নাগরিক কথা

একজন অন্যরকম সরকারী কর্মকর্তার গল্প

neon aloy মনদীপ ঘরাই নিয়ন আলোয়

সরকারী অফিসার- শব্দজোড়া শুনলে আমাদের মনে ঠিক কোন ছবিটা ভাসে? একজন গুরুগম্ভীর মানুষ, যিনি কিনা মুখটা আরো গম্ভীর করে নিবিষ্ট মনে কিছু একটা চিন্তা করছেন। পিছনে পদাধিকার অনুযায়ী তাঁর পিছনে এক-দুইজন পুলিশও হয়তো অ্যাটেনশন অবস্থায় দাঁড়ানো থাকতে পারে- যা কিনা সেই কর্মকর্তার ভাবগাম্ভীর্যে আরো এক পশলা পুরুত্ব যোগ করে। তাঁরা যখন রাস্তা দিয়ে হেঁটে যান, মানুষজন সম্ভ্রমে রাস্তা ছেড়ে সরে দাঁড়ায়, মাথা নিচু করে সালাম জানায়; অফিসার হালকা মাথা নেড়ে সেই সালামের জবাব দেন।

তবে এই শতাব্দী-প্রাচীন ব্রিটিশ ঘরানার স্টেরিওটাইপ ভেঙে তরুণ প্রজন্মের প্রাশাসনিক কর্মকর্তারা কল্যাণের বাণী নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছেন জনগণের দ্বারে-দ্বারে। প্রশাসন যে শুধুই শাসনযন্ত্র নয়, বরং জনমানুষের কল্যাণার্থেই একটি সুসংগঠিত কাঠামো- সেই আপ্তবাক্য মনে ধারণ করে যে তরুণ অফিসাররা দিনরাত পরিশ্রম করে কাজ করে যাচ্ছেন, তাদেরই একজন যশোরের অভয়নগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি), নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনদীপ ঘরাই।

মনদীপ ঘরাইয়ের জন্ম মুক্তিযোদ্ধা পরিবারে। বাবা বীর মুক্তিযোদ্ধা রণজিত কুমার ঘরাই নিজেও ছিলেন একজন সরকারী কর্মকর্তা। ভোলার মনপুরা উপজেলার প্রথম টিএনও ছিলেন তিনি। দুর্যোগ মোকাবেলায় রেখেছেন অসামান্য অবদান। এরপর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে চাকরি করে সরকারের উপসচিব হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। মনদীপ ঘরাইয়ের শৈশবের একটি বড় অংশ কেটেছে পিতার একসময়ের কর্মস্থল যশোরের অভয়নগরে। ভাগ্যের চাকা ঘুরে আজ মনদীপ নিজেও পদস্থ হয়েছেন পিতার আদি কর্মস্থলে!

ছোটবেলা থেকেই সরকারী কর্মকর্তা বাবাকে দেখে বড় হওয়া মনদীপ ঘরাইয়ের নিজেরও ইচ্ছা ছিল বাংলাদেশ সরকারের প্রাশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে জনকল্যাণে নিযুক্ত হওয়ার। সে উদ্দেশ্যেই গড়ে তুলেছেন নিজেকে। অবশেষে ২০১৩ সালের প্রথমভাগে ফরিদপুরে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে তার সরকারী চাকরিজীবন শুরু হয়।

আর দশজন সরকারী কর্মকর্তার সাথে মনদীপ ঘরাইয়ের পার্থক্যটা কোথায়? ওই যে শুরুতেই বললাম- শতাব্দীপ্রাচীন হোমড়াচোমড়া অফিসারের খোলস ভেঙে যারা প্রশাসনকে একদম আক্ষরিক অর্থেই পৌঁছে দিচ্ছেন জনসাধারনের দোরগড়ায়- তিনি সেই নতুন প্রজন্মের অফিসারদের মাঝে একজন। কিন্তু কিভাবে তিনি পৌঁছুচ্ছেন জনসাধারণের এত কাছাকাছি? উত্তর একটাই- নিত্যনতুন উদ্ভাবনী আইডিয়া-ই তার পুঁজি।

