বিশেষ

প্রতিবন্ধকতা যখন আমাদের অনুকরণে

neon aloy অনুকরণ নিয়ন আলোয়

বাঙ্গালির অনুকরণ প্রিয় স্বভাব হলো তার মানসম্পন্ন কাজের অন্যতম অন্তরায়। এই কাজটি তারা করে থাকে দুটি কারণে। এক, দ্রুত অর্থ বা ব্যবসা অথবা সহজ পথে খ্যাতি অর্জন। দুই, হিংসা এবং নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের তাগিদ। এই দুই কারণে আবার প্রভাবক হিসেবে থাকে তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক অলসতা।

খুব সহজ একটা উদাহরণ দেয়া যেতে পারে এই ক্ষেত্রে। ধরা যাক কেউ কোন হাটে বা বাজারে একটি শিঙ্গাড়া সমুচার দোকান খুলেছে। সেই বাজারে এর পূর্বে কোন শিঙ্গাড়া সমুচার দোকান ছিলো না, তাই ব্যাবসা ভালো হচ্ছে। আপনি নিশ্চিত থাকুন আগামী ছয় মাসের মধ্যে নতুন আরো দুই থেকে তিনটা অনুরূপ দোকান সেখানে দেখতে পারবেন। যদিও সেখানে হয়তো ভাতের দোকান নেই। হয়তো চিড়া মুড়ির দোকানও নেই। কিন্তু যারা উদ্যোক্তা বা যারা বিনিয়োগ করতে আগ্রহী তাদের সেসব দেখার সময় নেই। যেহেতু একজন শিঙ্গাড়া সমুচার ব্যবসা করে ভালো করছে তাই তার দেখানো পথে একই আইডিয়া একই ফ্রেমওয়ার্কে নতুন আরো তিন চারটা শিঙ্গাড়া সমুচার দোকান খুলে বসবে। প্রাসঙ্গিক বলে উল্লেখ করা প্রয়োজন, এই একই জিনিসের দোকান খুলে ফেলাটা হচ্ছে অনুকরণ, অনুসরণ নয়। অনুকরণ হলে সেটা হতো নতুন কিছুর দোকান খোলা শিঙ্গাড়া সমুচার দোকান দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে যা নেই সেসবের চিন্তা ভাবনা করে বা বিকল্প খুঁজে বের করা। কিন্তু আমরা সেটা করছি না আমরা ঠিক ঠিক ভাবে শিঙ্গাড়া সমুচার দোকানই দেখবো। অন্য কিছু নয়। কারণ আমরা অনুকরণ করি অনুসরণ না। অনুসরণ হলো আইডিয়া নিয়ে সেটা ডেভলপ করে কিছু করা। অনুকরণ হলো ঠিক একই জিনিস হুবহু নকল করে যাওয়া। অনুকরণে নিজস্বতা নেই, আর নিজস্বতা ছাড়া অনুসরণ হয় না। যাই হোক, এতে যেমন প্রথম দোকানের ব্যবসা কম হবে মান ভালো রেখে অন্যদের সাথে পাল্লা দিয়ে চলতে সমস্যার সম্মুখীন হবে তেমনি অন্যরাও কম লাভ করবে কারণ ক্রেতা শেয়ার হয়ে যাচ্ছে বলে। সর্বোপরি যা হবে ভ্যারিয়েশন যাবে কমে। যে শিঙ্গাড়া সমুচা খেতে চাচ্ছে না সে সেই বাজারে বা হাটে যাবে না। অন্য কোন উৎস খুঁজবে। এই সমস্যার একটা সহজ সমাধান আছে। বাজার কমিটি যদি নির্ধারণ করে দেয় এই পণ্যের জন্য এই কয়টা দোকান, ওই পণ্যর জন্য ওই কয়টা দোকান ইত্যাদি। তাহলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। যদিও সেটা বাজার কর্তৃপক্ষ করে না। করলে এই ক্ষেত্রে হয়তো একটা সাম্যাবস্থা দাঁড়া করানো সম্ভব।

কিন্তু সমাজের ওপেন প্লাটফর্মে কি সেটা সম্ভব?

