ফ্লাডলাইট

চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সর্বশেষ হালচাল

নিয়ন আলোয়- চ্যাম্পিয়ন্স লীগের সর্বশেষ হালচাল

ফুটবল বিশ্বে সেরাদের সেরার টক্কর চাম্পিয়ন্স লীগ। প্রথম রাউন্ড এর খেলা চলছে। মাঠের যুদ্ধে নামছে সেরাদের সেরারা। গত বৃহস্পতিবার মাঠে নেমেছিল ম্যানইউ, অ্যথলেটিকো, চেলসি,য্যুভেন্তাস,পিএসজি,বায়ার্ন এর মত বড় দলগুলো। কস্তার চলে যাওয়ার পর ভুগতে থাকা চেলসিতে যে এখনও প্রাণ আছে তা আবারও প্রমান করল মোরাতা, বাতসুয়াই। তাদের গোলে অ্যাথলেটিকোকে ২-১ গোলে হারিয়েছে চেলসি। এটি ছিল এটিএমের নতুন মাঠ পলিওয়ানে প্রথম ম্যাচ। যদিও ভিসিন্তে ক্যালড্রিয়নে ৩৬ ম্যাচে ৩০ টি জয় এবং মাত্র ২টিতে হারের মুখ দেখেছিল তারা, সেখানে প্রথম ঘরের খেলায় ইংলিশ চাম্পিয়নদের বিপক্ষে হারে মাথায় চিন্তার রেখা দেখা যাচ্ছে তাদের। দলের প্রানভোমরা হ্যাজার্ডের অসাধারন পারফর্মেন্সে এটিএমকে কোনঠাসা করে রেখেছিল চেলসি। খেলার প্রথম আক্রমন করে এই প্লে মেকার যার ক্রস মোরাতাকে খুঁজে পেলেও গোলের দেখা পায়নি। কিন্তু লুইজের গুরুতর ভুলে পেনাল্টি পায় এটিএম। এটি গোলে পরিনত করতে কোন ভুল করেনি গ্রিজমান। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর আগেই তা ২-০ হতে পারত কিন্তু কোর্তোয়ার দৃঢতায় তা হয়নি। তবে ২য় অর্ধে অন্যরকম চেলসি চোখে পড়ে । হ্যাজার্ডের ক্রসে নেটের দেখা খুঁজে পায় মোরাতা। শেষ পেরেকটি ঢুকান বাতসুয়াই। তার ৯৪ মিনিটের গোলে ১-২ এর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে চেলসি।

আরেক খেলায় য্যুভেন্তাস মুখোমুখি হয়েছিল অলিম্পিয়াকসের।  আর্জেন্টিনা টিম থেকে বাদ পড়া হিগুয়াইন এই খেলার টপ প্লেয়ার । ব্রেঞ্চ থেকে একাদশে চান্স পাওয়া হিগুুয়াইন নিজের ক্লাস প্রমান করতে টাইম নেননি। ৬৯ মিনিটে মানজুকিস শুরু করলেও ৮০ মিনিটে হিগুয়াইনের গোলে ২-০ র জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে য্যুভেন্তাস।

তবে দিনের সেরা খেলা ছিল পিএসজি-বায়ার্ন। তবে ঘরের দলের এক চেটিয়া আধিপত্যে ছন্নছাড়া ছিল বায়ার্ন। সবচেয়ে খরুচে অ্যাটাকের সামমে যেন অসহায়ই দেখাচ্ছিল বায়ার্নকে। অন্য দিনগুলোর মতো এই দিনটিও ছিল নেইমারময়। তার পাসে ৯০ সেকেন্ডে পেনাল্টি এরিয়া থেকে শটে গোল করে দানি আলভেস। দ্বিতীয় গোলটি আসে মাবাপ্পে, কাভানি ক্যামেস্ট্রিতে। ৩১ মিনিটে দলেকে আবার এগিয়ে নেন কাভানি। শেষে লিডটি আরও লম্বা করেন নেইমার। দ্বিতীয়ার্ধ পর্যন্ত তাকে ঠেকিয়ে রাখতে সমর্থ হলেও আর সম্ভব হয়নি বায়ার্ন গোলকিপারের জন্য। ৬৩ মিনিটে তার অসাধারন গোলে ৩-০ তে এগিয়ে যায় পিএসজি। এই জয়ে “বি” গ্রপে টেবিল টপার তারা এবং তারাই একমত্র দল যারা ২ ম্যাচে ৮ গোল এবং ২টি ক্লিনশিট রেখেছে।

