ইতিহাস

অপারেশন জ্যাকপটঃ বাঘের ক্ষিপ্রতায় যেদিন শত্রুর টুঁটি চেপে ধরেছিলো মুক্তিযোদ্ধারা!

neon aloy অপারেশন জ্যাকপট নিয়ন আলোয়

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পুরো সময়টা জুড়ে পাকিস্তান সরকার গোটা পৃথিবীকে এইটাই জানান দিয়ে যাচ্ছিলো যে পূর্ব পাকিস্তানে কোন গোলমাল নেই। পুরো দেশজুড়ে শান্তি বিরাজ করছে। বিশ্বের মানুষের চোখ থেকে এই অসত্যের পর্দা প্রথম সরিয়েছিলো বাংলাদেশের নৌ-কমান্ডো অপারেশন, যার কোডনেম দেওয়া হয়েছিলো “অপারেশন জ্যাকপট”। এ অপারেশনের ফলশ্রুতিতে বিশ্বের অনেক দেশ বাংলাদেশের বিভিন্ন বন্দরে জাহাজ পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায় নিরাপত্তাজনিত কারণে। সেই সাথে পাকিস্তানি সৈন্যদের জন্য নৌ-পথে যেই রসদ, খাদ্য-সামগ্রী এবং অস্ত্র-সস্ত্র আসতো, তাতে একটা বড় প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছিলো অপারেশন জ্যাকপটের ধাক্কায়। ১৯৭১ সালের ১৫ অগাস্ট রাত থেকে ১৬ অগাস্ট ভোররাত পর্যন্ত চলা এই অপারেশনে পুরো দেশের সকল সমুদ্র ও নদী বন্দরে একযোগে আক্রমণ করে মুক্তিবাহিনী।

পুর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান ভারতের দুইপাশে হওয়ায় এই দুই অংশের যাতায়ত এবং মালামাল আনা নেওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় ছিল সমুদ্রপথ। যুদ্ধচলাকালীন সময় পশ্চিম পাকিস্তান হতে সকল প্রকার রসদ ও অস্ত্র-সস্ত্র আনা নেওয়া হত এই পথেই। মুক্তিযোদ্ধারা বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ সকল সড়ক ও রেল পথে যাতায়তে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারলেও নৌ ও সমুদ্র বন্দরে আক্রমণ করা তাদের পক্ষে খুব কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এর মূল কারণ নৌ-অভিযানে পারদর্শী লোকবল ও সরঞ্জামের অপ্রতুলতা। পরবর্তীতে এই অভাব পূরণ করে ৮ বাঙ্গালী সাবমেরিনার ও ফ্রগম্যান।

১৯৭১ সালের মার্চের শুরুর দিকে পাকিস্তানি সাবমেরিন পিএনএস ম্যাংরো ফ্রান্সের তুলন সাবমেরিন ডকইয়ার্ডে যায় পাকিস্তানি সাবমেরিনারদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য। সেখানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় মোট ৪১ জন সাবমেরিনারকে। তার মধ্যে ১৩ জন ছিলেন বাঙ্গালী। ২৫ মার্চের গণহত্যা কথা শুনে তারা দেশে পালিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে তারা ২৯ মার্চ দেশমাতৃকার টানে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর সাবমেরিন ‘MANGRO’ ত্যাগ করেন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করার জন্য। তারা প্রথমে ফ্রান্স থেকে স্পেনের মাদ্রিদের ভারতীয় হাইকমিশনে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। ঐ সময় জেনেভা ও রোমের পাকিস্তানি কূটনীতিকরা অনেক চেষ্টা চালায় তাদের ফিরিয়ে নিয়ে বন্দী করার জন্য। এই ৮ জন সাহসী সৈনিক হলেনঃ মোঃ রহমতউল্লাহ, মোঃ সৈয়দ মোশাররফ হোসেন, মোঃ শেখ আমানউল্লাহ, মোঃ আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী, মোঃ আহসানউল্লাহ, মোঃ আবদুর রকিব মিয়া, মো আবদুর রহমান আবেদ ও মোঃ বদিউল আলম। এরপর শুরু হয় দেশের সর্বপ্রথম ও সবচেয়ে বড় নৌ-অপারেশন ‘অপারেশন জ্যাকপট’।