অবশ্যই নয়।

ফলশ্রুতিতে আমরা যা পাই সেটা হলো অন্ধ অনুকরণের ফলে প্রাপ্ত পর্যাপ্ত রিসোর্সহীন, ভ্যারিয়েশন বিহীন ছাইপাঁশে ভরা জঘন্য কিছু অখাদ্য। বড় থেকে ছোট সব ক্ষেত্রেই এই কাজ হয়ে আসছে। বর্তমান সমাজে প্রতিনিয়ত হতে থাকা কাজগুলো দেখলে ব্যাপারটার হাজারখানেক নমুনা দেখা যাবে।

যেমন, আমরা একটা সময় দেখলাম ইউটিউবে ফান বা হাস্যরসাত্মক বিষয়ক কিছু ভিডিওর বেশ কাটতি চলছে। তো করলাম কি গণহারে সবাই ফানি ভিডিও বানানো শুরু করে দিলাম। প্রথম দিকের কিছু কোয়ালিটি ফুল ভিডিও ছাড়া বাকি যা কিছু হয়েছে পরে সবই অখাদ্য। কারণ সেগুলো ওই আগের ভিডিওগুলোরই কিছু নতুন উপস্থাপনা ছাড়া কিছু না। কে অভিনয় পারে বা জানে সেই সব নিয়েও কেউ মাথা ঘামালো না। শুধু একের পরে এক তৈরি করেই চললো। যেন আমরা জানিই না কোন বাজারে অস্তিত্বশীল কোন কিছুর সাথে একই রকম কোন কিছুর পাল্লা দিয়ে চলতে হলে কোয়ান্টিটি নয়, কোয়ালিটি দিয়ে পাল্লা দিতে হয়।

এরপর গত ছয় সাত বছর আগের টিভি নাটকগুলোর দিকে তাকালে দেখবো সেই সময় জনপ্রিয় হয়ে উঠলো তিন ঘরনার কিছু নাটক, ফলে বর্তমানের টিভির নাটকগুলোকে পাই তিন শ্রেণী অনুকরণ করা আটকে থাকা লুপ হিসেবে। যে লুপের বাহিরে কিছু হলে আমরা তাতে তকমা লাগিয়ে তাকে নামায়িত করি ব্যতিক্রম বলে। লুপের প্রথমে দেখি- আমার মন ভালো নাই, তোমাকে ছাড়া আমার মন ভালো থাকবে না। লুতুপুতু প্রেমের নাটক। তারপর আঞ্চলিক টানের কমেডি নাটক এবং শেষে টিনেজ লেভেলের ছেলে মেয়েদের লাভ ইমোশন হাসিঠাট্টা বিনোদনের নাটক। আর কোন কিছু নেই! নেই যেমন থ্রিলার তেমনি নেই ডিটেকটিভ বা অ্যাডভেঞ্চারাস নাটক বা হাজারো বিষয়বস্তু সম্পূর্ণ উপেক্ষিত হলো! এগুলো সবই কি অনুকরণ নয়? অনুকরণ করে চলা লুপ সবসময় রিসোর্স হারাতে থাকে, দিতে থাকে আকর্ষণহীন একঘেয়েমি প্রোডাক্ট। তাই এসবের প্রভাবে যখন দর্শক ক্লান্ত হয়ে বিদেশি বিনোদনের দিকে অগ্রসর হয়ে পরছে নিজের চাহিদা মেটানোর জন্য তখন মিছিল হলো, বিদেশি কিছু দেশে ঢুকতে দেয়া হবে না। গণ আন্দোলন করলো এই লুপে আটকা পরা কলাকুশলীরা। যেন বাজারে আপনি গিয়ে দেখলেন মুড়ি চিড়া নেই। আপনি মুড়ি চিড়া নেই বলে অন্য কোথাও চলে যাচ্ছেন বলে একগাদা দোকানদার এসে বললো আপনাকে শিঙ্গাড়া সমুচাই খেতে হবে কিনে। এসব দেখে আপনি হয়তো বলবেন, ‘হাও রাবিশ’। কিন্তু বাস্তবতা হলো আপনিও এর বাইরে নন।

কিভাবে?

