নাগরিক কথা

কে শিখছে? কি শিখছে? কারা শেখাচ্ছেন?

ইচ্ছে হচ্ছিল জাস্ট কষে একটা করে থাপ্পড় বসিয়ে দেই, এক-একটার গালে!

ঠিক এমনি একটা অনুভূতি হচ্ছিল কাল দেশের একটা স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের লাইব্রেরী চত্বরে কিছু সময় কাটানোর সময়।

কোন একটা কাজে কাল একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরীর সামনে কিছু সময় বসে ছিলাম। যেখানে আশেপাশে বেশ কিছু ভাসমান খাবারের দোকান আছে। বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ভাসমান খাবারের দোকান থাকবে সেটাই স্বাভাবিক। আমরাও পেয়েছি আমাদের সময়। কিন্তু আমার মনে পড়েনা আমাদের কেউ কখনো এমনটা করেছে।

ছাত্র-ছাত্রীদের দেখলাম, সেই ভাসমান দোকান থেকে নানা রকম খাবার কিনে নিয়ে এসে গাছের ছায়ার নিচে ইটের বেদীতে বসছে। এরপর প্রথমে সেই খাবারের ঝাল-পেঁয়াজ-তেজপাতা প্লাস্টিকের চামচ দিয়ে নিচের ঝকঝকে লাল ইটের মেঝেতে অবলীলায় ছুঁড়ে ফেলছে! আর খাবারের মাঝে বা শেষে উচ্ছিষ্টগুলো প্লেটের পাশে বা আলাদা করে না রেখে সামনে যার যেখানে ইচ্ছে খোলা চত্বরে ছুঁড়ে মারছে!

সামনের খোলা চত্বর, মানুষের হাঁটার জায়গা, অন্যদের বসে আড্ডা দেয়ার জায়গায় কিভাবে একজন ছাত্রছাত্রীর পক্ষে নিজের খাবারের উচ্ছিষ্ট ছুঁড়ে ফেলা সম্ভব কোনভাবেই মানতে পারছিলাম না। এটাও কি সম্ভব! আরে একটু পরে তোমাদের কোন না কোন বন্ধু-বান্ধবই তো এসব জায়গায় এসে বসে তোমাদের গালি দেবে! বা তোমরাই একটু পরে ফিরে এসে নিজেকে গাল দেবে!

তারচেয়েও বড় কথা দেশের এতো বড়, এতো প্রতিষ্ঠিত একটা বিদ্যাপীঠের মূল্যবান শিক্ষার্থী হয়ে তোমরা আসলে শিখছটা কি? আর তোমাদের যারা শেখাচ্ছেন, তারাই বা কি শেখাচ্ছেন আর কিভাবে শেখাচ্ছেন যে, সামান্য পরিবেশ বা নিজের বসবাসের আঙিনাটাও পরিষ্কার রাখতে জাননা বা শেখোনি? তোমরা কি নিজের বাসার ড্রইং রুমে বা খোলা ব্যালকনিতে পারবে নিজেদের খাবারের উচ্ছিষ্ট যেখানে-সেখানে ছুঁড়ে ফেলে সেটা নোংরা করতে? পারবেনা তো!

তাহলে নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আঙিনা কিভাবে পারছো এভাবে নোংরা করতে? একটু কি বিবেকে বাঁধেনা তোমাদের? আর তোমাদের যারা শিক্ষা দিচ্ছেন তারা কিভাবে আর কি শেখাচ্ছেন যে এই সাধারণ বোধটুকু সেখাতে পারেননি তাদের শিক্ষার্থীদের?

আর সবশেষ প্রশ্ন- যারা নিজের আঙিনা পরিষ্কার রাখার পরিবর্তে নিজ থেকে নোংরা করছ তারা কি করবে ভবিষ্যতে? শুধু সিজিপিএ দিয়ে কি উন্নতি হয়, না সামগ্রিক কোন সমৃদ্ধি আসে? এতে শুধু নিজের সার্টিফিকেট ভারী হয়। দেশ আর সমাজের কোন উপকারে আসেনা সিজিপিএ। যাদের নিজেদের পরিচ্ছন্ন থাকার পাশাপাশি নিজের পরিবেশ আর পারিপার্শ্বিকতা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বোধই নেই তারা আর কি করবে? তাদের কাছে দেশ আর কি-ই বা আশা করতে পারে?

অথচ আমাদের আশেপাশের দেশে দেখি তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কি ঝকঝকে, তকতকে আর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে বা রাখে সব সময়, নিজেদের উদ্যোগেই। আর আমরা সেখানে উল্টো নোংরা করে রাখি নিজেরাই! অদ্ভুত শিক্ষা পাচ্ছি আর দিচ্ছি।

তাই যারা শেখাচ্ছেন, তারা সিজিপিএ কিভাবে বেশী পেতে হয় সেটা আগে না শিখিয়ে, কিভাবে নিজের ঘর-বারান্দা-ব্যালকনি পরিচ্ছন্ন রাখতে হয়, কিভাবে নিজের আবাসকে ভালবাসতে হয়, কিভাবে সামাজিক আর সুস্থ মানসিকতার মানুষ হতে হয়- সেগুলো আগে শেখান। দেখবেন সিজিপিএ তখন এমনি-এমনি এসে যাবে। ভালো মানুষ হওয়া, সৎ থাকা ও দেশকে ভালোবাসা শেখান। দেখবেন বাকিটা সব ওরা নিজেরাই করে নেবে।

আর কি বলবো! গায়ের রাগ এতটাই এখনো আছে যে ইচ্ছে হচ্ছিলো বা পারলে এখনো কষে দু’টো থাপ্পড় দিতে পারলে শান্তি পেতাম!

[ফিচারড ইমেজে ব্যবহৃত ছবিটি প্রতীকী]

Most Popular

To Top