নৌ-কমান্ডারদের সকল প্রশিক্ষণ শুরু হয় পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ভাগীরথী নদী ও এর তীরে অবস্থিত ঐতিহাসিক পলাশীর প্রান্তরে। যে পলাশীর প্রান্তরে বাংলার মানুষের স্বাধীনতা হারিয়ে গিয়েছিল ২০০ বছরেরও বেশি সময়ের জন্য, সেই পলাশীর ময়দানেই শুরু হয় অত্যাচারী শাসকের গলা চেপে ধরার প্রস্তুতিপর্ব। জেনারেল ওসমানীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই ট্রেনিং পরিচালিত হয়। এই ট্রেনিং ক্যাম্পের সাংকেতিক নাম ছিলো সি-২পি। মে মাসের শুরু থেকে বিভিন্ন সেক্টর থেকে প্রায় ৫০০ যোদ্ধাকে ট্রেনিং দেওয়া হয় এই ক্যাম্পে। প্রশিক্ষণের নিয়ম কানুন এবং কলাকৌশল ছিল অদ্ভূত। প্রশিক্ষণ শুরুর পূর্বে কমান্ডোদের প্রত্যেককে একটি করে গামছা, একজোড়া ফিনস, সুইমিং কস্টিউম ইত্যাদি সরবরাহ করা হয়েছিলো। কঠোর শৃংখলা, নিয়মানুবর্তীতা এবং প্রণালীবদ্ধভাবে এই ট্রেনিং চলতে চলতে থাকে। শারীরিক কসরতের মাধ্যমে ভোর ৫টায় ট্রেনিং শুরু হত। ট্রেনিং শুরু হত দেশপ্রেম ও স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দ্যম সমুন্নত রাখার শপথ ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে। তারপর ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে ভাগীরথী নদীর খরস্রোতের অনূকুলে এবং প্রতিকুলে দলবেঁধে পানির উপরে ও নীচে সাঁতার চলতো। এক নিঃশ্বাসে কে কতক্ষণ পানির নীচে থাকতে পারবে সেটারও প্রতিযোগীতা হত। খালি হাতে শত্রুকে পরাজিত করার কৌশল হিসেবে কমান্ডোদের দেওয়া হয় জুডো, মার্শাল আর্ট, কারাতে ইত্যাদির প্রশিক্ষণ। বিস্ফোরক দিয়ে ব্রীজ, রেললাইন, কালভার্ট উড়ানো ইত্যাদি ছিল বৈকালিক প্রশিক্ষণের অংশ। রাতের প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে ছিলো বুকে ৫কেজি ওজনের পাথর নিয়ে ভাগীরথী নদীতে সাঁতার কাটা। শত্রুর চোখ ফাঁকি দিয়ে সঠিক টার্গেটে গিয়ে মাইন সেট করা, ৪৮ ঘন্টা বিনা-আহারে অপারেশনে ব্যস্ত থাকার ট্রেনিংও দেওয়া হয়েছে কমান্ডোদের।

এই ট্রেনিং ক্যাম্পে বাইরের কারো প্রবেশের অনুমতি ছিল না। ছিল না কমান্ডোদের কোন ছুটি। ছিল না রান্না করার জন্য কোন পাচক। ট্রেনিং এর ফাঁকে ফাঁকে নিজেদের রান্না পালাক্রমে কমান্ডোরা নিজেরাই করত। এই ট্রেনিং এতই কঠিন ছিল যেন মনে হয় দশ বছরের ট্রেনিং দশ দিনে নেওয়ার প্রতিযোগিতা চলেছিলো। এই ট্রেনিং-এ অবিশ্বাস্য পারদর্শীতা অর্জন করেছিল আমাদের কমান্ডোরা এবং চমৎকার সাফল্যমণ্ডিত অপারেশনের জন্য তারা প্রস্তুত হয়েছিল যা পাকিস্তানি বাহিনীর মেরুদন্ড একেবারে গুঁড়িয়ে দেয়।