আসুন দেখা যাক।

একদিন আপনি দেখলেন বা খেয়াল করলেন আপনার পরিচিত কেউ কোথাও গিয়ে একটা বক্তৃতা দিয়েছে, কথা বলেছে নিজের কাজ সম্পর্কে, স্ট্রাগল সম্পর্কে। কিন্তু এতে তার অডিয়েন্স বা শ্রোতামহল হয়ে উঠলো অনুপ্রাণিত। এটা দেখে কয়েকজন তাকে আরও কয়েক যায়গায় অনুপ্রেরণা দেবার জন্য আমন্ত্রণ দিলো। তিনি হলে গেলেন অনুপ্রেরণা দানকারী বক্তা, ইংরেজিতে মোটিভেশনাল স্পিকার। এখন সে বেশ জনপ্রিয়। তার কিছু না করে শুধু বক্তৃতা দিয়েই ভালো ইনকাম হয়। সহজ পথ। নতুন আইডিয়া। ব্যাস হয়ে গেলো। আপনিও হয়ে গেলেন অনুপ্রেরণা দানকারী বক্তা। অনলাইনে চার পাঁচটা ভিডিও দেখলেন টেড টকের, কোথাও আয়োজন করে দিয়ে দিলেন একটা বক্তৃতা। প্রথমে পরিচিত মহল তারপরে মানব নেটওয়ার্কিং এর আশ্রয়ে অপরিচিত মহলে শুরু করলেন দেওয়া বক্তব্য। মাঝে যদি এইদিকে সেই দিকে ধর্না দিয়ে অন্য কোন কোম্পানির লোগো দেখিয়ে আর তাদের সুনাম করে অর্থ প্রাপ্তি, চ্যারিটির নামে অর্থ সংগ্রহ, আপনার অনুপ্রেরণার ব্যবসার ফান্ডিং সহ লাভ হওয়া শুরু। ওদিকে তাদের বিজ্ঞাপন হলো, আপনারও ব্যবসা হলো। কিছুদিনের মাঝে হলো নিজের লোগো, নিজের ব্যানার। হ্যাঁ এখন আপনি জনপ্রিয় মহামানব প্রায়। গর্বিত ব্যাবসায়ী। অর্থ প্রাপ্তি ও সুনাম, দুটিই এক সাথে তালুবন্দি। মজার ব্যাপার আপনার দেখা দেখি ঠিক এই মুহুর্তে আরো দশ পনেরো জন আপনার বন্ধু, বান্ধব, পরিচিত একই ব্যাবসায় নেমে পরেছে। এটাও কি অনুকরণ নয়? ঠিক একই কথা লিডারশীপ ট্রেনিং দেওয়ার নামের সেমিনার বা বক্তৃতা গুলোর জন্যও প্রযোজ্য।

এবার আপনার আরেক বন্ধুকে দেখুন। সে হয়তো লেখালেখি করে। যা করে নিজে থেকে করে। যেহেতু আপনার বন্ধু নিজে থেকে লিখে তাই সে লিখে দুই-তিন মাসে একটা, অনেক শ্রম দিয়ে লিখে, নিজস্ব শ্রম। এবার দেখবেন, আপনার বন্ধুকে দেখে নতুন পাঁচ-দশ জন লেখালেখি শুরু করলো। কিন্তু এই দশজনের মধ্য নিশ্চিত থাকুন কম করে ছয় জন নিজে লেখনীতে কিছু লিখে না, নিজের নামে বিদেশি কোন লেখা সরাসরি অনুবাদ করে দশটা করে রেফারেন্স দিয়ে অনলাইন পোর্টালগুলোতে প্রকাশ করে ফেলে, যেন মনে হয় বিকট রিসার্চ সাধন করে ফেলেছেন তারা এই লেখার মাল-মসলা করতে গিয়ে। প্রতি মাসে প্রকাশিত হতে থাকে পাঁচটা-দশটা আর্টিকেল। আর ওদিকে দশজনের তিনজন সেই অনুবাদের খাটনিও খাটতে রাজি নয়। অনুবাদ গুলোরও কপি পেস্ট করে আরেকটা লেখা দাঁড় করিয়ে ফেলে। আর বাকি থাকা একজন হয়তো আপনার বন্ধুর মতোই পরিশ্রম করে লিখে! তাতেই বা কি, তার বা আপনার বন্ধুর নিজস্বতার মূল্যায়ন কি আর হচ্ছে বাকি আটজনের বিশেষ করে অনলাইন নির্ভর প্রতাপে!

