নিসর্গ

নিরীহ বাঙালীর বিলেতি “এডভেঞ্চার”!!

নিয়ন আলোয়- নিরীহ বাঙালীর বিলেতি "এডভেঞ্চার"!!- Neon Aloy

১.
ইংল্যান্ডে থাকার সময় আমাদের ফুরিয়ে আসছে। দ্রুতই, চোখের পলকে এক বছর পেরিয়ে গেল। ২৯ শে আগস্ট ডিসার্টেশন জমা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মাস্টার্স শেষ হয়েছে।

মানুষ আসলে গাছের মত। আলো বাতাস পেয়ে কোন এক জায়গায় থিতু হলেই শিকড় গজায়। আমাদের ও ম্যানচেস্টার কিছু ডালপালা ছড়িয়েছে।

যাইহোক, কথা সেটা নয়। কথা হল অনেকেই মাস্টার্সের ফাঁকে ফাকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ট্যুর দিয়েছে, ঘুরে বেড়িয়েছে। আমি আর আমার বউ পারিনি। পুরো বছর মূলত আমাদের গেছে ডাক্টারদের পিছনে। বউয়ের গলস্টোন অপারেশন, আমার গলায় অপারেশন আরও ছোট খাট সমস্যা মিলিয়ে বাজে অবস্থা।

তবু এর ফাকে ইংল্যান্ড এর বিভিন্ন শহর, দর্শনীয় স্থান ঘুরেছি কম নয়, প্রকৃতির রুপ রস গন্ধ আমরা ভালই গ্রহন করেছি। চলে যাওয়ার আগে তাই শেষবারের মত লন্ডন গিয়ে বন্ধুবান্ধব সহযোগে ঈদ পালন করলাম। থাকলাম প্রায় সপ্তাহখানেক। লন্ডনের কোন দর্শনীয় স্থান জ্ঞানত বাদ দেই নাই। লন্ডনের এই থাকা আর ঘুরাফেরা সম্ভব হয়েছে ক্যাম্পাসের বন্ধু বর্তমানে লন্ডনে সেটল্ড মাহফুজুর রহমান মুন্সী এবং ভাবীর কল্যানে।

২.
ঈদ উদযাপন আর ঘুরাঘুরি শেষে ম্যানচেস্টার ফিরলাম ৫ তারিখ রাতে। বাংলাদেশে ফেরার টিকেট কাটা আছে ২০ তারিখ। কিন্তু আমাদের ঘুরাঘুরির শখ তো মিটে নাই। বন্ধু আর বন্ধুপত্নীকে ম্যানচেস্টারের দাওয়াত দিয়েছিলাম আগেই। কিন্তু নিজেদের ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ততার কারনে খালি গাইগুই করে। কিন্তু আমার আর আমার বউয়ের নাছোড়-বান্দা চপাচাপিতে ৮ তারিখ রাত ১১ টায় তাঁরা এলেন।

রাতে আড্ডা খাওয়া দাওয়া হল। সাথে ম্যানচেস্টারের কাছে ঘুরতে যাওয়া যায় এমন একটা প্ল্যান। আমার বাসা থেকে এক ঘণ্টা দূরত্বে ‘পিক ডিসট্রিক্ট’ রওয়ানা দিলাম পরদিন সকাল ১১ টায়। বৃষ্টি, রোদের লুকোচুরি মিলিয়ে সারাদিন পাহাড়, জঙ্গল, ঝর্না, ক্যাসল, ছোট পাহাড়ি শহর, ফার্ম হাউস দেখে বেশ একটা শান্তি নিয়ে বাসায় ফিরলাম।