প্রশিক্ষণ শেষের দিকে এসে আক্রমণের পরিকল্পনা শুরু হয়। একই সাথে একই সময় দুই সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম ও মংলা এবং দুই নদী বন্দর নারায়ণগঞ্জ ও চাঁদপুরে আক্রমণের পরিকল্পনা করা হয়। আক্রমণের জন্য মোট ৪টি দল গঠন করা হয়। সমুদ্র বন্দরের জন্য ৬০ জনের দুটি দল এবং নদী বন্দরের জন্য ২০ জনের দুটি দল গঠন করা হল। ৪টি দলের জন্য আবার ৪ জন আলাদা লিডার। তাদের প্রশিক্ষণের ধরণ ছিলো ভিন্ন। তাদের শিখিয়ে দেও্য়া হয়েছিল বিশেষ গোপন পদ্ধতি, যা দলের অন্য কেউই জানত না। আক্রমণের দিনক্ষণ আগে থেকে জানার কোন অবকাশ ছিল না। কেননা যদি কেউ ধরা পড়ে যায়, তাহলে তো পুরো পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে! তাই টিম লিডারদের সময় দিনক্ষণ জানানোর ব্যবস্থা করা হয় অভিনব কয়দায়। তাদের বলা হয়েছিল দুটি বাংলা গানকে সতর্ক সংকেত হিসেবে ব্যবহার করা হবে যা প্রচারিত হবে কলকাতা আকাশবানীর পক্ষ হতে পূর্বাঞ্চলের শ্রোতাদের জন্য বিশেষ অনুষ্ঠানে সকাল ৬টা থেকে ৬.৩০মিনিটে অথবা রাত ১০.৩০ হতে ১১টার মধ্যে। গানগুলোর নাম শুধু টিম লিডাররাই জানত। প্রথম সংকেত হল আলপনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাওয়া গান ‘আমার পুতুল আজকে যাবে শ্বশুর বাড়ি’। এই গানের মানে হল ২৪ঘন্টার মধ্যে আক্রমণ করতে হবে, সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন কর। দ্বিতীয় সংকেত হল পংকজ মল্লিকের গাওয়া গান ‘আমি তোমায় যত শুনিয়েছিলাম গান, বদলে চাইনি প্রতিদান’। অর্থাৎ আজকে রাতেই আক্রমণ করতে হবে যে ভাবেই হোক। সকল ট্রেনিং শেষে অবশেষে ১০ই অগাস্ট, ১৯৭১ সালে এই চারটি দল বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

চট্টগ্রাম বন্দর

চট্টগ্রাম বন্দর বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমুদ্র বন্দর। তাই এই বন্দরে আক্রমণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিলো। এই বন্দর আক্রমণের দায়িত্বে ছিলেন সাবমেরিনার আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী। তার নেতৃত্বে ছিল ৬০ জন নৌ-কমান্ডো। তারা ৩টি আলাদা দলে ভাগ হয়ে ভিন্ন ভিন্ন রাস্তায় চট্টগ্রাম এসে পৌঁছায়। পরবর্তীতে ১৪ অগাস্ট প্রথম সংকেত পাওয়ার পর তারা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কর্ণফুলী নদীর পূর্বতীরে চরলক্ষ্যায় তাদের বেইজ ক্যাম্পে পৌঁছায়। তারপর ১৫ই অগাস্ট চুড়ান্ত সংকেত পাওয়ার পর তারা তাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। ১৫ আগস্ট মধ্যরাতে অর্থাৎ ১৬ আগস্ট প্রথম প্রহরে তারা ৩ জন করে আলাদা দলে বিভক্ত হয়ে কর্ণফুলী নদীতে নেমে পড়ে টার্গেট করা জাহাজগুলিতে মাইন লাগানোর জন্য। বুকের উপর গামছা দিয়ে পাঁচ কেজি ওজনের লিমপেট মাইন বেঁধে দ্রুত সাঁতার কাটার জন্য পায়ে ফিনস লাগিয়ে হাতে একটি কমান্ডো ছুরি নিয়ে নিঃশব্দে কর্ণফুলীতে ডুব দেয় টার্গেট করা প্রতিটি জাহাজ লক্ষ্য করে। তিন জনই হাত ধরাধরি করে কখনও ডুব দিয়ে কখনও নাক ও চোখ ক্ষণিকের জন্য পানির উপর তুলে পাকিস্তানি হানাদার সেনাদের কড়া পাহারা ফাঁকি দিয়ে পৌঁছে যায় আক্রমণের লক্ষ্যে থাকা জাহাজগুলোর দিকে।

সেদিন বন্দরে ৩টি বড় বড় অস্ত্রবাহী জাহাজ নোঙর করা ছিল।

  • এম ভি হরমুজ, ৯৯১০টন অস্ত্র বোঝাই করা এই জাহাজটি ১৪ই অগাস্ট চট্টগ্রাম বন্দরে আসার পর থেকেই ১৩নং জেটিতে নোঙর করা ছিলো।
  • এম ভি আল-আব্বাস, ১০৪১৮টন সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে ৯ই অগাস্ট থেকে ১২নং জেটি তে অবস্থা করছিল।
  • ওরিয়েন্ট বার্জ নং ৬। এই জাহাজটি ৬২৭৬ টন অস্ত্র,গোলাবারুদ নিয়ে ফিস হারবার জেটির সামনে অবস্থান করছিল।

টার্গেট করা প্রতিটি জাহাজে একে একে মাইন লাগিয়ে তারা নিরাপদে নদীর পূর্ব তীরে এসে অবস্থান নেয়। রাত ১টা ৪০ হতে শুরু হয় একে একে বিস্ফোরণ। একের পর এক তলিয়ে যেতে থাকে ওরিয়েন্ট বার্জ, হরমুজ, আল-আব্বাস সহ আরো অনেক জাহাজ।

