ইতিহাস

৮৮৮৮ অভ্যুত্থানের রক্তাক্ত ইতিহাস

neon aloy ৮৮৮৮ অভ্যুত্থান নিয়ন আলোয়

২ বছর আগেও মায়ানমার (বার্মা) ছিল বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ স্থায়ী সামরিক শাসনের কবলে। পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক সম্পদ থাকা স্বত্ত্বেও দেশটি ১৯৬২ সালে সামরিক শাসন শুরুর পর থেকে অর্থনৈতিক সাম্যাবস্থায় কখনই আসতে পারেনি। এই ২০১০ সালেই কেবল বাকস্বাধীনতা, জনগণের রাজনৈতিক অধিকারে আদায়ের মাধ্যমে সামরিক শাসনের শিকলে ঢিল পরতে দেখা গেছে। তবে অনেকের মতে অতীতের অন্ধকার পরিচ্ছেদগুলো থেকে শিক্ষা গ্রহন করতে না পারলে মায়ানমারের প্রেক্ষাপটে সুষ্ঠ গণতন্ত্রের চর্চা আদৌ সম্ভব কিনা।

অন্ধকার ইতিহাসের একটি বিশাল অংশ ৮/৮/৮৮ দিনটি। ১৯৮৮ সালের এই দিনে গণতন্ত্রের দাবি নিয়ে অভ্যুত্থানের সূত্রপাত হয় যার পরিণতিতে সামরিক ব্যবস্থা নেয়া হয় একই বছর সেপ্টেম্বরের ১৮ তারিখে। ইতিহাসে এই আন্দোলনই ‘৮৮৮৮ অভ্যুত্থান’ নামে পরিচিত।

সে সময় মায়ানমারে মার্কিন অ্যাম্বাসেডর ছিলেন বার্ট লেভিন। তার মতে “বার্মার জনগণের মনে ত্রাস সৃষ্টি করে ক্ষমতায় ছিল নি উইন সরকার। সাধারণ মানুষ তার নাম মুখে নিতে ভয় পেত। ’৮৮ এর গ্রীষ্মে মানুষের সহ্যের বাদ ভাঙে এবং তারা রাস্তায় নেমে আসে”।
তৎকালীন ছাত্র নেতাদের ভাষ্যমতে, “আমাদের শিক্ষার পর চাকুরীর কোন নিশ্চয়তা নেই। আমাদের প্রজন্মকে পথহারা করে রেখেছে সামরিক শাসন।”

neon aloy ৮৮৮৮ অভ্যুত্থান নিয়ন আলোয়

’৮৮ সালের অভ্যুত্থানের সূত্রপাত হয় মে মাসের ৯ তারিখে। রেঙ্গুন প্রকৌশল বিদ্যালয়ের ছাত্রদের দু পক্ষে বিবাদে পুলিশ ও প্রাশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রতিবাদে পুলিশ ফাঁড়ি ঘেরাও করে ছাত্ররা। জবাবে ৫০০ পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং একজন ছাত্রের মৃত্যু হয়। তখন জন্ম নেয়া বিপ্লবী ধারার প্রেক্ষিতে ৮/৮/৮৮ তারিখে মানুষের ঢল নামে রাস্তায়। বিক্ষোভে ফেটে পড়ে মায়ানমারের জনতা। সারা দেশে চলতে থাকে বিক্ষোভ। ২০ বছর পর মায়ানমারের মানুষ স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করার অধিকার থেকে বঞ্চিত এই জাতি অবরোধ করে রাজপথ। সেদিন রাত ১২টায় বিক্ষোভকারীদের উপর গুলিবর্ষণ করে সেনাবাহিনী। তাতেও আন্দোলন স্তিমিত করা সম্ভব হয়নি। বরং বৌদ্ধ সন্ন্যাসী আর গৃহবধূদেরও অংশগ্রহণ করতে দেখা যায় গনতন্ত্রের দাবি নিয়ে।

ছাত্র আন্দোলন থেকে রাজনৈতিক আন্দোলনে রুপ নেওয়ার সময় মায়ানমারে প্রয়োজন হয় সুষ্ঠ নেতৃত্বের। স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা অং সানের কন্যা অং সান সুউ কী ছাত্রনেতাদের অনুরোধে আন্দোলনে মিলিত হন। ২৬ আগস্ট তার দেয়া ভাষণে মায়ানমারের গনতন্ত্র আন্দোলনের প্রতীক্ষিত নেতার আবির্ভাব হয়। পরের বছর নি উইন ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। তবে তাতে বিক্ষোভকারীরা শান্ত হননি। সেপ্টেম্বর মাসে সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থগিত হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনী নতুন শাসকের ঘোষণা দেয় এবং ১৪৪ ধারা জারি করে। সেদিন রাত থেকে শুরু হয় সেনাবাহিনীর পরিকল্পিত কর্মসূচী। বেসরকারী হিসাবমতে, এই মিলিটারি ক্র্যাকডাউনে ৩,০০০ আন্দোলনকারীর মৃত্যু হয় এবং আরো ৩,০০০ জেলখানায় বন্দী হন। আনুমানিক ১০,০০০ বিপ্লবী মায়ানমার ছেড়ে পালান।

১৯৮৮ সালে দেয়া নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি আদায় হয় ১৯৯০ সালে। অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনে সুউ কী ৮০% আসন পেয়ে বিজয়ী হন। কিন্তু সামরিক সরকার নির্বাচন বানচাল করে সুউ কী’র বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাকে বন্দী করে। ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি গৃহবন্দী হয়ে ছিলেন। ২০১৫ সালের নির্বাচনে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নেন। ১৯৮৮ সালের বিপ্লবে অংশ নেয়া ছাত্রদের অনেকে বিগত ৩০ বছর কারাদন্ড বা নির্বাসনের মধ্যে পার করেছেন। প্রতি বছর অনেকেই রেঙ্গুনে মিলিত হন স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মরণে।

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top