শিল্প ও সংস্কৃতি

মুহাম্মদঃ মহানবীর জীবন নিয়ে নির্মিত অসাধারণ একটি চলচ্চিত্র

মুহাম্মদঃ মহানবীর জীবন নিয়ে নির্মিত অসাধারণ একটি চলচ্চিত্র- Neon Aloy

যারা নিয়মিত ইরানি সিনেমা দেখেন এবং ইরানি সিনেমা সম্পর্কে টুকটাক খোঁজ খবর রাখেন তাদের কাছে ফিল্ম মেকার মাজিদ মাজিদি খুব প্রিয় একটি নাম। মানুষটি নির্মাণ করেছেন ফাদার, চিলড্রেন অব হেভেন (১৯৯৮ সালে এই সিনেমা Academy Award For Best Foreign Language Film মূল পর্বে নমিনেশন পায় যেটি ছিলো অস্কার প্রোগ্রামে প্রথম ইরানি সিনেমা), দ্যা কালার অব প্যারাডাইজ, বারান, দ্যা উইলো ট্রি, দ্যা সং অব স্প্যারো- এর মতোন অসাধারণ সব আন্তর্জাতিক মানের সিনেমা। তাই নির্মাতা হিসেবে মাজিদি কতোটা শক্তিশালী তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

এই মানুষটি ২০০৭ সালে মনস্থির করলেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর জীবনীর উপর সিনেমা নির্মাণ করবেন। তো যে ভাবা সে কাজ। দীর্ঘ ৭ বছর গবেষণা করার পর ২০১৪ সালে সিনেমাটির শুটিং শুরু হয় এবং নানা রকম জল্পনা-কল্পনা, বিতর্ক, বহু সংগ্রাম করার পর ২০১৫ সালে মুক্তি পায় মুহাম্মদ (সঃ),দি মে‌সেন্জার অব গড সিনেমাটি। মূলত ইসলামের পয়গম্বর মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর জীবন নিয়ে নির্মিত ৩ পর্বের ধারাবাহিক সিনেমা সমূহের প্রথম পর্ব এটি। প্রথম পর্বে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর জন্মের পূর্বে মক্কার অবস্থা এবং শৈশবের কাহিনী দেখানো হয়েছে। প্রথম পর্বটি নির্মাণে খরচ হয়েছে ৪০ মিলিয়ন ইউএস ডলার যা বাংলাদেশের টাকায় প্রায় ৩২০ কোটি টাকার কাছাকাছি। এটি এখন পর্যন্ত ইরানের সিনেমার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বাজেটের সিনেমা।

সিনেমাটির সিনেমাটোগ্রাফির দায়িত্বে ছিলেন ইতালির বিখ্যাত সিনেমাটোগ্রাফার ভিত্তেরিও স্টোরারো। যার ঝুলিতে রয়েছে তিন তিনটি অস্কার পুরষ্কার। সিনেমাটির সেট নির্মাণ এবং সিনেমাটোগ্রাফি এতোটাই নান্দনিক আর বাস্তবধর্মী ছিলো যে সিনেমাটি দেখার সময় আমি পুরোপুরিভাবে হারিয়ে গিয়েছিলাম। মনে হচ্ছিলো আমি যেনো সেই সময়ের মক্কা নগরে বিচরণ করছি।

সিনেমাটির আরেকটি শক্তিশালী দিক হলো এর ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর। যার দায়িত্বে ছিলেন ভারতের অস্কারজয়ী মিউজিক ডিরেক্টর এ আর রহমান। এ আর রহমানের অসাধারণ মিউজিক সিনেমাটিকে অন্যরকমের মুগ্ধতা দান করেছে।

২ ঘন্টা ৪২ মিনিটের এই সিনেমাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মুগ্ধ হয়ে গিলেছি। প্রতিটি দৃশ্যই ছিলো অসাধারণ। বিশেষ করে আব্রাহা ইবনে আল সাবাহ পবিত্র ক্বাবা শরীফ ধ্বংসের জন্যে বিশাল হাতির বহর নিয়ে মক্কার দিকে যখন ধাবিত হয় এবং এই আক্রমণ বানচাল করতে বিশাল এক আবাবিল পাখির দল ছোটো ছোটো সিজিল পাথর (জাহান্নামের পাথর) বহন করে সমুদ্র থেকে উড়ে আসে এবং আব্রাহার লোকদের মাথার উপর নিক্ষেপ করে তাদেরকে ধ্বংস করে। সিনেমার একদম শেষের দিকে ওহি নাযিলের (সূরা আল – ইমরান আয়াত : ৬৪ , সূরা বাকারা আয়াত : ২৫৬ , সূরা মায়িদাহ আয়াত : ৮) দৃশ্যগুলো মনকে মারাত্নক এক প্রশান্তি দিয়েছে।

পুনশ্চ: ইসলাম ধর্মে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স:)- এর কোনো ধরনের মুখমন্ডল চিত্রায়ন পুরোপুরি নিষিদ্ধ। বিশেষ করে সুন্নি মুসলমানরা তা কঠোরভাবে মানেনও। পরিচালক মাজিদ মাজিদি এই বিষয়টি খুব সুন্দর করে ঠান্ডা মাথায় হ্যান্ডেল করেছেন। পুরো সিনেমায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স:)-এর মুখ তিনি দেখাননি। সবগুলো ক্লোজ শট ছিলো- পেছন থেকে, বাম পাশ-ডান পাশ থেকে, আইভিউ থেকে কিন্তু, একেবারে ফ্রন্ট থেকে কোনো ক্লোজ শট ছিলো না। এই রকম একটা সেনসেটিভ ইসলামিক এপিক সিনেমা নির্মাণ এবং পৃথিবীর বড়ো বড়ো ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সিনেমাটির প্রিমিয়ার করতে সত্যিই অনেক বড়ো কলিজা লাগে। যা পরিচালক মাজিদ মাজিদি করে দেখিয়েছেন।

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top