ফ্লাডলাইট

পেলেঃ ফুটবলের রাজার গল্প

:How do you spell PELE?
:Easy “G O D”
১৯৭০ এর মেক্সিকো ফাইনালে টিভি কমেন্টেটর। পেলেঃ ফুটবলের রাজার গল্পসেখানেও তিনি তার জাদু দেখাতে থাকেন। তার প্রথম প্রফেশনাল গোলটি ছিল ১৬তে পা দেওয়ার আগেই এবং সে বছরই তার অসাধারন পারফর্মেন্সে সে জাতীয় টিমে জায়গা করে নেয়। ভাবতে পারেন সদ্য ১৫ পেরোনো একজন বালক সেও আবার দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছে! লেজেন্ডের অফিসিয়াল উন্থান হয় ১৯৫৮ সালে সুইডেন বিশ্বকাপে। অসাধারন গতি, ফিল্ড ভিশন তাও আবার ১৭ বছর বয়সী এক বালকের! ভাবতেই ফুটবল বিশ্ব অবাক। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে হেট্রিকে তাদের ৫-২ গোলে। তারপর হোস্টদের বিপক্ষেও ফাইনালে ৫-২ হোলের জয়ে তার ছিল এক গোল। পেলে পেল প্রথম বিশ্বকাপের স্বাদ। শুরু হল পেলে বন্দনা, একজন রাজার উত্থান।

পেলেঃ ফুটবলের রাজার গল্প

ইউরোপিয়ান ক্লাবগুলো পেলেকে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। কিন্তু ব্রাজিলের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট তাকে জাতীয় সম্পদ ঘোষনা করেন। ফলে অন্য দেশে গিয়ে তাদের জন্য খেলা তার জন্য অসম্ভব হয়ে উঠেছিল। এছাড়া সান্তোস তার খ্যাতি ভালো ভাবেই কাজে লাগিয়েছিল। বিশ্বের বিভিন্ন ক্লাবের সাথে প্রদর্শনী ম্যাচ আয়োজন করে মোটা অঙ্কের টাকাই আয় করেছিল তারা। ১৯৬২ তে ব্রাজিল জিতে তাদের টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। কিন্তু ইন্জুরীর কালো থাবায় সেইবার সেরকম খেলা হয়নি তার। ৪ বছর পর ডিফেন্ডিং চাম্পিয়ব্ন হিসেবে মাঠে নামে ব্রাজিল। তবে ডিফেন্ডারদের পাশবিক এ্যাটাকে আবার পায়ের ইন্জুরিতে পরে পেলে। সে বছর ব্রাজিল বাদ পড়ে প্রথম রাউন্ডেই। বিশ্বকাপের এই ব্যর্থতায়ও পেলে বন্দনা থামেনি, তার খ্যাতি বাড়তেই থাকে।

পেলেঃ ফুটবলের রাজার গল্প

পেলের সেই বিখ্যাত বাই-সাইকেল শট!

সালটি ছিল ১৯৬০। নাইজেরিয়াতে গৃহ যুদ্ধ চলছিল। পেলের একটি প্রদর্শনী ম্যাচ ছিলো লোগসে। নাইজেরিয়ার দু’পক্ষ রাজি হয়েছিল ৪৮ ঘন্টা যুদ্ধ বিরতির শুধুমাত্র পেলের খেলা দেখার জন্য। কি ছিলেন পেলে সে সময়! তার প্রতি ফ্যানদের এই ভালোবাসা দেখলেই বোঝা যায়। ২০ নভেম্বর ১৯৬৯, পেলে স্পর্শ করে নতুন মাইল ফলক। ৯০৯ টি ম্যাচ খেলে ১০০০ গোল করার অনন্য কীর্তি করেন তিনি। ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে বিশ্ব দেখেছিল রাজাদের পুনরুত্থান। দূর্দান্ত টিম নিয়ে সেইবার হট ফেবারিট ব্রাজিল। পেলে সেই টুর্নামেন্টে ৪ গোল করেছিল। তার মধ্যে একটি ছিল ইতালির বিপক্ষে ফাইনালে। সেই ফাইনালে ইতালিকে ৪-১ হারিয়ে আবার চাম্পিয়ন হয় ব্রাজিল। পেলে ১৯৭৪ এ অবসর গ্রহন করেন। তবে তার ১ বছর পরেই ১৯৭৫ সালে ৭ মিলিয়ন ডলারে নিউ ইয়োর্ক কসমসের সাথে কন্ট্রাক্ট করেন আমেরিকাতে ফুটবল প্রমোট করার জন্য। ১৯৭৭ সালে কসমসকে লীগ কাপের ফাইনালে তোলেন এবং সে বছরই অবসরের খাতায় নাম লিখান। ক্যারিয়ার শেষ করেন ১৩৬৮ ম্যাচে ১২৮১ গোল করে। অবসরই হয়ত একজন খেলোয়ারের ইতি টেনে দেয়। কথাটি সবাই বিশ্বাস করে। তবে অবসরে পেলের জনপ্রিয়তায় একটুও আচ লাগায়নি। মাঠ ও মাঠের বাহিরে সে সমান জনপ্রিয়। ১৯৭৮ সালে ইউনিসেফ তাকে আন্তর্জাতিক শান্তি পুরষ্কার দেয়। ১৯৮০ ফ্রান্সের ক্রিয়া পত্রিকার এল’ইকুইপ “সেঞ্চুরির সেরা খেলোয়ার” সম্মাননা পান। তিনি ব্রাজিলের ক্রিয়া মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। জাতিসংঘের প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৯ সালে ফিফার “co player of the century” সম্মাননায় মনোনীত হন।

