নাগরিক কথা

ফিরে এসো আইয়ামে জাহেলিয়াত!

neon aloy আইয়ামে জাহেলিয়াত নিয়ন আলোয়

ছোটবেলায় ইসলাম শিক্ষা বইতে পড়েছিলাম আইয়ামে জাহেলিয়াতের কথা। নানা অনাচার-অবিচারের পাশাপাশি সেই সময়ের যেই অত্যাচারটার কথা মনে গেঁথে গিয়েছিলো, সেটা হলো কন্যাশিশুদের জীবন্ত অবস্থায় মাটিতে পুঁতে হত্যা করার ঘটনাগুলো। আজকাল মনে হয়, খুব কি খারাপ কাজ করতো সেই বর্বর মানুষগুলো? আজকের বাংলাদেশে আমাদের কন্যাশিশুদের মাটিতে পুঁতে ফেলাটা এক ধরণের মহানুভব কাজই হবে সম্ভবত!

কেন বাঁচিয়ে রাখবেন আপনার মেয়েশিশুটিকে? বাবা-মা হিসেবে, ভাই-বোন হিসেবে আমরা কি পারছি ফুটফুটে এই ফুলের মত নিষ্পাপ মানুষগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে? আজ আপনার সামনেই হেসে-খেলে বেড়ানো, আধো বুলির তুবড়ি ফোটানো দেবশিশুটি যে আগামীকাল কোন নরপশুর নারকীয় লালসার শিকার হবে না- সেই গ্যারান্টি কি আপনি বা আমি দিতে পারছি?

এই যেমন ধরুন গতকালকের ঘটনা। ছোট শিশু তানহা… কত বয়স হয়েছিলো তার? চার বছর, কিংবা সাড়ে চার বছর! এই বয়সটাতে আপনি-আমি ভেবে কূল পেতাম না আমরা আমাদের মা’কে বেশি ভালবাসি, না বাবাকে। এক টাকার লজেন্স ছিলো আমাদের সারাদিনের মন ভাল করার উপলক্ষ্য, আর একটা ক্যাডবেরি চকলেট পেলে তো প্রায় সারা সপ্তাহই মন ভালো থাকতো! জীবনের এই অপূর্ব সুন্দর সময়টাতেই এক জাহান্নামের কীটের লালসায় প্রচন্ড অত্যাচারের শিকার হয়ে বাসার পাশের শৌচাগারে মুখ থুবড়ে পড়ে ছিলো অবুঝ তানহা’র নিথর মৃতদেহ।

তানহা কি একাই এই নরকযন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গিয়েছে? না। প্রতি সপ্তাহেই আপনি পত্রিকার আনাচে-কানাচে অন্তত ২-৩টা খবর পাবেন শিশু ধর্ষণের। পত্রিকার পাতায় কিংবা ফেসবুকে এসব ঘটনার খুব রগরগে বিবরণ ছাপা না হলে এসব আমাদের খুব একটা নাড়া দেয় না। গা সয়ে গিয়েছে আমাদের! পশুর চেয়েও বিবেকশূণ্য হয়ে পড়ছি আমরা দিনদিন।

কেন বললাম এ কথা? কয়েক মাস আগে ফেসবুকেই দেখেছিলাম এক শিশুর উপর নির্যাতনের ভয়ানক বর্ণনা নিউজফীডে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বাচ্চাটা এতই ছোট ছিলো যে তাকে “ধর্ষণের উপযোগী” করে তুলতে শয়তানটা তার যোনিপথ ব্লেড দিয়ে চিরে ফেলেছিলো! আর বিস্তারিত বিবরণে গেলাম না, হাত কাঁপছে এটুকু লিখেই।

শুধু কি ঘরের বাইরের মানুষরাই এসবে মত্ত? নিজের ঘরে নিজের মা’র জ্ঞাতসারে যে মেয়েটিকে তার সৎবাবা দিনের পর দিন ধর্ষণ করে গেলো তার কথা ভুলে যাই কিভাবে?

আর মেয়ের মা জানলেই বা কি করতো? এই তো দুইদিন আগের ঘটনা। ক্ষমতাশীল দলের ‘তুফান’ যখন লন্ডভন্ড করে দিলো এক কলেজ ভর্তিচ্ছুক কিশোরীর জীবন, তার মা তো সেই ঘটনার বিচার চেয়েছিলেন। কি পেয়েছেন বিচার চেয়ে? তাঁকে এবং তাঁর মেয়েকে বন্দী করে মারধোর করা হয়েছে। মেয়ে এবং মা’কে ‘বেশ্যা’, ‘বেশ্যার দালাল’ উপাধি দিয়ে এলাকাছাড়া করতে উদ্যত হয়েছে সেই ধর্ষকেরই স্ত্রী-শ্যালিকারা!

সিদ্ধান্ত নিয়েছি এসব কুলাঙ্গারদের আজকে থেকে “নরপশু” সর্বনামে ডাকবো না। এরা তো পশুর চেয়েও অধম, নির্বোধ মাংসাশী পশু বরং অনেক মানবিক “মানুষ”দের তুলনায়। রাস্তার পাশের ডাস্টবিনে পলিথিনে মোড়ানো এক নবজাতকের কান্না শুনে তাকে ডাস্টবিন থেকে তুলে এনে পথের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলো এক নেড়ী কুকুর। মরতে মরতে কোনভাবে প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলো শিশুটি। সেই কুকুরটি কি আমাদের চেয়েও সহস্রগুণে বেশি মানবিক না?

এরপরেও কি আপনি চান আপনার মেয়েকে বাঁচিয়ে রেখে এক সম্ভাব্য নরকযন্ত্রণাময় ভয়াবহ জীবনের পথে ঠেলে দিতে? নাকি তার আগে নিজ হাতেই শেষ করে দেওয়া ভাল আপনার সন্তানের জীবন? মৃত্যুর ঠিক আগমুহুর্তে আপনার সন্তান একটি ইবলিশের হাতে ভয়াবহ যন্ত্রণা পেয়ে মরার চেয়ে আপনার চেহারাটা দেখেই মরুক, সেটাই কি ভাল না? এই ভয়াবহ নরকের চেয়ে আইয়ামে জাহেলিয়াত কি এক পশলা স্বর্গীয় সুবাতাস না?

আমি চাই ফিরে আসুক আইয়ামে জাহেলিয়াত। আর নাহয় প্রচন্ড প্রলয়ংকরী প্রকম্পনে ধূলিস্যাৎ হয়ে যাক এ পৃথিবী। তাতে যদি কিছুটা প্রায়শ্চিত্য হয় এ পঙ্কিলতার!

 

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top