যেমন ধরা যাক, কিভাবে একজন প্রাশাসনিক কর্মকর্তা তার এলাকার তরুণদের মাদকাসক্তি এবং জঙ্গীবাদে ঝুঁকে পড়া থেকে বিরত রাখতে পারেন? মূলমন্ত্র একটাই- তরুণদের সচেতন করে তুলতে হবে। কিন্তু তরুণদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সভা-সেমিনার-ওয়ার্কশপ তো কম হয় না। কিভাবে আরো কার্যকরভাবে তরুণদের কাছে পৌঁছানো যায়? ভাবতে থাকলেন মনদীপ ঘরাই। ভেবে দেখলেন, ঠিক আগের প্রজন্মের মানুষগুলোই কিন্তু সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন এক্ষেত্রে। তাদের উপদেশ এবং অভিজ্ঞতাই পারে তরুণদের পথ দেখাতে। কিন্তু দুইটি প্রজন্মের মাঝের দেয়ালটা ভেঙে সেতুবন্ধনটা গড়বেন কিভাবে? ঠিক কোন জিনিসটা বাংলাদেশের ছেলে-বুড়ো সবাইকে এক কাতারে নিয়ে আসে?- ক্রিকেট! যেই ভাবা সেই কাজ! মনদীপ ঘরাইয়ের পরিকল্পনায় মাঠে নামলো অভয়নগর প্রিমিয়ার লীগ!

neon aloy মনদীপ ঘরাই নিয়ন আলোয়

মাদক ও জঙ্গীবাদের জবাব ব্যাটে-বলে

মনদীপ ঘরাই নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসেই বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে-

বর্তমান সরকারের মাদক ও জঙ্গীবাদ বিরোধী কার্যক্রমের অগ্রযাত্রায় অবদান রাখতে চাইছিলাম পেশাগত অবস্থান থেকেই।
শুরুতেই মাথায় এল তিনটি আইডিয়া: সভা/ সেমিনার / কনসার্ট। তিনটিকেই বাদ দিলাম যৌক্তিকভাবেই।
সভা-সেমিনার করলে অফিশিয়াল বাহবা মিলবে, তবে তরুন প্রজন্ম (যাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন) কর্ণপাত করবে সামান্যই। আবার কনসার্ট করলে তরুনরা উদ্বেলিত হবে, তবে সমালোচনা করবেন খোদ অভিভাবকেরাই।
ঝড় তুললাম মগজে। কি এমন আছে যা সবাইকে এক করতে পারবে? সেই সাথে সঠিক বার্তা পৌঁছতে পারবে তরুন প্রাণে?
একটাই জবাব পেলাম। ক্রিকেট। তবে, ভাবনার ঘোড়াটা ছুটতে জানে। নিয়ে গেল বহুদূর…মাদক ও জঙ্গীবাদ বিরোধী ক্রিকেট হবে।

কে অংশগ্রহণ করেনি এই টুর্নামেন্টে? মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিনরা নেমেছেন শিশুতোষ উল্লাসে, পুলিশরা অস্ত্র-শস্ত্র ফেলে হাতে তুলে নিয়েছে ব্যাট-বল। বর্ষীয়ান মুক্তিযোদ্ধারা বয়সকে অজুহাত বানাননি। স্কুল-কলেজের ছাত্ররা দেখেছে তাদের রাশভারী শিক্ষকরা তাদের মতই মাঠে নেমেছেন খেলতে, একটা উইকেট শিকার করে আনন্দে মেতেছেন তাদের মতই! দুর্ঘটনায় পা হারানো শিক্ষক সুলতানকে আটকে রাখতে পারেনি প্রতিবন্ধকতা, চলে এসেছেন মাঠে এপিএলের টানে। খেলার টানে সারাদিন মাঠে আর দর্শকসারিতে জমজমাট ছিলো মানুষ। বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে সবার মাঝে- মাদক কিংবা জঙ্গীবাদ নয়। ভালবাসা, সহযোগীতা আর পারষ্পরিক শ্রদ্ধাবোধই পারে এই দেশটাকে এবং নিজেদের জীবনটাকে সুন্দর করতে।

