তিমি শিকারে হস্তক্ষেপ করে। ২০০০ সালের দিকে তারা কোস্টারিকা সরকারের সাথে একজোট হয়ে বিপন্নপ্রায় সামুদ্রিক প্রাণী চোরাচালান বন্ধ করতে সক্ষম হয়। ইটালিয়ান কোস্টগার্ড, মেক্সিকান নেভি, গ্যাবনের কোস্টগার্ডদের সাথে মিলিত হয়ে সেসব দেশের সামুদ্রিক চোরাচালান বন্ধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শুরুতেই হোয়েল ওয়ার্স নামে একটা টিভি অনুষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে। যার মাধ্যমে সী শেফার্ড এর বিশ্ব অঙ্গনে পরিচিতি পাওয়া শুরু। ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে এনিম্যাল প্ল্যানেট চ্যানেলে এই অনুষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়। সেই অনুষ্ঠানে দেখা যায় সী শেফার্ড এর কর্মীরা রীতিমতো জাহাজ নিয়ে এন্টার্টিকায় জাপানী তিমি শিকারীদের ধাওয়া করছেন। তার সরাসরি তিমি শিকারী জাহজকে লক্ষ্য করে বিউট্রিক এসিড ছুড়তো। তাদের লক্ষ্য ছিল সেই বিউট্রিক এসিড যেন সদ্য শিকার করা তিমি কিংবা প্রসেস করার সময় তিমি এর মাংসে পড়ে ফলে তিমি বাজারজাত করা সম্ভব যেন না হয়। অনেকবার জাপানী জাহাজের সাথে সংঘর্ষও হয়েছে। একবার তো জাপানী জাহাজ সী শেফার্ড এর একটি ছোট জলজান কে একদন ধ্বংস করে দিয়েছিলো। কিন্তু সী শেফার্ড এর অন্য একটি জাহাজ কাছাকাছি থাকায় খুব তাড়াতাড়ি তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এছাড়াও বব বার্কার নামে তদের একটি জাহাজ ছিল যাতে ছোট্ট একটি হেলিকপ্টার ছিল তিমি শিকারীদের ট্র্যাক করার জন্য। তাছাড়াও তাদের প্রত্যেকটি জাহাজে ছোট ছোট অতি দ্রুতগতিসম্পন্ন বোট ছিল। এই বোটের কাজ ছিল তিমি শিকারের পর প্রসেসিং এর সময় গিয়ে বিউট্রিক এসিড ছোড়া।

মুখোমুখি সংঘর্ষে ধ্বংস হওয়া জলযান

 

সী শেফার্ড তাদের এই কাজের জন্য প্রশংসা এবং নিন্দা উভয়ই পেয়েছে। তবে প্রশংসাই বেশি পেয়েছে। তাদের সরাসরি বিউট্রিক এসিড ছোড়া নিয়ে প্রচুর বিতর্ক হয়েছে। দ্যা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের স্মিথ বলেছে তারা, “কোন প্রস্তুতি ছাড়াই নিজেদেরকে এন্টার্কটিকায় ঠেলে দিয়েছে যেটা হাস্যকর, আবেগের বর্শবর্তী হয়ে তারা যে নিজেদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে তা বোকামীর চরমতম পর্যায়।” অন্যদিকে এনিম্যাল প্লানেটের চেয়ারম্যান ‘হোয়েল ওয়ার্স’ টিভি শো কে তাদের চ্যানেলে প্রচারিত অন্য যেকোন টিভি শো এর চেয়ে সফল বলে অভিহিত করেছেন।

সী শেফার্ড এর ফাউন্ডার পল ওয়াটসন ২০১৭ সালের এক ইন্টার্ভিউতে আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছেনে ২০১৭ থেকে জাপানী তিমি শিকারীদের প্রতিহত করতে তারা আর সমুদ্রে যাবেন না। পল ওয়াটসন আরো বলেন তারা দীর্ঘ বারো বছর ধরে তিমি শিকারীদের সাথে লড়াই করে আসছে কিন্তু জাপানীরা এখন মিলিটারি টেকনোলোজি ব্যবহার করছে। ফলে তারা রিয়েল টাইম কাভারেজ পাচ্ছে এবং সহজেই আমাদের ট্র্যাক করে ফেলছে ফলে সেখানে গিয়েও আমাদের করার কিছু থাকছে না। আমাদের তাদের মত অর্থ নেই তাই আমরা উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারছি না, আমাদের বিকল্প উপায় খুঁজতে হবে। আক্ষেপ করে বলেন অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের সরকার তাদের (তিমি শিকারীদের) প্রতিহত করার বদলে উৎসাহ দিচ্ছে। তারা কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না। আমরা একটি স্বেচ্ছাস্বেবী সংস্থা, তারা আমাদের আয়ত্বের বাইরে চলে গিয়েছে তাই এখন সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারকেই এগিয়ে আসতে হবে কিন্তু তারা আসছে না। উপরন্তু, আমাদের জাহাজে অবৈধভবে তল্লাশি চালাচ্ছে। আমাদের কোন কর্মী বাইরের দেশ থেকে আসলে তাদের ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। এছাড়াও জাপান আন্তর্জাতিক জলসীমায় তাদের জাহাজের কাজে বাধা দিলে তা প্রতিহত করার জন্য যেকোন কিছু করতে পারবে বলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে  অনুমতি নিয়েছে। ফলে আমাদের হাত আরো বেধে দেওয়া হলো। আমি সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারকে বলবো, ঘুমিয়ে না থেকে জেগে উঠুন তা নাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তিমি মাছ দেখার জন্য মিউজিয়ামে নিয়ে যেতে হবে।

 

 

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top