পরেরদিন প্ল্যান ইউকের সবচেয়ে সুন্দর এলাকা, পাহাড়, লেক, ঝর্না শোভিত ওয়েলস এর স্নোডনিয়া (Snowdonia) যাওয়া। ম্যানচেস্টার থেকে ২ ঘন্টার দুরত্ব।
সকাল নয়টায় রওয়ানা দিয়ে ১১ টার একটু পর স্নোডনিয়া ন্যাশনাল ফরেস্ট পার্কে পৌঁছলাম। পার্কিংয়ে প্রমিলাদেরকে গাড়িতে বসিয়ে ইনফর্মেশনে খোঁজ নিয়ে জানা গেল এই এরিয়াটা প্রায় ৫০০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে ছড়িয়ে আছে। আমাদের আগ্রহ পাহাড়ে মেঘের কোলে ছুয়ে যাওয়া ট্রেনে চড়া, পাহাড়ের ঢালে লেকের পাড়ে বেড়ানো।

ইনফর্মেশন থেকে জানালো যে সেক্ষেত্রে আমাদের আরও ৪০ মিনিট পাহাড়ি পাস ধরে ড্রাইভ করে লেনবেরিস (Llanberis) যেতে হবে। আমরা ন্যাশনাল পার্কে ঝর্না আর গাছপালা দেখে সময় নষ্ট না করে লেনবেরিস রওয়ানা হয়ে গেলাম। সাথে এই এলাকার ম্যাপ নিয়ে নিলাম।

৩.
আমাদের কপাল ছিল চূড়ান্ত খারাপ। দিনটি কার্যত মেঘলা, বৃষ্টি মুখর। তাও ন্যাশনাল ফরেস্টের ভিতর দিয়ে পাহাড়ি ঢাল ধরে কালো পিচের রাস্তার দুধারে চোখ রেখে মুগ্ধতা বাড়ছিল। ৩/৪ কিলোমিটার যাওয়ার পর ফরেস্টের গাছপালা উধাও হয়ে পাহাড়ি সবুজ, ক্ষনে ক্ষনে পাথুরে জমিন, তাঁর ফাকে ফাকে পেঁজা তুলোর মতন ভেড়া দেখতে পাওয়া গেল। আরও একটু পর রাস্তার একপাশের ঢালে পাহাড়ি লেক এবং অন্যপাশে সুউচ্চ পাহাড়ি খাড়ি।

এর মাঝে একটু পর পর নয়ন সুখকর পাহাড়ি ঝর্না নেমে আসছে ঢাল থেকে রাস্তার দিকে এবং রাস্তার নিচের কালবার্ট দিয়ে গন্তব্য লেকে। বন্ধু মাহফুজ গাড়ির হুইলে থাকার দরুন দেখতে পারছিল না। ভাবী, আমার বউ আর আমি ভিতর থেকে টিস্যু দিয়ে গাড়ির গ্লাস মুছে বাইরের এইসব দৃশ্য দেখছি আর হইহই করে উঠছি।

একটু পরপর গাড়ি থামানোর জন্য রাস্তার পাশে জায়গা করে দেয়া আছে। কিন্তু প্রচণ্ড বৃষ্টি আর ঝড়ো বাতাসের কারনে নামা সম্ভব হল না। মিনিট বিশেকের ড্রাইভের পর দুইপাশের রক ফর্মেশন, ঘাসের কার্পেট আমাদের মুগ্ধ করল এবং আমরা না থেমে পারলাম না। সেখান থেকেই শুরু হল নাটকের।

রাস্তার পাশে পাহাড়ি ঢালের পাদদেশে গাড়ি পার্ক করে আমরা নামলাম। দুই পাশে সুউচ্চ পাথুরে এলাকা। তবে খাড়াই অঞ্চল শুরুর আগে একটুখানি ঘাসের চাদরে ঢাকা সবুজ বিছানা। পিচগলা রাস্তার পাশ দিয়ে সরু নালা পেরিয়ে আমি আর কনক সেই সবুজে গিয়ে দাঁড়ালাম (কমেন্টে ছবি দেয়া হল!)। ছবি তুললাম। প্রচণ্ড বাতাসে ছাতা উড়িয়ে নেয়ার জোগাড়।

