টেক

ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশী গবেষক

ক্যান্সার! একটি দুঃস্বপ্নের নাম, একটি দুরারোগ্য ব্যাধির নাম। সারা পৃথিবীর মানুষ যুগের পর যুগ ধরে অপেক্ষা করছে মরণব্যাধি ক্যান্সারের হাত থাকার প্রতিকার পাওয়ার আশায়। এই ক্যান্সার একজন মানুষকে তিলে তিলে ধ্বংস করে ফেলতে পারে। হোক সেটা শারীরিকভাবে অথবা আর্থিকভাবে। কত শত বিজ্ঞানী এত বছর চেষ্টা করে গেছে এর নিরাময়ের ওষূধ আবিষ্কার করতে। ক্যান্সারের নিরাময় এখন সম্ভব, তবে বাধ সেধেছে ক্যান্সার নির্ণয়ের সময়কাল। চিকিৎসকদের মতে, মানবদেহে ক্যান্সার বাসা বাঁধার সাথে সাথে যদি জানা যায়, তবে সে ক্যান্সার নিরাময় অনেকটাই সম্ভব। কিন্তু সময়মত ক্যান্সার নিরুপণ করাই তো মুশকিল।

তবে অনেকদিনের এত অপেক্ষার পালা শেষ হয়েছে। সৌভাগ্যের বিষয় হল এই অসম্ভব সম্ভব হয়ে একজন বাঙ্গালীর হাত ধরে। প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জে এ সিদ্দিকী‘র ল্যাবরেটরিতেই ইউনিভার্সিটি অফ ওলোনগং এবং গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটির কয়েকজন বিজ্ঞানী আবিষ্কার করেছেন স্বল্প খরচে এবং নিরাপদ একটি যন্ত্র যা ক্যান্সারের পূর্বাভাস দিতে পারে। বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য হল ৫ ডলারেরও কমে এমন একটি বহনযোগ্য ক্যান্সার নিরুপণ যন্ত্র বানানো যে যন্ত্রে খুব সহজেই ধরা পড়বে ক্যান্সার।

ড. সিদ্দিকীর দলের বিজ্ঞানীরা কাজ করেছেন স্বর্ণভর্তি নিশ্ছিদ্র আয়রন অক্সাইডের ন্যানোকিউব তৈরির লক্ষ্যে, যা বানানো যায় অল্প খরচেই। এই ন্যানোকিউব খুব সহজেই দিতে পারে সঠিক রেজাল্ট যাতে দরকার হবে না ল্যাবরেটরির কোন যন্ত্রের।

বিজ্ঞানীরা তাদের এই রিসার্চ পেপার ৩টি জার্নালে প্রকাশ করেছেন। তার মধ্যে আছে রয়েল সোসাইটি অফ কেমেস্ট্রির জার্নাল ‘ন্যানোস্কেল’ এবং ‘কেমিকেল কমিউনিকেশন’।

মানবদেহে যখন ক্যান্সার বাসা বাঁধে তখন তা প্রতিরোধ করার জন্য দেহ রক্তে এন্টিবডি ছাড়ে। ড. সিদ্দিকীর দলের আয়রন অক্সাইডের ন্যানোকিউব এই এন্টিবডি শোষণ করে পরীক্ষা করে বের করে শরীরে ক্যান্সারের উপস্থিতি আছে কিনা।

গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জে এ সিদ্দিকী বলেন, “খালি চোখে দেখে এবং ইলেক্ট্রো-কেমিক্যাল যন্ত্র ব্যবহার করে পরীক্ষা করে বের করা হয় রক্তে কিছু এন্টিবডি আছে কিনা। প্রথমে খালি চোখে কালারমেট্রিক রিড-আউট দিয়ে দেখা হয় রক্তে ক্যান্সারের এন্টিবডি আছে কিনা। যদি দেখা যায় আছে, তখন আরো নিশ্চিত হওয়ার জন্য এবং এন্টিবডির উপস্থিতির পরিমাণ জানার জন্য আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি দিয়ে পরীক্ষা করা হয়।

এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারে ড. সিদ্দিকীর সাথে কাজ করেছেন আস্ট্রেলিয়ান ইন্সটিটিউট অফ ইনোভেইট মেটেরিয়ালস এর প্রফেসর ইয়ুসুকে ইয়ানাউচি, ড. মোহাম্মদ শাহরিয়ার হোসেইন, মোস্তাফা কামাল মাসুদ এবং সুনসুকে তানাকা।

ড. হোসেইন বলেন, “আজকালকার ক্যান্সার নিরাময় পদ্ধতি অনেক ব্যয়বহুল এবং অনুন্নত দেশের অনেক মানুষের পক্ষে এর চিকিৎসা করা সম্ভব নয়। যদি এই ক্যান্সার বিপদসীমা পার করার আগেই ধরা পড়ে যায় তাহলে তা নিরাময় এর খরচ বহুলাংশে কমে যাবে। আমাদের তৈরি যন্ত্র সস্তা, বহনযোগ্য এবং ব্যবহার সহজ। গরীব অসহায় মানুষ এখন অনেক বড় আর্থিক বোঝা হতে মুক্তি পাবে এবং সহজে জলদি ক্যান্সার নিরাময় হবে।”

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকী বাংলাদেশের গর্ব। সুনামগঞ্জের ভাটি অঞ্চলে বেড়ে ওঠা মানুষটি স্নাতক সম্পন্ন করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তার অধীনস্থ রিসার্চ টিমে তার তত্ত্বাবধানে পিএইচডি করছেন দেশী-বিদেশী শিক্ষার্থীরা। ভবিষতে তার ল্যাবরেটরি আরো বড় বড় আবিষ্কার দিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাবে এটাই তার একমাত্র লক্ষ্য।

বিজ্ঞানীরা এখন তাদের এই যন্ত্র বাজারজাত করার জন্য বিনিয়োগকারী খুঁজছেন। যত দ্রুত তারা এই যন্ত্র বাজারজাত করতে পারবেন, তত দ্রুত ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধে আমরা আরো একধাপ এগিয়ে যাবো!

Most Popular

To Top