টুকিটাকি

কেপি নানজুন্দিঃ শূণ্য থেকে আজ হাজার কোটির মালিক!

কেপি নানজুন্দিঃ বস্তির ছেলের কোটিপতি হয়ে ওঠার কাহিনী!

আমরা তো মোটিভেশনের জন্য কত মানুষের কাছেই যাই। অনেক বিখ্যাত ব্যাক্তির জীবনকাহিনী শুনে মোটিভেটেড হই। জীবনকে সুন্দর করার জন্য, জীবনে সফল হওয়ার জন্য এই সব মানুষের জীবনকাহিনী আমাদের মোটিভেট করে। আজকে আমরা এমন একজনকে নিয়ে কথা বলব যিনি শূন্য থেকে শুরু আজ হাজার কোটি টাকার মালিক। তিনি হলেন সাউথ ইন্ডিয়ার ব্যাঙ্গালুরের কেপি নানজুন্দি।

এক ১৪ বছর বয়সী কৃষবর্ণের নানজুন্দি বসবাস করত ব্যাঙ্গালুরের এক বস্তিতে। তার পরিবার দারিদ্রে এতই জর্জরিত ছিল যে না খেয়েই তাদের অনেকদিন পার করা লাগত। এই ১৪ বছর বয়সী ছেলেকে স্কুলে প্রতিদিন দুপুরের খাবার হিসেবে ৪টি করে রুটি দেওয়া হত। যা সে টানা দুইদিন না নিয়ে রেখে দিন যাতে সে ৩য় দিন ঘরের সবার জন্য ১২টি রুটি নিয়ে যেতে পারে।

তার পিতা ছিল স্বর্ণের কারিগর। তার একার উপার্জনেই চলত ১২ জনের ঘর। তার মধ্যে ৮ জন ছিল তার নিজ সন্তান। নানজুন্দি ছিল সন্তানদের মধ্যে ৪র্থ। নানজুন্দি যখন কলেজে তখন তার পিতা লিভার ক্যান্সারে মারা যান। এরপর যাদেরই এই পরিবারের হাল ধরার কথা তারাই মদ্যপানে আসক্ত হয়ে পড়েন। পুরো পরিবার চালানোর দায়িত্ব এসে পরে নানজুন্দির ছোট কাঁধে।

নিজের শৈশব সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমরা তখন বাস করতাম নর্দমার পাশে। এইচ সিদ্দাইয়াহ রোড ছিল আমাদের টয়লেট। আমার ক্লাসের বন্ধুরা যখন জানতে পারে আমি বস্তিতে বসবাস করি তারা আমার সাথে মেশা বন্ধ করে দেয়। যদিও আমাকে এখন ব্যাঙ্গালুরের সবচেয়ে সমৃদ্ধশালী হিসেবে ধরা হয় তাও আমি মাঝেমাঝে আমার ওই বস্তিতে যাই। ঘুরে আসি আমার শৈশবে”।

১৮ পেরুনোর আগেই তিনি তার পরিবারে দেখেছেন দারিদ্র, অনাহার, অপমান, মৃত্যু ইত্যাদি। তার কাছে কোন উপায় ছিল না পরিবারের বাকিদের মত মাদকে আসক্ত হওয়ার। তার উপরই তো পুরো পরিবারের দায়িত্বের বোঝা। ঘর চালানোর জন্য সকালে পিতার মতই করতেন স্বর্ণের কারিগরি। বিকালে যেতেন কলেজে। নিজের লিখা পড়ার দিকে তিনি ছিলেন অত্যন্ত সচেতন। আর রাতে চালাতেন টেক্সি। ২৪ঘন্টায় তিনি ঘুমানোর সময় পেতেন শুধু টেক্সি ট্রিপের মাঝখানে।

