ফ্লাডলাইট

টস এবং প্রথাগত একাদশ

টস এবং প্রথাগত একাদশ

সাউথ আফ্রিকায় এখন শীতের শেষ, আবহাওয়া এখনো প্রচন্ড ড্রাই, বাতাসে, উইকেটে কোথাও ময়েশ্চার নাই। এগারো দিন আগে সাউথ আফ্রিকা যাওয়া বাংলাদেশ এটা জানে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আজ সারাদিন রোদ ছিলো, আর উইকেট? দূর থেকে দেখেই বোঝা যায় চরিত্র, রং দেখে। শুকনা খটখটা সাদা রং যার মানে কোন ময়েশ্চার নেই উইকেটে। পিওর ব্যাটিং উইকেট।

তবুও মুশফিক কেন টসে জিতে ফিল্ডিং নিলেন সারাদিন কমেন্ট্রি বক্সে এই নিয়েই আলোচনা চলেছে। রানের পাহাড়ে চাপা পড়ার শখ হলে আলোচনা হবেই।

আমার কাছে মনে হয় বাংলাদেশ চায় ম্যাচটা ড্র করতে। ম্যাচের শেষ দুই দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বৃষ্টি আছে টানা। যেহেতু এটা সাউথ আফ্রিকার আবহাওয়া অফিস সুতরাং কথা সত্যি হবার চান্স আছে। সাউথ আফ্রিকাকে ব্যাট করালে অন্তত দেড় দিন তারা ব্যাটিং করবেই। সেক্ষেত্রে ম্যাচটা ড্র হবার চান্স বেশি থাকে। আগে ব্যাটিং করলে হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ার ভয় ছিলো হয়তো ম্যানেজমেন্টের মনে। অবশ্যই এটা মুশফিকের একার সিদ্ধান্ত না, সামগ্রিক সিদ্ধান্ত।

নেতিবাচক মনে হতে পারে কিন্তু আমার কাছে লজিকাল আর কোন কারণ নাই।

সাউথ আফ্রিকায় বেশিরভাগ দেশ তিন পেসার খেলায়, সেই ট্রেডিশন অনুযায়ী বাংলাদেশ তিন পেসার খেলাচ্ছে, কিন্তু অন্য সব দলের পেসারদের পেস আছে, তারা এই উইকেটের ব্যবহার জানে। শফিউল ইসলামের কথা বলি, ঘন্টায় ১৩০ কি.মি. এর বলই বা কয়টা হয় শফিউলের? এই পেস দিয়ে সাউথ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানদের সমস্যায় ফেলা যায়না। দেখে শুনে খেলে দিবে আরামে। এটা ইংল্যান্ড বা আয়ারল্যান্ড হলে শফিউলকে মানায়, সাউথ আফ্রিকায় না। বাতাসে মুভমেন্ট নাই, সুইং পাওয়া যায় না, শফিউলের শক্তির জায়গা এই দুটাই। শফিউলের জায়গায় পেসার চাইলে অবশ্যই শুভাশীষ আসা উচিৎ ছিলো। অনুশীলন ম্যাচে এতো ভালো বল করেও জায়গা হয়না একাদশে! তবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস দ্বিতীয় টেস্টে শফিউল বাদ যাবে শুভাশীষ আসবে।

আসলে অনেকদিন পর সাউথ আফ্রিকা সফর হচ্ছে, পরেরটা ছয় বছর পর, তাই সবাইকে খেলানো হবে। কেউ বাদ যাবেনা, সবাইকে খুশি করা হবে।

বলছিলাম প্রথাগত একাদশ সাজানো নিয়ে, বাংলাদেশের উচিৎ ছিলো বাকিদের সাথে তাল মিলিয়ে তিন পেসার খেলানোর চিন্তা বাদ দিয়ে মুস্তাফিজ আর শুভাশীষকে রেখে তাইজুলকে নেয়া। আর যদি তিন পেসারই খেলাতে হয় তাহলে সাহস করে ব্যাটসম্যান একজন কম খেলিয়ে তাইজুলকে নেয়া। তিন পেসার পূরন করতেই হবে এটাতো আইন না, বরং নিজেদের শক্তির জায়গা বাংলাদেশ দূর্বল করে দিয়েছে স্রোতের জলে গা ভাসিয়ে। প্রথাগত পথে হেঁটে প্রায় সবগুলা দল সাউথ আফ্রিকা যেয়ে নাস্তানাবুদ হয়েছে, আমরা বিকল্প কিছু করেই দেখতাম।

