ফ্লাডলাইট

ক্যাঙ্গারুতে শুরু, বাঘের থাবায় শেষ

নিয়ন আলোয়- ক্যাঙ্গারুতে শুরু, বাঘের থাবায় শেষ

তখন মাত্র দিনের ৪র্থ ওভারের খেলা শুরু হবে। অথচ ততক্ষণে ৩ জন ফিরে গেছেন প্যাভিলিয়নে। ৫ নম্বরে নামা সাকিব কার্যতঃ হয়ে উঠলেন ওপেনার। সাথে আরেক ওপেনার তামিম ইকবাল। দুই ‘ওপেনার’ ই তাদের ৫০ তম ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখলেন ১৫৫ রানের বিশাল জুটি করে।

জশ হ্যাজেলউডের ১ম ওভারটা অবশ্য ভালোয় ভালোয় পার হয়েছিল। সৌম্য একটা দারুণ চারও মারলেন। তবে প্যাট কামিন্সের করা পরের ওভারটি থেকে শুরু হল বিপত্তি। নড়বড়ে অবস্থায় উইকেটের পেছন দিয়ে একটা চার, এরপরে অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের একটা বল তাড়া করতে গিয়ে মিস, এর পরের বলেই হালকা মুভমেন্টে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেলেন সৌম্য সরকার। কামিন্স পরে নিজের ২য় ওভারের শেষ দুই বলে তুলেছেন আরো দুই উইকেট, বাইরের বল চালাতে গিয়ে ইমরুল কায়েস আউট, আর একটা লেট সুইঙ্গিং ফুল লেন্থ বলে সাব্বির আউট, বল আর মাটি একসাথে ব্যাট ছুয়েছে বলে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে একটা রিভিউও নষ্ট করে গেলেন তিনি।

এ হেন ‘মর্নিং’ এর পরে ডে টা কেমন হবে ভাবা যাচ্ছিল না। ভাবতে দিলেনও না দুই সদ্য ‘পঞ্চাশোর্ধ্ব’ টেস্ট ক্রিকেটার তামিম ইকবাল ও সাকিব আল হাসান। লাঞ্চ ব্রেক পর্যন্ত তামিম ছিলেন যথেষ্ট স্থিতধী, তবে সাকিব আল হাসান খেলছিলেন স্বভাবসুলভ ভঙ্গীতে। দুই স্পিনার অ্যাস্টন অ্যাগার ও নাথান লায়ন কিছুটা সমস্যা করছিলেন, তবে এই দু’জন পাত্তা দিচ্ছিলেন না তেমন। লাঞ্চের পরে দুজনই রানের গতি বাড়িয়ে দেন। তবে তখন থেকেই বোঝা যাচ্ছিল, এই পিচটা ব্যাটসম্যানদের মৃত্যুকূপ ছাড়া কিছু নয়। ঘুমন্ত মৃত্যুকূপ ধীরে ধীরে জেগে উঠছিল। বোলাররা সুযোগ সৃষ্টি করছিলেন, তবে তা উইকেট নেবার মত যথেষ্ট হয়ে ওঠেনি। শেষে স্টিভ স্মিথ পার্টটাইমার ম্যাক্সওয়েলকে আনলেন এবং নিজের ৩য় ওভারের ৩য় বলেই ঘটনা ঘটে গেল, হঠাৎ টার্ন করা বল তেড়েফুঁড়ে মারতে গিয়ে তামিম ইকবাল সহজ ক্যাচ দিলেন ডেভিড ওয়ার্নারের হাতে। ৭১ রান করে তামিম আউট, পরে ৫৪তম ওভারে নাথান লায়নের বলে সাকিবও আউট।
এরপরে মুশফিকুর রহিম ও লম্বা বিরতির পরে টেস্ট খেলতে নামা নাসির হোসেন কিছুটা চেষ্টা করেছিলেন, তবে ব্যাটিং অর্ডারের ধ্বস ঠেকাতে পারলেন না কেউই। শেষ সেশনে একটু বৃষ্টি নেমে অলআউটের সময়টাকে একটু দীর্ঘায়িত করেছে এই যা। কোচের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে দলে না থাকা মুমিনুল হকের একটা পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস হয়ত এই মৃত্যুকূপে পাহাড়সম তিনশ-সাড়ে তিনশ রানের ভিত গড়ে দিত অজিদের সামনে, তবে সে কথা ভেবে আর কি হবে?

ব্যাটিং-এ নেমে শফিউলকে সহজেই খেলছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার ও মার্কাস রেনশ’। তবে মেহেদী হাসান মিরাজ টার্ন, বাউন্স আর ফ্লাইট দিয়ে হালকা ভেজা টার্নিং পিচের সুবিধা নিচ্ছিলেন ভালোমত, যার প্রায় পুরোটাই টের পেয়েছেন রেনশ’। মিরাজের বলে রেনশ’র এই ‘নৃত্য’ দেখে ৫ম ওভারেই তাই সাকিবকে বোলিং এ নিয়ে এলেন মুশফিকুর রহিম।

১ম সাফল্যটা পেলেন মিরাজই, আর্ম বল বুঝতে না পেরে টার্ন করবে ভেবে ড্রাইভ করতে গিয়ে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ওয়ার্নার। পরের ওভারে রেনশ’ ও উসমান খাজার বিশ্রি রকমের ভুল বোঝাবুঝিতে রানআউট খাজা।

নাইট ওয়াচম্যান হিসেবে নাথান লায়ন যখন নামছিলেন। জ্যাসন গিলেস্পিকে স্মরণ করছিলেন কিনা কে জানে? তবে তার দুর্ভাগ্য, অমন ঘটনা ঘটে কালেভদ্রে, এছাড়া ২০০৬ এর পরে অনেকটা পথ পাড়ি দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। তাই জ্যাসন গিলেস্পির ঐ ইনিংসের চাইতে ২০১ রান কম করেই সাকিবের বলে এলবিডব্লু হয়ে ফিরতে হল লায়নকে। ৭ম ওভার শেষ। অজিদের স্কোরকার্ড টা এমন- ১৪/৩।

বাকি দুই ওভারে যোগ হল আর ৪ রান। টাইগারদের মত অজিদের ‘মর্নিং’ টাও হয়েছে দুঃস্বপ্নের মত। স্টিভ স্মিথ আর রেনশ’ কি পারবেন সাকিব-তামিমের মত মর্নিংটাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিতে? সেটা সময়ই বলে দেবে।

তবে সাকিব-তামিম বাদে বাকি ব্যাটসম্যানদের পারফর্ম্যান্স বাদ দিলে টাইগারদের দিনটা সব মিলে কেটেছে ভালো, অমন ‘মর্নিং’ এর পরেও। ব্রিটিশ কবি জন মিল্টনের ‘The childhood shows the man, the morning shows the day’ -কে ভুল প্রমাণ করে ‘শেষ ভালো যার,সব ভালো তার’-কে ম্যাচের শেষ পর্যন্ত সত্য বানিয়ে দিতে পারলে কে জানে, হয়তঃ আরেকটা ইতিহাস অপেক্ষা করছে মিরপুরের এই হোম অফ ক্রিকেটে।

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top