তবে শুধু এ প্রজন্মের তরুণদের মাদকাসক্তি থেকে দূরে সরানোটাই কি যথেষ্ঠ? ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা ভাবতে হবে না? সরকার থেকে অর্থবরাদ্দ আছে, কিভাবে এর সর্বোত্তম সদ্ব্যাবহার করা যায়? প্রতিবছর মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও পাচার বিরোধী দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে কত অনুষ্ঠানই তো হয়। তবুও কি থামানো যাচ্ছে মাদকের অপব্যবহার?

neon aloy মনদীপ ঘরাই নিয়ন আলোয়

শিশু-কিশোরদের সাথে মনদীপ ঘরাই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রস্তুত করছেন মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে

মনদীপ ঘরাই ভাবলেন, মাদকাসক্তির বিষাক্ত ছোবল থেকে ফিরে আসা মানুষগুলোর সাথে সরাসরি পরিচয় করিয়ে দেবেন শিশু-কিশোরদের, তাহলেই আসলে বুঝানো যাবে সে জগৎটা কত অন্ধকার। যেই ভাবা সেই কাজ। সরকারী আলোচনা সভাগুলো সাধারণত হয় সভাকক্ষে, বিজ্ঞ ব্যক্তিবর্গের গুরুগম্ভীর আলোচনায়। যে আলোচনার খুব কমই টার্গেট অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছায়। তাই মনদীপ ঘরাই সে পথে হাঁটলেন না। আলোচনা সভা নামিয়ে আনলেন মানুষের মাঝে, শিশু-কিশোরদের মাঝে। অনুষ্ঠানস্থলে আগে থেকেই অতিথিদের জন্য চেয়ার বসানো ছিল। কিন্তু সেসব সরিয়ে তিনি সবার সাথে মাটিতে বসে গেলেন। মাদকাসক্তি থেকে ফিরে আসা মানুষগুলো তাদের ভয়াল অভিজ্ঞতা শোনালেন শিশুদের, শিশুরা সেই ভয়াল অভিজ্ঞতা রংপেন্সিল-তুলির আঁচড়ে আঁকলো তাদের আর্টপেপারে। চিত্রটি কিন্তু তাদের মনে গেঁথে গেলো সারাজীবনের জন্য! মনদীপ ঘরাই তার এই অভিজ্ঞতাটি বর্ণনা করেছেন নিজের ভাষায়-

“বীজতলায় কাজ করাটায় মন দিয়েছি। আগাছা জন্মাতে দেব না। শুদ্ধ হোক জীবন। ঊষালগ্নে পূর্নতা পাক প্রাণের আলো।”

এর পরের গল্পটা আরেকজন আলোকিত মানুষের। ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধা শান্তিলতা’র। পড়াশোনার পাট চুকিয়েছেন অল্পতেই, অক্ষরজ্ঞান পর্যন্তই তার শিক্ষা। স্বাধীনতা যুদ্ধের আগেই দত্তক নিয়েছিলেন এক পুত্র। ‘৭১ এর যুদ্ধে সে-ও চলে যায় যুদ্ধে। মাটির টানে বুড়ো এক পিসিকে নিয়ে নিজ ভিটায় থেকে যান শান্তিলতা। চলতে থাকে যুদ্ধের আতঙ্কে দিনযাপন। দেশ স্বাধীন হল। ফিরল পালক পুত্রও। দিন বদলালো শান্তিলতার। পড়ালেখার সাথে আড়ি নেওয়া শান্তি এবার করলেন অবাক এক কাজ। নিজের জমি দান করলেন স্কুল গড়ার জন্য। প্রাথমিক বিদ্যালয় হল। এরপর হল হাইস্কুলও। কিন্তু ভাগ্য ষড়যন্ত্র করে শান্তিলতার সাথে। অতিবৃষ্টিতে ভেঙে পড়ে তার বসতবাড়িটি। শেষ বয়সে এসে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় হয় শান্তিলতার।