নারায়ণগঞ্জ ও চাঁদপুর নদী বন্দর

সাবমেরিনার বদিউল আলমের নেতৃত্বে চাঁদপুর অপারেশন সম্পন্ন হয় মাত্র ১৮ জন সৈন্য নিয়ে। তাদের আক্রমণে ২টা স্টিমারসহ আরো অনেক ছোট-বড় নৌযান মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয়।

অপর দিকে নারায়ণগঞ্জের দায়িত্বে ছিলেন সাবমেরিনার আব্দুর রহমান। তারা ৪টি জাহাজসহ বেশ কয়েকটা নৌযানের মারাত্মক ক্ষতি করতে সক্ষম হয়।

মংলা বন্দর

সুন্দরবনের গভীর জঙ্গল পাড়ি দিয়ে আমিনুর রহমান খসরু’র নেতৃত্বে ২৬০ জনের নৌ-কমান্ডো ১৩ অগাস্ট মংলা এসে পৌঁছায়। এসে তারা বন্দরের কাছেই একটা পরিত্যক্ত জমিদার বাড়ীতে অবস্থান নেয়। পরবর্তীতে তারা ১৫ অগাস্ট আক্রমণের সংকেত শুনার পর সকলে গায়েবী জানাজায় অংশ নেয় এবং দেশের স্বাধীনতার জন্য দোয়া করে যুদ্ধের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। মংলা বন্দরে আক্রমণ হয় সকল আক্রমণের পরে। অপারেশন শুরু হয় ১৬ই অগাস্ট ভোর ৪.৩০-এর পর। ২৪ জন নৌ-কমান্ডো বন্দরে অবস্থানরত ৬টি বিদেশী জাহাজে মাইন লাগাতে সক্ষম হন। তাদের কভার দেওয়ার কাজে নিয়োজিত ছিল বাকি কমান্ডোরা। ঠিক ভোর ৬.৩০ বাজতেই একে একে সব জাহাজে বিস্ফোরণ শুরু হয়। আক্রান্ত জাহাজগুলোর মধ্যে ছিলো একটি সোমালিয়ান, একটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের, ২টি চায়নিজ, ১টি জাপানি ও ১টি পাকিস্তানি জাহাজ। অন্যান্য কার্গোর সাথে ৩০,০০০ টন গোলা-বারুদ ও যুদ্ধের সরঞ্জাম সহ ধীরে ধীরে পশুর নদীতে নিমজ্জিত হয় জাহাজগুলো।

বাংলাদেশের সশস্ত্র যুদ্ধের ইতিহাসে ফ্রগম্যান পরিচালিত এই অপারেশন একটি উজ্জ্বলতম অধ্যায় রচনা করে। এই অপারেশনে আক্রান্ত হয় একাধিক বিদেশী জাহাজ। যার ফলে মিথ্যে প্রমাণিত হয়ে যায় পশ্চিম পাকিস্তানী শাসকদের “পূর্ব পাকিস্তানে সব স্বাভাবিক আছে” প্রোপাগান্ডা। নিরস্ত্র সাধারণ বাঙ্গালিদের উপর পাকিস্তানীদের বর্বরতার জবাব দিতে মুক্তিবাহিনী যে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে প্রতিটি ফ্রন্টে- এ বার্তা পৌঁছে যায় সারা বিশ্বে। শুধু কূটনৈতিক নয়, পাকিস্তানী হানাদারদের সামরিক কৌশলেও বেকায়দায় ফেলে দিয়েছিলো অপারেশন জ্যাকপট। এলোপাতাড়ি নৌযান নিমজ্জিত-অর্ধনিমজ্জিত হয়ে বন্দরগুলোকে অনেকটাই ব্যবহার অনুপযোগী করে তোলে। ফলে অস্ত্র ও রসদ সরবরাহে মারাত্মক সমস্যায় পড়ে হানাদাররা।

সব মিলিয়ে বলা যায়, পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসের শেষ লগ্নে চালানো এই অপারেশন শুধুমাত্র হানাদার পাকিস্তানীদের ভিতই নাড়িয়ে দেয়নি, সেই সাথে গলা টিপে ধরেছিলো তাদের মনোবল এবং যুদ্ধকৌশলের। আর এ অপারেশনের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে নতুন মনোবলে বলীয়ান হয়ে বাঘের মত শত্রুর টুঁটি চেপে ধরে দেশের বিজয়কে আরো তরান্বিত করেছে বাংলাদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

তথ্যসূত্রঃ
১। মুক্তিযুদ্ধে নৌ-কমান্ডোঃ মেজর রফিকুল ইসলাম পিএসসি

কভার ইমেজটি DOT এর ডিজাইন করা।

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top