লাইফস্টাইল

আপনি কি ‘সেলফিটিস’ রোগাক্রান্ত?

আপনি কি 'সেলফিটিস' রোগাক্রান্ত?- Neon Aloy

‘সেলফি’ শব্দটা এখন আমাদের জীবনের সাথে জড়িয়ে গিয়েছে ওতপ্রোতভাবে। মাত্র কয়েক বছর আগেও এর সাথে পরিচিত ছিলাম না আমরা। আর এখন ফেসবুক ওপেন করলেই নানা জনের হাসি মুখের সেলফি দেখি আমরা।

অনেকের ধারণা মেয়েরা সেলফি বেশি তোলে। এই ধারণাটা খুব একটা ভুল না। সত্যি সত্যিই মেয়েরা সেলফি বেশি তোলে। এদের হাঁসমুখভঙ্গি, চোখ খোলা, চোখ বন্ধ, এক চোখ বা দুই চোখের, চুল দিয়ে অর্ধ বা পূর্ণ মুখ ঢাকা এবং অন্যান্য নানা ভঙ্গিমার ছবি ছড়িয়ে থাকে সামাজিক মাধ্যমের পাতায় পাতায়। সেলফি তোলার একটা বিশ্বজনীন গবষণা থেকে দেখা যায় যে, পুরুষদের তুলনায় নারীদের সেলফি তোলার প্রবণতা তাৎপর্যপূর্ণভাবে বেশি।

এই গবেষণা প্রজেক্টটির নাম ছিলো ‘সেলফিসিটি’। নিউ ইয়র্ক, মস্কো, বার্লিন, ব্যাংকক এবং সাও পাওলো থেকে ইনস্টাগ্রামে শেয়ার হওয়া ৩২০০ সেলফি নিয়ে গবেষণা চালায় এই প্রজেক্ট।

এক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রতিটা শহরেই নারীরা পুরুষদের তুলনায় বেশি সেলফি তুলেছে। ব্যাংককে এটা ১.৩ গুণ, বার্লিনে এটা ১.৯ গুণ এবং মস্কোতে এই হার ৪.৬ গুণ।

তবে, ছেলেরা যেখানে সেলফি তোলে মূলত বিপরীত লিঙ্গকে আকর্ষণ করার জন্য, সেখানে মেয়েদের মূল লক্ষ্য থাকে নিজের রূপ এবং সৌন্দর্য বিষয়ে অন্যের প্রশংসা কুড়ানো। লাইক এবং ইতিবাচক মন্তব্য পাওয়া হচ্ছে সেই প্রশংসার অংশ।

সেলফি মেয়েরা বেশি তুললেও সেলফি নিয়ে সবচেয়ে বড় পাগলামিটা করেছে কিন্তু একজন ছেলেই। এই ছেলের নাম ড্যানি বোম্যান। ব্রিটিশ ছেলে। মাত্র উনিশ বছর বয়স তার। প্রতিদিন ২০০ করে সেলফি তুলতো সে। তারপরেও সে সন্তুষ্ট হতো না পার্ফেক্ট সেলফি তুলতে পারেনি বলে। সেলফি তোলার জন্য সে স্কুল ছাড়ে, ঘরের মধ্যে নিজেকে আবদ্ধ করে ফেলে। এরকম চলতে থাকে ছয় মাস। তারপরেও সে সন্তুষ্ট হতে পারে না সেলফি নিয়ে। এই ব্যর্থতা এবং অতৃপ্তি থেকে একদিন সে আত্মহত্যা করতে যায়। পার্ফেক্ট সেলফি তোলার ব্যর্থতার মতো এটাতেও ব্যর্থ হয় সেই বেচারা।

সেলফি তুলতে গিয়ে নানা ধরনের বিপদেও মানুষ পড়ে। অনেক লোক জীবনও হারিয়েছে এর কারণে (এ নিয়ে অন্য একদিন লিখবো)। এইতো গত ঈদের সময় ট্রেনের ছাদে সেলফি তুলতে গিয়ে ইন্টারনেটের তারে আঘাত পেয়ে ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে প্রায় পঞ্চাশজন মানুষ আহত হয়েছে। স্টেশনে ঢোকার ঠিক আগ মুহুর্তে হওয়ায় ট্রেনের গতি কম ছিলো বলে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেনি।

আমেরিকান সাইক্রিয়াটিক্ট এসোসিয়েশন (এ.পি.এ.) অতি সম্প্রতি সেলফি তোলার বাতিককে মানসিক রোগ হিসাবে নিশ্চিত করেছে। এই রোগের বা অবস্থার নাম দিয়েছে তারা ‘সেলফিটিস’।

এপিএ সেলফিটিস এর সংজ্ঞা দিয়েছে এভাবে, “The obsessive compulsive desire to take photos of one’s self and post them on social media as a way to make up for the lack of self-esteem and to fill a gap in intimacy.”

এই রোগের তিনটা পর্যায় রয়েছে- বর্ডারলাইন, একিউট এবং ক্রনিক।

দিনে কেউ তিনটার কম সেলফি তুললে এবং সেগুলো সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট না করলে সে বর্ডারলাইনে আছে।

সামাজিক মাধ্যমে দিনে কেউ কমপক্ষে তিনটা সেলফি পোস্ট করলে তার অবস্থা একিউট পর্যায়ে।

আর কারো যদি সারাদিনই শুধু সেলফি তুলতে ইচ্ছা করে এবং গোটা ছয়েকের মতো সেলফি ফেসবুকে পোস্ট করে প্রতিদিন, তবে ধরে নিতে পারেন যে, মাশাল্লা তিনি সেলফির ক্রনিক রোগে ভুগছেন।

Most Popular

To Top