এতকষ্ট করেও তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না সংসার চালাতে। তাই তিনি তার বোনের কাছে যান। বোন তাকে তার ১৫ গ্রাম সোনার মঙ্গলসুত্রটা দিয়ে দেন। নানজুন্দি সেটি গলিয়ে ছোট ছোট কিছু গয়না বানান। কিন্তু ফুটা কপাল থাকলে কি করার। ওই সময়গুলোতে এইভাবে গয়না বিক্রি করা অত সহজ ছিল না। ওই সময় নানজুন্দি তার অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে বলেন, “আমি অনেক গয়নার দোকান মালিকের পায়ে পড়েছি আমার গয়নাগুলো কিনার জন্য। কেউ কেউ মনে করত আমি চুরি করা সোনা দিয়ে গয়নাগুলো বানিয়েছি। কিন্তু দ্রুতই আমি তাদের স্বীকৃতি পেতে শুরু করি কারণ তাদের অনেকেই আমার পিতাকে চিনত”।

যেহেতু তার চেড়ে উঠা বস্তিতেই হাজার সঙ্গগ্রামের মধ্যে তিনি ছিলেন যথেষ্ঠ শারীরিক ক্ষমতার অধিকারী। তার চেহারায় নম্রতার চেয়ে গুন্ডা গুন্ডা ভাবই বেশী ছিল। তাই তিনি সর্বস্বীকৃতির জন্য জিরো পাওয়ারের চশমা পড়া শুরু করেন। বহু মাস পরিশ্রমের পর যখন তিনি আস্তে আস্তে স্বচ্ছল হতে শুরু করলেন তখনই তিনি ৫টা অটোরিক্সা এবং একটি কার্গো ভ্যান কিনে ফেলেন। বস্তি ছেড়ে পুরো পরিবারকে নিয়ে উঠেন একটা ভাড়া বাসায়। তিনি বলেন, “বাসাটা ছিল প্রাসাদের মত। এতে ছিল আলাদা রান্নাঘর, টয়লেট, হলরুম এবং বিদ্যুৎ। ১৮ বছর বয়েসে আমি প্রথম ঘরে বিদ্যুৎ ব্যবহার করি”।

প্রতিদিন তার পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতার উন্নতি ছিল চোখে পড়ার মত। এইসময়ই চলচ্চিত্রের প্রতি তার ভালোলাগা শুরু হয়। এরপর তিনি কান্নাডা চলচ্চিত্রে অর্থায়ান করা শুরু করেন। অতি দ্রুতই তিনি খুব ভালো পরিচিত পেয়ে যান। চলচ্চিত্রে অর্থায়ান এবং বিতরণের ব্যবসায় তিনি হয়ে উঠেন অনন্য। প্রতিটি চলচ্চিত্র থেকে তিনি পেতেন মোটা অংকের রয়েলটি। এতকিছুর পাশাপাশি তিনি শুরু করেন জুয়েলারির ব্যবসা।

যে ছেলেটি একটা সময় বস্তিতে বাস করত এখন সে ‘লাক্সমি গোল্ড প্যালেস’ নামে কয়েকটি জুয়েলারি দোকানের মালিক। তার আছে আরো ৫টি সিল্কের কাপড়ের দোকান যেগুলোর প্রায় সবই কয়েকতলা বিল্ডিং যাতে একই সাথে গোল্ড এবং সিল্কের কাপড় বিক্রি করা হয়। তিনি এখন চিন্তা করছেন ৩০০কোটি টাকা খরচ করে সেন্ট্রাল কারনাটাকের দাভানগিরিতে বানাবেন মুভিহল, ৫ স্টার হোটেল মাইসোরে।

কষ্ট, শ্রম, ধৈর্য যে মানুষকে একসময় না একসময় সফলতার দ্বারপ্রান্তে এনে দিতে পারে তার উজ্জ্বল উদাহরণ কেপি নানজুন্দি। ইউটিউবের বিভিন্ন মোটীভিশনাল স্পিকারের চেয়ে এদের গল্পই হতে পারে আমাদের সবচেয়ে বড় মোটিভেশন।

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top