তার উপর তিন পেসারকেই ছোট ছোট স্পেলে বল করাতে হচ্ছে ফিটনেস নিয়ে চিন্তা থাকায়। ঠান্ডা আবহাওয়াতে পেসাররা দশ এগারো ওভারের স্পেল করে ফেলে অনেক সময়। আমরা যে পাঁচ ছয় ওভারের স্পেল করাই সেটা রিদম পেতেই চলে যায় অনেক ম্যাচে একজন পেসারের। ফিটনেস বিচারেও শুভাশীষ বাকিদের চেয়ে এগিয়ে ছিলো।

মিরাজের জন্য বিরাট চ্যালেঞ্জ, আগে কখনো স্পিন বিভাগ একা সামলায় নাই, সব সময় সাকিব বা তাইজুল ছিলো। তাইজুল এমনই একজন বোলার যিনি মূলত ডট বল দিয়ে প্রেসার তৈরী করেন আর উইকেট আসে স্ট্রাইক বোলার সাকিব, মিরাজের মাধ্যমে। এটাই বাংলাদেশ মিস করবে। শুভাশীষ আর তাইজুল থাকলে রান তুলতে আরো সমস্যা হতো সাউথ আফ্রিকার।

তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস যদি ভুল হয় এবং আজকের মতো রোদ থাকে তাহলে এই রকম শুকনা উইকেটে চতুর্থ দিনে বাংলাদেশ অবশ্যই বাড়তি একজন স্পিনার মিস করবে। পোচেফস্ট্রুমে এই মৌসুমে যতগুলা ঘরোয়া ম্যাচ হয়েছে সেগুলাতে পেসারদের জন্য বিশেষ সুবিধা ছিলো না, বরং লো প্রোফাইলের এই মাঠের উইকেট ইদানিং লো বাউন্সের হয়ে গিয়েছে। এইসব তথ্য শুনে মনে হয় তিন পেসার না, দুই পেসার, দুই স্পিনার ভালো চেয়েও হতে পারতো।

তবে একটা বিষয়, যদি সত্যি বৃষ্টি হয় মানে আকাশে মেঘ থাকে তাহলে পেসাররা কিছুটা সুবিধা পেতে পারে যদি আদায় করে নিতে পারে। তাসকিনের মত সর্বশক্তি দিয়ে পেস করলেই ভালো পেসার বলে না তাকে। সুইং, মুভমেন্ট এগুলাও আদায় করে নিতে জানতে হয়। সমস্যা হচ্ছে, পঞ্চম দিনে ব্যাট করা লাগবে বাংলাদেশের, তারমানে কন্ডিশন পেস বোলিং এর জন্য সহায়ক হয়ে গেলে তার বিপক্ষে বাংলাদেশকেই দাঁড়াতে হবে।

যদিও খেলাটা সাউথ আফ্রিকায় তবুও খেলাটা কিন্তু এমনই এক মাঠে যেখানে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হয়না ফলে উইকেট টিপিক্যাল সাউথ আফ্রিকার মতো না। আমার মনে হয় উইকেট ধীরে ধীরে স্পিনারদের জন্য সহায়ক হবে, লো বাউন্সের সাথে টার্ন থাকবে, ড্রাই উইকেট ফলে অবশ্যই ভাঙবে। এইরকম উইকেটে দুইজন স্পিনার নিয়ে চতুর্থ ইনিংসে সাউথ আফ্রিকাকে ব্যাট করানোর সম্ভাবনা বাংলাদেশ নিজেই নষ্ট করলো প্রথাগত একাদশ সাজিয়ে।

অধিনায়ক মুশফিক যদি আরো সাহসী হতেন, ব্যতিক্রমী এবং ইনোভেটিভ চিন্তা করতেন তাহলে হয়তো সম্ভব হতো।

Most Popular

To Top