ফ্লাডলাইট

কৌতিনহো-ডেম্বেলে বিষয়ক এক অধমের মস্তিষ্ক প্রসূত একটি প্রশ্নোত্তর পর্ব

কৌতিনহো-ডেম্বেলে বিষয়ক এক অধমের মস্তিষ্ক প্রসূত একটি প্রশ্নোত্তর পর্ব

প্রশ্ন-১ঃ কৌতিনহোর চেয়ে কি ডেম্বেলে ভালো?
উত্তরঃ তুলনা করার আগে প্লেয়ারের পজিশন জানতে হয়। কৌতিনহো জাত প্লেমেকার, সেইসাথে নিচের দিকে নেমে মিডফিল্ডারের দায়িত্ব পালন করতে পারে। ডেম্বেলে মাঝে মধ্যে এটাকিং মিডে খেললেও মূলতঃ জাত উইঙ্গার, ফরোয়ার্ড লাইনের খেলোয়াড়।
একজনের দায়িত্ব মিডফিল্ডে ক্রিয়েটিভিটি তৈরি করা ও চান্স ক্রিয়েট করা হলেও গোল করাটা মূল কাজ নয়। আবার আরেকজনের দায়িত্ব ফরোয়ার্ড রানিং,ফ্ল্যাঙ্ক কভার করা, চান্স ক্রিয়েশন ও মোস্ট ইম্পর্ট্যান্টলি গোল করা বা সরাসরি গোলে অবদান রাখা।
আর বার্সার প্ল্যান মূলতঃ ছিল কৌতিনহোকে ইনিয়েস্তার পটেনশিয়াল রিপ্লেসমেন্ট হিসাবে, আর ডেম্বেলেকে নেইমারের রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে কেনা।

প্রশ্ন-২ঃ কৌতিনহো কি আর মিডফিল্ডার আছে? তাকে তো ক্লপ উইঙ্গার বানিয়ে দিইয়েছে।
উত্তরঃ জ্বি আছে। গত সিজনে ওকে বাধ্য হয়ে মেকশিফট উইঙ্গার খেলানো হয়েছিল। এইবার সালাহ আর সাদিও মানে দুইজন উইঙ্গার আছেই। ও তার পুরোনো পজিশন হাই এটাকিং মিডে প্রিসিজনেও খেলেছে। ক্লপের প্ল্যান ছিল ওকে মিডে খেলানো। কিন্তু…

প্রশ্ন-৩ঃ তারপরেও,কৌতিনহোকে না কিনে ডেম্বেলে কেন?
উত্তরঃ ডেম্বেলের বয়স কম,ও খুবই প্রগ্রেসিভ প্লেয়ার। কৌতিনহোর বয়স খুব বেশি না হলেও ও খুব ইনকন্সিস্টেন্ট আর ইঞ্জুরি প্রবণ। তাই লিভারপুলে আসার পর থেকে যতটা ইম্প্রুভ করার কথা ছিল ততটা ইম্প্রুভ সে করেনাই, তাও লিভারপুলের হার্ট অফ দ্য এটাক সে। হয়তো আর ১-২ সিজন দিলেও পিক ফর্মে যাতে পারত, কিছুটা কন্সিস্টেন্সি খুঁজে পেত। ওর মধ্যে টিমে বড়সর কন্ট্রিবিউশান করার মত অবস্থা এখনো আসে নাই, অনেকে বলে লিভারপুলকে সে একলা টানে, বিষয়টা আংশিক ভুল। একলা সবসময় টানতে পারলে সিজনের শুরুর দিকে এত ভালো করার পরেও লিভারপুলের ফোর্থ হবার কথা ছিল না। এই ইনকন্সিস্টেন্সি লিভারপুল দল বলে অনেকটা ঢেকে গিয়েছিল অন্য মিডফিল্ডার লাল্লানা বা উইঙ্গার সাদিও মানের পারফর্ম্যান্সের জন্য। বার্সায় একেবারে নতুন পরিবেশে এই ইনকন্সিস্টেন্সি জিনিসটা থিতু হতে অসুবিধা সৃষ্টি করবে। (নিজস্ব মতামত, মেবি আই এম রং)

