ইতিহাস

কেমন ছিলেন বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব?

নিয়ন আলোয় কেমন ছিলেন বেগম মুজিব?

১৯৬৯ থেকে ১৯৭৫। এই সময়টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের মুজিবের বাড়িতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় শ’খানেক লোক থাকতো। প্রত্যেকদিন সেই শ’খানেক লোকগুলোর সকালের নাস্তা, দুপুরের ভাত, বিকেলের নাস্তা, রাতের ভাত ঐ ৩২ নম্বরেই। মুজিবের বাড়িতে গিয়ে কেউ খালি মুখে ফিরেছে, এমন কোন নজির নেই। এই ২০০ লোকের রান্না-বান্নার জন্যে বাইরের কোন বাবুর্চী ছিলো না। সব রান্না নিজের হাতে করতেন বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব। সকাল এবং বিকেলে তিনি নিজ হাতে এই মানুষ গুলোর জন্যে নাস্তা বানাতেন। বেগম মুজিব, শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিনী, একজন প্রেসিডেন্টের স্ত্রী।

কেমন ছিলেন বেগম মুজিব?

কারো ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের মুজিবের বড়িতে যাবার অভিজ্ঞতা থাকলে বুঝতে পারবেন। ওখানে খনো বেগম মুজিবের কিছু পরিধেয় শাড়ি সংরক্ষিত আছে। একজন প্রেসিডেন্টের স্ত্রী হয়ে তিনি কি পরিমাণ সাধারণ পোশাক-পরিচ্ছদ পড়তেন, সেটা বুঝতে পারবেন।
আগস্ট মাসের ১৫ তারিখ এলে আমার এই মানুষটার জন্যেও খারাপ লাগে। একজন আটপৌরে বাঙালী মেয়ে কিভাবে সামলে নিয়েছিলেন প্রেসিডেন্টের স্ত্রী হবার চাপ? কিভাবে এতোটা সাধারণ জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন? আমার জানতে ইচ্ছা করে।

নিয়ন আলোয়

এই হাসিখুশী পরিবারকে মিটিয়ে দেওয়া হয়েছিল এক গভীর যড়যন্ত্রে

স্বামী শেখ মুজিবুর রহমান যেখানে তর্জনী উচিয়ে বাঙালীর মনে স্বাধীনতার সবুজ আগুনে জ্বেলেছেন রেসকোর্সের ময়দানে.. ঘরে একজন স্ত্রী হিসেবে তাঁকে দিয়ে গেছেন নিরলস প্রেরণা।

৭’ই মার্চের ভাষণের দিন দুপুরে তিনি স্বামী মুজিবকে বললেন, “তুমি ১০টা মিনিট শুয়ে রেস্ট নাও”। শেখ হাসিনার ভাষায়, “আমি মাথার কাছে বসা, মা মোড়াটা টেনে নিয়ে আব্বার পায়ের কাছে বসলেন। মা বললেন, মনে রেখো তোমার সামনে লক্ষ মানুষের বাঁশের লাঠি। এই মানুষগুলির নিরাপত্তা এবং তারা যেন হতাশ হয়ে ফিরে না যায় সেটা দেখা তোমার কাজ। কাজেই তোমার মনে যা আসবে তাই তুমি বলবা, আর কারও কোনো পরামর্শ দরকার নাই। তুমি মানুষের জন্য সারা জীবন কাজ করো, কাজেই কী বলতে হবে তুমি জানো। এত কথা, এত পরামর্শ কারও কথা শুনবার তোমার দরকার নেই, এই মানুষগুলির জন্য তোমার মনে যেটা আসবে, সেটা তুমি বলবা”।

নিয়ন আলোয়

বঙ্গবন্ধুর সাথে বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব

বঙ্গবন্ধু ১০ মিনিট বিশ্রাম করলেন। গাড়িতে উঠলেন, শত বছরের শত সংগ্রাম শেষে রবীন্দ্রনাথের মতো হেঁটে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন এবং শোনালেন তাঁর অমর সে ভাষণ, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম…!” বললেন, “প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো, তোমাদের যার যা কিছু তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো…!”

এই অসাধারণ মহিলাটির কোন নাম আমি গতকাল সারাদিন শুনলাম না কোথাও।

যে মুজিবের পরিবারের কাছে সারা বাংলাদেশ ঋণী। সেই মুজিবকে, তাঁর স্ত্রীকে… বড় দুই ছেলে, হাতের মেহেদীর রঙ পর্যন্ত ফিকে না হওয়া পুত্রবধু। “আমি মায়ের কাছে যাবো”, বলে কাঁদতে থাকা শিশু রাসেলকে পর্যন্ত ঘাতকেরা ছাড়লো না!

যে জাতি নয় বছর বয়সী রাজপুত্রের মতো ছোট শিশুকে মা’র কাছে নেয়া হচ্ছে বলে গুলি করে এবং বেয়নেট চার্জ করে হত্যা করে, সে জাতির আমিও একজন। মাঝেমাঝে অবাক লাগে!

আজ মুজিবের পরিবারের অনেকগুলো মানুষের মৃত্যুবার্ষিকী। সেই মানুষগুলোর অনেকেরই অসামান্য অবদান এই মাটির বুকে আছে।

খুব হতভাগ্য একটা জাতি আমরা। যে মহামানব আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, উচ্চস্বরে তাঁর নাম নেয়ার আগে এখনো আমাদের আশেপাশে তাকাতে হয় কে কি মনে করছে ভেবে।

আফসোস!

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top