নিসর্গ

পাংথুমাইঃ সবুজ ঘাসে শুয়ে শুভ্র ঝর্ণা অবলোকন

পাংথুমাইঃ সবুজ ঘাসে শুয়ে শুভ্র ঝর্ণা অবলোকন

যদি ভালোবাসেন, নীরব কোন নদী, তার টলটলে শীতল জল, পাহাড়ের নির্জনতা আর একই সাথে শুনতে ঝর্ণার গান, বসে- বসে, সময় নিয়ে উপভোগ করতে, তবে সিলেটের পাংথুমাই আপনার জন্য দারুণ একটা যায়গা হতে পারে, কোন এক অলস দুপুর কাটানোর জন্য।

এখানে গিয়ে চুপচাপ বসে থাকতে পারেন সবুজ ঘাসের মিহি গালিচায়, একটু নিচে নেমে ঠাণ্ডা পানিতে ডুবিয়ে রাখতে পারেন পা-দুখানি, গাছের ছায়ায় বসে তাকিয়ে থাকতে পারেন ছোট্ট পিয়াইন নদীর ঢেউহীন জলের ওপাশের অরণ্য আর ঠায় দাড়িয়ে থাকা পাহাড়ের দেয়ালে দেয়ালে। প্রতিটি পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে দেখতে পারবেন সাদা মেঘেদের খেলা। হয়তো ঝুপ করে নামতে পারে এক পশলা বৃষ্টি, একটু ভিজিয়ে দিয়ে আমন্ত্রণ জানাতে এক অলস দুপুরে।

দুই বিশাল পাহাড়ের মাঝেই দুধ সাদা অবিরাম ঝর্ণা ধারা বয়ে চলেছে, গড়িয়ে পড়ছে তার আপন গতিতে, উচু থেকে নিচু, আর নিচু থেকে আরও নিচু পাহাড়ের কোলে চড়ে পাথরে পাথরে খেলা করে করে, পিয়াইন নদীতে। ঠিক যেখান থেকে আপনি চাইলেও, আপনার চোখ ফিরে আসতে চাইবেনা, পারবেননা অবাধ্য চোখকে ঝরে পরা ওই সম্মোহিত ঝর্ণাধারা থেকে ফেরাতে।

আর যদি হন একটু অলস, সত্যি কারের প্রকৃতি প্রেমী, ভালবাসেন যে কোন ধরনের প্রকৃতি তবে তো কথাই নেই। আপনার জন্য একদম আদর্শ একটা জাগায় এই পাংথুমাই জলপ্রপাত বা ঝর্ণা ধারা। পাবেন একই সাথে এক শান্ত ও স্বচ্ছ, শীতল নদী, স্পর্শ করা যায় এমন দুরত্তে পাবেন অরণ্যের স্বাদ, মেঘ- কুয়াশার আলিঙ্গন, প্রেমে পরে যাওয়ার মত পাহাড়ের সারি আর সবচেয়ে আকর্ষণের, এক পলকেই ভালোবেসে ফেলার মত এক সুখের স্রোত, পাংথুমাই। মেঘালয়ের পাহাড় থেকে নেমে আসা এক সুখের কান্নার দেখা।

আর সবচেয়ে বড় কথা, এখানে যাওয়া-আসার তেমন কোন ঝামেলা নেই, নেই অনেক সময় নষ্ট হবার মত কন কারন, জাগবেনা খুব বেশী খরচের ভাবনা, ঢাকা থেকে এক দিনেই গিয়ে ঘুরে আসতে পারবেন এই অবিরাম ঝরে পরা সুখের ঝর্ণা ধারায়। আর এখানে গেলে একই সাথে চাইলে ঘুরে আসতে পারবেন পানির ভেতরে নরম পাথর বেছানো বিছানাকান্দিতেও। শেষ বিকেলে বা খুব সকালে বাড়তি হিসেবে পাবেন চা বাগানের কোমল সবুজের ছোঁয়া।

তবে আমি বলবো শুধু পাংথুমাই এর জন্যই থাকুকনা একটা বেলা, কোন এক অলস দুপুর বা বিকেল। সব সময় কি আর ছোটাছুটি করে প্রকৃতি দেখতে ভালো লাগে? সব সময় কি আর ছবি তুলে সুখ পাওয়া যায়? কখনো কখনো শুধু অপার বিস্ময়ে, অপলক তাকিয়ে থেকেই যে অনেক বেশী সুখ আর আনন্দ শুষে নেয়া যায় নীরব পাহাড়, সবুজ অরণ্য, ঝরে পরা ঝর্ণা আর কোমল নদীর কাছ থেকে। তেমনই হোকনা একটা বেলা?

দেখবেন বেলা শেষে প্রাপ্তির খাতা ভরে গেছে পূর্ণতায়।

Most Popular

To Top