বিশেষ

ঢাকা অ্যাটাক- সিনেমা হলের সেই গণজোয়ার!

ছোটপর্দায় দীপংকর দীপন এর বেশ কিছু কাজ দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম। নিজস্ব একটা ধরন বজায় রেখে টিভি নাটক নির্মাণ করতে দেখেছি তাকে। তাই ঢাকা অ্যাটাকে যে তিনি সেই দ্যুতি ছড়াবেন- তা জানাই ছিলো। কিন্তু প্রথম চলচ্চিত্রেই এতটা যত্ন আর পরিচ্ছন্নতার ছাপ আমাকে শুধু হতবাকই করেনি, আমাদের বাণিজ্যিক ধারার সিনেমা নিয়ে আবারো আশায় বুক বাঁধার প্রেরণা দিয়েছে।

সিনেমা নিয়ে বলার আগে দু-চারটে কথা বলি এর প্রোমোশনাল টীম নিয়ে। সিনেমাটি দেখতে যাওয়া অগণিত দর্শককে হলমুখী করার পেছনে সবচেয়ে বেশি প্রশংসার দাবিদার এই টীম। যথেষ্ট পরিমাণ সময় হাতে নিয়ে করা এই সিনেমার প্রোমোশনের স্ট্র্যাটেজি ছিলো নিখুঁত এবং অভিনব, যা সমসাময়িক বাংলা চলচ্চিত্রে খুব প্রকটভাবে লক্ষ্য করা যায় না (ব্যতিক্রম: আয়নাবাজি)।

দীপংকর দীপন থ্রিলার বোঝেন। বোঝেন বলেই একটি নিখাদ থ্রিলারকে তিনি মেইনস্ট্রিম বাণিজ্যিক সিনেমায় রূপদান করতে পেরেছেন এবং তা দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। বাণিজ্যিক সিনেমা কিংবা শুধুমাত্র “বাংলা” সিনেমার নামে নাক সিটকানো দর্শকও সিনেমাটি দেখে তার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে বাধ্য হবেন।

আমাদের অন্য দশটা বাণিজ্যিক সিনেমার সাথে তুলনা করলে দেখা যায়, গতানুগতিক ফর্মুলাকে পাশ কাটিয়ে গল্পটি তৈরি করা হয়েছে সর্বস্তরের দর্শকের কথা মাথায় রেখে। হঠাৎ করেই ঢাকা শহরের বুকে নেমে আসে দুর্যোগের ঘনঘটা, একের পর এক খুন আর বোমা বিস্ফোরণ আতংকিত করে তোলে জনগণকে। এই অপরাধযজ্ঞের মূল হোতাকে খুঁজতে মাঠে নামে বাংলাদেশ পুলিশ। এই প্রেক্ষাপটের গল্পের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এতটাই টানটান চিত্রনাট্য লেখা হয়েছে যে, এক মুহূর্তও বিরক্তি বোধ করার ফুরসত পাওয়া যায় না।

প্রায় দুই বছর ধরে কেন তৈরি করা হয়েছে এই সিনেমা, এই প্রশ্নের উত্তর মিলবে যখন দেখবেন কতটা বৃহৎ পরিসরে এটি তৈরি করা হয়েছে। পরিচালক এখানে একরকম অসাধ্যই সাধন করেছেন। মাল্টি-স্টার কাস্টের কাছ থেকে তিনি যে অভিনয় বের করে এনেছেন, তা এক কথায় অসাধারণ। আরেফিন শুভ, শতাব্দী ওয়াদুদ, এবিএম সুমন, কাজী নওশাবা আহমেদ থেকে শুরু করে ছোট-বড় চরিত্রে অনেকেই তাদের চরিত্রায়নে মুন্সিয়ানা দেখিয়ে গেছেন। বহুদিন পর নেতিবাচক চরিত্রে কারো অভিনয় মাথায় গেঁথে গেছে। আশা করি তাসকিন রহমানের এই অভিনয়নৈপুণ্য সামনে আরো দেখতে পাবো। তবে প্রধান নারী চরিত্রে মাহিয়া মাহি’র অভিনয় খানিকটা বিরক্তিরই উদ্রেক করে। এতদিনের অভিজ্ঞতার পরও তার এই অতি অভিনয় খুবই দুঃখজনক।

সিনেমাটির সিনেমাটোগ্রাফি, এডিটিং, কালার গ্রেডিং নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলার অবকাশই রাখা হয়নি। ভিএফএক্সে আরেকটু যত্নবান হলে কারিগরি দিকে ঢাকা অ্যাটাককে দশে দশ দেয়া যেতো।

সিনেমার গানগুলো বেশ ভালো হয়েছে, বারবার শোনার মতো। এছাড়া আইটেম সং হিসেবে “টিকাটুলির মোড়” এর মতো গান বেছে নেয়া এবং এর অপেক্ষাকৃত রুচিশীল চিত্রায়নের প্রশংসা করতেই হচ্ছে।

কিছু ছোটখাটো কন্টিনিউটি এরর ছাড়া আর তেমন কোনো ভুল চোখে না পড়ার অনুভুতি নিয়ে সিনেমা হল থেকে বের হওয়ার পরিতৃপ্তি দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ ঢাকা অ্যাটাক টীমকে। এরকম সুস্থধারার প্রগতিশীল বাণিজ্যিক সিনেমায় আমাদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিই বাংলা চলচ্চিত্রের হারানো জৌলুস ফিরিয়ে আনতে পারে।

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top