নাগরিক কথা

“আসল নায়ক” কে কিভাবে দেখলাম জানেন?

neon aloy আসল নায়ক নিয়ন আলোয়

গত শুক্রবারের ঘটনা, বিজয় সরণির মোড়ে সিগনালে বসে ছিলাম।

হঠাৎ শুনলাম বিকট আওয়াজ!

সাথে সাথেই আমার সামনে ডান থেকে একটা হোন্ডা সিবিজেড মটরসাইকেল উল্টেপাল্টে এসে পড়লো।
ডানে তাকিয়ে দেখি মটরসাইকেল এর যাত্রী দুজন রাস্তায় পড়ে আছে।
কোন নড়াচড়া নেই। রাস্তায় এই পাঁচ সেকেন্ডের মাঝেই রক্তের ছাপ পড়ে গেছে।

সম্ভবত একটা চলন্ত গাড়ীকে দ্রুত ওভারটেক করতে গিয়ে গাড়ীর বাম্পারের সাথে মটরসাইকেলের চাকা বেঁধে দুর্ঘটনা হয়েছে।

জ্বী না, দুর্ঘটনা এবং স্পট ডেড টাইপ বর্ণনা দিতে এতকিছু লিখছি না।
সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ আমাদের দেশে অনেক মরে। এ আর তেমন কি? কিছুই না এটা!

হয়তো ঐ দুজন আহত/নিহত ব্যক্তির কারো মা ঐ দিন শুক্রবার উপলক্ষে বাসায় ছেলের প্রিয় খাবার রান্না করেছিলো, ছেলে নামাজের পর এসে খাবে।
হয়তো কারো পিচ্চি মেয়েটা বাসায় রেডি হয়ে বসে আছে। আজ শুক্রবার, আব্বু এসে বেড়াতে নিয়ে যাবে, পুরো সপ্তাহ আব্বু ব্যাস্ত থাকে।
হয়তো অনেকদিন পর আজ তার প্রেমিকার সাথে প্রথম দেখা কথা। দুজনেই আজ সকাল থেকে একটু পরপর বিনা কারনে হেসে উঠছিলো দেখা হবার খুশিতে।
হয়তো কারো স্ত্রী সন্তানসম্ভবা, আজ প্রথম ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবার কথা…

এসব হাজারো ইমোশনাল ব্যাপার জড়িয়ে থাকে দুর্ঘটনার সাথে। কিন্তু আমরা বোধহীন অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি। কিছুতেই আর কিছু যায় আসে না। তাই এগুলো বলে ফায়দা নাই।

এতকিছু লিখছি দুর্ঘটনা পরবর্তী ঘটনা দেখে।
দুর্ঘটনা হবার সাথে সাথে আশেপাশে থেকে জনাবিশেক লোক ছুটে আসলো। সেকেন্ডের মাঝে দুটা সিএনজি রেডি হয়ে গেলো। প্রথমটা খালি সিএনজি ছিলো, আরেকটা সিএনজি’র প্যাসেন্জার তার ভাড়া করা সিএনজি’টা ছেড়ে দিলেন। আশেপাশের মানুষ এর মাঝে স্বেচ্ছায় বেশ কয়েকজন সিএনজি’র সাথে যেতে রাজী হয়ে গেল। পুলিশ মুহুর্তের মাঝে যানজট যতটুকুই ছিলো ক্লিয়ার করে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিলো।
অর্থাৎ দুর্ঘটনা হবার পরে মাত্র ২-৩ মিনিট লাগলো রোগী দুজন কে নিয়ে ঢাকা মেডিকেলের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে।

বিদেশে শুনেছি 911 কল সার্ভিস আছে। 911-এ কল দিলে মিনিটের মাঝে সেবা এসে পড়ে। আমাদের জনমানুষরা এক হয়ে মুহুর্তের মাঝে যে সেবাটা করলো, এবং প্রতিনিয়ত করে যাচ্ছে, সেটা কোন অংশে কম?

911-এর ক্ষেতা পুড়ি!

আসল নায়ক কিভাবে দেখলাম ঐটা তো বুঝতেই পারছেন।

আসল হিরো হলো-
যে তার সব কাজ ফেলে রোগীকে নিয়ে রওনা দিলো, সে।
যে লোকটা সেলফিশের মত বসে না থেকে তার সিএনজি ছেড়ে দিল, সে।
যে সিএনজিওয়ালা তার ২ ঘন্টার ব্যবসায় লস করে রোগী নিয়ে গেলো, সে।
হাসপাতালে যাবার পর জীবনের সব সাধনা অভিজ্ঞতা নিয়ে রোগীর জীবন বাঁচানোর জন্য যারা কাজ করবে, তারা।
গরীব দেশে প্রতিদিন এমন বেওয়ারিশ দুর্ঘটনা কবলিত লোকদের জন্য সরকার যে লাখ-লাখ টাকার ফ্রী ঔষধ-যন্ত্রপাতি এর ব্যবস্থা রাখতে সক্ষম হচ্ছে, তারা।

হয়তো এই নায়কদের সম্মিলিত কাজের জন্যই হয়তো রোগী জানে বেঁচে গিয়ে উপরের মা, মেয়ে, সেই স্ত্রী বা প্রেমিকার জীবনকে পুরোপুবি বিপর্যস্ত করা থেকে বাঁচাবে।

তারা যে কোন ব্লকবাস্টার সিনেমা থেকেও বড় হিরো।

(কেউ কেউ বলতে পারে, রাস্তার মানুষ এত কিছু করলো, আর আপনে ওখানে দাঁড়ায়া-দাঁড়ায়া কি তামাশা দেখতেসিলেন?
আসলে আমার নিয়ত ছিলো, কিন্তু প্রয়োজন হয়নি আমার কোন হেল্প। হিরোরা আমার চাইতেও ফাস্ট।)

[কভারে ব্যবহৃত ছবিটি প্রতীকী। ছবি সৌজন্যঃ ঢাকাট্রিবিউন]

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top