পেলেঃ ফুটবলের রাজার গল্প

বিশ্বকাপ জয়ের পর সকলের মধ্যমণি পেলে

“ফুটবল যে শুধু একটি খেলা নয়, খেলার চাইতেও বেশি কিছু তা পেলেকে দেখলে বোঝা যায়। খেলার পূর্বে আমি নিজেকে বুঝাচ্ছিলাম সে শুধুই চামড়া আর হাড়ের তৈরী একজন মানুষ। কিন্তু আমি ভুল ছিলাম।” – টারসিসিও কিবলিচ, ইতালিয়ান ডিফেন্ডার যাকে ১৯৭০ এর ফাইনালে দায়িত্ব দেওয়া হইছিল পেলেকে মার্ক করার।

“আমি রোনাল্ড রিগ্যান। আমি ইউনাইটেড স্টেটসের প্রেসিডেন্ট। কিন্তু তার নিজেকে পরিচয় দেওয়ার কিছু নেই কারন সবাই জানে তিনি কে!” – রোনাল্ড রিগ্যান সাবেক প্রেডিডেন্ট ইউনাইটেড স্টেটস।

“হাজার গোল করা অবিশ্বাস্য বা অসম্ভব কিছু না। অসম্ভব হল পেলের মত করে একটি গোল করা” – কার্লোস ডুমেন্ড ব্রাজিলিয়ান কবি।

“ফুটবলের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ প্লেয়ার হল ডি স্টিফানো এবং আমি পেলেকে খেলোয়ার মানতেই রাজি না। সে তারও উর্ধে; পুসকাস কিছু দেশ তার ছোঁয়া পেতে চায়, কিছু দেশ তাকে চুম্বন করতে চায়। কিছু দেশ এমনও আছে যে সে যে পথে যায় সে মাটিকেই চুম্বন করতে চায়। আমি মনে করি এটি অসাধারন,সত্যিই অসাধারন! ক্লোডাল্ট আমি এই আশায় এসেছিলাম আমি এক মহা খেলোয়ারকে আটকাতে এসেছি। কিন্তু ঘরে ফিরে নিজেকে এই সান্ত্বনা দিচ্ছি আমি যার কাছে হেরে এসেছি সে এই গ্রহে জন্মগ্রহন করা কোন মানুষই না “ – কস্তা প্রেইরা ইন্টারন্যাশনাল কাপে সান্তোসের বেনফিকাকে ৫-২ গোলে হারানোর দিনে।

“যেদিন আমি প্রথম পেলের খেলা দেখেছিলাম, মনে হয়েছিল আামার বুটজুতা তুলে রাখা উচিত। জাস্ট ফন্টাইন আমি মাঝে মাঝে ভাবি ফুটবল হয়ত এই জাদুকরী ফুটবলার এর জন্যই সৃষ্টি” – স্যার ববি চার্লটন।

পেলেঃ ফুটবলের রাজার গল্প

পেলের তুলনা শুধু পেলের সাথেই যায়। এক শতাব্দী পরিয়ে আরেক শতাব্দীতে পৃথিবী। কিন্তু সেই মানুষিটি এখনও আগের মতই। তার অর্জনের হয়ত কেউ সমকক্ষ হতে পারবে না। তিনি এমন একজন প্লেয়ার পৃথিবী যেন থমকে দাড়ায় তার খেলা দেখতে। আজ সেই মহান ব্যাক্তির জন্মদিন।

শুভ জন্মদিন ফুটবলের রাজা পেলে। ফুটবল বিশ্ব তার কাছে কৃতজ্ঞ। যার জন্মে পূর্নতা পেয়েছে ফুটবল। যতদিন ফুটবল আছে তার নাম শ্রদ্ধা ভরে স্মরন হবে। পাতায় পাতায় যার অবদান লিখলেও শেষ হবেনা। দীর্ঘায়ু হোক তার জীবন, অনন্তকাল বেচে থাকুক সে আমাদের মাঝে। ভালো থাকুন লিজেন্ড শুধু এই কামনাই রইল।

Most Popular

To Top