গত কয়েক বছর আগে আমরা দেখলাম এক দুটি জাতীয় দৈনিক অনলাইনে ওয়েবসাইট আকারে আসার পরে একযোগে অনেক গুলো নিউজ ওয়েবসাইট চলে আসলো। যাদের প্রায় সব গুলোর নামের শেষে টুয়েন্টিফোর লেখা। অমুক টুয়েন্টিফোর তো তমুক টুয়েন্টিফোর। সবাই একই খবর দেয়। একজন আরেকজনের লেখা কপি করে দেয়। আর তারা লোক লাগিয়ে রাখে প্রধান কয়েকটি নিউজ সাইট যারা প্রতি মিনিটে বসে চেক করতে থাকে যে খবরই আসে সেটাই নিজেরা করে ফেলে। তারপর আজ তারা সবাই হয়ে গেলো ভিজিটিং কার্ডধারী সাংবাদিক। পেলো একটি আইডেন্টিটি। স্বঘোষিত সাংবাদিক আইডেন্টিটি। তেমনি বান্ধবীদের কিছু ছবি একটু এক্সপোস দিয়ে তুলে নিজের নামের শেষে ফটোগ্রাফি লিখে আপলোড করে আমরা পেয়ে গেলাম শয়ে-শয়ে ফটোগ্রাফার, হাজারে-হাজারে মডেল। তারা একজন অন্য জনকে টেক্কা দেবার নামে যা খুশি যেমন খুশি অন্তঃকলহ আর অর্থর লেনদেন করছেন। যারা মূলত কিশোরকাল পার করা নব্য তরুণ বা হতে চলা তরুণ অথবা তরুণী। ক্যামেরা হাতে অন্য কিছু কি হয় না! মডেল হওয়ার বাইরেও কি অন্য কিছু করা যায় না! আর্ট, ডকুমেন্টেশন ইত্যাদি কোথায়! যা হচ্ছে খুবই নগণ্য। যারা করছেন তারাও সংখ্যায় অতি নগন্য, যথারীতি তারাও তকমা পাচ্ছেন ব্যাতিক্রম হিসেবে। কিন্তু গুটিকয়েক বাদ দিলে চাকচিক্যের অনলাইনের দুনিয়ায় তারা বলা যায় ব্যার্থ। ব্যার্থতার কারণ তারা অনুকরণ না করে নিজস্বতা নিয়ে আছে। আমরা যেমন সব সময় অনুকরণ করি, তেমনি অনুকরণের প্রশংসা কম করি না।

সাথে আধুনিক অনুকরণ করার ট্রেন্ডে হিসেবে যুক্ত হয়েছে অনলাইনের একজনকে দেখে অন্য জনের ভোট ভিক্ষা চাওয়া। আন্তর্জাতিক হলে দেশের নামে বা ঘরোয়া হলে চলে চেনা-জানাদের কাছে পাল্লা দিয়ে ভিক্ষা করা। ভিক্ষা করেছেন লাইক-ভোটের জন্য, পেয়েছেন এবং হয়ে গিয়েছেন পিপল চয়েস ক্যাটাগরিতে বছরের সেরা ফটোগ্রাফার, বিজনেস ম্যান, উদ্যোক্তা, গায়ক, নায়ক, লিডার, টেকনিশিয়ান, হরেক রকমের অনেক কিছু। একজন যা করে অন্য জন একই ক্যাটাগরির জন্য পরের পরের কম্পিটিশনে লড়াই করে একই ভাবে ভিক্ষাবৃত্তি করে। ওদিকে স্কিলের অবস্থা দফারফা। হয়তো আপনার চাইতে বেশি স্কিলফুল শুধুমাত্র আত্মমর্যাদার জন্য আপনার ভিক্ষাবৃত্তির সাথে পাল্লা দিচ্ছে না বলে বঞ্চিত হচ্ছে কোন অনলাইন নির্ভর নির্বাচনে। নৈতিকতার বিচারে আপনার ভিক্ষাবৃত্তির দোষে অন্যর প্রাপ্য সম্মান থেকে তাকে বঞ্চিত করা হলো বা হচ্ছে প্রতিটি নির্বাচনে।

আপনি প্রশ্ন তুলতে পারেন এই বলে যে বিদেশীরা, যারা বাঙ্গালি নন তারাও তো ভোট চায়, কিন্তু এখানে একটা পার্থক্য খুবই স্পষ্ট। আমাদের ভোট চাওয়াটা ভিক্ষাবৃত্তি হচ্ছে কারণটা বুঝতে পারবেন তাদের আর আমাদের ভোট চাওয়ার ভাষাগুলো লক্ষ্য করলে। সাধারণ অর্থে আমরা দেশের নাম নিয়ে বলি নিজের দেশকে বিজয়ী দেখতে ভোট দিন। বিশ্বকে দেখিয়ে দিন ভোটে লাইকের সংখ্যায়। ‘স্ট্যান্ডার্ড’ বিদেশীদের সেখানে বলতে দেখবেন, আমাদের কাজ দেখুন, ভালো লাগলে ভোট দিন। এর মানে হলো ভালো না লাগলে ভোট দেবার দরকার নেই। অমুকের দোহাই লাগে বলে ভোট দিন, তমুকের দুলাভাই হওয়াতে খেতে দিন মার্কা কোন কথা বলছে না। খেয়াল করে দেখুন আপনি সেখানে আপনার কাজের বদলে টেনে এনেছেন দেশকে। দেশের নাম নিয়ে আপনার নিজের জন্য ভিক্ষা চাইছেন! ঠিক যেমনটি করে কোন ভিক্ষুক, স্রষ্টার নাম নিয়ে নিজের জন্য ভিক্ষা চায়।