ফেসবুকে এক শুভাকাঙ্ক্ষীর মাধ্যমে খবরটা যখন পৌঁছে মনদীপ ঘরাইয়ের কাছে, তখন মধ্যরাত। বিনিদ্র রজনী কাটিয়ে ভোর হতেই ছুটে গেলেন শান্তিলতার কাছে। শুনলেন তার অসহায়ত্বের গল্প। নিলেন ত্বরিত ব্যবস্থা। ইটের যোগান দিলেন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান। টিন আর অর্থের ব্যবস্থা করে দিলেন মনদীপ। এক সপ্তাহে তৈরি হয়ে গেল বৃদ্ধা শান্তিলতার ঘর।

neon aloy মনদীপ ঘরাই নিয়ন আলোয়

মহানুভব শান্তিলতার পাশে মনদীপ ঘরাই…

শুধু কি এই বৃদ্ধা শান্তিলতার আশীর্বাদই পেয়েছেন মনদীপ? এই বছরের ঈদুল ফিতরের ঘটনা। ঈদের সকালটা মনদীপের শুরু হয় তার মায়ের অসুস্থ্যতার খবরে। তবে আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল সেদিন সকালের অনুষ্ঠান। পুনর্বাসিত ব্যক্তিদের (প্রাক্তন ভিক্ষুক) নিয়ে একবেলা খাবারের আয়োজন। এই চমৎকার আয়োজনের উদ্ভাবক খুলনা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার সামাদ ফারুক।

মায়ের অসুস্থতার খবরে কোনকিছুতেই পারছিলেন না মনদীপ। তবে, কর্তব্যের শেকলটা যে বড্ড শক্ত। অফিসে পৌঁছেই দেখলেন দু’শর বেশি উৎসুক মুখ। মনদীপের মনের মেঘ চোখেমুখে ছড়িয়ে পড়েছিলো হয়তো। জিজ্ঞেস করল একজন, “বাজান, কি হয়েসে?” মায়ের অসুস্থতার কথা জানালেন মনদীপ। যাদের পূর্বের পরিচয় শুধু মানুষের কাছে হাত পেতে চাওয়া নিয়ে, তারা সেদিন অনেক কিছু দিয়েছিলেন মনদীপকে। সবাই হাত তুলে দোয়া করলেন তার মায়ের জন্য। এ পাওয়ার মূল্য আছে কি?

neon aloy মনদীপ ঘরাই নিয়ন আলোয়

“ওরা শুধু চাইতেই জানে না। প্রাণ ভরে দিতে জুড়ি নেই ওদের”

সবাইকে খাবার বিতরণ করছিলেন যখন, হঠাৎ ভীড়ের মধ্যে কেউ এসে হাতটা চেপে ধরল। একজন বৃদ্ধা।
“বাবাজি, একখান কথা কই?”
কয়েক ন্যানো সেকেন্ডে ভেবে নিলেন মনদীপ। নিশ্চয়ই কোনো আবদার হবে হয়তো!
“তোমার মায় এইখানে থাকলে খাওয়ায়ে দেত না? আমি তোমারে খাওয়ায়ে দিতি চাই”
এ ভালবাসার কি জবাব দেবেন মনদীপ! তিনি কিছু বলার আগেই গর্জে উঠল স্টাফ বাহিনী।
“না না! স্যাররে খাওয়াবা মানে?”
মনদীপ থামালেন তাদের। এগিয়ে গিয়ে বললেন, “খাওয়াও, মা।”
খাওয়ালেন তিনি। বাকিরা ঘিরে ধরল। কেউ গায়ে হাত বোলাচ্ছে, কেউ মাথায়।
এত অজস্র ভালবাসা আর আশীর্বাদ সারাজীবন চাইলেও কি পাওয়া সম্ভব!

গতবছরের কথা। খেলার ছলে বাবার মোবাইলের চার্জারটা বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয় শিশু সাকিবুর। সেই চার্জারটি তুলে আনতে ট্যাংকে নামে তার বাবা হোসেন। আর উঠে আসতে পারেননি। তাকে উদ্ধার করতে ট্যাংকে নামেন তার ভাই রমজান, তিনিও আক্রান্ত হন বিষাক্ত গ্যাসে। তাদের নিথর দেহ উঠানো হয় সেখান থেকে।