এদিকে ভাগ্যদেবী হয়ত খুব তুষ্ট ছিল বার্সেলোনার ওপর। “ডি” গ্রপের ম্যাচে লিসবর্নের মাঠে আতির্থ নেয় তারা। তাদের আল্ট্রা ডিফেন্সিভ টেকটিসে ঠিকমত এ্যাটাকে যেতে পারেনি বার্সা। কিছু দূরপাল্লার শর্ট আর ডিবক্সের আশেপাশে কিছু চান্স ছাড়া প্রথমার্ধে তেমন কিছু চোখে পড়েনি সবচেয়ে ভালো সুযোগটি আসে ২০ মিনিটে মেসির কাছে। যদিও শর্টটি সোজা গোলকিপারের হাতে গিয়ে পৌছায়। ডেড লক ভাঙ্গে দ্বিতীয়ার্ধে খেলা শুরুর ৪ মিনিটে। সুয়ারেজের ফ্লিক লিসবর্নের ডিফেন্ডার কোয়াতেজ এর মাথয়া লেগে নেটে ঢোকে । খেলা শেষের ২০ মিনিট আগে সমতায় ফেরা বেস্ট সুযোগটি এসেছিল লিসব্রনের কাছে। কিন্তু স্টেগানের সতর্কতায় রক্ষা হয় তাদের । এই জয়ে ১৭/১৮ সিজনে ১০০% জয়ের রেকর্ডে “ডি” গ্রপে শীর্ষে বার্সা।

এদিকে আরেক ম্যাচে মস্কোর মুখোমুখি হয়েছিল ইংলিশ জায়ান্ট ম্যান ইউ। লুকাকু ম্যাজিক যেন থামছেই না । তার ৯ ম্যচে ১৮ গোলই দেখিয়ে দেয় কেন এভারটন থেকে ৯০ মিনিটে তাকে সাইন করানো হয়। খেলা শুরুর ৪ মিনিটে মার্শিয়ালের ক্রস সুন্দরভাবে কাজে লাগান লুকাকু। ২য় গোলটি আসে ১৯ মিনিটে মার্সিয়ালের পা থেকে। তবে ২৭ মিনিটে মার্সিয়ালের আরেকটি ক্রস সুন্দরভাবে জালে ঢোকান লুকাকু । শেষ গোলটি করেন হেনরিক। ৫৭ মিনিটে তার গোলে লিড ৪-০। তেবে ৯০ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা কুসাইব গোল ব্যবধান কমানো ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনি। এই জয়ে ২ম্যাচে ৬ পয়েন্টে শীর্ষে তারা। অন্য খেলায় সেল্টিক ০-৩ গোলে অ্যানড্রেলিথ কে বাসেল ৫-০তে বেনফিকাকে পরজিত করে।

গত বুধবারও ছিল চাম্পিয়ন্সলীগের কিছু খেলা। মুখোমুখি হয়েছিল রিয়াল, ডর্খমুন্ড, টটেনহাম, লিভারপুল, ম্যানসিটি র মত বড় দলগুলো। গ্রপ এইচের হাইভোল্টেজ ম্যাচে রোনালদোর জোড়া গোলে ডর্খমুন্ডকে ১-৩ তে হারিয়েছে রিয়াল। শুরুটা করে ওয়েলস ফরোয়ার্ড বেল। ১৮ মিনিটে তার অসাধারণ ভলিতে গোলের শুভ সূচনা করে রিয়াল। তার পরের গল্পটুকু শুধু রোনালদোময়। রোনালদোর ইউরোপিয়ান কম্পিটিশনের ১৫০তম ম্যাচ ছিল এটি। গোলের খাতায় নাম তুলতে তারও খুব দেরী হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর ৪ মিনিটের মাথায় গোল করে দলকে আরেকধাপ এগিয়ে নিয়ে যান তিনি। তবে ম্যাচটি প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। ফিলিপের ব্যাকভলি রামোসের হাতে লাগলেও রেফারি তা কিছুই দেয়নি। ৫৪ মিনিটে অ্যাবায়োম্যাং এর গোলে ম্যাচে ফেরার আভাস দিচ্ছিল ডর্খমুন্ড। কিন্তু খেলা শেষের ১১ মিনিট আগে গোলবক্সের ডানপ্রান্তে রোনালদোর সুন্দর শটে রিয়ালের জয়ের পথ পরিষ্কার করে দেয়। ডর্খমুন্ডের মাঠ থেকে পূর্ন ৩ পয়েন্ট নিয়ে ঘরে ফিরে তারা। এই জয়ে এইচ গ্রপের শীর্ষে তারা।

