শিল্প ও সংস্কৃতি

বন্ধুত্বের সিনেমা, বন্ধুদের সাথে বসে দেখার মত কিছু সিনেমা

neon aloy বন্ধুত্ব সিনেমা নিয়ন আলোয়

স্কুল-কলেজ-ভার্সিটির পাঠ চুকিয়ে যারা পেশাদার জীবনে প্রবেশ করেছেন, শুধু তারা-ই বুঝবেন বন্ধুদের সাথে নিয়ে মুভি নাইট পার করার অসম্ভব সুন্দর সময়গুলো কত দ্রুত চলে গিয়েছে চোখের পলকেই! কিংবা এখনো হয়তো অনেকেই সারা সপ্তাহ অফিস কিংবা ব্যবসার কাজ শেষ করে বৃহস্পতিবার রাতে কোন এক বন্ধুর বাসায় জড়ো হন সারা রাত আড্ডা দেওয়া, গেইম খেলা আর মুভি দেখার উদ্দেশ্যে। সত্যি বলতে, কিছু সিনেমা বানানোই হয় এমনভাবে, যা সালাম জানায় শুধুমাত্র বন্ধুত্বকেই। আর সেই সিনেমাগুলো আপনি একা দেখে হয়তো কখনোই সেগুলোর মজা পুরোপুরি পাবেন না, যদি বন্ধুদের সাথে একসাথে বসে না দেখেন। এরকম কিছু মুভি নিয়েই এই ফিচার। এইবারের ফ্রেন্ডশিপ ডে’তে না পারলেও আগামী বৃহস্পতিবারই বসে যান বন্ধুদের নিয়ে লম্বা মুভি নাইটে!

দীপু নাম্বার টু

বন্ধুত্ব নিয়ে বানানো সিনেমার শুরুতেই আসে মুহাম্মদ জাফর ইকবালের কিশোর উপন্যাস অবলম্বনে মোরশেদুল ইসলামের পরিচালনায় নির্মিত এই সিনেমাটির কথা। বাবার বদলি’র চাকরির সূত্র ধরে বছর-বছর নতুন এলাকায় যেতে হয় দীপুকে। সেই ধারাবাহিকতায়ই একটি বছরের গল্প নিয়ে এই সিনেমাটি, যে বছরটিকে হয়তো বলা যায় দীপু’র জীবনের সবচেয়ে ঘটনাবহুল বছর!

neon aloy বন্ধুত্ব সিনেমা নিয়ন আলোয়

দীপু নাম্বার টু- একটি চমৎকার গল্পের সার্থক রুপায়ন

ক্লাসের শুরুতেই নতুন বন্ধুদের সাথে মানিয়ে নেওয়া, ক্লাসের বখাটে গুন্ডা তারেকের সাথে ঝগড়া, আর ফুটবল খেলেই বেশ কেটে যাচ্ছিলো দীপু’র দিনকাল। এরই মধ্যে সাপে-নেউলে সম্পর্কের তারেকের সাথে কিভাবে আস্তে-আস্তে বন্ধুত্ব হলো দীপু’র, সন্ধ্যাবেলা পানির ট্যাঙ্কের উপর উঠে আটকা পড়া, অ্যাডভেঞ্চারের গন্ধ শুঁকতে-শুঁকতে এক আন্তর্জাতিক চোরাকারবারী চক্রের মুখোমুখি হয়ে পড়া- সব মিলিয়ে হয়তো আপনাকে আপনার কৈশোরেই ফিরিয়ে নিয়ে যাবে এই সিনেমাটি। আশি কিংবা নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি যাদের জন্ম, তাদের প্রায় সবারই এই সিনেমাটি দেখা থাকার কথা। এখন সময় এই চমৎকার মুভিটির সাথে পরবর্তী প্রজন্মকে পরিচিত করিয়ে দেওয়ার!

এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী

বাংলাদেশে শিশুতোষ চলচ্চিত্রের বাইরে বন্ধুত্ব নিয়ে খুব বেশি সিনেমা আছে কি? এই মুহুর্তে মনে পড়ছে না। বা মনে পড়লেও সেটি অবশ্যই এমিলের গোয়েন্দা বাহিনীর চেয়ে ভাল ছিল না।

neon aloy বন্ধুত্ব সিনেমা নিয়ন আলোয়

সে বছরের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারের সিংহভাগ দখল করে নিয়েছিল এই চলচ্চিত্রটি

‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’ চলচ্চিত্রটির মূল গল্প জার্মান সাহিত্যিক এরিখ কাস্টনার এর লেখা ‘Emil and the Detectives’ থেকে নেওয়া। বিশ্বের বিভিন্ন ভাষায় বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয় এই গল্পটির উপর ভিত্তি করে, যার মধ্যে বাংলা সংস্করণটির পরিচালক ছিলেন প্রয়াত চিত্রপরিচালক বাদল রহমান।

সিনেমাটির গল্প ট্রেনের যাত্রী এমিল নামের এক কিশোরকে ঘিরে, যার কিছু টাকা হারিয়ে যায়। এই টাকার খোঁজে মাঠে নেমে পড়ে সে, আর তার টাকা উদ্ধারের অভিযানে আস্তে আস্তে জুটে যায় আরো কিছু কিশোর। সাথে যুক্ত হয় তাদের একজনের মামাও, যিনি নানাভাবে সাহায্য করেন এই শিশু-কিশোরদের। ১৯৮০ সালে নির্মিত এই সিনেমাটি খুব সহজেই আপনাকে এবং আপনার বন্ধু-বান্ধবকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে আপনাদের কৈশোরে। কেননা সে বয়সটাতে তিন গোয়েন্দা কিংবা মাসুদ রানা পড়ে অতি-উৎসাহী গোয়েন্দাগিরি আমরা কে না করেছি?

থ্রি ইডিয়টস

বন্ধুত্ব নিয়ে বলিউডে বানানো সবচেয়ে ব্যবসাসফল সিনেমাগুলোর একটি থ্রি ইডিয়টস। শুধুমাত্র বন্ধুত্বের উপর ভিত্তি করে না হলেও, উপমহাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখানোর পাশাপাশি এই সিনেমার সবচেয়ে শক্তিশালী দিক ছিলো প্রধান তিনটি চরিত্র রাঞ্চোড়দাস, ফারহান আর রাজু’র বন্ধুত্ব।

neon aloy বন্ধুত্ব সিনেমা নিয়ন আলোয়

থ্রি ইডিয়টস- অসংখ্য ছাত্রের পরীক্ষার আগের রাতের অনুপ্রেরণা!

রাজকুমার হিরানি পরিচালিত এই সিনেমাটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ছিলো বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের হারিয়ে যাওয়া বন্ধু র‍্যাঞ্চো’র খোঁজে ফারহান আর রাজু’র এদিক-ওদিক ছুটে বেড়ানোর গল্প। আর সে সাথে ফ্ল্যাশব্যাকে বারবার উঠে এসেছে তাদের একসাথে কাটানো সময়গুলো। আর এই ফ্ল্যাশব্যাকগুলোকেই বলা যায় এই সিনেমাটির প্রাণ। প্রায় প্রত্যেকটি ঘটনাই যেন আপনার নিজের বন্ধুদের সাথে হোস্টেল কিংবা মেসজীবনে কাটানো সময়গুলো মনে করিয়ে দিবে, মনে করিয়ে দিবে টিচারদের ফাঁকি দিয়ে করা নানান দুষ্টুমী কিংবা কলেজে বন্ধুর রেজাল্ট খারাপ হওয়ায় তার মা-বাবার শাঁসানোর কথাগুলো।

দিল চাহতা হ্যায়

বলিউড সিনেমার ধাঁচ পাল্টে দিয়েছিলো বলা যায় এই মুভিটি। পরিচালক ফারহান আখতারের অভিষেক হয় এই সিনেমার মাধ্যমে, যার মূল উপজীব্য ছিল তিন বেস্টফ্রেন্ডের সম্পর্ক নিয়ে। আর এই তিন বন্ধুর চরিত্রেই উঠে এসেছে নিজেদের মাঝে খুনসুঁটি, প্রেমিকার সাথে ঝগড়া চলা বন্ধুর প্রেমে আরো ঝামেলা পাকানো, বন্ধুদের নিয়ে দূরে কোথাও বেড়াতে যাওয়া এবং সেখানে গ্রুপের ‘লম্পট’ বোকাসোকা বন্ধুটি প্রেমের ফাঁদে পড়ে সব খুঁইয়ে বাড়ি ফেরা সহ অজস্র মজার মজার ঘটনা।

