টুকিটাকি

গতিই যার জীবনের অনুপ্রেরণা

গতিই যার জীবনের অনুপ্রেরণা

“ফেরারি”
নামটা শুনলেই প্রথমে চোখের সামনে যা ভেসে উঠে, তা হলো প্রচন্ড দ্রুতগতির একটি লাল রঙের গাড়ি।
এই ফেরারি তার অবস্থান একদিনে পোক্ত করেনি।এর পেছনে রয়েছে একজন মানুষের নিরলস শ্রম ও মেধা যার নাম এঞ্জো এনসেলমো ফেরারি। ফেরারি আজ এই অবস্থানে কেমনে এলো তার জন্য আমাদের ফিরে যেতে হবে ৭০ বছর পেছনে।

এঞ্জো এনসেলমো ফেরারি

১৮৯৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারীর তুষারাচ্ছন্ন রাতে ইতালির মোডেনায় জন্মেছিলেন এনজো ফেরারি। মাত্র দশ বছর বয়সেই তার গাড়ির প্রতি অগাধ ভালবাসা জন্ম নেয়। ১৯০৮ সালের CIRCUIT DE BOLOGNA এর রেসটিই তার আজকের এঞ্জো ফেরারি হয়ে উঠার প্রেরণা হিসেবে কাজ করে।

তার বাবা এবং তার বড়ভাই মারা যান যখন সমগ্র ইউরোপ জুড়ে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের দামামা বেজে চলেছে। এনজো নিজেও যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং ইনফ্লুয়েন্জার হাত থেকে মরতে মরতে বেঁচে গিয়েছিলেন। যুদ্ধের পর তিনি তার স্বপ্ন পূরণের জন্য ফিয়াট এ যোগ দেন কিন্তু সেখানে তিনি প্রত্যাখাত হন। কিন্তু তিনি থেমে থাকেননি তিনি সিএমএন নামে ছোট একটি কোম্পানিতে টেস্ট ড্রাইভার হিসেবে যোগ দেন। এরপরে তাকে আর পেছনে ফিরে দেখতে হয়নি একে একে তিনি আলফা রোমিও, ফিয়াট এর জন্য কাজ করে যান এবং ১৯৩৯ সালে তিনি নিজের একটি আস্তাবল খুলেন যা “স্কুডেরিয়া ফেরারি” নামে পরিচিত।

প্রথম গাড়ি
গতিই যার জীবনের অনুপ্রেরণা তিনি কিভাবে সাধারণ গাড়ি তৈরি করবেন? এ অনুপ্রেরণা থেকেই তিনি ১৯৪৭ সালে তৈরি করলেন তার প্রথম গাড়ি ফেরারি 125ss

ফেরারি 125ss

পরে তিনি তার বন্ধু Luigi Chinetti Sr এর সাহায্য নিয়ে আমেরিকায় ডিলারশীপ নেন। এভাবেই আস্তে আস্তে ফেরারি নামটি বিশ্ব জুড়ে তার প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে গতি আর চমৎকার সব গাড়ি উৎপাদনের মাধ্যমে।

ফেরারি লোগোর ইতিহাস
ফেরারি লোগোর ভিতরের কালো ঘোড়াটি ছিল ১ম বিশ্বযুদ্ধের এক খ্যাতিমান বায়ূসেনা COUNT FRANCESCO BARACCA এর প্রতীক।

COUNT FRANCESCO BARACCA

হলুদ ব্যাকগ্রাউন্ডের কালো ঘোড়াটি সৌভাগ্য বয়ে আনে এমনি ধারণা ছিল ওনার। এনজো ফেরারি এই ইতালিয়ান জাতীয় বীরের প্রতীকটিই বেছে নেন। হলুদ ব্যাকগ্রাউন্ডটি ছিল “মোডেনা” শহরের রং যেখানে ফেরারির কারখানাটি অবস্থিত।

ফেরারির দুর্ধর্ষ যোদ্ধারা
নিকি লাওদা:
যিনি দেখিয়ে দিয়েছেন অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলেই থার্ড ডিগ্রী বার্ন নিয়েও চ্যাম্পিয়ন হওয়া সম্ভব।

মাইকেল শুমাখার: RED BARON নামে যিনি পরিচিত। সর্বকালের সেরা Formula 1 Racing Champion..

সবচেয়ে দামি ফেরারি
নিলামে সবচেয়ে দামি ফেরারির রেকর্ডটি হলো ১৯৬২ সালের ফেরারি 250 GTO

Ferrari 250 GTO

যার মূল্য ধরা হয়েছিল US $52 Million। কে কিনেছিল তা এখনো অজানা।

বাংলাদেশে ফেরারি!!!!!!

আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে বাংলাদেশে কি ফেরারি আছে? জ্বী আমাদের মত গরীবের দেশেও ফেরারি আছে। ৩টি টুকটুকে লাল ফেরারি আমাদের ও আছে।
১. ফেরারি 328 GTS

ফেরারি 328 GTS

২. ফেরারি F460

ফেরারি F430

৩. ফেরারি 458 Italia

ফেরারি 458 Italia। ছবি কৃতজ্ঞতাঃ অটো রিবেলিয়ন।

আরো আছে আমাদের দেশের লিপু আউলিয়ার তৈরি দেশী F50..

 

লীপু আউলিয়া’র করা রেপ্লিকা Ferrari F50. ছবি কৃতজ্ঞতাঃ সাদমান আল সামী, শিফট।

১৯৭১ সালের পূর্বেও আমাদের দেশে ফেরারি ছিল তবে তা কালের গহীনে হারিয়ে গিয়েছে।

IF YOU CAN DREAM IT YOU CAN DO IT..

এই মূলমন্ত্রই এঞ্জো ফেরারি কে তার সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠায় উজ্জীবিত করেছিল। তিনি একজন রহস্য মানব ছিলেন। কালো রোদ চশমার পিছে নিজেকে আড়াল করে রাখতে ভালোবাসতেন। তার জীবনের ২৪টি বছর তিনি কাটিয়েছেন তার মৃত্যুপথযাত্রী পুত্র ডিনো র সেবা করে। কিন্তু তিনি এমন একটি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে গিয়েছেন যা শুধু গতির কথাই বলে যাবে চিরকাল।

লিখেছেনঃ মারজান হোসাইন উচ্ছ্বাস।

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top