ফ্লাডলাইট

ক্রিকেটের যত ডিম বৃত্তান্ত!

ক্রিকেটের যত ডিম বৃত্তান্ত!- নিয়ন আলোয়

অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার “বিশ্ব ডিম দিবস” হিসেবে পালন করা হয়। কৃষিবিদ হবার সুবাদে দিনটার সাথে ক্যাম্পাসে থাকতে পশু পালন অনুষদ খুব ভালো করে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। সবাইকে ডিম দিবসের শুভেচ্ছা।

ক্রিকেটে ডিমের সাথে মিল রেখে একটা টার্ম আছে, ডাক। শূন্য রানে কোন ব্যাটসম্যান আউট হলে তিনি ডাক হয়েছেন বলা হয়। এটা আসলে সংক্ষিপ্ত রূপ, আসল টার্মটা হচ্ছে “ডাক’স এগ” বা হাঁসের ডিম। হাঁসের ডিমের সাথে জিরো বা শুন্যের সাদৃশ্য থাকায় এইরূপ নামকরন করা হয়। এই ডাক নামের উৎপত্তির মজার এক ইতিহাস আছে! ১৭ জুলাই ১৮৬৬ সালে একটি ক্রিকেট ম্যাচে প্রিন্স অব ওয়েলস (সপ্তম এডওয়ার্ড) শূন্য রানে আউট হন, পরদিন একটি পত্রিকা শিরোনাম করে “The prince had retired to the royal pavilion on a duck’s egg”

এরপর থেকেই শূন্য রানে আউট হলে ডাক শব্দটা ব্যবহার করা হয়।

ক্রিকেটে এই ডাক বা ডিমের রাজা হচ্ছেন পাকিস্তানী ক্রিকেটার শহীদ আফ্রিদি। যাকে ডাকফ্রিদি নামেও ডাকা হয়! তিনি তার ক্যারিয়ারে মোট ৮০ বার ডাক করেছেন, এর ভেতর ৪৪ বারই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। আর ৩৬ বার বিভিন্ন ঘরোয়া ক্রিকেটে।

আফ্রিদির ৪৪ আন্তর্জাতিক ডাকের ভেতর রয়েছে ২৪ টি সোনালি ডিম অর্থাৎ গোল্ডেন ডাক। ওয়ানডেতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩০ বার ডাক হয়েছেন আফ্রিদি। এখানে দ্বিতীয় হলেও একটা জায়গায় তিনিই প্রথম, ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১৩ বার গোল্ডেন ডিমের মালিক আফ্রিদি!

তবে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ডিমের সংখ্যা মুরালিধরনের, ৫৯ বার হাঁসের ডিম তার।

ওয়ানডে ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ডাক সন্যাৎ জয়াসুরিয়ার, ৩৪ বার।
টেস্ট ক্রিকেটে কোর্টনি ওয়ালশের, ৪৩ বার।
টি টুয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিলকরত্নে দিলশানের, ১০ বার।

ক্রিকেটে প্রচলিত ডাক বা ডিমঃ

  •  গোল্ডেন ডাকঃ যখন ব্যাটসম্যান প্রথম বলেই ডিম পাড়েন।
  • সিলভার ডাকঃ দ্বিতীয় বলে ডাক।
  • ব্রোঞ্জ ডাকঃ তৃতীয় বলে ডাক।
  • ডায়মন্ড ডাকঃ কোন বল না খেলেই ডাক, সাধারনত নন স্ট্রাইকার ব্যাটসম্যান যখন রান আউট হন।
  • গোল্ডেন গুজ (Golden Goose): নিজের প্রথম আন্তর্জাতিক বা প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটের প্রথম বলে আউট।
  • লাফিং গুজঃ প্রথমে বলেই আউট এবং সাথে সাথে দল অল আউট যেমন লাস্ট ব্যাটসম্যানের গোল্ডেন ডাক।
  • টাইটেনিয়াম ডাকঃ যখন ব্যাটসম্যান ইনিংসের প্রথম বলেই ডায়মন্ড ডাক হন।
  • পেয়ার (Pair): যখন ব্যাটসম্যান টেস্ট ম্যাচের দুই ইনিংসেই ডাক করেন। বাংলাদেশের হাবিবুল বাশারের এই অভিজ্ঞতা আছে।
  • কিং পেয়ারঃ যখন ব্যাটসম্যান টেস্ট ম্যাচের দুই ইনিংসেই গোল্ডেন ডাক করেন।

ক্রিকেটে বিখ্যাত একটি ডাকের ঘটনা আছে যেটি “বোম্বে ডাক” হিসেবে পরিচিত। অজিত আগারগার মুম্বাইতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা সপ্তম ডাক মেরেছিলেন। ভারত যখন অস্ট্রেলিয়া সফরে যায় তখন আগারকার টানা পাঁচটা ডিম পাড়েন, ফিরতি সফরের প্রথম টেস্টে মুম্বাইতে আবারো দুই ইনিংসে শূন্য রানে আউট হয়ে “বোম্বে ডাক” নাম অর্জন করেন। তার অন্য নিকনেম 007!

CHAPPELLO মানে জানা আছে? অস্ট্রেলিয়ার দুই বিখ্যাত ভাই, গ্রেগ চ্যাপেল আর ইয়ান চ্যাপেল। একই দলে খেলতেন বলে স্কোরাররা ইয়ান চ্যাপেলকে লিখতেন CHAPPELL I আর গ্রেগ চ্যাপেলকে লিখতেন CHAPPELL G, কিন্তু ১৯৮১-৮২ মৌসুমে ভয়াবহ রানখরায় পড়েন গ্রেগ চ্যাপেল, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চারটা টানা ডিমসহ মোট সাতবার ডিম পাড়েন, এই ঘটনার পর গ্রেগ চ্যাপেলের নতুন নামকরন করে মিডিয়া, CHAPPELO (চ্যাপেল শূন্য!)

আরেক বিখ্যাত অজি ক্রিকেটার মার্ক ওয়াহর নিকনেম AUDI কিভাবে হয়েছিলো সেটা দিয়ে ডিম দিবসের ডিমকাহন শেষ করি, ১৯৯২ সালের শ্রীলংকা সফরে মার্ক ওয়াহ টানা চারটা ডাক করেন। সিরিজের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় টেস্টে পেয়ার (pair) হন মার্ক। টানা চার শূন্যের কারনে টিমমেটরা তার নাম রাখেন AUDI, যেটা একটা গাড়িনির্মাতা প্রতিষ্ঠান যাদের অফিশিয়াল লগোতে চারটা সার্কেল (গাড়ির চার চাকা মূলত) ছিলো। মার্ক ওয়াহকে বলা হয়েছিলো যদি আবারো শূন্য রানে আউট হয়ে মানে টানা পঞ্চম ডাক মারেন তাহলে তার নাম হবে অলিম্পিক, যেখানে পাঁচটা সার্কেল দিয়ে লগো বানানো হয়। ভয়াবহ শ্রীলংকা সফর শেষে মার্ক ওয়াহ আর পঞ্চম ডাকের দেখা পাননি ফলে তার নিকনেম AUDI-ই রয়ে যায়।

সবাইকে আন্ডা দিবসের শুভেচ্ছা!

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top