নাগরিক কথা

ভিনদেশে ভাষা বিভ্রাটঃ বিপদ যখন মানুষ চেনায়

বর্তমানে আমেরিকায় মেক্সিকানদের সমস্যাগুলো দেখে মেক্সিকো সিটিতে থাকাকালীন আমার নিজের মিষ্টি অভিজ্ঞতাগুলোর কথা মনে পড়ে গেলো। তার মধ্যে কিছু এক্সপেরিয়েন্স শেয়ার করি।

১. প্রায় বছর আগে ডাউনটাউন হিউস্টনের মেইনস্ট্রিট এর ম্যাকডোনাল্ডসে এক চল্লিশোর্ধ ম্যক্সিকান মহিলার সাথে দেখা হয়েছিল। তিনি যখন অর্ডার কিউ এর একদম ফার্স্টে, এখন তার অর্ডার নেওয়ার পালা। কিন্তু তিনি তো ‘no ingles’ ছাড়া আর কিছুই জানেন না। আমার স্পেনিশও তখন অতটা ভালো ছিল না। তিনি কাউন্টারে এসে শুধু এই এক কথাই বলে যাচ্ছেন ‘no ingles’। তার কথা শুনে দোকানের বাকি কাস্টোমারদের সাথে কর্মচারীরাও হাসাহাসি করছিল। কর্মচারীদের একজন অন্যান্য কাস্টোমারদের জিজ্ঞাসা করলেন কেউ কি ওই মহিলার ভাষা অনুবাদ করতে পারবে কিনা। অগত্যা তাকে খাবার ছাড়াই দোকান থেকে বের হয়ে যাওয়া লাগলো। বিষয়টা নিয়ে আমিও কিছু বিরক্ত ও রাগান্বিত হয়েছিলাম কেমনে ন্যুনতম ইংরেজি বলতে না পারার পরেও তারা আমেরিকায় বসবাস করছে। এখন আমার মেক্সিকো সিটির অভিজ্ঞতার কথা বলি। ঘটনাটী মেক্সিকো সিটির ডাউনটাউনে। সবকিছুই প্রায় সেম। তফাত শুধু এইটাই আগে ছিল ‘no ingles’ এইবার ‘no espanol ‘। আগে ছিল মহিলা এইবার আমি। আমার জন্য কাউন্টারের মহিলাটি গুগল ট্রান্সলেটর নিয়ে হাজির। আমার ভাষা না বুঝা পর্যন্ত তারা চেষ্টা করে যায়। পরবর্তীতে একজন কলেজ স্টুডেন্ট আমার সাহায্য করে। সে আমাকে তার নাম্বারও দিয়ে যায় যাতে ভবিষতে যদি কখনো ঝামেলা হয় তো তাকে ফোন করা যায়। এমন বিব্রতকর পরিস্থিতি পরার পর আমার মনে পড়ল অইদিন হিউস্টনে আমার সাথেও এই গুগল ট্রান্সলেটর এপটি ছিল। কিন্তু আমিও বাকি কাস্টমারদের মত হেসেই মহিলাকে আরো বিব্রতিকর অবস্থায় ফেলেছি। সেদিন আমাদের এই স্বার্থপর মনভাব দ্বারা এইটাই প্রকাশ পায় যে আমরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে নিজেদের দৃষ্টিকোন ছোট করে ফেললেও আমরা নিজেদের ওপেন-মাইন্ডেড হিসেবে প্রকাশ করতে পছন্দ করি।

২. মেক্সিকো থেকে আমেরিকায় ঢুকতে যে ছোট ইমিগ্রেশন পার করতে হয় তা এখন অনেকটা দুঃস্বপ্নের মত। আমি আমেরিকা ফিরছিলাম Nuevo Leon /Laredo TX বর্ডার দিয়ে। এখন কেউ যদি মনে করে যে সে আমেরিকার সব একসেন্টই জানে তাহলে তাদের উচিত এই সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো ঘুরে আসা। এখানকার মানুষ Tex-Mex নামক একসেন্টে কথা বলে যাদের সকলেরই আমেরিকাই জন্ম এবং বড় হওয়া। তো আমার ছাত্রত্ত্ব নিয়ে ইমিগ্রেশন অফিসার সন্দেহ প্রকাশ করলে তিনি আমাকে আবার মেক্সিকো ফিরতে বলেন এবং Nuevo Leon এর আমেরিকান এম্ব্যাসি থেকে আমার ছাত্রত্ত্বের কিছু ডকুমেন্ট নিয়ে আসতে বলেন। তখনই ঝামেলাটা শুরু হইল। Nuevo Leon একটি ছোট শহর। আশে পাশে হাজার খুজেও কোন এটিএম পাওয়া খুব দুষ্কর ব্যাপার। তার উপর আমি আমার সব পেসোসও ইউএস ডলারে কনভার্ট করে ফেলসি। আর এম্ব্যাসি ৩.৪ কিলো দূরে। তো আমি একটি বাসে উঠলাম এবং শুধু ইংরেজিতে বললাম আমার কাছে কোন পেসোস নাই। আর আমার এম্ব্যাসিতে যাওয়া খুব দরকার। কিন্তু বাস ড্রাইভার আমার একটা শব্দও বুঝল না। শুধু এইটুকু বুঝল যে আমি কোন বিপদে পড়েছি। তারপর বাসের একজন পেসেঞ্জার আমার কথা অনুবাদ করে ড্রাইভারকে বুঝালো। ড্রাইভারও স্পেনিশ এ কিছু একটা বলল। আমি না বুঝে মাথা নেড়ে সম্মতি দিলাম। তখন ড্রাইভার যা করল, সে তার রেগুলার রুটে না গিয়ে অন্য পথে আমাকে নিয়ে আমেরিকান এম্ব্যাসিতে নামিয়ে সেখানে অপেক্ষা করল যতক্ষন না আমি আমার প্রয়োজনীয় কাগজ হাতে পাই। তারপর আমাকে আবার বর্ডারে নামিয়ে দিয়ে গেল। নামিয়ে দেও্যার সময় আমাকে বলল, “amo indios” যার অর্থ দাঁড়ায় ‘আমি ইন্ডিয়ানদের অনেক পছন্দ করি’। তারপর অনেক ঝাক্কি- ঝামেলার পর আমি অবশেষে বর্ডার ক্রস করতে পারলাম। ওইদিনের পর থেকে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি স্পেনিশ শেখার। এখন আমি অনেক অনুবাদই আমি সফলভাবে করতে পারি কিন্তু আরও ভাল করতে হবে আমার।

মোরাল অফ দি স্টোরিঃ মেক্সিকানরা অনেক সুন্দর হৃদয়ের মানুষ। মেক্সিকোতে শুধু মাত্র প্রাইভেট স্কুলগুলোতেই ইংরেজি শিখানো হয়। তাই ভাষা নিয়ে তারা অনেক ঝামেলায় পড়ে। কিন্তু তার মানে এই না যে তারা আমাদের সমাজের কোন অংশ না।

লিখেছেনঃ মাশহুর আজিজ

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top