নাগরিক কথা

বন্দরনগরী চাই যানজট মুক্ত

নিয়ন আলোয় বন্দরনগরী চাই যানজট মুক্ত

পৃথিবীর সব মানুষের জন্যেই একটা দিনে সময়ের পরিমাণ চব্বিশ ঘন্টা।
আর এই চব্বিশ ঘন্টার বিরাট একটা সময় যদি আমাদের যানজটেই কেটে যায়, তাহলে কাজের সময়টা কখন?
এভাবেই প্রতিদিন ট্রাফিক জ্যামের মধ্যে কাজের মানুষগুলো আটকে থাকে; সাথে সাথে আটকে থাকে দেশের উন্নতি আর ভবিষ্যৎ।

ঢাকা শহরের কথা বলবো না। আমি আমার শহরটা নিয়েই বলি।
হুম, চট্টগ্রামের কথাই বলবো।
আমার এক বন্ধু খুব বেশি আফসোস করে একটা কথা প্রায়ই বলে। বেচারা নাকি বহদ্দারহাট থেকে ক্লিন শেইভ করে আগ্রাবাদ যাওয়ার জন্য ১০ নাম্বার বাসে উঠলে কখনোই ফ্রেশ মুখে আগ্রবাদ নামতে পারেনা। নামতে নামতে মুখে খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি হয়ে যায়।
আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই, তার দাঁড়ি স্বাভাবিক ভাবেই বাড়ে। শুধু এই শহরের গাড়িগুলোই অস্বাভাবিক ধীরগতিতে চলে।
এটা নিতান্তই কৌতুক ছিল।

বাস্তব কথা হচ্ছে, চট্টগ্রাম শহরের যানজট সহনীয় মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে অনেক আগেই। আমরা খুব বেশি ধৈর্য্যশীল বলে নিরুপায় হয়ে এখনো ঘর থেকে বের হয়ে এই শহরের রাস্তায় চলাফেরা করার সাহস করি।
এখন চট্টগ্রামের রাস্তাগুলো এক একটা আতংকের নাম।

এই শহরের যানজটের অনেকগুলো পুরনো কারণের মধ্যে আবার নতুন করে যুক্ত হলো মুরাদপুর থেকে লালখান বাজার পর্যন্ত নির্মাণাধীন একটি ফ্লাইওভার। এই ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজের কারণে ব্যস্ততম এই রাস্তার একটা বিশাল জায়গা দখল হয়ে রাস্তার জায়গা সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছে।

আমাদের শহরগুলোতে উন্নয়নের জোয়ারের ঠেলায় দুই-একটা ফ্লাইওভার হয় ঠিকই, কিন্তু সেগুলোকে খুব বেশি পরিকল্পিত বলতে পারিনা।
কচ্ছপ গতিতে নির্মিত হওয়া এই ফ্লাইওভারগুলোর নির্মাণ শেষে আমরা শুধু ফ্লাইওভারটাই পাই, কিন্তু যানজট আর কমে না।
ফ্লাইওভারগুলো মসৃণ থাকে ঠিকই, কিন্তু চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে থাকে নিচের রাস্তাগুলো। যেমন করে সমাজের উঁচুতলার মানুষগুলো ভুলে যায় নিচুতলার মানুষগুলোর কথা।

এখন নতুন করে যোগ হলো প্রায় সবগুলো রাস্তার মাঝখানে হওয়া বড় বড় গর্তগুলো।
ইতিহাসের কয়েক দশক পিছনে গেলেও এইবারের মত সড়কগুলোর খারাপ অবস্থা ইতিহাসে আর পাওয়া যাবেনা।
বলতে গেলে এখন চট্টগ্রাম নগরের প্রায় ৮০% সড়কের অবস্থা খুবই নাজুক।

বর্ষা হলে কাদার যন্ত্রণা আর রোদ হলে ধুলার যন্ত্রণা তো লেগেই থাকে।
আমাদের “হেলদি সিটি” চট্টগ্রাম দিন দিন পরিণত হচ্ছে যানজটের এক বিশ্রী শহরে।

এই যানজটের জন্য প্রশাসন, ট্রাফিক অথোরিটির পাশাপাশি আমরা সাধারণ মানুষরাও যে দায় একেবারে এড়িয়ে যেতে পারবো তা কিন্তু নয়।
আমরা যারা ফুটপাত ছেড়ে রাস্তায় হাঁটি, নিজের প্রাইভেট গাড়িটা নিয়ে রাস্তায় এসে স্বেচ্ছাচারিতা করি, বাইকওয়ালাগুলোর উল্টোপথে গমন- প্রত্যেকটা অল্প অল্প করেই এই বিশাল যানজটের সৃষ্টি করে।
আর পাবলিক বাসওয়ালাগুলোর সুবোধ যে কখন হবে- শুধুমাত্র সৃষ্টিকর্তা জানেন।

আমাদের দেশে আইন আছে ঠিকই, কিন্তু প্রয়োগটা কম। কিছু কিছু ক্ষেত্রে খুব বেশি কম। প্রয়োগটা কঠোর হলে আইনটা মানতে জনগণ বাধ্য।

পৃথিবীর সুন্দর দেশগুলো সুন্দর হওয়ার পিছনে বড় অবদানটা রাখে আইন ভঙ্গের জন্য আরোপিত জরিমানা।
যে দেশে জরিমানার পরিমাণ যত বেশি এবং তা যথাযথভাবে আদায়ের হারটা যত বেশি, সে দেশ তত বেশি সুন্দর এবং গুছানো থাকে।

আমরা নগরবাসী এই যানজট থেকে মুক্তি চাই। প্রশাসনের সাহায্য চাই। আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ চাই।
প্রশাসনের সদয় দৃষ্টি কামনা করছি। আমাদের এই শহর চলাচলের অযোগ্য হয়ে উঠার আগেই যথাযথ ব্যবস্থা নিন।
আমাদের মূল্যবান সময়গুলো বাঁচিয়ে আমরাও চাই আমার এই সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ায় অবদান রাখতে।

আমরা চাই আমাদের ভালোবাসার এই চট্টগ্রাম ভালো থাকুক।

লেখকঃ এ এম কাওসার
(কাভার ইমেজটি “দ্যা ডেইলি স্টার” হতে সংগৃহীত)

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top