এর মাঝে দেখলাম বন্ধু ও বন্ধুপত্নি গাড়িতে ঢুকে গেল। উপায়ও নাই। কুকুর-বিড়াল টাইপ বৃষ্টির সাথে তুফানি জোশ। কিন্তু আমার আর আমার বউয়ের মাথায় তখন পাগলামি চেপে বসেছে। খাড়াই ধরে আমরা উঠে গেলাম ১০/১৫ হাত। বিশাল আকারের দুটো প্রস্তরখণ্ডের আড়ালে দাঁড়ালাম। তখন আর বাতাস এবং বৃষ্টি গায়ে লাগছিল না। কিন্তু সেখান থেকে রাস্তা বা গাড়িও দেখা যাচ্ছিল না।

যে জায়গাটায় আমরা দাড়িয়ে তাঁর থেকে ৭/৮ হাত উপরে তাকিয়ে আমাদের পাগলামি আরেকটু বাড়ল। পাহাড়ের উপর থেকে বেশ মাঝারি সাইজের একটা ঝর্না কুলুকুলু শব্দে নেমে আসছে দেখলাম। কিন্তু সেটা উন্মুক্ত খোলা আকাশের নিচে। আশেপাশে কোন আড়াল নেই। কিছুক্ষন দেখে গাড়িতে ফিরে যাব যাব করছি যখন তখনি বউয়ের মাথায় ভর করল জিহাদি জোশ। সে ঝর্নার পানি স্পর্শ না করে ফিরবে না।

বউয়ের এই চ্যালেঞ্জের কাছে হেরে যাওয়া মুশকিল ছিল আমার জন্য। আর শিশুতোষ পাগলামি আমার মাঝেও কম নাই। ফলে যা হওয়ার তাই হল। আমরা উঠতে শুরু করলাম। তিন/চার হাত উঠার পর পাথরের আড়াল সরে গেলে আমরা বিপুল শক্তির বাতাসের সামনে হাজির হয়ে গেলাম। আমার দৃষ্টি ছিল আমার সম্মুখে কনকের দিকে। চোখের সামনে দেখলাম তাঁর ছাতা উল্টে গেল। মুহুর্তকাল পর আরেকখানা শক্তিশালী ঝাপটা এসে আমার বিশাল, শক্ত, সাবেকি ছাতায় ধাক্কা দিল।

প্রথমেই ছাতাখানা উল্টে গেল এবং বাতাসের দমক সামলাতে না পেরে পুরো ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে গেলাম আমি। এবং সাথে সাথে পায়ের ক্যাডস পিছলে পড়লাম তিনহাত নিচে। পায়ের গোড়ালির সাথে পাথরের সংযোগ হবার একটা শব্দ কানে আসল। মুহুর্তকাল কোন অনুভূতি কাজ করল না। চোখ খুলে প্রথমেই মনে হল যে এঙ্কেল থেকে পায়ের নিচের অংশ ভেঙ্গে গুড়ো হয়ে গেছে। কনক আমার অবস্থা দেখে উপর থেকে হায় হায় করতে করতে নিচে নেমে এল। আমার অবস্থা দেখে কি করবে সে বুঝতে পারছে না, পুরো হতভম্ব অবস্থা।
অসহ্য ব্যাথায় আমার ব্রেন কাজ করছিল না। এর মাঝে উপর থেকে উড়ে আসা ছাতা দেখে বন্ধু মাহফুজ গাড়ি থেকে বেড়িয়ে এসেছে।

দুইজনের কাঁধে ভর দিয়ে যতক্ষণে নিচে নেমে গাড়ির কাছে ফিরে এলাম ততক্ষনে তিন জনেই ভিজে চুপচুপে হয়ে আছি। ভাবী আমাকে দেখে অস্ফুট আর্তনাদ করে উঠলেন। একটু ধাতস্থ হয়ে গাড়িতে উঠে বসলাম। ডান পা কোনমতেই কোথাও রাখতে পারছি না। তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিলাম যে নিকটস্থ কোন হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে যাব। কিন্তু আমরা জানতাম না যে নাটকের তখন কেবল শুরু।