প্রশ্ন-৪ঃ ইনকন্সিস্টেন্ট হলে বার্সা পিছে লেগে আছে কেন?
উত্তরঃ দু’টা কারণ। এক, কৌতিনহো গত প্রায় এক সিজন ধরে বার্সায় আসার জন্য প্রচন্ড ডেস্পারেট হয়ে আছে। আর এইবার নেইমার যাওয়ার পরে তো আরো বেশি। আর বার্সা থেকে তাকে অলরেডী হিন্ট দিয়েছে সে ইনিয়েস্তার পটেনশিয়াল রিপ্লেসমেন্ট, মাঝে মধ্যে নেইমারের পজিশন উইং-এও খেলতে পারবে। মোটকথা বার্সায় তার বর্তমান ও ভবিষ্যত দুই-ই উজ্জ্বল। কৌতিনহো এহেন ব্রেনওয়াশ খেয়ে নিজের ক্যাপাবিলিটি নিয়ে ওভার কনফিডেন্ট হয়ে উঠল এবং বার্সায় যাওয়ার জন্য সর্বপ্রকারের নাটক করতে আরম্ভ করে দিল। (সোর্স নিজে খুঁজে নিন)
দুই, আগেই বলেছি। বার্সা ইনিয়েস্তার রিপ্লেসমেন্ট খুঁজতে কিছুটা ডেস্পারে এবং তাদের ম্যানেজমেন্ট মনে করে লিভারপুল বলেই সে ইনকন্সিস্টেন্ট। বার্সায় এসে মেসির সাহচর্যে সে গ্রেটেস্ট দ্যান এভার হয়ে উঠবে। (সোর্স জিজ্ঞেস করবেন না)

প্রশ্ন-৫ঃ ডেম্বেলের জন্য ডিরেক্ট এত টাকা দিতে প্রস্তুত, কিন্তু কৌতিনহোর জন্য এহেন হাস্যকর কিস্তিমাত ফি কেন?
উত্তরঃ সেইটা বার্সা ম্যানেজমেন্টকে জিজ্ঞেস করুন। তবে আমার যা মনে হয়, দুই জনকেই বার্সা পিআর ব্যবহার করে মানে সরাসরি প্লেয়ারকে পটিয়ে ক্লাবের সাথে দূরত্ব তৈরি করে কমদামে কিনতে চেয়েছিল। তবে তাতে বিশেষ সুবিধা করতে না পেরে আপাতত নেইমারের রিপ্লেসমেন্ট বেশি দরকার থাকার দরুণ ডেম্বেলেকে কিনে নিয়েছে। আর কৌতিনহোকে এখনো ঐভাবে কেনার চেষ্টা করছে।

প্রশ্ন-৬ঃ এভাবে কি আর কোন ক্লাব প্লেয়ার কেনেনা?
উত্তরঃ সব ক্লাবই মোটামুটি এই চেষ্টা করে। কিন্তু বার্সা ম্যানেজমেন্ট মূলতঃ দুইটি ভুল করে ফেলছে। এক, নেইমারকে বিক্রি করাটা নিশ্চিত হয়ে যাবার পরেও রিপ্লেসমেন্ট টার্গেটগুলোর দিকে আগেভাগে আগায় নি। অবশ্য এই ভুলটা ক্ষমার যোগ্য হতে পারে। তবে মারাত্মক যে ২য় ভুলটা, সেটা হয়েছে এই ওয়ার্ল্ডকাপ সিজনে পিআর ব্যবহার করে খেলোয়াড় কিনতে যাওয়ার ব্যাপারটা। ওয়ার্ল্ডকাপ সিজনে খেলোয়াড়ের খেলার ইচ্ছা থাক আর না থাক। প্রাণ থাকুক আর না থাকুক, তাকে খেলতেই হবে, পারফর্ম করতেই হবে যদি সে বিশ্বকাপের দলে থাকতে চায়। সুতরাং, একে তো ২২২ মিলিয়ন কাঁচা ইউরোর সুবাস, সেই সাথে ওয়ার্ল্ডকাপ সিজনের এই ফাঁক দিয়েও দুইটা ক্লাবই পুরো সুবিধাটুকু আদায় করবে এইটা বার্সা ম্যানেজমেন্টের বোঝা উচিত ছিল।

প্রশ্ন-৭ঃ বার্সা ম্যানেজমেন্ট নিয়ে এত টেনশন কেন? আপনি কি বার্সা ফ্যান নাকি?
উত্তরঃ এইটা এতক্ষণে না বুঝতে পারলে আপনারে ‘এইগুলা ইডিট করা যায় ভাই’ বলা ছাড়া উপায় নাই।

প্রশ্ন-৮ঃ তাইলে আপনি নিশ্চয়ই রিয়াল ফ্যান?
উত্তরঃ জ্বি আমি রিয়াল করি। তবে সেকেন্ড টিম হিসাবে। ফার্স্ট চয়েস লিভারপুল। কোন টীম সাপোর্ট করেন এইটা কেউ জিজ্ঞেস করলে বলি, ‘Real Madrid in my head, Liverpool in my heart’।

আর বাই দ্য ওয়ে, Low-balling এর জন্য বার্তোমেউকে ফ্যান রাইভাল নির্বিশেষে অনেকে গালিগালাজ করছেন। লিভারপুল ফ্যান হিসাবে সেই ২০১০ থেকে ফেনওয়ে স্পোর্টস গ্রুপ তথা এফএসজি নামের একটা মার্কিন কোম্পানিকে সহ্য করে আসছি এবং বিশ্বাস করুন, Low-balling যদি শিল্প হয়, বার্তোমেউ এদের কাছে শিশু।

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top