এদিকে হ্যারিকেনের হারিকেন যেন থামছেই না। কেইন ঝড়ে কাপছে ইউসিএল। তার হ্যাট্রিকে অ্যাপোয়েলকে ০-৩ তে হারিয়েছে টটেনহাম। তিনি ইপিএলের ৭ম প্লেয়ার যে চাম্পিয়ন্সলীগে হ্যাট্রিক করেন। তার প্রথম গোলটি আসে সুন্দর কোণার শটে। ৩৯ মিনিটে ০-১ এ লিড নেয় টটেনহাম। এরপর উভয় দলই কিছু আক্রমন পাল্টা আক্রমন করে কিন্তু কিছু লাভ হয়নি। তবে ৬২ মিনিটে আবার বল জালে জড়ান কেইন। কে জানত আরও কিছু অপেক্ষা করছে অ্যাপোয়েলের জন্য ৫ মিনিট পরেই আরেকটি গোলে নিজের হ্যাট্রিক পূরন করেন তিনি। এই জয়ে এইচ গ্রপে ২য় অবস্থান ওদের।

এদিকে গ্রুপ এফে কেভিন ডি ব্রুইনা আর স্টার্লিং এর গোলে ২-০ র জয় পায় সিটি। প্রথমার্ধ গোলশূন্যই থেকে যায়। তবে দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর ৩ মিনিটের মাথায় ডেডলক ভাঙ্গেন ডি ব্রইনা। তবে লিড ডাবল হইতে পারত তবে আর্জেন্টাইন স্টাইকার আগুয়েরোর পেনাল্টি মিসে তা হয়নি। ম্যাচটি ছিল সিটিময়। জিসাস,সিলভা, ব্রুইনা স্টার্লিং এর মুহ মুহ আক্রমনে ব্যস্ত ছিল শাখতার ডিফেন্স। তবে শাখতারের ব্রাজিলিয়ান স্টাইকার ফ্রেড মাঝে মাঝেই ডিবক্সে সুুযোগ তৈরী করছিল কিন্তু এতে তেমন কোন লাভ হয়নি। তবে ৯০ মিনিট উল্টো গোলের খাতায় নিজের নাম গোলেন স্টার্লিং। এই গোলে ২-০ জয় নিয়ে ঘরে ফেরে ম্যানসিটি।

ইউসিএল জয়ের দীর্ঘ ৮ বছরের প্রতীক্ষা যেন আরও দীর্ঘময় হচ্ছে লিভারপুলের জন্য। ক্লপের ফ্যবুলাস ফোরের ব্যর্থতায় স্পার্তাক মস্কোর মাঠ থেকে ড্র নিয়ে ঘরে ফিরে তারা। দলের প্রাণ ভোমরা কৌতিনহোর গোলে ফার্নানদোর গোলটি পরিশোধ হলেও জয়ের মুখ দেখা হয়নি। ইউসি এলে টানা ২ ড্র এ ক্লপের মাথায় চিন্তার রেখা দেখা অস্বাভাবিক কিছু না। যদিও পূর্ন শক্তির দল নিয়েই মাঠে নামে লিভারপুল, তবে কিছু ভুলে ও সহজ মিসে জয় অপূর্নই থেকে যায় তাদের। ২৩ মি এ সুন্দর গোলে মস্কোকে এগিয়ে নিয়ে যায় ফার্নান্দো। তবে লিড বেশিক্ষন ধরে রাখতে পারেনি তারা। কৌতিনহো,মানে ক্যমেস্ট্রিতে ৩১ মি এ সমতায় ফেরান কৌতিনহো। দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর ৪মি এর মাথায় এগিয়ে যেতে পারত লিভারপুল কিন্ত মানের ভুলে তা সসম্ভব হয়নি। ১-১ এর ড্র নিয়েই ঘরে ফিরতে হয় তাদের। এছাড়া বেসিকতাস ২-০ গোলে লেপিজকে, সেভিয়া ৩-০ তে মারিবার, মোনাকো ০-৩ এ পোর্তোকে, নেপোলি ৩-১ এ ফেইনর্দকে, রোমা ১-২ এ কোয়ারাবাগকে হারায়। ইন্টারন্যাশনাল ব্রেকের আগে এটিই ছিল শেষ চাম্পিয়ন্সলীগের খেলা। প্রিয় দলের খেলা দেখার ভক্তদের অপেক্ষা হয়ত একটু দীর্ঘ হতে যাচ্ছে । তবে রোমাঞ্চকর কিছু নিয়েই আাবার ফিরবে চাম্পিয়ন্সলীগ।

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top