নিসর্গ

সাকিব আল হাসানের সাথে চীনের দিনলিপিঃ বেইজিং-এ প্রথম দিন

নিয়ন আলোয়

[আগের পর্বঃ সাকিব আল হাসানের সাথে চীনের দিনলিপি- কুনমিং থেকে বেইজিং]

যতযাই হোক, চাইনিজদের ধৈর্য্যের তারিফ করতেই হয়। কুনমিং থেকে বেইজিং ফ্লাইট ৩ ঘন্টা দেরি হওয়া সত্ত্বেও এয়ারপোর্টে কারো কোন অস্থিরতা দেখলাম না। এই ব্যাপারটা পরের ৩ দিনেও খেয়াল করেছি। অতি বিশাল শহর, তার চেয়েও বিশাল রাস্তাগুলো, শত শত মানুষ হাঁটছে, কিন্তু চিৎকার চেঁচামেচি খুব কম।

যাই হোক, কুনমিং থেকে বেইজিং ফ্লাইটে উঠলাম। সাকিব্বাই আমাদের থেকে কয়েক সিট সামনে। সামান্য উঁকি দিয়ে দেখি,ভাইয়া মোবাইলে কি যেন খেলছেন। আসলে তিনি খেলছিলেন ক্যান্ডি ক্রাশ আর ফার্ম ভ্যালী। উনার পয়েন্ট দেখে মনে হল উনি একদম প্রো-প্লেয়ার সেগুলোতে!

বেইজং’এ নামি ৭টা থেকে ৭:৩০ এর দিকে। আমাদের সবারই পেটে প্রচন্ড ক্ষিধে। কিন্তু এয়ারপোর্টে অপেক্ষা করতে হবে Huawei এর রিপ্রেজেন্টেটিভ বাস নিয়ে আসা পর্যন্ত। সবাই লাউঞ্জে বসে আছি আর দেখছি ছোট অব্রির দুষ্টুমি।

একবার আমাদের কাছে দৌড়ে আসছে তো আরেকবার চাইনিজ কোন বাচ্চা দেখলে ওর সাথে খেলা জুড়ে দিচ্ছে।

কিছুক্ষণ পর বাস আসলো, উঠে বসলাম তাতে। বেইজিং’এ আমাদের থাকার জায়গা হয়েছিল হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালে। এয়ারপোর্ট থেকে হোটেলে যেতে ৪৫ মিনিটের মতো লাগে। বাসেও সেই একই ব্যাপার। এতো বড় হাইওয়ে কিন্তু হর্ণ এর শব্দ খুবই কম শুনতে পাচ্ছি। বাস একটা নির্দিষ্ট গতিতেই চলছে, কোথাও কোন জ্যাম নেই। আবার কেউ উল্টো দিকে গাড়িও ছোটাচ্ছে না।

হোটেলে পৌঁছানোর পর ঝটপট ফ্রেশ হয়ে নাশতা করে নিলাম। Huawei- এর মিম ভাই বললেন আজকের দিনের প্ল্যান হচ্ছে Huawei Exhibition Center দেখা। সাকিব্বাই আমাদের সাথেই থাকবেন। তাই আমাদের সবাইকে ১২টার মধ্যে বের হতে হবে।

১২টার সময় আমরা সবাই তৈরি হয়ে নিচে নেমে দেখি, বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার অলরেডি দাঁড়ানো।

আমাদেরকে দেখে উনি নিজে থেকে এগিয়ে এসে বললেন, “ভাই আপনাদের সাথে এতদূর আসলাম একসাথে, কিন্তু পরিচয়ই হলোনা। আমি সাকিব।”
প্রিয় পাঠক, আশা করি আমাদের মনের অবস্থা বুঝতেই পারছেন। যার নামে বিশ্বের অনেক দেশ বাংলাদেশকে চেনে, যার জন্য সুদূর চীনে আসলাম, উনি নিজের পরিচয় দিচ্ছেন।

আসলে এটাই হচ্ছে সাকিব আল হাসান; একজন পারফেক্ট জেন্টলম্যান। আমরা যারা গিয়েছিলাম সবাই কমপক্ষে তার চেয়ে ৮ বছরের ছোট ছিলাম, কিন্তু উনি প্রতিবার কথা বলার সময় আমাদের ‘আপনি’ বলে সম্বোধন করলেন। সাকিব্বাই এমন একজন মানুষ না যে প্রথম দেখাতেই আপনার কাঁধে হাত রেখে একদম বন্ধুর মতো আচরণ করবে। কিন্তু আপনাকে সেই ভাবেই ট্রিট করবে আপনি যেটার যোগ্য।

যাই হোক, “আমি সাকিব” বলার পর বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার আমাদের সবার নাম জেনে নিলেন, এরপর একটা গ্রুপ ফটো তুললাম।

আমরা সবাই শুধু সুযোগের অপেক্ষায় আছি কখন সিঙ্গেল ছবি তুলবো। সাকিব্বাই তো বুঝতে পেরে বললো, “ভাই সমস্যা নাই, আমরা তো আরো তিনদিন একসাথে আছি, অনেক ছবি তোলা যাবে। এখন চলেন ওদের অফিসে যাই।”

আসলেই তাই হয়েছিল, ছবি তোলা তো হয়েছিলই, আড্ডাও হয়েছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সুপারস্টারের সাথে। আর ওই আড্ডাতেই আমরা সাকিব আল হাসানের একেবারে ভিন্ন এক রূপ দেখতে পাই।

এক্সিবিশন সেন্টারের জন্য আমরা বের হই ১২টার দিকে। প্রথমে লাঞ্চের পালা Huawei- এর সৌজন্যে।