পূর্বের প্রসঙ্গে ফিরে যাই। আমরা শুধু অনুকরণই করি। সাথে বলতে হবে খুব কম সংখ্যকই আছি আরো উন্নত কিছু বা ভালো করে কিছু দিতে পারার সামর্থ নিয়ে একই কাজ যা অন্যরা শুরু করেছে সেটা নিজের মতো করে করি। আমরা যা করি ‘ব্লাইন্ড ফলোয়ার’ বলেই করি। কেউ অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছে বলে আমরা সবাই দল বেঁধে হয়ে যাই অনলাইন শিক্ষক। সবাই মিলে একই কন্টেন্ট পাঁচবার দশবার বিশবার বানাচ্ছি। আর যা বানানো হচ্ছে না সেটা আর কখনোই হচ্ছেই না। সবাই মিলে গ্রুপ করে এই ক্যাটাগরি আমি ওই ক্যাটাগরি তুমি এভাবে করলে অনেক রিসোর্স আমরা পেতাম। সেই সব নিয়ে ভাবনা নেই। একজন এটা করেছে তো আমাকেও ঠিক এইটাই করতে হবে! কেউ মসজিদ-মাদ্রাসা দিয়েছে তো আমাকেও দিতে হবে। কেউ স্কুল দিয়েছে তো আমাকেও দিতে হবে। তাই ঠিক এই জন্যই একই যায়গায় দেখা যায় একই ধরনের চার-পাঁচটা চ্যারিটি বা নন-চ্যারিটি প্রতিষ্ঠান। অন্য কোথাও হয়তো এমন প্রতিষ্ঠান একটা দরকার কিন্তু সেই একটাও নেই। সব এক যায়গায় হয়ে বসে আছে। অথবা যেটা আছে সেটা বড় করার ব্যাপারে কারো কোন উৎসাহ নেই। সব নিজের চাই। নিজের নামে চাই। সার্বিক ইমপ্যাক্ট ভাল না হচ্ছে না জানার পরেও চাই। লোক দেখানোর জন্য চাই। বিখ্যাত হবার জন্য চাই। খ্যাতি পাওয়ার জন্য চাই। লস জেনেও অর্থর জন্য চাই। কিন্তু অন্য কিছু করতে চাই না। নাকি আমরা ব্যাপার গুলো নিয়ে ভাবনা চিন্তাই করিনা বলে একই জিনিস আবার করতে চাই। যা করতে গিয়ে আগের জনকে গালিগালাজ করতে চাই। যদিও যা করছি সেটা অন্য কারো ফ্রেমওয়ার্কের উপরে নির্ভর করেই করছি। নতুন কিছু সেখানে নাই একই তালে সেটা নিয়ে বড়াইয়েরও আমাদের শেষ নাই। বুদ্ধিবৃত্তিক অলসতা ঢাকছি কোয়ালিটিহীন কোয়ান্টিটি দিয়ে সঙ্গে কিছু নিজের তৈরি দাম্ভিকতায় দম্ভ যোগ করে।

ফলশ্রুতিতে সব যায়গায় আমরা পাচ্ছি একই উপকরণের পুনরাবৃত্তি। নতুনত্ব কোথাও নেই। একটা সমাজ ব্যবস্থার যদি জীবন থাকে তাহলে সে সমাজ জীবিত নাকি মৃত সেটা নির্ভর করে সমাজটির মাঝে বসবাসকারীদের উদ্যোগগুলোর মধ্যকার বুদ্ধিবৃত্তিক বৈচিত্র্যে। কিন্তু সেটা কোথায়? কতোটুকু স্পষ্ট? উত্তর নেই। থাকলেও এতোই ক্ষুদ্র যে চোখে পড়ে না। দূর থেকে দেখলে মনে হবে জীবিত মানুষদের নিয়ে তৈরি মৃত একটা সমাজ আমাদের এই বাংলাদেশীয় সমাজটা। যার মূলে আছে অবশ্যই নতুনত্বহীন অনুকরণ প্রিয় আমাদের স্বভাবটা।

(ছবি: কৃষ্ণনগন পুতুল শিল্প)

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top