neon aloy বন্ধুত্ব সিনেমা নিয়ন আলোয়

ক্যাজুয়াল স্টোরিটেলিং দিয়েও যে একই সাথে সমালোচকদের প্রশংসা কুড়ানো এবং বলিউড বক্স অফিসে ব্যবসা করা যায়- তা দেখিয়ে দিয়েছিল এই সিনেমাটি

এই সিনেমাটি নিয়ে আসলে বেশি কিছু বলা ঠিক হবে না। কেননা পুরো সিনেমাটি-ই বেশ প্রাঞ্জলভাবে সিচুয়েশনাল কমেডির উপর নির্ভর করে খুব ‘ক্যাজুয়াল’ অ্যাটিচুডে বানানো। আর এ কারনেই আর ১০টা বলিউড সিনেমার মত মেকি মনে হয় না এর চরিত্রগুলোকে। বরং বেশ সহজেই মিশে যায় আপনার পাশের শিল্পীমনের বন্ধু, বড়লোক বাবার বাউন্ডুলে ছেলে কিংবা হুটহাট প্রেমে পড়া বোকাসোকা বন্ধুটির সাথে।

E.T. the Extra-Terrestrial

স্টিভেন স্পিলবার্গের এই সায়েন্স ফিকশন মুভিটির গল্প একটি ছোট বাচ্চা আর একটি এলিয়েনের বন্ধুত্ব নিয়ে। যারা দেখেছেন, তাদের সবসময়ের জন্যই পরিচিত মুভি এটি।

neon aloy বন্ধুত্ব সিনেমা নিয়ন আলোয়

একটি অন্যরকম বন্ধুত্বের গল্প

কথিত আছে, সত্যজিৎ রায়ের ‘The Alien’ এর পান্ডুলিপি একটু এদিক-সেদিক করে বানানো এই সিনেমাটি। এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বেশ যুক্তি আছে। তবে এর শোধ তুলতেই সম্ভবত বলিউডের একটি সুপারহিট সিনেমা প্রায় পুরোটাই কপি করেছে E.T-কে। সেই সিনেমার নাম বলে স্পিলবার্গের সংস্করণের মজা নাহয় এবেলায় নষ্ট না-ই করলাম!

Hangover

এই তালিকার সবচেয়ে বিনোদনে ভরপুর সিনেমা সম্ভবত এটি। ২০০৯ সালে The Hangover মুক্তি পাওয়ার পর এখন পর্যন্ত এর আরো দুইটি সিক্যুয়াল মুক্তি পেয়েছে।

neon aloy বন্ধুত্ব সিনেমা নিয়ন আলোয়

চার মাতালের মাতলামি এবং নিখাদ বিনোদন!

তালিকার অন্যান্য সিনেমাগুলর সাথে এই সিনেমার পার্থক্য হলো, বাকিগুলো আপনি বন্ধু-বান্ধব ছাড়া পরিবারের সাথে বসে দেখতে পারলেও হ্যাংওভার ট্রিলজি’তে এই কাজ করলে সম্ভবত ভুল করবেন। মাতাল চার বন্ধুর মাতলামী আর সেই সাথে অ্যাডাল্ট কনটেন্ট-এ সমৃদ্ধ কমেডি এই সিনেমার প্রাণ।

বন্ধুবান্ধবদের সাথে নিয়ে নিখাদ বিনোদনের আশা নিয়ে বসলে এই সিরিজের সিনেমা ৩ টি লিস্টে উপরের দিকে রাখতে পারেন।

এসব সিনেমার বাইরেও বাদ পড়ে যায় অনেক অনেক ভাল সিনেমা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য আমার বন্ধু রাশেদ, রাং দে বাসান্তি, কাই পো চে, Little Rascals, Stand By Me, Horrible Bosses এর মত বেশ কিছু চলচ্চিত্র।

তো সময় করে বন্ধুদের সাথে নিয়ে সিনেমাগুলো দেখা শুরু করছেন কবে?

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top