নিয়ন আলোয়

দুপুরের খাবারে যা যা ছিল

ঐতিহ্যবাহী চাইনিজ খাবার এবং সামুদ্রিক মাছের ছড়াছড়ি। আরো ছিল কয়েক ধরণের কেক ও নুডুলসের কয়েকরকম পদ।

আমাদের সাথে ছিল বিখ্যাত ফটোগ্রাফার প্রীত রেজা ভাই আর Huawei- এর বেশ কজন। সাকিব্বাই, মীম ভাই আর নাফিজ ভাই লাঞ্চ করেন আরেকটি জায়গায় যেখানে শুধুমাত্র চায়নার কোনো রাষ্ট্রীয় অতিথি বা অন্য দেষের রাষ্ট্রপতি এলে আপ্যায়ণ করা হয়। বুঝতে পারলাম Huawei কতটা সম্মানের সাথে আপ্যায়ণ করছে সাকিব্বাইকে।

লাঞ্চ শেষে আমরা আবার বাসে উঠে চলে গেলাম Huawei Exhibition Center- এ।

সেন্টারটি বিশাল। ঢুকতেই একটি জায়েন্ট স্ক্রিন। যেখানে লেখা “Huawei welcomes Shakib Al Hasan and the distinguished Bangladeshi guests”

আমাদেরকে অভ্যর্থনা জানালেন Huawei এর একজন বর্ষিয়ান উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। উনি আমাদের ব্যাখ্যা দিলেন Exhibition Center Visit- এর কি কি অংশ হবে।

প্রথমেই আমরা দেখলাম একটি ১০০ ইঞ্চি জায়েন্ট স্ক্রিন। জায়েন্ট স্ক্রিনে চায়নার একটা জলপ্রপাতের ভিডিও দেখাচ্ছে।

নিয়ন আলোয়

Huawei- এর এক্সিবিশন সেন্টার

সাকিব্বাইয়ের কৌতুহল অনেক এসব জিনিস নিয়ে। উনি জিজ্ঞেস করলেন, “Is it live feed?”

Huawei Executive বললেন, “No, it’s recorded but we are showing it so that you can observe the precision of the technology”।

আমরা সামনে এগুতে থাকলাম। এরপর আমাদেরকে দেখানো হলো Huawei- এর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, বিশ্বে Huawei- এর স্থান, স্মার্ট ফোন ছাড়াও Huawei- এর আরো কিছু উদ্ভাবন ইত্যাদি।

একসাথে চলতে চলতে সাকিব্বাইও আমাদের সাথে ততক্ষণে বেশ ফ্রি হয়ে গেছেন। টুকটাক প্রশ্ন করছেন বিভিন্ন টেকনোলজি নিয়ে, আমরাও তার জবাব দিচ্ছি চটপট।

হাঁটতে হাঁটতে এলাম Huawei- এর ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসের রুমে। বলে রাখা ভালো, সাকিব্বাই কিন্তু Huawei Porsche Design Set ব্যবহার করেন। Porsche ডিজাইন Huawei- এর লিমিটেড এডিশনের সেট। শুধুমাত্র ব্র্যান্ড এম্বাসেডরকেই এটা Huawei- এর পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়।

Huawei- এর ব্র্যান্ড এম্বেসেডর আমাদের সাকিব্বাই

ডিভাইস রুমে একটা ল্যাপ্টপ দেখে সাকিব্বাইয়ের খুব ভালো লাগলো। ভালো লাগার মতোই! বেশ পাতলা, ব্যাজেললেস স্ক্রিনের ল্যাপটপ।

Huawei এক্সিকিউটিভ জানালেন, এটা Huawei এর ফ্ল্যাগশিপ ল্যাপটপ, এটা হচ্ছে অ্যাপলের ম্যাকবুকের প্রতিদ্বন্দ্বী। সাকিব্বাই বললেন, “ম্যাকবুক তো আমার কাছেও আছে। কিন্তু এটা দেখতে আরো সুন্দর”। তারপর উনি ল্যাপটপটি হাল্কা চালিয়ে দেখলেন।
কিছুক্ষণ পর বললেন, “ভাই দেখসেন এটাতে কোনো সিডি রোম নাই!” আমরা বললাম ভাইয়া এখন আধুনিক কোনো ল্যাপটপেই থাকেনা। উনি তো অবাক। “তাহলে আমি গানের সিডি কিনলে চালাবো কিভাবে?” ওনার জিজ্ঞাসা। আমাদের সরল উত্তর, “সিডি চলবেনা ভাই। সব অনলাইন”। উনিও শুনে হাসতে লাগলেন।

ডিভাইস রুম দেখা শেষে আমাদের নিয়ে যাওয়া হলো আরেকটা রুমে। ওখানে আমাদের জন্য বিকেলের নাস্তার ব্যবস্থা করা আছে।
সাকিব্বাই টেবিলে বসলেন। আমরা সবাই তাকে ঘিরে বসলাম। শুরু হল আড্ডা। “অহংকারী,বেদ্দপ” সাকিব আল হাসান শুরু করলেন গল্প।

(চলবে)

Most Popular

আর দশটি নিউজপোর্টালের মত যাচ্ছেতাই জগাখিচুড়ি না, "নিয়ন আলোয়" আমাদের সবার লেখা নিয়ে আমাদের জন্যই প্রকাশিত হওয়া বাংলা ভাষায় প্রথম পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ম্যাগাজিন।

আজকের আলোচিত

Copyright © 2016 Neon Aloy Magazine

To Top