৪.
যেহেতু জায়গাটা রিমোট, দুই পাশেই পাহাড়, আশে পাশে কোন বসতি নাই সেহেতু ইন্টারনেটে নিকটস্থ হাসপাতালের তথ্য নিতে গিয়ে দেখা গেল নেট কাজ করছে না। তখন সিদ্ধান্ত হল ড্রাইভ করে লেনবেরিস যাওয়া যাক প্রথমে। সেটা যেহেতু শহরতলী অবশ্যই ইমার্জেন্সি হেল্প পাওয়া যাবে।

গাড়ি স্টার্ট দিতে গিয়ে দেখা গেল গাড়ির ইঞ্জিন ডেড। মনের ভুলে বন্ধু আমার গাড়ির ইঞ্জিন অফ না করেই বসে ছিল পুরা সময়। এখন ব্যাটারি ডেড। ডেড মানে কোনভাবেই স্টার্ট নেয়ানো গেল না।

এরপর আমরা একটু ভয় পেয়ে গেলাম। সিদ্ধান্ত নেয়া হল ইমার্জেন্সিতে কল দেয়ার। এবং আমাদের মেরুদণ্ডের উপর দিয়ে ভয়ের একটা শীতল স্রোত ভয়ে গেল যখন আবিস্কার করলাম চারজনের কাছে ভিন্ন ভিন্ন তিনটা অপারেটরের নাম্বার থাকার পরও কোন সিমেই নেটওয়ার্ক নাই যে ৯৯৯ নাম্বারে নক করব ।

গাড়ি নিয়ে বিপদে পড়লে ফোন করলে গাড়িসহ তুলে নিয়ে ব্যবস্থা করে যারা সেখানেও ফোন দেয়া যাচ্ছে না। ইন্টারনেট কাজ করছে না সেহেতু বুঝবার উপায় নেই ঠিক কোথায় আমরা আছি।

মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে এল অসহ্য ঠাণ্ডা। সবার গায়ে ভেজা কাপড়, বাইরে ঝড়, আর গাড়ির ভিতরে কনকনে শীত। ইঞ্জিন বন্ধ, গ্লাসের উপর কোয়াশা জমে সাদা হয়ে যাচ্ছে একটু পরপর।

এর মাঝে চেষ্টা করতে করতে গাড়ির বাইরে দাড়িয়ে মাহফুজ ৯৯৯ এ লাইন পেল। কিন্তু মহিলা আমাদের অবস্থান জিজ্ঞেস করলে সে বলে যে এই এলাকাটা ৫০০ বর্গ মাইলের। এক্স্যাক্ট লোকেশন বল। আমরা লোকেশন, পোস্ট কোড জানলে না বলব! আবার লাইন গেল কেটে। একটু পর খেয়াল হল যে আমরা ন্যাশনাল ফরেস্ট ইনফর্মেশন সেন্টার থেকে এই এলাকার একটা ম্যাপ এনেছি। সেটা দেখে অনুমান করলাম যে জায়গাটার নাম Pen Y Pass!
আমাদের গাড়ির ঠিক উল্টো পাশে দুটো গাড়ি আগে থেকেই পার্ক করা ছিল। আমরা অনুমান করছিলাম যে এরা প্রফেশনাল হিল ট্র্যাকার হবে। এর মাঝে আমরা খেয়াল করলাম যে একটা গাড়ির পাশে দুইজন লোক এসে দাঁড়িয়েছে। মাহফুজ দ্রুত বেড়িয়ে তাদের কাছে গেল। একটু পর দেখি পেশিবহুল, সাদা দাঁড়ি শোভিত এক চাচা আমাদের গাড়ির ড্রাইভিং সিটে বসল। তাঁর সাথে আরেক বিশাল দেহী যুবক। সেই যুবক, আর মাহফুজ মিলে ধাক্কা দিয়ে গাড়ি স্টার্ট নেয়ানোর চেষ্টা করল কিছুক্ষন এবং ফেইল মারল।