এই পরিবারটির ঈদ কেমন কেটেছে? সামান্য ক’টা টাকার মোবাইল চার্জার তুলে আনতে গিয়ে যে দু’টি পরিবার তাদের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের হারিয়েছে, তাদের পক্ষে কি এ বছরের ঈদ করা সম্ভব হতো? পরিচিত সুনীল সাহেবের মাধ্যমে ঘটনাটি জানতে পারেন মনদীপ। ছুটে যান পরিবারটির কাছে। নিজের বাসার উৎসবের মত বাজার করেছেন রমজান আর হোসেনের পরিবারের জন্য। পিতা-স্বামী হারানো পরিবার দু’টির সব সদস্যদের জন্য কিনেছেন ঈদের নতুন পোশাক। বাবা নেই বলে হারিয়ে যেতে দেননি সাকিবুরদের ছয় ভাই-বোনের ঈদ।

neon aloy মনদীপ ঘরাই নিয়ন আলোয়

কিছু শূণ্যস্থান কখনো পূরণ হয় না। তবু চলতে থাকে ভাল থাকার আর ভাল রাখার প্রচেষ্টা…

শুধু কি তবে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যস্ত থেকেই আসল কাজে ফাঁকি দিচ্ছেন মনদীপ ঘরাই? মোটেও না! এগুলো তার যেন কাজেরই একটি অংশ। এসবের মাধ্যমেই মানুষের আরো কাছে পৌঁছে যাচ্ছেন মনদীপ। যে কারণে নিঃসঙ্কোচে মানুষ তাকে জানাতে পারছে নানা সমস্যা আর অভিযোগের কথা। আর তিনিও ব্যবস্থা নিচ্ছেন দ্রুততম সময়ে।

এই মাসেরই এক তারিখে ৪ নং পায়রা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের প্রবেশপথের দুর্দশা নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস আপডেট করেছিলেন উদ্যোক্তা ইমরান খান। স্ট্যাটাসটি স্থানীয় সরকার উপপরিচালক মাজেদুর রহমান খানের নজরে আসলে তিনি মনদীপ ঘরাইকে নির্দেশ দেন সমস্যাটির আশু সমাধান করতে। কালবিলম্ব করেননি মনদীপ। স্ট্যাটাস ফেসবুকে পোস্ট হওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে রাস্তা পরিষ্কার করে জনচলাচলের উপযোগী করে দেন তিনি।

এসব ছাড়াও আছে মনদীপের “জলসভা”, “সততা বাক্স” সহ আরো অনেক অনেক গল্প!

সত্যি কথা বলতে, আমাদের দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রাশাসনিক কর্মকর্তারা কেউই কিন্তু কারো চেয়ে কম কর্তব্যপরায়ণ কিংবা কম দেশপ্রেমিক নন। দেশের জন্য নিজেদের সর্বোচ্চ শ্রম, মেধা আর ভালবাসা ঢেলে দিয়ে উদয়াস্ত কাজ করে যাচ্ছেন প্রত্যেকেই। কিন্তু মিডিয়াতে তারা শুধুমাত্র খবরের শিরোনাম হন যখন পান থেকে চুন খসে। হ্যাঁ, যেটা তাদের দায়িত্ব, সেটা পালন করলে কেন তাদেরকে নিয়ে নিউজ হবে? আমি মনে করি নিউজ হওয়া উচিৎ। কেননা যে দেশে প্রায় সবাই উল্টোপথে চলছে, সেদেশে একজন সরকারী/বেসরকারী কর্তব্যপরায়ণ, মানবদরদী কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারীর কথা প্রচার পেলে কি তাকে দেখে আরো ১০০ জন উদ্বুদ্ধ হবে না? আর মানুষের ভাল কাজের জন্য যদি আমরা তাকে সামান্য পিঠ চাপড়ে সাহস না যোগাই, ধন্যবাদ না জানাই, তিনি ভবিষ্যতে আর ভাল কাজের অনুপ্রেরণা পাবেন কি করে? একটু ছোট করে ধন্যবাদ জানাতে নিশ্চয়ই গাঁটের পয়সা খরচ হয়না, তাই না?

মনদীপ ঘরাইয়ের মত দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা হাজারো জানা-অজানা সরকারী-বেসরকারী মানুষদের জানাই ধন্যবাদ। আপনারা আছেন বলেই শত দুর্যোগেও স্বপ্ন দেখার সাহস পায় বাংলাদেশ!

[আপনার আশেপাশে আছেন মনদীপ ঘরাইয়ের মতই কোন সাদা মনের মানুষ? তার কথা আমাদের লিখে পাঠান neonaloymag@gmail.com এই ঠিকানায়]

Most Popular

To Top