আমাদের চূড়ান্ত হতাশ করে তাঁরা চলে গেলেন। এর মাঝে ঘন্টাখানেকের উপর অতিবাহিত হয়েছে। ইমার্জেন্সি থেকে বার বার ফোন দিচ্ছিল মাহফুজের নাম্বারে। কিন্তু নেটওয়ার্ক আর বাতাসের কারনে ভালমত কিছুই বুঝানো যায় নি। তবে এর মাঝে ট্রান্সপোর্ট অথরিটির ইমার্জেন্সিতে যোগাযোগ করা গেল। তাঁরা বলল যে তাদের ১.৫ ঘন্টার মত সময় লাগবে পৌছতে।

অনিশ্চিত এই অবস্থায় পায়ে ব্যাথা আর ইঞ্জুরি নিয়ে আমরা অপেক্ষা করছি এবং সভয়ে দেখছি যে আমার পা ফুলে ঢোল হয়ে যাচ্ছে। এর মাঝেই উপকারি ভূত হিসেবে সেই চাচা আর যুবক ছেলে এসে হাজির। এবারে একটু মনোযোগ দিয়ে দেখলাম তাঁদের। চেহারা দেখে বুঝলাম তাঁরা মুসলিম। আমি গাড়ির ভিতর থেকে সালাম দিলাম।

দেখলাম চাচা কি যেন একটা তাঁর নিয়ে এসেছেন। একটু পর সেই যুবক তাঁদের গাড়ি নিয়ে এসে আমাদের গাড়ির পিছনে সেই তার দিয়ে সংযোগ করে ব্যাটারি চার্জ দিল মিনিট তিনেক এবং কি সুন্দর চাচা মিয়ার হাতে গাড়ির ইঞ্জিন গর্জন করে উঠল। পরে জানা গেল তাঁরা আসলেই প্রফেশনাল হিল ট্র্যাকার।

কিছু কিছু সময় কৃতজ্ঞতা ভাষায় প্রকাশ করবার প্রয়োজন হয় না। তবু ধন্যবাদ জানিয়ে সরারসরি ম্যানচেস্টার রয়াল হাসপাতালে রওয়ানা দিলাম। প্রথমে গাড়ি ১০ মিনিট এমনিতেই চালানো হল যাতে ব্যাটারি এনাফ চার্জ হয়। এসব দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে সব দায়িত্ব পালন করা হয় বলে অন্যের বিপদে কেউ এভাবে পাশে দাড়ায় কম। এই দুইজনের এভাবে পাশে এসে দাঁড়ানোটা তাই মনে থাকবে অনেককাল।

৫.
এর পরের গল্প খুব সাধারণ। ইমার্জেন্সি থেকে প্রথমে এক্সরে রিপোর্ট দেখে বলল যে হাড়ে ফ্রাকচার হয় নাই তবে গোড়ালির লিগামেন্ট ইঞ্জুরড হয়েছে। পরে আবার দেখে বলে যে হাড়ে ফ্রাকচার আছে। তবে সেটা ভয়ঙ্কর কিছু নয়। এই ছয় সাত দিনে অনেকখানি উন্নতি হয়েছে। যদিও পুরাই বিছানাশায়ী। এর মাঝে ইংল্যান্ডকে বিদায় জানিয়ে দেশে ফেরার জন্য বিমান টিকিট কাটা আছে ২০ তারিখ। হাতে মাত্র তিন দিন।

তবু শোকরিয়া যে আরও বড় কিছু হতে পারত। প্রথমে যা মনে হয়েছিল সে তুলনায় এক্সিডেন্ট তত বড় নয়। তবে একটা শিক্ষা হয়েছে যে টিনেজ পাগলামি আর করা যাবে না। যদিও আশঙ্কার কথা হল মনের বয়স আমার টিনেজ ছিল আছে থাকবে!

আগামীকাল আবার ফ্রাকচার ক্লিনিকের ডাক্তার দেখবেন। অল্প স্বল্প রিস্ক নিয়ে হলেও ফ্লাই করব ইনশাল্লাহ। একটা দিনও আর এখানে থাকতে ইচ্ছে করছে না। সাথের সবাই এর মাঝেই দেশে ফিরেছে। সবাই একটু দোয়া করবেন যেন কোন ঝামেলা ছাড়াই দেশের মাটিতে পা রাখতে পারি!!

Most Popular

To Top